Practice Questions

Total Questions: 203

141.
বিখ্যাত কাব্য 'সোনালী কাবিন' এর রচয়িতা কে? [NSTU-F: 18-19]
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ লোকজ উপাদানে সমৃদ্ধ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন'-এর রচয়িতা হলেন কবি আল মাহমুদ। এটি তাঁর সাহিত্যিক জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি, তাই এটি সঠিক। অন্যদিকে, সৈয়দ মুজতবা আলী মূলত রম্যরচয়িতা ও প্রাবন্ধিক, দিলওয়ার গণমানুষের কবি হিসেবে পরিচিত এবং মহাদেব সাহা একজন রোমান্টিক কবি হলেও তাঁরা কেউই 'সোনালী কাবিন' রচনা করেননি। সাহিত্যিক নিদর্শনের ভিত্তিতে বিচার করলে অপর তিনটি অপশন সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক এবং যৌক্তিকভাবে ভুল।
142.
বিচিত চিন্তা' কার লেখা?
বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত গবেষক, মুক্তচিন্তার অধিকারী ও পাণ্ডিত্যপূর্ণ প্রাবন্ধিক ড. আহমদ শরীফ রচিত একটি অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য মননশীল প্রবন্ধগ্রন্থ হলো 'বিচিত চিন্তা' (১৯৬৮)। তাই গ্রন্থস্বত্বের তথ্যে এটি সঠিক উত্তর। হুমায়ুন আজাদ 'লাল নীল দীপাবলি' বা 'নারী' রচনা করেছেন, ড. এনামুল হক 'মুসলিম বাংলা সাহিত্য' লিখেছেন এবং আবুল ফজল 'রেখাচিত্র' লিখেছেন। যেহেতু ভিন্ন ভিন্ন প্রাবন্ধিকদের নিজস্ব আলাদা জগৎ রয়েছে এবং এই গ্রন্থটি তাঁদের রচনা নয়, তাই লেখক পরিচিতি অনুসারে বাকি তিনটি অপশন সম্পূর্ণ ভুল।
143.
বিদ্যাসাগরের পারিবারিক পদবি কী?
সংস্কৃত শাস্ত্রে অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্য 'বিদ্যাসাগর' উপাধি লাভ করা ঈশ্বরচন্দ্রের আসল নাম ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পিতা ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন একজন নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণ, তাই পৈতৃক বা পারিবারিক পদবি হিসেবে 'বন্দ্যোপাধ্যায়' হলো সঠিক উত্তর। অন্যদিকে, মুখোপাধ্যায় (যেমন বঙ্কিমচন্দ্র), গঙ্গোপাধ্যায় (যেমন সুনীল) বা ভট্টাচার্য—এগুলো বাংলার অন্যান্য ব্রাহ্মণ পরিবারের পদবি হলেও বিদ্যাসাগরের পরিবারের সাথে এগুলো যুক্ত নয়। ঐতিহাসিক ও জীবনীভিত্তিক সুনির্দিষ্ট তথ্যের কারণে বাকি তিনটি পারিবারিক পদবি সম্পূর্ণ ভুল বলে প্রমাণিত।
144.
বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত লেখা কোনটি?
বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যজীবনে প্রথম প্রকাশিত রচনা হলো 'বাউন্ডেলের আত্মকাহিনী' নামক একটি গল্প, যা ১৯১৯ সালে সওগাত পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। তাই এটি সঠিক উত্তর। অন্যদিকে, 'ব্যথার দান' হলো তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্পগ্রন্থ (১৯২২)। 'রাজবন্দীর জবানবন্দী' ব্রিটিশ আদালতে দেওয়া তাঁর একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক জবানবন্দি। আর 'অগ্নি-বীণা' (১৯২২) হলো কবির জীবনে প্রকাশিত প্রথম যুগান্তকারী কাব্যগ্রন্থ। যেহেতু প্রশ্নে সুনির্দিষ্টভাবে তাঁর প্রথম প্রকাশিত লেখার কথা জানতে চাওয়া হয়েছে, তাই সাহিত্যিক কালানুক্রম অনুসারে বাকি তিনটি অপশন সম্পূর্ণ ভুল।
145.
