Practice Questions

Total Questions: 203

121.
বং থেকে বাংলা' উপন্যাসের লেখক কে? [NSTU-F: 19-20]
বং থেকে বাংলা' উপন্যাসটির রচয়িতা হলেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক রিজিয়া রহমান। এই উপন্যাসে বাঙালি জাতির বিবর্তন ও নৃতাত্ত্বিক ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে, তাই এটি সঠিক উত্তর। অন্যদিকে, শওকত আলী 'প্রদোষে প্রাকৃতজন' লিখেছেন, রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন লিখেছেন 'সুলতানার স্বপ্ন' এবং শওকত ওসমান রচনা করেছেন 'ক্রীতদাসের হাসি'। যেহেতু তাঁরা কেউই 'বং থেকে বাংলা' গ্রন্থটি রচনা করেননি, তাই লেখক পরিচিতি অনুসারে অন্য তিনটি অপশন যৌক্তিকভাবেই সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণিত হয়।
122.
বখতিয়ারের ঘোড়া' কাব্যগ্রন্থের লেখক কে?
বখতিয়ারের ঘোড়া' (১৯৮৫) হলো বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি আল মাহমুদের রচিত একটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ, যেখানে ইতিহাসচেতনা ও লোকজ ঐতিহ্যের চমৎকার মিশ্রণ ঘটেছে। তাই গ্রন্থস্বত্বের ভিত্তিতে এটি সঠিক উত্তর। জিয়া হায়দার, সিকদার আমিনুল হক বা ওমর আলী—তাঁরা প্রত্যেকেই বাংলা সাহিত্যের প্রতিভাবান কবি হলেও, 'বখতিয়ারের ঘোড়া' নামক এই সুনির্দিষ্ট গ্রন্থটি তাঁদের কারো রচনা নয়। সুতরাং, প্রকৃত লেখকের পরিচিতি ও সাহিত্যিক তথ্যের নিরিখে বিশ্লেষণ করলে বাকি তিনজন কবির নাম সম্বলিত অপশনগুলো যৌক্তিকভাবে সম্পূর্ণ ভুল।
123.
বনফুল' কার ছদ্মনাম? [JUST-E: 18-19]
বাংলা সাহিত্যের অণুগল্পের মাস্টার বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় সাহিত্য জগতে তাঁর বিখ্যাত ছদ্মনাম 'বনফুল' নামেই সমধিক পরিচিত। তাই এটি সঠিক উত্তর। বিনয়রতন মুখোপাধ্যায় নামে কোনো বিখ্যাত লেখক নেই, বিষ্ণু দে আধুনিক যুগের একজন কবি যিনি নিজের নামেই লিখতেন এবং যামিনী রায় হলেন পটুয়া বা চিত্রশিল্পী, সাহিত্যিক নন। যেহেতু ছদ্মনামটি কেবল বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের, তাই যৌক্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে বলা যায় অপর তিনটি অপশন সম্পূর্ণ ভুল।
124.
বনফুল কে? [BSFMSTU-C: 19-20]
বাংলা সাহিত্যে অণুগল্প বা ছোটগল্পের জন্য বিখ্যাত কথাসাহিত্যিক বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক ছদ্মনাম হলো 'বনফুল'। তাই এটি তাঁর পরিচয়ের ক্ষেত্রে সঠিক উত্তর। অন্যদিকে, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ছদ্মনাম ছিল 'কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য', রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম 'ভানুসিংহ ঠাকুর', এবং মধ্যযুগের কবি আলাওলের এমন কোনো ছদ্মনাম ছিল না। ছদ্মনাম এবং মূল নামের সঠিক মিলনের দিক থেকে বিশ্লেষণ করলে অপর তিনটি বিকল্প একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক এবং সাহিত্যিক তথ্যের নিরিখে সম্পূর্ণ ভুল।
125.
