Subjects & Chapters

Chapters

ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমন ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসন কোম্পানি আমল ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসন: ব্রিটিশ আমল পাকিস্তানি আমলে বাংলা ভাষা আন্দোলন ও এর গতিপ্রকৃতি.. পূর্ববাংলার স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধিকার আন্দোলন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধ. মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের (মুজিবনগর) কার্যক্রম মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী বাঙালি ও বহির্বিশ্ব শিল্পবিপ্লব ফরাসি বিপ্লব. প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং ভার্সাই সন্ধি ও লিগ অব নেশনস বলশেভিক বিপ্লব হিটলার ও মুসোলিনির উত্থান এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ জাতিসংঘ ও বিশ্বশান্তি. স্নায়ুযুদ্ধ: পুঁজিবাদ ও সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের দ্বন্দ্ব. স্নায়ুযুদ্ধ পরবর্তী বিশ্ব বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন….
ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমন - লেকচারশীট
Full Page Thumbnail

ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমন: ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার চূড়ান্ত বিশ্লেষণমূলক লেকচারশীট

📋 আলোচ্য বিষয়ের ধাপে ধাপে সংক্ষিপ্ত রূপরেখা

শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে আজকের আলোচ্য বিষয়ের একটি ধাপভিত্তিক রূপরেখা নিচে টেবিলে প্রদান করা হলো:

ধাপ আলোচ্য বিষয়
ধাপ ১ইউরোপীয়দের আগমনের প্রেক্ষাপট ও নতুন জলপথ আবিষ্কার
ধাপ ২ইউরোপীয় বণিকদের উত্থান ও পতন: পর্তুগিজ, ডাচ ও দিনেমার
ধাপ ৩ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ও ফরাসিদের সাথে দ্বন্দ্ব
ধাপ ৪স্বাধীন নবাবী আমল এবং সিরাজউদ্দৌলার সাথে দ্বন্দ্ব
ধাপ ৫পলাশীর যুদ্ধ থেকে বক্সারের যুদ্ধ
ধাপ ৬দেওয়ানি লাভ, দ্বৈত শাসন ও ছিয়াত্তরের মন্বন্তর
ধাপ ৭ব্রিটিশ আমলের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার ও রাজ্য বিস্তার
ধাপ ৮স্বাধিকার আন্দোলন ও সিপাহি মহাবিদ্রোহ (১৮৫৭)

💡 স্মৃতি-সহায়ক সূত্র (Mnemonic): ইউরোপীয় বণিকদের আগমনের ক্রম মনে রাখার জন্য "P-D-E-D-F" সূত্রটি ব্যবহার করবে:
P = পর্তুগিজ ➔ D = ডাচ (ওলন্দাজ) ➔ E = ইংরেজ ➔ D = ড্যানিশ (দিনেমার) ➔ F = ফরাসি

ধাপ ১: ইউরোপীয়দের আগমনের প্রেক্ষাপট ও নতুন জলপথ আবিষ্কার

  • প্রাচীনকাল থেকেই ভারতবর্ষ মসলা, সুতি বস্ত্র আর রেশমের জন্য বিখ্যাত ছিল। মেগাস্থিনিসের 'ইন্ডিকা' এবং আল-বেরুনির 'কিতাবুল হিন্দ' পড়ে ইউরোপীয়রা এখানকার সম্পদের প্রতি আকৃষ্ট হয়।
  • প্রেক্ষাপট: ১৪৫৩ খ্রিস্টাব্দে অটোমান তুর্কিরা কনস্টান্টিনোপল (বর্তমান ইস্তাম্বুল) দখল করে নিলে ইউরোপ থেকে এশিয়ায় আসার স্থলপথটি চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে জলপথ আবিষ্কার অপরিহার্য হয়ে পড়ে।
  • আবিষ্কার: ১৪৮৭ সালে বার্থোলোমিউ দিয়াজ আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ পর্যন্ত আসেন। অবশেষে ১৪৯৮ সালের ২০ মে পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো দা গামা উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে ভারতের পশ্চিম উপকূলের কালিকট বন্দরে এসে পৌঁছান। এভাবেই ইউরোপ থেকে ভারতের সরাসরি জলপথ আবিষ্কৃত হয়।

ধাপ ২: ইউরোপীয় বণিকদের উত্থান ও পতন: পর্তুগিজ, ডাচ ও দিনেমার

  • পর্তুগিজ: এরা শুধু ব্যবসাই নয়, ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করে। আলফনসো ডি আলবুকার্ক ছিলেন পর্তুগিজ শক্তির আসল স্থপতি, যাঁর 'নীলজল নীতি' বা Blue Water Policy বিখ্যাত ছিল। তারা ভারতবর্ষে প্রথম ছাপাখানা স্থাপন করে এবং গোল আলু, তামাক, আনারস ও পেঁপের চাষ শুরু করে। তবে জলদস্যুতা ও জবরদস্তিমূলক ধর্মান্তরকরণের কারণে সম্রাট শাহজাহানের নির্দেশে কাসিম খান তাদের তাড়িয়ে দেন।
  • ডাচ বা ওলন্দাজ (হল্যান্ড): ১৬০২ সালে কোম্পানি গঠন করে তারা ভারতে আসে। কিন্তু ১৭৫৯ সালের ঐতিহাসিক 'বিদারার যুদ্ধে' রবার্ট ক্লাইভের কাছে হেরে তারা ভারত ছেড়ে ইন্দোনেশিয়ায় পালিয়ে যায়।
  • দিনেমার বা ড্যানিশ (ডেনমার্ক): এরা শ্রীরামপুর কলেজ প্রতিষ্ঠা করে ধর্ম ও শিক্ষায় বেশি মনোযোগ দেয় এবং ১৮৪৫ সালে ইংরেজদের কাছে সবকিছু বেচে দিয়ে নিজ দেশে ফিরে যায়।

