Practice Questions

Total Questions: 153

41.
কোন দেশের কবি প্রথম সনেট লেখেন? [রাবি এ ইউনিট (গ্রুপ-১) ২০২২-২৩]
সাহিত্যের ইতিহাস অনুযায়ী, ত্রয়োদশ শতাব্দীতে ইতালীয় কবি গিয়াকোমো দা লেন্টিনি (Giacomo da Lentini) প্রথম সনেট রচনা করেন, যা পরে ইতালির বিখ্যাত কবি পেত্রার্ক (Petrarch) এর মাধ্যমে পূর্ণতা লাভ করে। তাই অপশন ১ সঠিক। পক্ষান্তরে, অপশন ২ (ফ্রান্স), অপশন ৩ (জার্মানি) এবং অপশন ৪ (ইংল্যান্ড) ইউরোপের অন্যান্য দেশ হলেও সনেটের উৎপত্তিস্থল নয় (যদিও ইংল্যান্ডের শেক্সপিয়ার পরে সনেটের নতুন ধারা প্রবর্তন করেন)। কাব্যিক ফর্মের উৎপত্তির ঐতিহাসিক তথ্যের ভিত্তিতে অন্য তিনটি বিকল্প যৌক্তিকভাবে ভুল।
42.
কোনজন 'চর্যাপদ' এর কবি?
লুইপা হলেন চর্যাপদের আদি কবি এবং প্রথম পদের রচয়িতা। অন্যদিকে বিদ্যাপতি হলেন মধ্যযুগের বৈষ্ণব পদাবলির কবি যিনি ব্রজবুলি ভাষায় পদ রচনা করেছিলেন। নিত্যানন্দ ছিলেন শ্রীচৈতন্যদেবের প্রধান সহযোগী, তিনি কোনো চর্যাপদ রচনা করেননি। রামদাস আধুনিক বা মধ্যযুগের অন্য ধারার সাথে যুক্ত থাকতে পারেন কিন্তু তিনি চর্যাপদের সিদ্ধাচার্য নন। তাই লুইপা ব্যতীত বাকি অপশনগুলো ঐতিহাসিকভাবে সম্পূর্ণ ভুল।
43.
কোনটি আল মাহমুদের কাব্য নয়? [চবি B ইউনিট ২০২০-২১]
প্রখ্যাত সাহিত্যিক আল মাহমুদ মূলত কবি হলেও তিনি সফল গল্পকার ও ঔপন্যাসিক। প্রদত্ত বিকল্পগুলোর মধ্যে 'পানকৌড়ির রক্ত' তাঁর রচিত একটি বিখ্যাত ছোটগল্প সংকলন, কোনো কাব্যগ্রন্থ নয়। তাই প্রশ্নের নেতিবাচক শর্তানুযায়ী অপশন ১ সঠিক। অন্যদিকে, অপশন ২ (কালের কলস), অপশন ৩ (লোক-লোকান্তর) এবং অপশন ৪ (মায়াবি পর্দা দুলে ওঠো) আল মাহমুদ রচিত অত্যন্ত সুপরিচিত কাব্যগ্রন্থ। সাহিত্যকর্মের প্রকরণ (গল্প বনাম কবিতা) সংক্রান্ত তথ্যের নিরিখে বিচার করলে অপর তিনটি বিকল্প প্রশ্নের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় ভুল।
44.
খনার বচন' প্রধানত কী সংক্রান্ত?
খনার বচন মূলত আবহাওয়া, জলবায়ু, জ্যোতিষবিদ্যা এবং গ্রামীণ কৃষিকাজ ও ফলন সংক্রান্ত দীর্ঘ অভিজ্ঞতালব্ধ প্রবাদ। গ্রামবাংলার কৃষকরা শত শত বছর ধরে কৃষিকাজে খনার বচন মেনে চলতেন। এর সাথে কোনো ধরনের ব্যবসায়িক লেনদেন, আধুনিক শিল্প কারখানার উৎপাদন অথবা রাষ্ট্র পরিচালনার রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। তাই কৃষি ছাড়া অন্য তিনটি অপশন বিষয়বস্তুর দিক থেকে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক ও ভুল।
45.