বাংলা ভাষায় প্রথম মৌলিক সামাজিক নাটক-
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে সমাজ সংস্কারের উদ্দেশ্যে রামনারায়ণ তর্করত্ন রচিত 'কুলীনকুলসর্বস্ব' (১৮৫৪) হলো প্রথম মৌলিক সামাজিক নাটক, যেখানে বহুবিবাহ ও কৌলীন্য প্রথার তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। তাই এটি সঠিক উত্তর। অন্যদিকে, মাইকেল মধুসূদনের 'কৃষ্ণকুমারী' হলো ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি নাটক, দীনবন্ধু মিত্রের 'নীল-দর্পণ' হলো রাজনৈতিক ও কৃষিজীবী মানুষের উপর অত্যাচারের দলিল এবং গিরিশচন্দ্রের 'প্রফুল্ল' অনেক পরের রচনা। যেহেতু সামাজিক বিষয়বস্তুর দিক থেকে 'কুলীনকুলসর্বস্ব' প্রথম, তাই ঐতিহাসিক ও প্রকরণগত বিচারে বাকি তিনটি অপশন সম্পূর্ণ ভুল।
126.
বাংলা ভাষায় প্রথম সার্থক মহাকাব্য কে রচনা করেন?
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ১৮৬১ সালে প্রথম সার্থক ও ধ্রুপদী মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করার অমর কীর্তিটি স্থাপন করেন মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত। তাই এটি ঐতিহাসিক তথ্যে সঠিক উত্তর। নবীনচন্দ্র সেন (রৈবতক) বা কায়কোবাদ (মহাশ্মশান) মহাকাব্য রচনা করলেও তা মধুসূদনের পরে রচিত। আর কাজী নজরুল ইসলাম বিদ্রোহী কবি, তিনি কোনো মহাকাব্য রচনা করেননি। যেহেতু প্রশ্নে প্রথম সার্থক মহাকাব্য রচয়িতার কথা বলা হয়েছে, তাই কালানুক্রমিক ও সাহিত্যিক যোগ্যতার বিচারে বাকি তিনজন সাহিত্যিকের নাম সম্পূর্ণ ভুল।
127.
বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম উপন্যাস-
প্যারিচাঁদ মিত্র (ছদ্মনাম টেকচাঁদ ঠাকুর) রচিত 'আলালের ঘরের দুলাল' (১৮৫৮) গ্রন্থটিকে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম উপন্যাস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তাই ঐতিহাসিক দিক থেকে এটি সঠিক উত্তর। অন্যদিকে, 'হুতোম প্যাঁচার নকশা' কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত একটি ব্যঙ্গাত্মক গদ্য বা স্কেচ। হানা ক্যাথেরিন মুলেন্সের 'ফুলমণি ও করুণার বিবরণ' উপন্যাসের মতো হলেও এটি মূলত খ্রিস্টধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে রচিত গল্প। আর 'কৃষ্ণকান্তের উইল' বঙ্কিমচন্দ্র রচিত অনেক পরের একটি উপন্যাস। যেহেতু 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস রচনার প্রথম সুনির্দিষ্ট প্রয়াস, তাই বাকি তিনটি অপশন কালানুক্রমিক ও গঠনগত বিচারে ভুল।
128.
বাংলা সাহিত্যে চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক কে? [MBSTU-D: 18-19]
বাংলা সাহিত্যে প্রথম বারের মতো কথ্য ভাষাকে বা চলিত রিতীকে সাহিত্যের বাহন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার কৃতিত্ব প্রমথ চৌধুরীর, যিনি 'সবুজপত্র' পত্রিকার মাধ্যমে এই আন্দোলন সফল করেন। তাই এটি সঠিক। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মূলত সাধু রীতির গদ্যশিল্পী ছিলেন। মধ্যযুগের কবি আলাওল গদ্য রচনা করেননি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চলিত রীতি গ্রহণ করলেও প্রবর্তক হিসেবে প্রমথ চৌধুরীকেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তাই ঐতিহাসিক অবদান বিবেচনায় বাকি তিনটি অপশন ভুল।
129.
