Practice Questions

Total Questions: 153

1.
"উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহি বসই সরবী বালী। মোরাঙ্গ পীছ পরিহাণ সরবী গীবত গুঞ্জরী মালী।" পদটির পদকর্তা-
উল্লেখিত পদটি চর্যাপদের ২৮ নম্বর পদ থেকে নেওয়া হয়েছে, যার পদকর্তা হলেন শবরপা। এই পদে শবর ও শবরীর জীবনযাত্রার বর্ণনা পাওয়া যায়। সরহপা, শান্তিপা বা কঙ্কণপা চর্যাপদের অন্যান্য বিখ্যাত পদকর্তা হলেও তারা এই নির্দিষ্ট পদটি রচনা করেননি। চর্যাপদের ভণিতা ও বিষয়বস্তু বিশ্লেষণে এটি স্পষ্ট যে এই পদটি শবরপারই রচনা। তাই অন্য তিন কবির নাম এই প্রশ্নের জন্য সঠিক নয়।
2.
"একতাল ইউ অচ্ছিলোঁ স্বমোহেঁ।/ এবেঁ মই বুঝিল সদ্‌গুরু বোহে"। পদটির পদকর্তা-
উদ্ধৃত চর্যাপদের পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা হলেন ভাদেপা, যা চর্যাপদের ৩৫ নম্বর পদে পাওয়া যায়। এখানে সদ্গুরুর উপদেশের মাধ্যমে মোহমুক্তির কথা বলা হয়েছে। চর্যাপদের অন্যান্য সিদ্ধাচার্য যেমন ধর্মপা, বীণাপা বা মহীধরপা এই পদের রচয়িতা নন। চর্যাপদের প্রত্যেকটি পদ নির্দিষ্ট সিদ্ধাচার্যের ভণিতাযুক্ত থাকায় এটি নিশ্চিত যে অন্য কেউ এটি রচনা করেননি। তাই ভাদেপা ছাড়া বাকি তিনটি অপশন তথ্যগতভাবে ভুল ও অগ্রহণযোগ্য।
3.
"কবিকঙ্কন” বলা হয় কাকে? [জাবি C ইউনিট ২০২২-২৩]
মধ্যযুগের চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের সর্বশ্রেষ্ঠ কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে বর্ধমানের জমিদার বাঁকুড়া রায় 'কবিকঙ্কন' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন। তাই বাংলা সাহিত্যে তিনি কবিকঙ্কন নামে সর্বাধিক পরিচিত। এটি অপশন ১-কে সঠিক প্রমাণ করে। অপরদিকে, অপশন ২ (কাহ্নপা) হলেন চর্যাপদের শ্রেষ্ঠ পদকর্তা। অপশন ৩ (বিদ্যাপতি) হলেন মিথিলার কবি যাঁকে 'মৈথিল কোকিল' বলা হয়। অপশন ৪ (ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত) হলেন যুগসন্ধিক্ষণের কবি। সাহিত্যিক উপাধির সুনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক তথ্যের নিরিখে বিচার করলে অপর তিনটি বিকল্প সুস্পষ্টভাবেই ভুল উত্তর।
4.
"কানু ছাড়া গীত নাই"। কোন যুগে সত্য ছিল?
"কানু ছাড়া গীত নাই" প্রবাদটি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের জন্য প্রযোজ্য, কারণ সেসময় বৈষ্ণব পদাবলি ও শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে কানু বা শ্রীকৃষ্ণের প্রেমলীলা সাহিত্যের মূল উপজীব্য ছিল। প্রাচীন যুগে চর্যাপদে কানুর কোনো উল্লেখ বা প্রাধান্য নেই। অন্ধকার যুগে সাহিত্য সৃষ্টির অভাব ছিল এবং আধুনিক যুগে দেবতা বা কানু কেন্দ্রিক সাহিত্যের বদলে মানবতাবাদ প্রাধান্য পায়। তাই মধ্যযুগ ব্যতীত বাকি অপশনগুলো সম্পূর্ণ ভুল।
5.
