Practice Questions

Total Questions: 203

61.
কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র? [JKKNIU-AP: 18-19]
স্বাধীন বাংলাদেশে নির্মিত এবং চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত 'ওরা ১১ জন' (১৯৭২) হলো সরাসরি মহান মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে তৈরি প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র। তাই এটি সঠিক। 'জীবন থেকে নেয়া' মূলত ভাষা আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে নির্মিত, 'পদ্মা নদীর মাঝি' জেলেদের জীবন নিয়ে নির্মিত এবং 'গঙ্গাহৃদি বঙ্গভূমি' মুক্তিযুদ্ধের সরাসরি চিত্রায়ন নয়। তাই সুনির্দিষ্টভাবে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রের শর্তে বাকি তিনটি অপশন সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক এবং যৌক্তিকভাবে ভুল প্রমাণিত হয়।
62.
কোনটি শরৎচন্দ্রের রচনা?
অপরাজেয় কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি বিখ্যাত পারিবারিক ও সামাজিক উপন্যাসের নাম হলো 'বৈকুণ্ঠের উইল'। তাই এটি সঠিক উত্তর। অন্যদিকে, 'কৃষ্ণকান্তের উইল' রচনা করেছেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, 'তিথিডোর' হলো বুদ্ধদেব বসু রচিত আধুনিক উপন্যাস এবং 'নন্দিত নরকে' বাংলাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের লেখা প্রথম উপন্যাস। যেহেতু প্রশ্নে সুনির্দিষ্টভাবে শরৎচন্দ্রের রচনার কথা জানতে চাওয়া হয়েছে এবং বাকি গ্রন্থগুলো ভিন্ন লেখকদের সৃষ্টি, তাই যৌক্তিক এলিমিনেশনের মাধ্যমে বাকি তিনটি বিকল্প সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণিত হয়।
63.
কোনটি সেলিম আল দীনের নাটক নয়?
প্রখ্যাত নাট্যকার সেলিম আল দীনের রচনা তালিকায় 'গণনায়ক' নামের কোনো নাটক নেই, বরং এটি নূরুল মোমেন বা অন্য নাট্যকারের রচনা হতে পারে। প্রশ্নে 'কোনটি নয়' জানতে চাওয়ায় এটিই সঠিক উত্তর। অন্যদিকে, 'কিত্তনখোলা', 'সংবাদ কার্টুন' এবং 'হাত হদাই'—এই তিনটিই সেলিম আল দীনের রচিত অত্যন্ত সুপরিচিত এবং ঢাকা থিয়েটার কর্তৃক মঞ্চায়িত সফল নাটক। যেহেতু প্রথম অপশনটি বাদে বাকি তিনটিই তাঁর নিজস্ব সৃষ্টি, তাই নেতিবাচক প্রশ্নের শর্তানুযায়ী বাকি তিনটি বিকল্প যৌক্তিকভাবেই ভুল হিসেবে বাতিলযোগ্য।
64.
কোনটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ লিখিত নাটকের নাম?
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মনস্তাত্ত্বিক কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত একটি অত্যন্ত বিখ্যাত ও বহুল পঠিত নাটক হলো 'বহিপীর' (১৯৬০)। এই নাটকে পীরপ্রথা ও সামাজিক কুসংস্কারের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তাই এটি সঠিক উত্তর। অন্যদিকে, 'অবিশ্বাস্য', 'আদিগন্ত' বা 'পুরুষমেধ' নামে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর কোনো বিখ্যাত নাটক সাহিত্য ইতিহাসে পাওয়া যায় না। তিনি মূলত 'তরঙ্গভঙ্গ', 'সুড়ঙ্গ' ও 'উজানে মৃত্যু' লিখেছেন। তাই নির্দিষ্ট গ্রন্থের তথ্যের ভিত্তিতে বাকি তিনটি অপশন সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক ও যৌক্তিকভাবে ভুল।
65.
কোনো রোগীর চিকিৎসা করিতে হইলে প্রথমে রোগের অবস্থা জানা আবশ্যক।' উক্তিটি কোন লেখার অন্তর্গত?