খোয়াবনামা' কী ধরনের গ্রন্থ? [হাবিপ্রবি D ইউনিট ২০২৪-২৫]
খোয়াবনামা' হলো প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি কালজয়ী উপন্যাস। এতে তেভাগা আন্দোলন, দেশভাগ এবং গ্রামীণ বাংলার সমাজ কাঠামোর নিখুঁত চিত্র ম্যাজিক রিয়ালিজম বা জাদুবাস্তবতার মিশেলে তুলে ধরা হয়েছে। তাই যৌক্তিকভাবে অপশন ৩ সঠিক। পক্ষান্তরে, অপশন ১ (কাব্য) হলো পদ্যে রচিত সাহিত্য। অপশন ২ (ছোট গল্প) আকারে ছোট ও একমুখী কাহিনি নির্ভর, যা ইলিয়াসের 'চিলেকোঠার সেপাই' বা 'খোয়াবনামা' নয়। অপশন ৪ (নাটক) হলো অভিনয়ের জন্য রচিত সাহিত্য। সাহিত্যকর্মের প্রকরণগত বৈশিষ্ট্যের নিরিখে অপর তিনটি বিকল্প সুস্পষ্টভাবেই সম্পূর্ণ ভুল উত্তর।
46.
গাজীর গান' এর গাজী কে? [রাবি এ ইউনিট (গ্রুপ-৪১) ২০২৩-২৪]
লোকঐতিহ্য অনুযায়ী গাজীর গানের মূল চরিত্র 'গাজী পীর' বা জিন্দাপীর হলেন সুন্দরবন ও দক্ষিণবঙ্গের বাঘের অধিষ্ঠাতা দেবতা বা রক্ষাকর্তা। লোকবিশ্বাসে তিনি বাঘের পিঠে চড়ে ঘুরে বেড়ান এবং মানুষকে বন্যপ্রাণীর হাত থেকে রক্ষা করেন। তাই অপশন ৪ সঠিক। অপরদিকে, অপশন ১ (দক্ষিণবঙ্গের জমিদার) বলতে ভূম্যধিকারীকে বোঝায়। অপশন ২ (খোয়াজখিজিরের শিষ্য) জলের পীর খিজির ইলিয়াসের সাথে সম্পর্কিত হলেও বাঘের অধিষ্ঠাতা নন। অপশন ৩ (কুমিরের দেবতা) হিসেবে সুন্দরবনে মূলত কালু রায় বা বনবিবি পরিচিত। লোকজ মিথের তথ্যানুযায়ী বাকি বিকল্পগুলো সুস্পষ্টভাবেই ভুল।
47.
গাড়ি চলে না, চলে না, চলে না রে গাড়ি চলে না...... গানের রচয়িতা কে- [চবি B-1 উপ-ইউনিট ২০২৪-২৫]
গাড়ি চলে না, চলে না' শীর্ষক জনপ্রিয় বাউল গানটির রচয়িতা হলেন বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম। এই গানে মানবদেহকে গাড়ির সাথে তুলনা করে দেহতত্ত্ব ও আধ্যাত্মিকতার গভীর দর্শন তুলে ধরা হয়েছে। তাই অপশন ১ সঠিক। অন্যদিকে, অপশন ২ (হাসন রাজা) হলেন আরেকজন প্রখ্যাত মরমী সাধক, যার গান 'লোকে বলে বলেরে'। অপশন ৩ (লালন শাহ) হলেন বাউল শিরোমণি, যার গান 'খাঁচার ভিতর অচিন পাখি'। অপশন ৪ (সিরাজ শাহ) ছিলেন লালন শাহের আধ্যাত্মিক গুরু। স্রষ্টা সম্পর্কিত নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অপর তিনটি বিকল্প যৌক্তিকভাবে ভুল।
48.