বাংলা সাহিত্যে প্রথম ট্র্যাজেডি নাটক-
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) হলো বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রথম সার্থক ট্র্যাজেডি বা বিয়োগান্তক নাটক, যা রাজপুত ইতিহাসের কাহিনি অবলম্বনে রচিত। তাই এটি সঠিক উত্তর। রামনারায়ণ তর্করত্নের 'কুলীনকুলসর্বস্ব' হলো প্রথম সামাজিক নাটক, দীনবন্ধু মিত্রের 'নীলদর্পণ' ঐতিহাসিক নাটক হলেও এটি ধ্রুপদী ট্র্যাজেডির শর্ত পুরোপুরি পূরণ করে না এবং তারাচরণ সিকদারের 'ভদ্রার্জুন' প্রথম মৌলিক নাটক হওয়ার দাবিদার হলেও ট্র্যাজেডি নয়। তাই সাহিত্যিক প্রকরণ ও প্রথম হওয়ার ঐতিহাসিক স্বীকৃতি অনুযায়ী বাকি তিনটি অপশন সম্পূর্ণ ভুল।
130.
বাংলা সাহিত্যের কোন লেখককে 'সাহিত্যসম্রাট' উপাধিতে ভূষিত করা হয়? [CoU-B: 18-19]
বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক উপন্যাস রচনা এবং সাহিত্যের সর্বস্তরে অভাবনীয় অবদানের জন্য বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে 'সাহিত্যসম্রাট' উপাধি দেওয়া হয়। তাই এটি সঠিক। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বলা হয় 'বিশ্বকবি', শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে বলা হয় 'অপরাজেয় কথাশিল্পী' এবং বুদ্ধদেব বসু ছিলেন আধুনিকতাবাদী বহুমাত্রিক লেখক, তাঁদের কারো উপাধিই সাহিত্যসম্রাট নয়। যেহেতু নির্দিষ্ট উপাধিটি কেবল বঙ্কিমচন্দ্রের সাথেই যুক্ত, তাই যৌক্তিকভাবে বাকি তিনজন লেখকের নাম সম্বলিত অপশনগুলো সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণিত হয়।
131.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক কে ? [NSTU-D: 15-16]
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক হওয়ার গৌরব অর্জন করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন স্বর্ণকুমারী দেবী, যিনি 'দীপনির্বাণ' উপন্যাস রচনা করেন। তাই এটি সঠিক উত্তর। অন্যদিকে, বেগম রোকেয়া নারী জাগরণের অগ্রদূত হলেও তিনি প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক নন। মহাশ্বেতা দেবী এবং রিজিয়া রহমান অনেক পরবর্তী কালের আধুনিক কথাসাহিত্যিক। কালানুক্রমিক ও ঐতিহাসিক তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করলে প্রথম হওয়ার শর্তে বাকি তিনটি অপশন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং যৌক্তিকভাবে ভুল।
132.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস-
বাংলা সাহিত্যের প্রথম 'সার্থক' বা পরিপূর্ণ উপন্যাস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫) উপন্যাসটিকে। প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে এই গ্রন্থটির নাম না থাকায় 'কোনোটিই নয়' বিকল্পটিই সঠিক উত্তর। অন্যদিকে, 'আলালের ঘরের দুলাল' হলো বাংলা ভাষার প্রথম উপন্যাস (কিন্তু গঠনগত দিক থেকে সার্থক নয়)। 'করুণা ও ফুলমণির বিবরণ' হলো প্রথম উপন্যাস-সদৃশ কাহিনি এবং 'হুতোম প্যাঁচার নকশা' হলো সমাজের নকশা জাতীয় গদ্য। যেহেতু প্রথম সার্থক উপন্যাসের শর্তটি অন্য কোনো অপশন পূরণ করতে পারেনি, তাই সেগুলো যৌক্তিকভাবে ভুল।
133.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাটক কোনটি? [BSMRSTU-E: 19-20]
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'শর্মিষ্ঠা' (১৮৫৯) বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ও পূর্ণাঙ্গ নাটক, যা পাশ্চাত্য রীতির অনুসরণে রচিত হয়েছিল। তাই এটি সঠিক। অন্যদিকে, দীনবন্ধু মিত্রের 'নীলদর্পণ' একটি বিখ্যাত নাটক হলেও এটি প্রথম সার্থক নাটক নয়। 'কৃষ্ণকুমারী' মাইকেল মধুসূদনেরই লেখা প্রথম সার্থক ট্র্যাজেডি, কিন্তু সাধারণ নাটক হিসেবে শর্মিষ্ঠাই প্রথম। 'বিসর্জন' রবীন্দ্রনাথের কাব্যনাট্য। ঐতিহাসিক কাল বিচারে প্রথম সার্থক নাটক হওয়ার শর্তে বাকি তিনটি অপশন তাই ভুল।
134.