"গম্ভীরা” বাংলাদেশের কোন অঞ্চলের লোকসংগীত? [বিএসসি ইন নার্সিং - ২০২৩]
গম্ভীরা হলো বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের, প্রধানত রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ঐতিহ্যবাহী লোকসংগীত বা লোকনাট্য। এতে নানা-নাতির সংলাপের মাধ্যমে সমাজের নানা অসংগতি তুলে ধরা হয়। তাই অপশন ৪ সঠিক। পক্ষান্তরে, অপশন ১ (রংপুর) অঞ্চলে ভাওয়াইয়া গান জনপ্রিয়। অপশন ২ (সিলেট) অঞ্চলে বাউল ও ধামাইল প্রচলিত। অপশন ৩ (চট্টগ্রাম) মাইজভান্ডারী গানের আদি স্থান। ভৌগোলিক সংস্কৃতি ও লোকসংগীতের উৎপত্তি স্থলের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অন্য তিনটি বিকল্প যৌক্তিকভাবে ভুল।
6.
"ধন ধান্য পুষ্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা" গানটির রচয়িতা কে? [চবি B-1 উপ-ইউনিট ২০২৪-২৫]
দেশপ্রেমমূলক কালজয়ী গান "ধন ধান্য পুষ্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা"-এর রচয়িতা হলেন প্রখ্যাত নাট্যকার ও কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (ডি. এল. রায়)। তাঁর রচিত 'শাজাহান' নাটকে এই বিখ্যাত গানটি ব্যবহৃত হয়েছে। তাই অপশন ৪ সঠিক। অন্যদিকে, অপশন ১ (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) 'আমার সোনার বাংলা' গানের রচয়িতা। অপশন ২ (কাজী নজরুল ইসলাম) রণসংগীত 'চল্‌ চল্‌ চল্‌'-এর রচয়িতা। অপশন ৩ (মনিরুজ্জামান) হলেন একজন আধুনিক গীতিকার ও সাহিত্যিক। স্রষ্টা সম্পর্কিত নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক তথ্যের ভিত্তিতে যৌক্তিক বর্জনের মাধ্যমে অপর তিনটি বিকল্প সম্পূর্ণ ভুল উত্তর হিসেবে গণ্য হবে।
7.
"বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা আজ জেগেছে সেই জনতা” গানটির গীতিকার - [জাবি B ইউনিট ২০২২-২৩]
গণসংগীত হিসেবে তুমুল জনপ্রিয় "বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা" গানটির প্রখ্যাত গীতিকার ও সুরকার হলেন ভারতীয় উপমহাদেশের বিখ্যাত সংগীতজ্ঞ সলিল চৌধুরী। নিপীড়িত জনতার জাগরণের কথা এই গানে বলা হয়েছে। তাই যৌক্তিকভাবে অপশন ২ সঠিক। পক্ষান্তরে, অপশন ১ (আব্দুল গাফফার চৌধুরী) হলেন একুশের গানের রচয়িতা। অপশন ৩ (আলতাফ মাহমুদ) হলেন একুশের গানের সুরকার। অপশন ৪ (দ্বিজেন্দ্রলাল রায়) হলেন 'ধন ধান্য পুষ্প ভরা' গানের রচয়িতা। গীতিকার সম্পর্কিত তথ্যের ভিত্তিতে অন্য বিকল্পগুলো নিশ্চিতভাবে ভুল।
8.
"মূর্খে রচিত গীত নাজানে বৃত্তান্ত। প্রথমে রচিল গীত কানাহরি দত্ত"। কে বলেছেন?
মনসামঙ্গল কাব্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি বিজয়গুপ্ত তার কাব্যের শুরুতে আদি কবি কানাহরি দত্তের রচনার সমালোচনা করে উক্ত উক্তিটি করেছিলেন। তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন কানাহরি দত্তের রচনায় তথ্যের ও শিল্পের অভাব ছিল। তাই সঠিক উত্তর অপশন ২। অন্যদিকে, ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা, মনসামঙ্গলের পূর্বসূরিদের নিয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেননি, তাই অপশন ১ ভুল। চণ্ডীদাস বৈষ্ণব পদাবলির কবি, মনসামঙ্গলের সাথে তার সম্পৃক্ততা নেই, তাই অপশন ৩ ভুল। রামাই পণ্ডিত শূন্যপুরাণের রচয়িতা, তিনিও এই উক্তির সাথে সম্পর্কিত নন, তাই অপশন ৪ ভুল।
9.
"মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি" গানের গীতিকার কে? [বিএসসি ইন নার্সিং কোর্স ২০২২]
মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত তুমুল জনপ্রিয় কালজয়ী গান 'মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি'-এর প্রখ্যাত গীতিকার হলেন গোবিন্দ হালদার। তাই অপশন ৪ সঠিক। অন্যদিকে, অপশন ১ (মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান) একজন আধুনিক গীতিকার। অপশন ২ (সলিল চৌধুরী) প্রখ্যাত সুরকার ও গীতিকার। অপশন ৩ (আপেল মাহমুদ) হলেন আলোচ্য গানটির সুরকার ও শিল্পী, গীতিকার নন। গানের গীতিকার ও সুরকার সম্পর্কিত ঐতিহাসিক তথ্যের আলোকে লজিক্যাল এলিমিনেশনের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে অন্য তিনটি বিকল্প ভুল।
10.
"হাত জোড় করিঞা মাঙ্গো দান বারেক মহাত্মা না রাখ সম্মান"। কোন গ্রন্থ থেকে গৃহীত?
এই উদ্ধৃতিটি মূলত হলায়ুধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভোদয়া' গ্রন্থ থেকে গৃহীত হয়েছে, যা বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগে রচিত বলে ধারণা করা হয়। গোরক্ষ বিজয় হলো নাথ সাহিত্যের গ্রন্থ, শূন্যপুরাণ হলো ধর্মঠাকুরের পূজাপদ্ধতি বিষয়ক গ্রন্থ আর চর্যাপদ হলো প্রাচীন যুগের সাধনসংগীত। এই তিনটি গ্রন্থের ভাষা বা বিষয়বস্তুর সাথে উল্লেখিত পঙ্‌ক্তিটির কোনো মিল নেই। তাই সেক শুভোদয়া ছাড়া বাকি অপশনগুলো বাতিলযোগ্য।
11.
“মূর্খে রচিত গীত নাজানে বৃত্তান্ত।‌ প্রথমে রচিল গীত কানাহরি দত্ত"। কে বলেছেন?
এই বিখ্যাত উক্তিটি করেছেন মনসামঙ্গল কাব্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি বিজয়গুপ্ত। তিনি আদি কবি কানাহরি দত্তের কাব্যের ত্রুটি নির্দেশ করতে গিয়ে এই কথা বলেছেন। ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর ছিলেন অন্নদামঙ্গল কাব্যের কবি, তিনি এমন কোনো উক্তি করেননি। চণ্ডীদাস পদাবলি সাহিত্যের কবি এবং রামাই পণ্ডিত শূন্যপুরাণের রচয়িতা, তারাও মনসামঙ্গলের আদি কবি সম্পর্কে এমন মন্তব্য করেননি। তাই বিজয়গুপ্ত ছাড়া বাকি সব অপশন ভুল।
12.
১৮০০ সালের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা-
১৮০০ সালের ৪ মে লর্ড ওয়েলেসলি কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন, যা বাংলা গদ্য বিকাশে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে। এটি এই সালের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা। তাই সঠিক উত্তর অপশন ২। অন্যদিকে, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর জন্মগ্রহণ করেন ১৮২০ সালে, তাই অপশন ১ ভুল। বিদ্যাসাগর ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিত হিসেবে যোগদান করেন ১৮৪১ সালে, তাই অপশন ৩ ভুল। বিদ্যাসাগরের প্রথম গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি' প্রকাশিত হয় ১৮৪৭ সালে, তাই অপশন ৪ কালানুক্রমিক তথ্যের দিক থেকে সম্পূর্ণ ভুল।
13.
১৮০০ সালের পূর্বে মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের প্রধান গৌরবময় সাহিত্য?