নারী সমাজের পশ্চাৎপদতা ও তাদের উন্নতির উপায় নির্দেশ করতে গিয়ে সমাজসংস্কারক বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন তাঁর 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে এই যৌক্তিক ও রূপক বাক্যটি ব্যবহার করেছেন। তাই প্রবন্ধের টেক্সট অনুযায়ী এটি সঠিক উত্তর। 'সাহিত্যে খেলা' হলো প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্য বিষয়ক প্রবন্ধ, 'যৌবনের গান' হলো কাজী নজরুল ইসলামের তারুণ্য বন্দনামূলক প্রবন্ধ, আর 'বিলাসী' হলো শরৎচন্দ্রের প্রেম ও সমাজের গল্প। যেহেতু অন্য গ্রন্থগুলোর বিষয়বস্তু ও মূল বক্তব্যের সাথে এই উক্তিটির মিল নেই, তাই বাকি তিনটি অপশন সম্পূর্ণ ভুল।
66.
খাঁচার ভিতর অচিন পাখি' পঙ্ক্তিটির উৎস কী?
মানবদেহ ও আত্মার মধ্যকার রহস্যময় এবং ক্ষণস্থায়ী সম্পর্ককে রূপকের মাধ্যমে বোঝাতে গিয়ে কুষ্টিয়ার প্রখ্যাত বাউল সাধক লালন সাঁই রচনা করেছেন তাঁর অমর মরমী গান 'খাঁচার ভিতর অচিন পাখি ক্যামনে আসে যায়'। তাই এটি লালন গীতির অংশ হিসেবে সঠিক। এটি রবীন্দ্রনাথ, নজরুল বা সিলেটের মরমী সাধক হাসন রাজার রচনা নয়। যদিও লালনের গানে প্রভাবিত হয়ে অনেকেই গান লিখেছেন, তবে এই সুনির্দিষ্ট রূপকটি বাউল সম্রাট লালন সাঁইয়ের নিজস্ব সৃষ্টি। তাই বাকি তিনটি সাঙ্গীতিক ধারা বা অপশন ঐতিহাসিকভাবে সম্পূর্ণ ভুল।
67.
খেউর' কী? [JKKNIU-AP: 18-19]
বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির ইতিহাসে 'খেউর' হলো একপ্রকার আদি রসাত্মক বা অশ্লীলতা দোষে দুষ্ট লঘু গান, যা প্রধানত কবিগানের আসরে বা যাত্রাপালায় গাওয়া হতো। তাই এটি সঠিক উত্তর। এটি কোনো নাটকের প্রধান চরিত্রের নাম নয়। এটি কোনোভাবেই ভারতের হিন্দি নাটকের সাথে সম্পর্কিত নয়। যেহেতু এটি একটি সুনির্দিষ্ট সংগীত রীতির নাম, তাই 'কোনোটিই নয়' অপশনটিও খাটবে না। সুতরাং বাকি তিনটি অপশন সম্পূর্ণ ভুল।
68.
খোয়াবনামা' কোন ধরনের গ্রন্থ?
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত 'খোয়াবনামা' (১৯৯৬) মূলত তেভাগা আন্দোলন ও গ্রামীণ জনজীবনের মিথ বা পুরাণ মিশ্রিত একটি মহাকাব্যিক 'উপন্যাস'। তাই এটি সাহিত্যের প্রকরণ বিচারে সঠিক উত্তর। নামের সাথে 'খোয়াব' বা স্বপ্ন শব্দটি যুক্ত থাকলেও এটি কোনো স্বপ্নের ব্যাখ্যা সম্বলিত মনস্তাত্ত্বিক বই বা কোনো ধর্মীয় নির্দেশনামূলক গ্রন্থ নয় এবং এটি ছোটগল্পের সংকলনও নয়। সাহিত্যের রূপ, গঠনশৈলী এবং বিষয়বস্তুর গভীরতা বিশ্লেষণ করলে বাকি তিনটি অপশন সংজ্ঞাগত দিক থেকে সম্পূর্ণ ভুল।
69.
