Practice Questions

Total Questions: 203

1.
"রূপ-নারানের কূলে/জেগে উঠিলাম / জানিলাম এজগৎ স্বপ্ন নয়”। পঙ্ক্তিটির রচয়িতা-
জীবনের অন্তিম লগ্নে পৌঁছে বাস্তবতার কঠিন সত্য উপলব্ধি করে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'শেষ লেখা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত 'রূপ-নারানের কূলে' নামক কবিতায় এই বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটি রচনা করেছিলেন। তাই এটি সঠিক উত্তর। অন্যদিকে, নিধুবাবু ছিলেন টপ্পা গানের রচয়িতা; আল মাহমুদ আধুনিক লোকজ কবি; এবং আলাওল মধ্যযুগের আরাকান রাজসভার রোমান্টিক কবি। যেহেতু তাঁদের দার্শনিক দর্শন ও রচনাশৈলীর সাথে এই সুনির্দিষ্ট আত্মোপলব্ধিমূলক আধুনিক কবিতার কোনো সম্পর্ক নেই, তাই বাকি তিনটি বিকল্প ঐতিহাসিকভাবে সম্পূর্ণ ভুল।
2.
অন্তরের জিনিসকে বাহিরের, ভাবের জিনিসকে ভাষায়, নিজের জিনিসকে বিশ্বমানবের এবং ক্ষণকালের জিনিসকে চিরকালের করে তোলে যা তাই সাহিত্য' এ বক্তব্য কার?
সাহিত্যের উৎপত্তি, প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং সর্বজনীন আবেদনকে সংজ্ঞায়িত করতে গিয়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'সাহিত্যের তাৎপর্য' বা সাহিত্য বিষয়ক প্রবন্ধমালার অন্তর্গত রচনায় এই অত্যন্ত গভীর ও মননশীল বক্তব্যটি প্রদান করেছিলেন। তাই এটি সঠিক উত্তর। অন্যদিকে, কাজী নজরুল ইসলাম সাম্য ও বিদ্রোহের প্রাবন্ধিক ছিলেন; মুহম্মদ আবদুল হাই ভাষাতাত্ত্বিক ছিলেন; এবং রূপরাম চক্রবর্তী মধ্যযুগের কবি। যেহেতু তাঁদের সাহিত্যিক সমালোচনার দর্শনে সাহিত্যের এমন সুনির্দিষ্ট ও কাব্যিক সংজ্ঞা দেওয়া হয়নি, তাই বাকি তিনজন লেখকের নাম যৌক্তিকভাবে সম্পূর্ণ ভুল।
3.
আকাশ ভরা সূর্য তারা বিশ্বভরা প্রাণ' চরণটি কার রচনা?
অসীম মহাবিশ্বের বিশালতার মাঝে মানুষের ক্ষুদ্র অথচ তাৎপর্যপূর্ণ অস্তিত্বের গভীর বিস্ময় প্রকাশ করে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর প্রকৃতি ও পূজা পর্যায়ের গানে 'আকাশ ভরা সূর্য তারা বিশ্বভরা প্রাণ' চরণটি রচনা করেছেন। তাই এটি সঠিক উত্তর। অন্যদিকে, ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, কাজী নজরুল ইসলাম কিংবা ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল—তাঁরা প্রত্যেকেই বাংলা গানের জগতে বিখ্যাত গীতিকার হলেও, এই সুনির্দিষ্ট কালজয়ী রবীন্দ্রসংগীতটির রচয়িতা তাঁরা নন। তাই প্রকৃত গীতিকারের তথ্যের ভিত্তিতে বাকি তিনজন সাহিত্যিকের নাম সম্পূর্ণ ভুল।
4.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের 'খোয়াবনামা' উপন্যাসটি কোন বিদ্রোহের পটভূমিতে রচিত?
কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের মহাকাব্যিক উপন্যাস 'খোয়াবনামা'-এর কাহিনি মূলত চল্লিশের দশকে বাংলার উত্তরাঞ্চলে সংঘটিত ঐতিহাসিক তেভাগা আন্দোলন বা 'কৃষক বিদ্রোহ'-এর পটভূমিতে রচিত, যেখানে কৃষকরা তাদের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম করেছিল। তাই এটি সঠিক উত্তর। এই উপন্যাসে ব্রিটিশ আমলের নীলকরদের বিরুদ্ধে নীল বিদ্রোহ, পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা বিদ্রোহ কিংবা সিধু-কানু নেতৃত্বাধীন ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্রোহের কোনো কাহিনি বা পটভূমি স্থান পায়নি। ঐতিহাসিক আন্দোলন ও উপন্যাসের বিষয়বস্তু যাচাই করলে বাকি তিনটি অপশন সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক এবং যৌক্তিকভাবে ভুল প্রমাণিত হয়।
5.