বিবি কুলসুম' কার রচনা?
বিবি কুলসুম' (১৯১০) হলো বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গদ্যশিল্পী মীর মশাররফ হোসেন রচিত তাঁর নিজের স্ত্রীর জীবনী বা স্মৃতিচারণমূলক একটি বিখ্যাত গ্রন্থ। তাই গ্রন্থস্বত্বের ভিত্তিতে এটি সঠিক উত্তর। মোজাম্মেল হক 'ফেরদৌসী চরিত' লিখেছেন, ইসমাইল হোসেন সিরাজী 'রায় নন্দিনী' উপন্যাসের জন্য খ্যাত এবং কাজী ইমদাদুল হক 'আব্দুল্লাহ' উপন্যাসের রচয়িতা। যেহেতু তাঁরা কেউই 'বিবি কুলসুম' নামক এই স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থটি রচনা করেননি, তাই রচয়িতার পরিচয়ের ভিত্তিতে বাকি তিনটি বিকল্প যৌক্তিকভাবে সম্পূর্ণ ভুল বলে প্রমাণিত।
146.
বিষাদ-সিন্ধু' কোন ধরনের রচনা? [MBSTU-D: 18-19]
মীর মশাররফ হোসেন রচিত 'বিষাদ-সিন্ধু' কারবালার ঐতিহাসিক ও শোকাবহ ঘটনা অবলম্বনে রচিত হলেও সাহিত্যিক প্রকরণ বা আঙ্গিকের দিক থেকে এটি একটি গদ্যরচিত ঐতিহাসিক 'উপন্যাস'। তাই এটি সঠিক। যদিও এর কাহিনি মহাকাব্যের মতো বিশাল এবং এর মধ্যে গীতিময়তা বা নাটকীয়তা রয়েছে, কিন্তু এটি ছন্দে রচিত মহাকাব্য বা গীতিকাব্য নয় এবং মঞ্চায়নের জন্য নাটক হিসেবেও লেখা হয়নি। তাই গঠনগত সংজ্ঞার বিচারে বাকি তিনটি অপশন সম্পূর্ণ ভুল।
147.
বুঝিলাম, আজ উদ্যানলতা, সৌন্দর্যগুণে, বনলতার নিকট পরাজিত হইল' উক্তিটি কোথা থেকে নেওয়া হয়েছে?
মহাকবি কালীদাসের নাটক অবলম্বনে পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত 'শকুন্তলা' গ্রন্থের এটি একটি বিখ্যাত বাক্য। এখানে রাজা দুষ্মন্ত আশ্রমের স্বাভাবিক বন্য কন্যা শকুন্তলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে রাজপ্রাসাদের কৃত্রিম সৌন্দর্যের সাথে তুলনা করে এই কথাটি ভেবেছিলেন। তাই এটি সঠিক উত্তর। অন্যদিকে, শরৎচন্দ্রের 'বিলাসী', রবীন্দ্রনাথের 'হৈমন্তী' বা অন্য কোনো আধুনিক গল্পে এমন প্রাচীন ও তপোবনের পরিবেশ বা উদ্যানলতা ও বনলতার রূপক তুলনা নেই। তাই টেক্সটের বিষয়বস্তু ও ভাষার কারণে বাকি তিনটি বিকল্প সম্পূর্ণ ভুল।
148.
বুদ্ধদেব বসু জীবনানন্দ দাশকে কী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন? [CoU-C: 19-20, NSTU-F 19-20]
বুদ্ধদেব বসু তাঁর বিখ্যাত 'কালের পুতুল' গ্রন্থে কবি জীবনানন্দ দাশকে 'নির্জনতম কবি' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, যা তাঁর কাব্যের একাকিত্ব ও বিষণ্ণতাকে যথার্থভাবে নির্দেশ করে। তাই এটি সঠিক উত্তর। অন্যদিকে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে 'চিত্ররূপময় কবি' বলেছিলেন, বুদ্ধদেব বসু নয়। তাঁকে সাধারণত 'প্রকৃতির কবি' বা 'রূপসী বাংলার কবি' বলা হলেও বুদ্ধদেব বসু সরাসরি এই উপাধিগুলো দেননি। সুতরাং যৌক্তিক কারণে বাকি তিনটি অপশন এই প্রশ্নের ক্ষেত্রে ভুল বলে বিবেচিত হবে।
149.
বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস' গ্রন্থের লেখক কে?
সঠিক উত্তর হলো 'আহমদ ছফা'। 'বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস' (১৯৭২) প্রখ্যাত চিন্তাবিদ ও লেখক আহমদ ছফা রচিত একটি অত্যন্ত প্রভাবশালী ও আলোড়ন সৃষ্টিকারী প্রবন্ধ গ্রন্থ। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের সুবিধাবাদী চরিত্র, মনস্তত্ত্ব ও সমাজের অবক্ষয় নিয়ে এখানে তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। তাই অপশন ৪ সঠিক। অন্যদিকে, অপশন ১ (আহমদ কবির) সুপরিচিত কোনো প্রাবন্ধিকের নাম নয়। অপশন ২ (আহমদ শরীফ) হলেন 'বিচিত্র চিন্তা' ও 'বাঙালির সমাজ চিন্তা' গ্রন্থের লেখক। অপশন ৩ (হাসান হাফিজুর রহমান) হলেন 'একুশে ফেব্রুয়ারী' সংকলনের সম্পাদক। গ্রন্থ ও লেখকের সুনির্দিষ্ট তথ্যের নিরিখে অপর তিনটি বিকল্প নিশ্চিতভাবেই ভুল।
150.
বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন' নামে বাঙালি মুসলমান সমাজের অগ্রগতির এক যুগান্তকারী আন্দোলনের অন্যতম কাণ্ডারি কে? [NSTU-D: 16-17]
সঠিক উত্তর হলো 'মোতাহের হোসেন চৌধুরী'। ১৯২৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক 'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সূত্রপাত হয়, প্রাবন্ধিক মোতাহের হোসেন চৌধুরী ছিলেন তার অন্যতম প্রধান কাণ্ডারি বা রূপকার। তাঁর 'সংস্কৃতি কথা' গ্রন্থে এই আদর্শ প্রতিফলিত হয়েছে। তাই অপশন ১ সঠিক। অন্যদিকে, অপশন ২ (শামসুর রাহমান) হলেন পরবর্তী কালের আধুনিক কবি। অপশন ৩ (প্রমথ চৌধুরী) হলেন 'সবুজপত্র' ও চলিত রীতির প্রবর্তক, তিনি এই মুসলিম সমাজের আন্দোলনের অংশ ছিলেন না। অপশন ৪ (কাজী নজরুল ইসলাম) হলেন বিদ্রোহী কবি। তাই অন্যগুলো যৌক্তিকভাবে ভুল।
151.
ব্রাহ্মসমাজের মুখপত্র কোনটি? [BSMRSTU-D: 19-20]
অক্ষয়কুমার দত্ত সম্পাদিত 'তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা' (১৮৪৩) ছিল মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত তত্ত্ববোধিনী সভা এবং ব্রাহ্মসমাজের প্রধান মুখপত্র, যা ধর্ম ও সাহিত্য প্রচারে যুক্ত ছিল। তাই এটি সঠিক। অন্যদিকে, 'সমাচার দর্পণ' ছিল শ্রীরামপুর মিশন থেকে প্রকাশিত মিশনারিদের পত্রিকা। 'নবযুগ' সম্পাদনা করতেন কাজী নজরুল ইসলাম এবং 'দিগদর্শন' ছিল প্রথম বাংলা সাময়িকী (১৮১৮)। ব্রাহ্মসমাজের ধর্মীয় ও সামাজিক আদর্শ প্রচারের মুখপত্র হিসেবে বাকি তিনটি বিকল্প সম্পূর্ণ ভুল।
152.