গাজী মিয়াঁর বস্তানী' বইয়ের লেখক- [BSFMSTU-C: 19-20]
গাজী মিয়াঁর বস্তানী' হলো বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুসলিম ঔপন্যাসিক মীর মশাররফ হোসেন রচিত একটি ব্যঙ্গাত্মক ও আত্মজৈবনিক ধাঁচের রচনা। তাই এটি সাহিত্যিক নিদর্শনের ভিত্তিতে সঠিক উত্তর। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর—তাঁদের কারোরই রচনা তালিকায় এমন কোনো ব্যঙ্গাত্মক গ্রন্থের অস্তিত্ব নেই। গ্রন্থ ও লেখকের সঠিক সম্পর্ক যাচাই করলে দেখা যায় যে, মীর মশাররফ হোসেন ব্যতীত বাকি তিনটি বিকল্প সম্পূর্ণভাবে অপ্রাসঙ্গিক ও ভুল।
70.
গানে গানে তর্ক যুদ্ধকে কী বলে? [JKKNIU-AP: 18-19]
বাংলা লোকসংগীতের ঐতিহ্য অনুযায়ী দুজন বয়াতি বা গায়কের মধ্যে প্রশ্ন-উত্তর ও গানে গানে যে তীব্র প্রতিযোগিতামূলক তর্কযুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়, তাকে 'কবি গান' বলা হয়। তাই এটি সঠিক। চটকা হলো ভাওয়াইয়ার একটি দ্রুত লয়ের রূপ, জারি গান হলো কারবালার শোকাবহ গান এবং রাগপ্রধান গান হলো উচ্চাঙ্গ শাস্ত্রীয় সংগীত। এগুলোর কোনোটিতেই গায়কদের মাঝে তর্কমূলক প্রতিযোগিতা থাকে না। তাই সংজ্ঞাগত দিক থেকে বাকি তিনটি অপশন ভুল।
71.
গ্রিক ট্র্যাজেডির মর্মবাণী-
প্রাচীন গ্রিক ট্র্যাজেডি নাটকগুলোর (যেমন: ইডিপাস) মূল মর্মবাণী বা দর্শন হলো নিয়তি বা 'অমোঘ বিধি' (Fate/Destiny)। গ্রিকদের বিশ্বাস ছিল, নিয়তির লিখন দেবতা বা মানুষ কেউই খণ্ডাতে পারে না এবং এই অমোঘ বিধির কাছে মানুষের অসহায়ত্বই ট্র্যাজেডির জন্ম দেয়। তাই এটি সঠিক। চরিত্রের অবিবেচনাপ্রসূত ত্রুটি (Hamartia) পতনের কারণ হলেও মর্মবাণী নয়। কেবল মৃত্যু বা পাপবোধ গ্রিক ট্র্যাজেডির মূল ফোকাস নয়। তাই দার্শনিক ও সাহিত্যিক তত্ত্বের ভিত্তিতে বাকি তিনটি অপশন যৌক্তিকভাবে সম্পূর্ণ ভুল।
72.
চারণ কবি' কে?
ব্রিটিশবিরোধী স্বদেশি আন্দোলনের সময় গ্রামগঞ্জে ঘুরে ঘুরে স্বরচিত উদ্দীপনামূলক গান গেয়ে সাধারণ মানুষকে জাগিয়ে তোলার অসামান্য অবদানের জন্য মুকুন্দ দাসকে বাংলা সাহিত্যের 'চারণ কবি' বলা হয়। তাই এটি সঠিক উত্তর। অন্যদিকে, জসীমউদ্‌দীন হলেন বাংলার প্রকৃতির 'পল্লীকবি'। মোজাম্মেল হক এবং প্রমিত সারোয়ার আধুনিক ধারার সাহিত্যিক হলেও চারণ কবির মতো পথে পথে ঘুরে গান গাওয়ার ঐতিহাসিক ভূমিকা তাঁদের ছিল না। তাই সুনির্দিষ্ট দেশাত্মবোধক ও সাঙ্গীতিক উপাধির কারণে বাকি তিনজন ব্যক্তির নাম সম্পূর্ণ ভুল।
73.
চাষাভূষার কাব্য' কার লেখা?