আত্মভাবপ্রধান কবিতা হলো-
যে কবিতায় কবির নিজস্ব আবেগ, অনুভূতি, ব্যক্তিগত আনন্দ-বেদনা ও আত্মভাব প্রধান হয়ে ওঠে, সাহিত্যতত্ত্বে তাকে 'গীতিকবিতা' (Lyric) বলা হয়। তাই এটি সঠিক উত্তর। অন্যদিকে, মহাকাব্য হলো দীর্ঘ আখ্যানমূলক নৈর্ব্যক্তিক কাহিনি; চিত্রকাব্য হলো শব্দ বা বাক্যের বিন্যাসে বিশেষ চিত্র বা আকৃতি তৈরি করার কবিতা; এবং ব্যঙ্গকাব্য হলো সমাজ বা ব্যক্তির ত্রুটি নিয়ে হাস্যরসাত্মক ও তীক্ষ্ণ সমালোচনা। যেহেতু এই তিনটি রচনায় কবির নিজস্ব আবেগের চেয়ে কাহিনি বা বিষয়বস্তু বেশি প্রাধান্য পায়, তাই বাকি তিনটি অপশন সংজ্ঞাগতভাবে ভুল।
6.
আনন্দের ধর্ম এই যে তা সংক্রামক' উদ্ধৃতিটি কোথা থেকে নেওয়া হয়েছে?
সাহিত্য পাঠের আনন্দ এবং মানুষের মানসিক বিকাশের স্বরূপ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে প্রখ্যাত মননশীল প্রাবন্ধিক প্রমথ চৌধুরী তাঁর 'সাহিত্যে খেলা' নামক বিখ্যাত প্রবন্ধে এই যৌক্তিক ও মনস্তাত্ত্বিক উক্তিটি করেছেন। তাই এটি সঠিক উত্তর। কাজী নজরুল ইসলামের 'যৌবনের গান' তারুণ্যের বন্দনামূলক রচনা; 'অপরাহ্ণের গল্প' ও 'কলিমদ্দি দফাদার' হলো গদ্য ও ছোটগল্প, যেখানে সাহিত্যতত্ত্ব বা আনন্দের মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ নেই। প্রবন্ধের মূল বিষয়বস্তু ও লেখকের দর্শনের সাথে অমিল থাকার কারণে বাকি তিনটি বিকল্প সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক এবং ভুল।
7.
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' এর তাৎপর্য-
ইউনেস্কো কর্তৃক একুশে ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' ঘোষণার মূল বৈশ্বিক তাৎপর্য হলো পৃথিবীর বুক থেকে হারিয়ে যাওয়ার হাত থেকে সকল ক্ষুদ্র ও দুর্বল ভাষাকে রক্ষা করা এবং ভাষাবৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখা। তাই এটি সঠিক। এটি শুধু বাংলা ভাষার মর্যাদা বা স্বীকৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি সারা বিশ্বের ভাষার অধিকার। আর বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা ছিল ৫২-এর আন্দোলনের তাৎপর্য, আন্তর্জাতিক দিবসের নয়। তাই বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিচার করলে বাকি তিনটি অপশন আংশিক ও ভুল।
8.
আপনারে বড় বলে, বড় সেই নয়/লোকে যারে বড় বলে, বড় সেই হয়।' কবিতার কবি কে?
অহংকার ত্যাগ করে পরোপকারী ও বিনয়ী হওয়ার শিক্ষামূলক এই বিখ্যাত চরণ দুটির রচয়িতা হলেন নীতিমূলক কবিতার প্রখ্যাত কবি হরিশ্চন্দ্র মিত্র। তাই এটি সঠিক উত্তর। এই নীতিবাক্যটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বা তরুণ কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের কোনো বিখ্যাত কবিতার অংশ নয়। আর বিদ্যাপতি ছিলেন মধ্যযুগের বৈষ্ণব পদাবলির ব্রজবুলি ভাষার কবি, তাঁর রচনায় এমন আধুনিক নীতিবাক্য থাকা সম্ভব নয়। পঙ্‌ক্তিটির প্রকৃত স্রষ্টার নির্দিষ্ট তথ্যের নিরিখে বিচার করলে অপর তিনজন সাহিত্যিকের নাম সম্পূর্ণ ভুল।
9.