বাংলাদেশের প্রখ্যাত নাট্য নির্দেশক-
বাংলাদেশের মঞ্চনাটকের ইতিহাসে আব্দুল্লাহ আল মামুন, নাসিরউদ্দীন ইউসুফ (বাচ্চু) এবং সৈয়দ জামিল আহমেদ—এই তিনজনই অত্যন্ত স্বনামধন্য ও প্রখ্যাত নাট্য নির্দেশক হিসেবে সর্বজনীন স্বীকৃতি পেয়েছেন। তাই এই ত্রয়ীটি সঠিক। অন্যদিকে, প্রথম অপশনে রশীদ হায়দার মূলত কথাসাহিত্যিক; তৃতীয় অপশনে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম মূলত প্রাবন্ধিক ও কথাসাহিত্যিক; এবং চতুর্থ অপশনে ফেরদৌসী রহমান স্বনামধন্য সংগীতশিল্পী, নাট্য নির্দেশক নন। পেশাগত ও শৈল্পিক পরিচয়ের এই অসামঞ্জস্যতার কারণে বাকি তিনটি অপশন লজিক্যাল এলিমিনেশনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ ভুল বলে গণ্য।
135.
বাংলাদেশের রণসংগীত কাজী নজরুল ইসলামের কোন গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত?
বাংলাদেশের রণসংগীত 'চল চল চল, ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল' কবিতাটি মূলত কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ 'সন্ধ্যা' (১৯২৯)-এর অন্তর্ভুক্ত। তাই এটি সঠিক উত্তর। এটি তাঁর বিদ্রোহাত্মক কাব্য 'ভাঙার গান' বা 'বিষের বাঁশি' গ্রন্থে সংকলিত হয়নি এবং তাঁর প্রথম ও সাড়া জাগানো কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নি-বীণা'তেও এই কবিতাটি নেই। যেহেতু কবিতাটির প্রথম প্রকাশের গ্রন্থ হিসেবে 'সন্ধ্যা' ঐতিহাসিকভাবে সুনিশ্চিত, তাই গ্রন্থতালিকার তথ্যের নিরিখে বাকি তিনটি কাব্যগ্রন্থের নাম সম্বলিত অপশনগুলো সম্পূর্ণ ভুল হিসেবে বাতিলযোগ্য।
136.
বাংলাদেশের সাহিত্যে মুক্তিযুদ্ধনির্ভর প্রথম উপন্যাসের রচয়িতা কে? [MBSTU-D: 18-19]
বাংলাদেশের সাহিত্যে মহান মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত প্রথম উপন্যাসের নাম 'রাইফেল রোটি আওরাত', আর এই কালজয়ী উপন্যাসটি রচনা করেছেন শহীদ বুদ্ধিজীবী আনোয়ার পাশা। তাই এটি সঠিক উত্তর। কাজী আবদুল ওদুদ মননশীল প্রাবন্ধিক ছিলেন, শওকত ওসমান মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস (জাহান্নাম হইতে বিদায়) লিখলেও তা প্রথম নয়। আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিনও প্রথম ঔপন্যাসিক নন। ঐতিহাসিক ক্রম এবং প্রথম রচনার স্বীকৃতি অনুযায়ী তাই বাকি তিনটি অপশন যৌক্তিকভাবে ভুল বলে বিবেচিত।
137.
বাংলায় প্রথম কুরআন শরীফ অনুবাদ করেন কে?
পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল-কুরআনের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ও সার্থক বাংলা অনুবাদ করার ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করেন ব্রাহ্ম ধর্মাবলম্বী পণ্ডিত ভাই গিরিশচন্দ্র সেন। ১৮৮১-১৮৮৬ সালের মধ্যে তিনি এই বিশাল কাজটি সম্পন্ন করেন, তাই এটি সঠিক উত্তর। অন্যদিকে, মাওলানা আকরম খাঁ অনেক পরে কুরআনের অনুবাদ ও তাফসির করেছেন। গিরীশ ঘোষ ছিলেন বাংলা নাট্যজগতের একজন বিখ্যাত অভিনেতা ও নাট্যকার, তিনি অনুবাদক নন। আর আবদুল্লাহ ইউসুফ আলী কুরআনের বিখ্যাত ইংরেজি অনুবাদক, বাংলা অনুবাদক নন। তাই গিরিশচন্দ্র সেন ছাড়া বাকি তিনটি অপশন ঐতিহাসিক তথ্যের নিরিখে সম্পূর্ণ ভুল।
138.
বাংলার মিলটন' কাকে বলা হয়?
ঊনবিংশ শতাব্দীর বিখ্যাত মহাকাব্য রচয়িতা হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাহিত্য সমালোচকরা 'বাংলার মিলটন' উপাধিতে ভূষিত করেছেন। কারণ, ইংরেজি মহাকবি জন মিলটনের মতো তিনিও জীবনের শেষভাগে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন এবং ধ্রুপদী মহাকাব্য ('বৃত্রসংহার') রচনা করেছিলেন। তাই এটি সঠিক। অন্যদিকে, কাজী নজরুল ইসলাম 'বিদ্রোহী কবি', মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম সার্থক মহাকবি হলেও মিলটন উপাধি পাননি, এবং শামসুর রাহমান আধুনিক নাগরিক কবি। সাহিত্যিক সাদৃশ্য ও উপাধির সুনির্দিষ্টতার কারণে বাকি তিনটি বিকল্প সম্পূর্ণ ভুল।
139.
বাক্ বাকুম পায়রা / মাথায় দিয়ে টায়রা' ছড়াটির রূপকার কে? [BSMRSTU-D: 19-20]
জনপ্রিয় এই শিশুতোষ ছড়াটির রচয়িতা হলেন প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক ও 'কচিকাঁচার মেলা'র প্রতিষ্ঠাতা রোকনুজ্জামান খান (দাদাভাই)। তাঁর সুপরিচিত 'হাট্টিমাটিম টিম' বইয়ে এটি রয়েছে, তাই এটি সঠিক। অন্যদিকে হাবিবুর রহমান, কবি আহসান হাবীব বা যোগেন্দ্রনাথ সরকার অনেক বিখ্যাত ছড়া রচনা করলেও এই নির্দিষ্ট ছড়াটি তাঁদের সৃষ্ট নয়। নির্দিষ্ট সাহিত্যকর্মের রচয়িতা হিসেবে যাচাই করলে দেখা যায় যে বাকি তিনটি বিকল্প সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক এবং তথ্যগত দিক থেকে ভুল।
140.
বার্ধক্য তাহাই-যাহা পুরাতনকে, মিথ্যাকে, মৃত্যুকে আঁকড়িয়া পড়িয়া থালে উক্তিটি কার?
কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর বিখ্যাত প্রবন্ধ 'যৌবনের গান'-এ প্রকৃত যৌবন ও বার্ধক্যের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে এই বলিষ্ঠ উক্তিটি করেছেন। তাঁর মতে, বয়সের ভার নয় বরং জড়তা ও মৃত্যুভয়ই হলো আসল বার্ধক্য। তাই এটি সঠিক উত্তর। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বা প্রমথ চৌধুরী—তাঁরা বয়সের মনস্তত্ত্ব নিয়ে অনেক প্রবন্ধ লিখলেও, তারুণ্যের বন্দনা করতে গিয়ে বার্ধক্যকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করার এই সুনির্দিষ্ট ভাষাভঙ্গি নজরুলেরই নিজস্ব। তাই উক্তির প্রকৃত স্রষ্টার প্রমাণের ভিত্তিতে বাকি তিনটি অপশন সম্পূর্ণ ভুল।