সাধারণ শ্রমজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষের জীবনসংগ্রাম নিয়ে রচিত 'চাষাভূষার কাব্য' (১৯৮১) নামক সুপরিচিত কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা হলেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত কবি নির্মলেন্দু গুণ। তাই এটি সঠিক উত্তর। কাজী নজরুল ইসলাম 'সর্বহারা' বা 'ফণি-মনসা' লিখেছেন, মনসুর বয়াতি ছিলেন মধ্যযুগের লোকপালার (দেওয়ানা মদিনা) রচয়িতা এবং গোলাম কুদ্দুস ভিন্ন ধারার সাহিত্যিক। যেহেতু তাঁদের কারোরই সাহিত্যকর্মে 'চাষাভূষার কাব্য' গ্রন্থটির উল্লেখ নেই, তাই গ্রন্থস্বত্বের সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে অপর তিনটি বিকল্প যৌক্তিকভাবে সম্পূর্ণ ভুল ও ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়।
74.
চিহ্ন' উপন্যাসের লেখক-
বাংলা উপন্যাসে ফ্রয়েডীয় ও মার্কসবাদী দর্শনের সার্থক রূপকার মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের নাম হলো 'চিহ্ন' (১৯৪৭), যা রাজনৈতিক পটভূমিতে রচিত। তাই এটি সঠিক উত্তর। অন্যদিকে, প্রেমেন্দ্র মিত্র কল্লোল যুগের কবি ও গল্পকার, শওকত ওসমান 'জননী' বা 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাসের জন্য বিখ্যাত এবং জহির রায়হান 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসের রচয়িতা। তাঁরা কেউই 'চিহ্ন' নামক এই নির্দিষ্ট উপন্যাসটি রচনা করেননি বলে লেখক পরিচিতি অনুযায়ী বাকি তিনজন সাহিত্যিকের নাম যৌক্তিকভাবে সম্পূর্ণ ভুল।
75.
চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া' কবিতায় 'চুনিয়া' কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে? [KU-A: 18-19]
কবি রফিক আজাদ রচিত বিখ্যাত 'চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া' কবিতায় 'চুনিয়া' শব্দটিকে একটি কাল্পনিক শান্তিময়, আদিবাসীদের নির্ভেজাল গ্রাম বা 'সবুজ ও শান্তি'র প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তাই এটি সঠিক উত্তর। এই কবিতায় চুনিয়া কোনোভাবেই চিৎকার, হিংস্রতা বা যুদ্ধক্ষেত্র (কুরুক্ষেত্র)-এর মতো নেতিবাচক বা ধ্বংসাত্মক অর্থে ব্যবহৃত হয়নি, বরং এটি আধুনিক নাগরিক কোলাহলমুক্ত একটি আদর্শ আশ্রয়স্থল। তাই অর্থগত বিশ্লেষণে বাকি তিনটি নেতিবাচক অপশন সম্পূর্ণ ভুল।
76.
চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা মুখ তার শ্রাবন্তীর কারুকার্য এখানে শ্রাবন্তী কী?
রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের সর্বশ্রেষ্ঠ রোমান্টিক কবিতা 'বনলতা সেন'-এ উল্লেখিত 'শ্রাবস্তী' (প্রশ্নে শ্রাবন্তী টাইপো) হলো প্রাচীন ভারতের একটি ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত সমৃদ্ধশালী 'নগরীর নাম', যার ভাস্কর্য ও কারুকাজ ছিল ভুবনবিখ্যাত। তাই এটি সঠিক উত্তর। এটি কোনো গাছের নাম নয় বা কবির কোনো কন্যার নামও নয়। বনলতা সেনের বাড়ি ছিল নাটোর নামক শহরে, শ্রাবস্তীতে নয়। সাহিত্যিক রূপক ও ঐতিহাসিক নগরীর সুনির্দিষ্ট ব্যবহারের কারণে বাকি তিনটি অপশন সংজ্ঞাগত দিক থেকে সম্পূর্ণ ভুল।
77.