আবদুল্লাহ আল মামুনের নাটক কোনটি?
বাংলাদেশের প্রখ্যাত নাট্যকার ও অভিনেতা আব্দুল্লাহ আল মামুনের রচিত একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও ভিন্নধর্মী নাটক হলো 'কোকিলারা', যেখানে একক অভিনয়ের মাধ্যমে নারীর জীবনের বঞ্চনা তুলে ধরা হয়েছে। তাই এটি সঠিক উত্তর। অন্যদিকে, 'এলেবেলে' কাজী নজরুল ইসলামের প্রবন্ধ/রম্যরচনা, 'নেমেসিস' নূরুল মোমেন রচিত একটি বিখ্যাত একাঙ্কিকা নাটক এবং 'মধুমালা' কাজী নজরুল ইসলামের লেখা একটি লোকজ নাটক। যেহেতু অপর তিনটি নাটক সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন নাট্যকারদের সৃষ্টি, তাই রচয়িতার তথ্যের ভিত্তিতে বাকি অপশনগুলো ভুল।
10.
আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।' কার বক্তব্য?
১৯৪৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান সাহিত্য সম্মেলনের সভাপতির ভাষণে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বাঙালির অসাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবোধ জাগ্রত করতে এই ঐতিহাসিক উক্তিটি প্রদান করেছিলেন। তাই এটি সঠিক উত্তর। অন্যদিকে, ড. আহমদ শরীফ, ড. হুমায়ুন আজাদ বা মুহম্মদ আবদুল হাই—তাঁরা প্রত্যেকেই মুক্তচিন্তা ও মননশীলতার অনুসারী প্রাবন্ধিক হলেও, মাতৃভাষার অধিকার ও বাঙালি পরিচয়ের এই আইকনিক ঘোষণাটি তাঁরা দেননি। উক্তির প্রকৃত বক্তার ঐতিহাসিক তথ্যের ভিত্তিতে বাকি তিনটি অপশন সম্পূর্ণ ভুল।
11.
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি।' এ গানের প্রথম সুরকার কে? [NSTU-D: 16-17]
ভাষা আন্দোলনের অমর গান 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো'-এর বর্তমান সুরকার আলতাফ মাহমুদ হলেও এর প্রথম সুরকার ছিলেন আবদুল লতিফ। তাই ঐতিহাসিক তথ্যের ভিত্তিতে এটি সঠিক। আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী হলেন গানটির রচয়িতা বা গীতিকার, সুরকার নন। আলতাফ মাহমুদ গানটির দ্বিতীয় ও বর্তমান জনপ্রিয় সুরটি দিয়েছেন। আসাদ চৌধুরী একজন কবি, তিনি এর সাথে যুক্ত নন। প্রথম সুরকার জানতে চাওয়ায় বাকি তিনটি অপশন যৌক্তিকভাবেই বাতিলযোগ্য এবং সম্পূর্ণ ভুল।
12.
আমি বীরাঙ্গনা বলছি' গ্রন্থটি রচনা করেছেন- [SHUBD-B: 18-19]
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক নির্যাতিত নারীদের মর্মস্পর্শী সত্য কাহিনি নিয়ে ড. নীলিমা ইব্রাহিম রচনা করেছেন 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' গ্রন্থটি। তাই এটি সঠিক। জাহানারা ইমাম 'একাত্তরের দিনগুলি' লিখেছেন, সুফিয়া কামাল 'একাত্তরের ডায়েরি' লিখেছেন এবং সেলিনা হোসেন 'হাঙর নদী গ্রেনেড' লিখেছেন। তাঁরা কেউই উল্লিখিত বীরাঙ্গনাদের স্মৃতিচারণমূলক এই নির্দিষ্ট গ্রন্থটি রচনা করেননি। সুতরাং গ্রন্থস্বত্ব প্রমাণের ভিত্তিতে বাকি তিনটি বিকল্প সম্পূর্ণরূপে ভুল হিসেবে গণ্য।
13.
আসমানের তারা সাক্ষী/সাক্ষী এই জমিনের ফুল' কার পঙ্ক্তি?