চর্যাপদ' আবিষ্কৃত হয় কোথা থেকে? [NSTU-D: 16-17]
১৯০৭ সালে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার বা রয়েল লাইব্রেরি থেকে বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদের পাণ্ডুলিপি আবিষ্কার করেন। তাই সঠিক উত্তর নেপালের রাজগ্রন্থশালা থেকে। অন্যদিকে বাঁকুড়ার এক গৃহস্থের গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য আবিষ্কৃত হয়েছিল। আরাকান রাজগ্রন্থশালা থেকে মধ্যযুগের প্রণয়োপাখ্যান পাওয়া যায় এবং চীন দেশ থেকে চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ পাওয়া গেলেও মূল পাণ্ডুলিপি আবিষ্কৃত হয়নি। তাই বাকি অপশনগুলো ভুল।
49.
চর্যাপদ' কাদের সাধন-সংগীত?
চর্যাপদ মূলত বৌদ্ধ ধর্মের 'সহজিয়া' বা তান্ত্রিক সম্প্রদায়ের সাধকদের সাধন-সংগীত। বৌদ্ধ ধর্মের অন্যান্য শাখা যেমন হীনযান বা মহাযান সম্প্রদায়ের সাধকরা চর্যাপদ রচনা করেননি, কারণ চর্যাপদের মূল দর্শনে মহাসুখ লাভের যে তত্ত্ব রয়েছে তা সহজযানী তান্ত্রিক মতবাদের অংশ। তাই ক ও গ উভয়ই সঠিক হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। সুতরাং বৌদ্ধ সহজিয়া ছাড়া বাকি সবগুলো অপশন ঐতিহাসিকভাবে সম্পূর্ণ ভুল।
50.
চর্যাপদ' কোন ছন্দে রচিত? [JKKNIU-AP: 18-19]
প্রাচীনকালের সাহিত্যকর্ম চর্যাপদ মূলত মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত, যা প্রাচীন বাংলায় পাদাকুলক বা সমমাত্রিক ছন্দ হিসেবেও পরিচিত ছিল। ১৯শ শতাব্দীতে মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রবর্তিত অমিত্রাক্ষর ছন্দে (এখানে অমৃতাক্ষর লেখা) চর্যাপদ রচিত হওয়ার কোনো সুযোগই নেই কারণ এটি অনেক পরের আবিষ্কার। স্বরবৃত্ত ছন্দ মূলত ছড়া বা লোকসাহিত্যে বেশি ব্যবহৃত হয়, চর্যাপদে নয়। তাই মাত্রাবৃত্ত ছাড়া বাকি সব অপশন ছান্দসিক দৃষ্টিকোণ থেকে ভুল।
51.
চর্যাপদ' বাংলা ভাষায় রচিত এটি প্রথম প্রমাণ করেন-
চর্যাপদের ভাষা যে বাংলা, সেটি সর্বপ্রথম ভাষাতাত্ত্বিক প্রমাণের সাহায্যে প্রতিষ্ঠা করেন ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় তার বিখ্যাত গ্রন্থ 'ODBL' (১৯২৬)-এ। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যাপদ আবিষ্কার করেছিলেন ঠিকই, কিন্তু এর ভাষাতাত্ত্বিক পূর্ণাঙ্গ প্রমাণ তিনি দেননি। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব নিয়ে কাজ করলেও প্রথম ভাষাতাত্ত্বিক প্রমাণ তার নয়। সুকুমার সেনও পরবর্তীকালে কাজ করেছেন। তাই সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ছাড়া বাকি অপশনগুলো যৌক্তিকভাবে ভুল।
52.
চর্যাপদে সর্বমোট কতটি পদ ছিল?
চর্যাপদে সর্বমোট পদের সংখ্যা ছিল ৫১টি। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে এর সংখ্যা ৫০টি হলেও হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক আবিষ্কৃত পাণ্ডুলিপিতে সর্বমোট ৫১টি পদের উল্লেখ পাওয়া যায়, যার মধ্যে সাড়ে ছেচল্লিশটি পদ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল। অন্য অপশনগুলোর মধ্যে ৫২টি, ৫৩টি বা ৫৫টি পদের ধারণা সাহিত্য বিশারদদের গবেষণায় প্রমাণিত নয়। তাই ইতিহাস ও ভাষাতাত্ত্বিক গবেষণার ভিত্তিতে অপশন ক ব্যতীত বাকি সবগুলো অপশনই বাতিলযোগ্য।
53.