ব্রিটিশ ভারতে নীলকরদের অত্যাচারের কাহিনি উপজীব্য করে কে নাটক রচনা। করেন? [JKKNIU-AP: 18-19]
ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে গ্রামবাংলার সাধারণ কৃষকদের ওপর ইংরেজ নীলকর সাহেবদের অকথ্য নির্যাতনের বাস্তব কাহিনি অবলম্বনে দীনবন্ধু মিত্র তাঁর অমর সৃষ্টি 'নীলদর্পণ' নাটকটি রচনা করেন। তাই এটি সঠিক। মীর মশাররফ হোসেন 'জমিদার দর্পণ' লিখেছিলেন, তারাচরণ সিকদার 'ভদ্রার্জুন' লিখেছিলেন এবং রামনারায়ণ তর্করত্ন 'কুলীন কুলসর্বস্ব' রচনা করেছিলেন, যা নীলকরদের অত্যাচার নিয়ে নয়। তাই বিষয়বস্তুর সুনির্দিষ্টতার কারণে অন্য তিনজন নাট্যকারের নাম এই প্রসঙ্গের জন্য সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক এবং ভুল।
153.
ভাটিয়ালি কোন অঞ্চলের গান? [JKKNIU-AP: 18-19]
ভাটিয়ালি হলো মূলত বাংলাদেশের ভাটি অঞ্চল বা পূর্ববঙ্গের নদীবহুল অঞ্চল, বিশেষ করে বৃহত্তর ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলের মাঝিমাল্লাদের প্রাণখোলা গান। তাই অপশন অনুযায়ী ময়মনসিংহ সঠিক উত্তর। অন্যদিকে, রংপুর অঞ্চলে ভাওয়াইয়া গান প্রচলিত, চট্টগ্রাম অঞ্চলে মাইজভাণ্ডারী ও আঞ্চলিক গান প্রচলিত এবং বর্ধমান হলো পশ্চিমবঙ্গের রাঢ় অঞ্চল, যেখানে বাউল বা লেটোর গান প্রচলিত। তাই ভৌগোলিক লোকজ সংস্কৃতির বিচারে বাকি তিনটি অঞ্চলের নাম সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণিত হয়।
154.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস কোনটি? [JUST-E: 17-18]
জহির রায়হান রচিত 'আরেক ফাল্গুন' হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত বাংলা সাহিত্যের একটি বিখ্যাত উপন্যাস। তাই এটি সঠিক উত্তর। 'হাজার বছর ধরে' জহির রায়হানেরই গ্রামীণ জীবনভিত্তিক উপন্যাস, 'প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে' শামসুর রাহমানের কবিতার বই, এবং 'রাইফেল রোটি আওরাত' আনোয়ার পাশা রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। যেহেতু বাকিগুলো ভাষা আন্দোলনের বিষয়বস্তু নিয়ে রচিত নয়, তাই যৌক্তিক বিচারে অপর অপশনগুলো সম্পূর্ণ ভুল।
155.
ভাষা আন্দোলনের নাটক কোনটি?
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক পটভূমিতে এবং ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের স্মরণে রচিত বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ একাঙ্কিকা নাটক হলো মুনীর চৌধুরীর 'কবর' (১৯৫৩), যা কারাগারে বন্দি অবস্থায় রচিত। তাই এটি সঠিক। অন্যদিকে, 'জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন' (সেলুন নয়) সেলিম আল দীনের লেখা একটি অ্যাবসার্ড নাটক; 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাটক; এবং 'ওরা কদম আলী' মামুনুর রশীদের লেখা শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রামনির্ভর নাটক। যেহেতু এই তিনটি নাটক ভাষা আন্দোলনের কোনো ইতিহাস বহন করে না, তাই বিষয়বস্তুর বিচারে বাকি অপশনগুলো ভুল।
156.
ভাষাবিজ্ঞানী' কার উপাধি?
বাংলা ভাষার উৎপত্তি, বিকাশ এবং ব্যাকরণ নিয়ে আজীবন বিস্তর গবেষণা ও পাণ্ডিত্যপূর্ণ অবদানের জন্য ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্কে বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ 'ভাষাবিজ্ঞানী' বা ভাষাতাত্ত্বিক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। তাই এটি সঠিক। অন্যদিকে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্বকবি ও সাহিত্যিক; লালন ফকির মরমী বাউল সাধক; এবং শামসুর রাহমান আধুনিক নাগরিক কবি ছিলেন। তাঁরা কেউই ভাষার বৈজ্ঞানিক ও তাত্ত্বিক কাঠামো নিয়ে একাডেমিক গবেষণা করেননি, তাই তাঁদের কারো নামের সাথেই এই উপাধিটি যুক্ত নয়। সুতরাং বাকি তিনটি অপশন যৌক্তিকভাবে ভুল।
157.