জাবালি' ছদ্মনামে লিখতেন-
বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক ও গল্পকার বিমল মিত্র (যিনি 'কড়ি দিয়ে কিনলাম' বা 'সাহেব বিবি গোলাম' উপন্যাসের জন্য বিখ্যাত) তাঁর সাহিত্য চর্চায় মাঝে মাঝে 'জাবালি' ছদ্মনামটি ব্যবহার করতেন। তাই এটি সঠিক উত্তর। অন্যদিকে, বিমল ঘোষ মূলত 'মৌমাছি' ছদ্মনামে শিশুসাহিত্য রচনা করতেন। শম্ভু মিত্র ছিলেন একজন কিংবদন্তি নাট্যকার ও অভিনেতা, তিনি এই ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন না। আর এম. ওবায়দুল্লাহ নামের কোনো প্রতিষ্ঠিত সাহিত্যিক এই ছদ্মনাম ধারণ করেননি। তাই সাহিত্যিক ছদ্মনামের সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে বাকি অপশনগুলো নিশ্চিতভাবেই ভুল।
78.
জীবন এতো ছোট কেনে' কোন উপন্যাসের উক্তি?
মানুষের জীবনের নশ্বরতা ও অতৃপ্ত বাসনার এই হাহাকারময় বিখ্যাত সংলাপটি তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত আঞ্চলিক ও রোমান্টিক উপন্যাস 'কবি'-এর প্রধান চরিত্র নিতাই কবিয়ালের মুখ থেকে উচ্চারিত হয়েছে। তাই এটি সঠিক উত্তর। রবীন্দ্রনাথের 'শেষের কবিতা' একটি বুদ্ধিবৃত্তিক প্রেমের উপন্যাস; হুমায়ূন আহমেদের 'নন্দিত নরকে' পারিবারিক বিষাদের গল্প; এবং শরৎচন্দ্রের 'শ্রীকান্ত' ভবঘুরে জীবনের কাহিনি। যেহেতু এই সুনির্দিষ্ট ও আঞ্চলিক টানযুক্ত সংলাপটি (কেনে) অন্য কোনো উপন্যাসের নয়, তাই বাকি তিনটি বিকল্প সম্পূর্ণ ভুল ও বাতিলযোগ্য।
79.
জীবনানন্দ দাশকে বুদ্ধদেব বসু কী অভিধায় আখ্যায়িত করেছেন? [NSTU-F: 19-20]
সঠিক উত্তর হলো 'নির্জনতম কবি'। কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতায় আধুনিক জীবনের ক্লান্তি, একাকীত্ব ও প্রকৃতির সাথে লীন হওয়ার যে প্রগাঢ় নির্জনতা ফুটে উঠেছে, তা মূল্যায়ন করে বুদ্ধদেব বসু তাঁকে 'নির্জনতম কবি' বলেছেন। তাই এটি যৌক্তিকভাবে সঠিক। অন্যদিকে, অপশন ১ (উপমার কবি) একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য, কারণ তাঁর কবিতায় উপমার অনন্য ব্যবহার আছে, কিন্তু এটি বুদ্ধদেব বসুর উপাধি নয়। অপশন ২ (চিত্ররূপময়তার কবি) উপাধিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দিয়েছিলেন। অপশন ৪ (রূপসী বাংলার কবি) তাঁর কাব্যের বিষয়বস্তু ভিত্তিক একটি সাধারণ ডাকনাম, কোনো বোদ্ধার দেওয়া খেতাব নয়। তাই বাকি বিকল্পগুলো যৌক্তিকভাবে ভুল।
80.
জীবনানন্দ দাশের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের নাম কী?
রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের সাহিত্যজীবনে প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থটির নাম হলো 'ঝরা পালক' (১৯২৭), যেখানে নজরুল ও সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের প্রভাব দেখা যায়। তাই এটি সঠিক উত্তর। অন্যদিকে, 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' (১৯৩৬) হলো তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ যা তাঁকে আধুনিক কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠা দেয়। 'বনলতা সেন' (১৯৪২) তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কাব্য এবং 'রূপসী বাংলা' কবির মৃত্যুর পর ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত হয়। যেহেতু প্রকাশকালের কালানুক্রম অনুসারে 'ঝরা পালক' তাঁর সর্বপ্রথম গ্রন্থ, তাই প্রথম প্রকাশের শর্তে অন্য তিনটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থের নাম সম্বলিত অপশনগুলো যৌক্তিকভাবে সম্পূর্ণ ভুল।