দেশপ্রেম ও জন্মভূমির প্রতি নিজের নাড়ির গভীর সম্পর্ক প্রমাণ করতে গিয়ে কবি আহসান হাবীব তাঁর 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় অত্যন্ত আবেগপূর্ণ এই চরণ দুটি ("আসমানের তারা সাক্ষী, সাক্ষী এই জমিনের ফুল / এই নিশিরাইত বাঁশবাগান বিস্তর জোনাকি সাক্ষী...") রচনা করেছেন। তাই এটি সঠিক উত্তর। শামসুর রাহমান, নির্মলেন্দু গুণ বা রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ—তাঁরা আধুনিক বাংলাদেশের বিখ্যাত কবি হলেও আলোচ্য পঙ্‌ক্তিটি তাঁদের রচনার অন্তর্ভুক্ত নয়। তাই গ্রন্থ ও কবিতার সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে বাকি তিনটি অপশন যৌক্তিকভাবে ভুল।
14.
ঈশাণ-বিষাণে ওঙ্কার' কার উচ্চারণ?
অন্যায় ও পরাধীনতার বিরুদ্ধে শিবের প্রলয়ংকরী রূপের উপমা ব্যবহার করে 'ঈশাণ-বিষাণে ওঙ্কার' (অর্থাৎ মহাদেবের শিঙার ধ্বনি) নামক এই বিখ্যাত এবং তেজদীপ্ত পঙ্‌ক্তিটি রচনা করেছেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম ('বিদ্রোহী' কবিতায়)। তাই এটি সঠিক উত্তর। ঈশ্বরগুপ্ত ব্যঙ্গকবিতা লিখতেন; সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন ছন্দের কবি; এবং গোলাম মোস্তফা ইসলামি আদর্শের কবি ছিলেন। যেহেতু তাঁদের কবিতায় এমন রুদ্ররোষ ও বিদ্রোহী চেতনার পৌরাণিক মিশ্রণ পাওয়া যায় না, তাই বাকি তিনজন কবির নাম সম্বলিত অপশনগুলো যৌক্তিকভাবে সম্পূর্ণ ভুল।
15.
উত্তরাধিকার' কাব্যের কবি কে?
বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান নাগরিক কবি শহীদ কাদরীর প্রথম ও বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থের নাম হলো 'উত্তরাধিকার' (১৯৬৭), যেখানে নগরজীবনের বিচ্ছিন্নতা ও একাকিত্ব চিত্রিত হয়েছে। তাই এটি সঠিক উত্তর। অন্যদিকে, শামসুর রাহমান 'প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে' লিখেছেন, আল মাহমুদ 'সোনালী কাবিন' লিখেছেন এবং হাসান হাফিজুর রহমান 'বিমুখ প্রান্তর' রচনা করেছেন। যেহেতু এই তিনজন কবি ভিন্ন ভিন্ন বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা এবং 'উত্তরাধিকার' তাঁদের কোনো সৃষ্টি নয়, তাই গ্রন্থস্বত্বের ভিত্তিতে বিচার করলে বাকি তিনটি অপশন নিশ্চিতভাবেই ভুল ও ভিত্তিহীন।
16.
এ কী অপরূপ রূপে মা তোমায় হেরিনু পল্লী জননী' চরণটি কোন কবির?
গ্রামবাংলার অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং শরৎকালের স্নিগ্ধতার বন্দনা করতে গিয়ে বিদ্রোহী ও সাম্যবাদী কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর একটি বিখ্যাত দেশাত্মবোধক গানে 'এ কী অপরূপ রূপে মা তোমায় হেরিনু পল্লী জননী' চরণটি রচনা করেছেন। তাই এটি সঠিক উত্তর। মধ্যযুগের কবি আবদুল হাকিম দেশপ্রেম নিয়ে লিখলেও তাঁর ভাষা এমন ছিল না। ডি. এল. রায় এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর উভয়েই দেশের রূপ নিয়ে গান লিখলেও, এই নির্দিষ্ট গানটির রচয়িতা তাঁরা নন। তাই প্রকৃত গীতিকারের নিরিখে বাকি তিনটি অপশন সম্পূর্ণ ভুল।
17.