১৮০০ সালের পূর্বে অর্থাৎ মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে গৌরবময় ও সমৃদ্ধ ধারা ছিল বৈষ্ণব সাহিত্য। এর অন্তর্গত পদাবলি ও জীবনী সাহিত্য সে সময় বিশাল প্রভাব বিস্তার করেছিল। পদাবলি সাহিত্য বৈষ্ণব সাহিত্যেরই একটি অংশ মাত্র। চর্যাপদ প্রাচীন যুগের সাহিত্য, মধ্যযুগের নয়। মনসামঙ্গল গুরুত্বপূর্ণ হলেও বৈষ্ণব সাহিত্যের দার্শনিক ও শৈল্পিক উৎকর্ষের কাছে এটি প্রধান গৌরব নয়। তাই বৈষ্ণব সাহিত্যই সঠিক।
14.
১৯২৬-এর 'বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন' কোন বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক? [চবি D ইউনিট- ২০২১-২২]
১৯২৬ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে 'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যে 'বুদ্ধির মুক্তি' আন্দোলনের সূচনা হয়, তার প্রধান কেন্দ্র ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (মুসলিম হলের ইউনিয়ন কক্ষ)। তাই যৌক্তিকভাবে অপশন ২ সঠিক। অপরদিকে, অপশন ১ (কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়) বাংলার প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হলেও এই আন্দোলনের কেন্দ্র ছিল না। অপশন ৩ (আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়) ভারতে স্যার সৈয়দ আহমদ খানের শিক্ষা আন্দোলনের কেন্দ্র ছিল। অপশন ৪ (বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতন কেন্দ্রিক। ঐতিহাসিক স্থানিক তথ্যের ভিত্তিতে অন্য বিকল্পগুলো ভুল।
15.
১৯৪৩ এর দুর্ভিক্ষের প্রতিফলন ঘটেছে কোন গল্পে? [GST A ইউনিট ২০২১-২২]
শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত 'মৌসুম' গল্পটিতে ১৯৪৩ সালের ভয়াবহ মন্বন্তর বা পঞ্চাশের দুর্ভিক্ষের (বাংলা ১৩৫০) মর্মান্তিক চিত্র ও এর পরবর্তী গ্রামীণ জীবনের সংগ্রাম প্রতিফলিত হয়েছে। তাই অপশন ২ সঠিক। অপরদিকে, অপশন ১ (ফসিল) সুবোধ ঘোষের লেখা গল্প যা জমিদার প্রথা ও শোষণের চিত্র তুলে ধরে। অপশন ৩ (একটি তুলসী গাছের কাহিনী) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর দেশভাগ নিয়ে লেখা গল্প। অপশন ৪ (পুঁইমাচা) বিভূতিভূষণের গ্রামীণ দারিদ্র্যের গল্প। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় অপর তিনটি বিকল্প যৌক্তিকভাবে ভুল।
16.
অনূদিত গ্রন্থ 'সভ্যতা'র মূল লেখক কে? [জাবি গ ইউনিট, ২০২০-২১]
প্রাবন্ধিক মোতাহের হোসেন চৌধুরী ক্লাইভ বেল (Clive Bell) রচিত বিখ্যাত ইংরেজি গ্রন্থ 'Civilization'-এর সার্থক বাংলা অনুবাদ করেছেন 'সভ্যতা' নামে। তাই মূল লেখক হিসেবে অপশন ৪ সঠিক। অপরদিকে, অপশন ১ (মোতাহের হোসেন চৌধুরী) হলেন গ্রন্থটির অনুবাদক, মূল লেখক নন। অপশন ২ (বার্ট্রান্ড রাসেল) একজন প্রখ্যাত ব্রিটিশ দার্শনিক, যাঁর লেখা অনুবাদ করেছেন কাজী আবদুল ওদুদ। অপশন ৩ (উইলিয়াম ব্লেক) একজন ইংরেজ কবি। অনুবাদ সাহিত্যের ঐতিহাসিক তথ্যের নিরিখে যৌক্তিক বর্জনের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে অন্য তিনটি বিকল্প ভুল।
17.