চর্যাপদের কোন পদকর্তা পেশায় ছিলেন একজন তাঁতি? [জাবি B ইউনিট ২০২২-২৩]
চর্যাপদের কবি বা পদকর্তাদের পেশা ও জীবনযাত্রা নিয়ে গবেষকদের মতে, ঢেণ্ঢণপা বা ঢেগুণপা পেশায় একজন তাঁতি ছিলেন। তাঁর রচিত ৩৩ নম্বর চর্যায় তাঁত বোনার রূপক ব্যবহৃত হয়েছে ('টালত মোর ঘর নাহি পড়বেশী')। তাই অপশন ৩ সঠিক। পক্ষান্তরে, অপশন ১ (কাহ্নপা) ছিলেন সর্বাধিক পদের রচয়িতা ও কপালিক। অপশন ২ (ধর্মপা) ও অপশন ৪ (শান্তিপা) অন্যান্য পদকর্তা হলেও তাঁরা তাঁতি ছিলেন এমন প্রমাণ পাওয়া যায় না। সাহিত্যিক গবেষণার ঐতিহাসিক তথ্যের নিরিখে অপর বিকল্পগুলো ভুল।
54.
চারণ কবি' কে?
চারণ কবি হিসেবে বাংলা সাহিত্যে মুকুন্দ দাস সর্বাধিক পরিচিত, কারণ তিনি গ্রামে গ্রামে ঘুরে স্বদেশি গানের মাধ্যমে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। জসীমউদ্দীন হলেন পল্লীকবি, তিনি চারণ কবি নন। মোজাম্মেল হক এবং প্রমিত সারোয়ার আধুনিক যুগের ভিন্ন ধারার লেখক, তাদের কেউই চারণ কবি উপাধিতে ভূষিত নন। তাই মুকুন্দ দাস ব্যতীত বাকি সবগুলো অপশন এই প্রশ্নের জন্য ভুল।
55.
চৌতিশা' বাংলা কোন যুগের সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য? [BSMRSTU-D: 19-20]
চৌতিশা হলো বাংলা বর্ণমালার চৌত্রিশটি ব্যঞ্জনবর্ণের ক্রমানুসারে রচিত এক বিশেষ প্রকারের স্তব বা বন্দনামূলক কবিতা যা মূলত মধ্যযুগের সাহিত্যের একটি অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। মধ্যযুগে বিভিন্ন দেবদেবীর বন্দনায় এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতো। প্রাচীন যুগে চর্যাপদে এই ধরনের কোনো বৈশিষ্ট্য দেখা যায় না। আর আধুনিক যুগে বা বর্তমান বাংলাদেশি সাহিত্যে বর্ণনাক্রমিক স্তব রচনার এই প্রাচীন প্রথাটি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তাই বাকি অপশনগুলো ভুল।
56.
জননী সম্ভাষণে ভূষিত হয়েছেন কে? [রাবি, B ইউনিট- ২০১৭-১৮]
ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির প্রতিষ্ঠাতা নেত্রী ও 'একাত্তরের দিনগুলি' স্মৃতিকথার লেখিকা শহীদ জননী জাহানারা ইমামকে বাংলাদেশের মানুষ সম্মানসূচক 'শহীদ জননী' বা 'জননী' উপাধিতে ভূষিত করেছে। তাই অপশন ৪ সঠিক। অপরদিকে, অপশন ১ (সুফিয়া কামাল) 'জননী সাহসিকা' উপাধিতে পরিচিত। অপশন ২ (রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন) নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে খ্যাত। অপশন ৩ (সেলিনা হোসেন) প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হলেও এমন কোনো উপাধি নেই। প্রখ্যাত ব্যক্তিত্বদের সম্মানসূচক উপাধির নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক তথ্যের নিরিখে অন্য বিকল্পগুলো যৌক্তিকভাবে ভুল।
57.