ভোরের পাখি' কে? [JKKNIU-AP: 18-19]
বাংলা গীতিকবিতার প্রাথমিক রূপকার বিহারীলাল চক্রবর্তীর কবিত্বে মুগ্ধ হয়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন। তাই এটি ঐতিহাসিক ও সাহিত্যিক তথ্যে সঠিক উত্তর। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজে এই উপাধি পাননি। বিষ্ণু দে আধুনিক যুগের মার্কসবাদী কবি এবং ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর মধ্যযুগের অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা, তাঁদের কাউকেই ভোরের পাখি বলা হয় না। সুনির্দিষ্ট উপাধির কারণে বাকি তিনটি বিকল্প যৌক্তিকভাবে সম্পূর্ণ ভুল।
158.
মধু সাধু খাঁ' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও মননশীল ঔপন্যাসিক সতীনাথ ভাদুড়ী রচিত একটি উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের নাম হলো 'মধু সাধু খাঁ'। তাই গ্রন্থস্বত্বের তথ্যের ভিত্তিতে এটি সঠিক উত্তর। অন্যদিকে, অমিয়ভূষণ মজুমদার 'গড় শ্রীখণ্ড' লিখেছেন, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় 'পথের পাঁচালী' রচনার জন্য জগতবিখ্যাত এবং কানাই কুণ্ডু নামে বাংলা সাহিত্যে এই পর্যায়ের কোনো প্রতিষ্ঠিত ঔপন্যাসিকের নাম পাওয়া যায় না। সুনির্দিষ্ট সাহিত্যকর্মের প্রকৃত রচয়িতার প্রমাণ সাপেক্ষে যৌক্তিক বিচার করলে বাকি তিনটি অপশন সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক এবং তথ্যগতভাবে ভুল।
159.
মহাকাব্য ন্যূনতম কয় সর্গে হয়?
অলংকারশাস্ত্র ও সাহিত্যতত্ত্বের ধ্রুপদী নিয়ম অনুযায়ী একটি পূর্ণাঙ্গ মহাকাব্যের গঠন কাঠামোতে ন্যূনতম আটটি (৮টি) সর্গ বা অধ্যায় থাকা বাধ্যতামূলক। এর চেয়ে কম হলে তা মহাকাব্যের মর্যাদা পায় না। তাই এটি সঠিক উত্তর। মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ কাব্য'-এ যেমন ৯টি সর্গ রয়েছে। ন্যূনতম সর্গ সংখ্যার এই সুনির্দিষ্ট ব্যাকরণগত নিয়মের কারণে ৬টি, ৯টি (এটি ন্যূনতম নয়) বা ১১টি সর্গের অপশনগুলো সংজ্ঞাগত দিক থেকে ভুল। তাই আট ব্যতীত অন্য কোনো সংখ্যা যৌক্তিকভাবে মহাকাব্যের ন্যূনতম শর্ত পূরণ করে না।
160.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'বঙ্গভাষা' কবিতাটিতে মূলত কী ভাব প্রকাশ পেয়েছে। [MBSTU-D: 18-19]
কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত তাঁর রচিত সনেট 'বঙ্গভাষা' কবিতায় বিদেশি ভাষার প্রতি মাত্রাতিরিক্ত মোহ এবং মাতৃভাষা বাংলাকে অবহেলা করার কারণে নিজের ভুল বুঝতে পেরে যে তীব্র অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন, তা মূলত 'আত্মগ্লানি'। তাই এটি সঠিক। এখানে নিজের রূপ বা গুণ নিয়ে কোনো আত্মপ্রেম নেই। আত্মপ্রবঞ্চনা বা শুধু আত্মনিন্দাও এর মূল সুর নয়, বরং গভীর অনুশোচনা বা গ্লানিবোধই প্রধান। তাই ভাবগত বিশ্লেষণে বাকি অপশনগুলো ভুল।