আফতাব সংগীত' গ্রন্থের রচয়িতা কে? [GST A ইউনিট ২০২১-২২]
আফতাব সংগীত' বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম রচিত একটি বিখ্যাত গানের সংকলন গ্রন্থ। তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী আফতাব-উন-নেসা (যাঁকে তিনি আদর করে 'সরলা' ডাকতেন)-এর নামানুসারেই তিনি এই গ্রন্থের নামকরণ করেন। তাই অপশন ৪ সঠিক। অপরদিকে, অপশন ১ (হাছন রাজা) 'হাসন উদাস' গ্রন্থের রচয়িতা। অপশন ২ (শীতালং শাহ) আরেকজন সুফি সাধক। অপশন ৩ (লালন সাঁই) লালন গীতিকার স্রষ্টা। গ্রন্থকার সম্পর্কিত সুনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক তথ্যের নিরিখে লজিক্যাল এলিমিনেশন পদ্ধতিতে অন্য বিকল্পগুলো নিশ্চিতভাবে ভুল বলে পরিগণিত হয়।
18.
আবুল মনসুর আহমেদের 'আয়না' কোন ধরনের রচনা? [চবি D ইউনিট ২০২১-২২]
প্রখ্যাত সাহিত্যিক আবুল মনসুর আহমদ রচিত 'আয়না' বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ একটি ব্যঙ্গগল্প বা স্যাটায়ার (Satire) সংকলন। ধর্মীয় ভণ্ডামি ও সমাজের কুসংস্কারকে এই গ্রন্থে তীব্রভাবে ব্যঙ্গ করা হয়েছে। তাই যৌক্তিকভাবে অপশন ৩ সঠিক। পক্ষান্তরে, অপশন ১ (উপন্যাস) হলো দীর্ঘ আখ্যান, যা আয়না নয় (তাঁর উপন্যাস হলো জীবনক্ষুধা)। অপশন ২ (নাটক) অভিনয়ের জন্য লেখা হয়। অপশন ৪ (প্রহসন) নাটকেরই একটি হাস্যরসাত্মক শাখা, গদ্য সংকলন নয়। সাহিত্যিক প্রকরণের নিরিখে অপর তিনটি বিকল্প সুনিশ্চিতভাবেই ভুল।
19.
আবেগের 'উৎকট প্রাধান্য' থাকে কোন ধরনের নাটকে? [জাবি C ইউনিট ২০২৪-২৫]
মেলোড্রামা (Melodrama) বা অতিনাটকীয় নাটকে যুক্তি বা বাস্তবতার চেয়ে আবেগ ও উত্তেজনার উৎকট বা অতিরঞ্জিত প্রাধান্য থাকে, যেখানে দর্শকের অনুভূতিকে তীব্রভাবে নাড়া দেওয়াই মূল লক্ষ্য। তাই যৌক্তিকভাবে অপশন ৩ সঠিক। অপরদিকে, অপশন ১ (কমেডি) হলো মিলনান্তক ও হাস্যরসাত্মক নাটক। অপশন ২ (ট্রাজেডি) হলো বিয়োগান্তক নাটক, যেখানে নিয়তির সাথে দ্বন্দ্ব ও গভীর দর্শন থাকে, সস্তা আবেগ নয়। অপশন ৪ (যাত্রা) হলো গ্রামবাংলার লৌকিক নাট্যপালা। নাট্যতাত্ত্বিক সংজ্ঞার নিরিখে যৌক্তিক বর্জন পদ্ধতি প্রয়োগ করলে বাকি তিনটি বিকল্প সুস্পষ্টভাবেই ভুল উত্তর।
20.
আমার একাত্তর' কার রচনা? [চবি B ইউনিট, ২০২০-২১]
আমার একাত্তর' হলো জাতীয় অধ্যাপক ও প্রখ্যাত পণ্ডিত ড. আনিসুজ্জামান রচিত ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা নির্ভর একটি সুপরিচিত স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ। তাই যৌক্তিকভাবে অপশন ২ সঠিক। অন্যদিকে, অপশন ১ (সুফিয়া কামাল) 'একাত্তরের ডায়েরি' গ্রন্থের লেখিকা। অপশন ৩ (সৈয়দ শামসুল হক) 'নিষিদ্ধ লোবান' উপন্যাসের রচয়িতা। অপশন ৪ (শামসুজ্জামান খান) একজন প্রখ্যাত ফোকলোরবিদ। গ্রন্থ ও লেখকের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে লজিক্যাল এলিমিনেশন পদ্ধতি প্রয়োগ করলে অপর তিনটি বিকল্প সুস্পষ্টভাবেই ভুল উত্তর হিসেবে পরিগণিত হয়।