জহির রায়হানের জন্ম কোন জেলায়? [হাবিপ্রবি D ইউনিট- ২০২৪-২৫]
প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা জহির রায়হান ১৯৩৫ সালের ১৯ আগস্ট বর্তমান ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন (তৎকালীন নোয়াখালী জেলার অংশ)। তাই জন্মস্থান সম্পর্কিত এই সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অপশন ২ সঠিক। পক্ষান্তরে, অপশন ১ (ঢাকা) বাংলাদেশের রাজধানী হলেও তাঁর জন্মস্থান নয়। অপশন ৩ (বরিশাল) জীবনানন্দ দাশের মতো কবিদের জন্মস্থান। অপশন ৪ (মানিকগঞ্জ) ভাষা শহীদ রফিকউদ্দিনের জন্মস্থান। প্রখ্যাত ব্যক্তিত্বদের জীবনীভিত্তিক তথ্যের নিরিখে লজিক্যাল এলিমিনেশন পদ্ধতি ব্যবহার করলে এটা নিশ্চিত যে অন্য তিনটি জেলার নাম সম্পূর্ণ ভুল বিকল্প।
58.
টপ্পা' কী?
টপ্পা' হলো উত্তর ভারতীয় হিন্দুস্তানি উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের একটি বিশেষ হালকা চালের গানের ধারা যা রামনিধি গুপ্ত বা নিধুবাবু বাংলায় প্রবর্তন করেন। এটি কোনো নাচের মুদ্রা বা বিশেষ কোনো ভঙ্গি নয়। একইভাবে টপ্পা নামের কোনো বাদ্যযন্ত্র বা গ্রামীণ খেলাও বাস্তবে নেই। এটি সম্পূর্ণভাবে কণ্ঠসঙ্গীতের একটি বিশেষ ধরন। তাই একধরনের গান ছাড়া বাকি তিনটি অপশনই অর্থগতভাবে ভুল।
59.
ড. মুহাম্মদ ইউনূস কত সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার অর্জন করেন? [চবি B-1 উপ-ইউনিট ২০২৪-২৫]
বাংলাদেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক যৌথভাবে ২০০৬ সালে ক্ষুদ্রঋণ ও সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে অসামান্য অবদান রাখার জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার অর্জন করেন। তাই অপশন ৩ সঠিক উত্তর। অন্যদিকে, অপশন ১ (২০০৪), অপশন ২ (২০০৫) এবং অপশন ৪ (২০০৭) সালে তিনি নোবেল পুরস্কার পাননি, এই সালগুলো কেবল বিভ্রান্তি তৈরি করার জন্য বিকল্প হিসেবে দেওয়া হয়েছে। ঐতিহাসিক ঘটনা ও পুরস্কার প্রাপ্তির সুনির্দিষ্ট সালের তথ্যের ভিত্তিতে যৌক্তিক বর্জন পদ্ধতি প্রয়োগ করলে বাকি তিনটি বিকল্প নিশ্চিতভাবে ভুল প্রমাণিত হয়।
60.
ডাকার্ণব' কোন ভাষায় রচিত?
চর্যাপদের সমসাময়িক বা তার কাছাকাছি সময়ের গ্রন্থ 'ডাকার্ণব' মূলত অপভ্রংশ (বা অবহট্ঠ) ভাষায় রচিত। এটি প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষা থেকে বাংলা ভাষার উদ্ভবের একটি মধ্যবর্তী ভাষাতাত্ত্বিক পর্যায়। তাই সঠিক উত্তর অপশন ৪। অন্যদিকে, ব্রাহ্মী হলো একটি প্রাচীন লিপি, কোনো কথিত ভাষা নয়, তাই অপশন ১ ভুল। পালি হলো প্রাচীন বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থের ভাষা, যা ডাকার্ণবের রচনার অনেক আগের ভাষা, তাই অপশন ২ ভুল। স্বান্ধ্য বা সান্ধ্যভাষা হলো চর্যাপদের রূপক বা আলো-আঁধারি ভাষার নাম, ডাকার্ণবের কাঠামোগত মূল ভাষার নাম নয়, তাই অপশন ৩ ভাষাতাত্ত্বিকভাবে ভুল।