এ নেটিভ' ছদ্মনামে লিখতেন-
মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত তাঁর সাহিত্যিক জীবনের শুরুতে যখন ইংরেজি ভাষায় সাহিত্য চর্চা করতেন, তখন তিনি মাদ্রাজ থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন পত্রিকায় 'এ নেটিভ' (A Native) ছদ্মনামে কবিতা ও প্রবন্ধ লিখতেন। তাই এটি সঠিক উত্তর। অন্যদিকে, প্রেমেন্দ্র মিত্র কল্লোল যুগের লেখক, নীহাররঞ্জন গুপ্ত 'বাণভট্ট' ছদ্মনামে গোয়েন্দা কাহিনি লিখতেন, এবং আবুল ফজল আধুনিক ধারার মননশীল প্রাবন্ধিক। তাঁরা কেউই তাঁদের সাহিত্যজীবনে ইংরেজি ভাষায় 'এ নেটিভ' ছদ্মনামটি গ্রহণ করেননি। তাই ঐতিহাসিক ছদ্মনামের ব্যবহারের ভিত্তিতে বাকি তিনটি অপশন সম্পূর্ণ ভুল।
18.
একত্বে বরেণ্য তুমি/শরণ্য এককে/আত্মার আত্মীয়' উক্তিটি কোন কবিতার?
ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রের বিভেদ ভুলে সমগ্র মানবজাতিকে এক ও অভিন্ন সত্তা হিসেবে সম্মান জানিয়ে রচিত এই বিখ্যাত সাম্যবাদী চরণগুলো 'মানব-বন্দনা' নামক কবিতার অন্তর্গত। তাই এটি সঠিক উত্তর। অন্যদিকে, কাজী নজরুল ইসলামের 'দারিদ্র্য' কবিতায় দারিদ্র্যের মহিমা বা তীক্ষ্ণ রূপ বর্ণিত হয়েছে; 'সাম্যবাদী' কবিতায় মানুষের হৃদয়ের বিশালতার কথা বলা হয়েছে; আর 'লাশ' অন্য একটি ভিন্ন প্রেক্ষাপটের কবিতা। যেহেতু এই সুনির্দিষ্ট ও আধ্যাত্মিক মানবতাবাদী উক্তিটি কেবল মানব-বন্দনা কবিতারই অংশ, তাই বাকি তিনটি অপশন যৌক্তিকভাবে সম্পূর্ণ ভুল।
19.
একাত্তরের ঢাকা' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় অবরুদ্ধ ঢাকা শহরের শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি, আতঙ্ক ও সাধারণ মানুষের দিনলিপি নির্ভর ঘটনাবলি নিয়ে কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন 'একাত্তরের ঢাকা' নামক গ্রন্থটি রচনা করেছেন। তাই এটি সঠিক উত্তর। অন্যদিকে, নাসিরউদ্দিন ইউসুফ হলেন একজন প্রখ্যাত নাট্যনির্দেশক ও মুক্তিযোদ্ধা; এম আর আখতার মুকুল বিখ্যাত 'চরমপত্র' পাঠ করার জন্য সুপরিচিত; এবং এ আর মল্লিক একজন শিক্ষাবিদ ও ইতিহাসবিদ ছিলেন। যেহেতু তাঁরা কেউই 'একাত্তরের ঢাকা' নামক এই নির্দিষ্ট গ্রন্থটি রচনা করেননি, তাই গ্রন্থস্বত্বের ঐতিহাসিক প্রমাণের ভিত্তিতে বাকি তিনজন ব্যক্তির নাম সম্পূর্ণ ভুল।
20.
একাত্তরের দিনগুলি' কার রচনা?
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার অবরুদ্ধ ঢাকা শহরের বাস্তব চিত্র এবং নিজের শহীদ সন্তান রুমীর স্মৃতি নিয়ে রচিত অসামান্য দিনলিপি বা স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ 'একাত্তরের দিনগুলি' রচনা করেছেন শহীদ জননী জাহানারা ইমাম। তাই এটি সঠিক। অরুন্ধতী রায় ভারতের ইংরেজি লেখিকা, মনিকা আলী ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ঔপন্যাসিক এবং রিজিয়া রহমান 'বং থেকে বাংলা' উপন্যাসের জন্য খ্যাত। যেহেতু এই ঐতিহাসিক ও আবেগময় দিনলিপিটি সুনির্দিষ্টভাবে জাহানারা ইমামের নিজস্ব সৃষ্টি, তাই অন্যান্য কথাসাহিত্যিকদের নাম সম্বলিত অপশনগুলো সম্পূর্ণ ভুল ও ভিত্তিহীন।