ধাপ ৩: ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ও ফরাসিদের সাথে দ্বন্দ্ব

  • ইংরেজদের আগমন: ১৬০০ সালের ৩১ ডিসেম্বর রানি প্রথম এলিজাবেথের সনদের মাধ্যমে গঠিত হয় 'ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি'১৬০৮ সালে ক্যাপ্টেন হকিংস এবং ১৬১৫ সালে স্যার টমাস রো সম্রাট জাহাঙ্গীরের দরবারে বাণিজ্যের অধিকার আদায় করেন।
  • কলকাতা নগরী ও ফোর্ট উইলিয়াম: ১৬৯০ সালে জব চার্নক সুতানুটি, কলকাতা ও গোবিন্দপুর গ্রাম কিনে আধুনিক কলকাতা নগরীর পত্তন করেন। ১৭০০ সালে তৈরি হয় 'ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ'
  • দস্তক বা ছাড়পত্র: ১৭১৭ সালে ডা. হ্যামিল্টন সম্রাট ফররুখশিয়ারকে দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে সুস্থ করলে, সম্রাট মাত্র ৩০০০ টাকার বিনিময়ে বিনা শুল্কে বাণিজ্যের 'দস্তক' বা ছাড়পত্র দেন।
  • ফরাসিদের সাথে দ্বন্দ্ব: সবার শেষে ১৬৬৪ সালে আসে ফরাসিরা। ఫরাসি সেনাপতি ডুপ্লের নেতৃত্বে তারা ইংরেজদের সাথে তিনটি 'কর্ণাটকের যুদ্ধ' লড়ে। ১৭৬০ সালের 'বন্দিবাসের যুদ্ধে' ফরাসিরা চূড়ান্তভাবে পরাজিত হলে ভারতবর্ষ কার্যত ইংরেজদের দখলে চলে যায়।

ধাপ ৪: স্বাধীন নবাবী আমল এবং সিরাজউদ্দৌলার সাথে দ্বন্দ্ব

  • নবাবী আমলের শুরু: বিচক্ষণ শাসক মুর্শিদ কুলি খান স্বাধীন নবাবী আমল শুরু করেন এবং 'মালজামিনি' রাজস্ব প্রথা চালু করেন। তাঁর পর আসেন আলিবর্দী খান, যিনি ইংরেজদের বাণিজ্য করতে দিলেও দুর্গ বানাতে দেননি।
  • সিরাজউদ্দৌলার দ্বন্দ্ব: ১৭৫৬ সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে সিরাজউদ্দৌলা সিংহাসনে বসেন। ইংরেজরা নবাবকে কর না দেওয়া, দস্তকের অপব্যবহার এবং নবাবের অবাধ্য কৃষ্ণদাসকে আশ্রয় দেওয়ায় ক্ষুব্ধ নবাব কলকাতা দখল করেন। তখন ইংরেজ হলওয়েল 'অন্ধকূপ হত্যা' (Black Hole Tragedy) নামে মিথ্যা গুজব রটায়। পরবর্তীতে রবার্ট ক্লাইভ কলকাতা পুনরুদ্ধার করে নবাবকে অপমানজনক 'আলীনগরের সন্ধি' করতে বাধ্য করে।

ধাপ ৫: পলাশীর যুদ্ধ থেকে বক্সারের যুদ্ধ

  • পলাশীর যুদ্ধ (১৭৫৭): ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আম্রকাননে যুদ্ধ সংঘটিত হয়। নবাবের পক্ষে মীর মদন ও মোহনলাল প্রাণ দিলেও মীর জাফর, ইয়ার লতিফ আর রায়দুর্লভদের চরম বিশ্বাসঘাতকতায় নবাব সিরাজউদ্দৌলা হেরে যান। বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়।
  • মীর কাসিমের পদক্ষেপ: পুতুল নবাব মীর জাফরের পর দেশপ্রেমিক মীর কাসিম ক্ষমতায় আসেন। তিনি রাজধানী মুঙ্গেরে স্থানান্তর করেন এবং দেশীয় বণিকদের জন্য বাণিজ্য শুল্ক তুলে দেন
  • বক্সারের যুদ্ধ (১৭৬৪): মীর কাসিমের স্বাধীন পদক্ষেপে ক্ষিপ্ত ইংরেজদের সাথে ১৭৬৪ সালে 'বক্সারের যুদ্ধ' হয়। মীর কাসিম, অযোধ্যার নবাব এবং দিল্লির সম্রাটের সম্মিলিত বাহিনী ইংরেজদের কাছে হেরে যায়, যা ভারতবর্ষে ব্রিটিশ আধিপত্য চূড়ান্ত করে।

📌 সিকোয়েন্সটি মনে রাখো: দস্তকের অপব্যবহার ➔ পলাশীর যুদ্ধ (১৭৫৭) ➔ মীর কাসিমের স্বাধীন পদক্ষেপ ➔ বক্সারের যুদ্ধ (১৭৬৪)দেওয়ানি লাভ (১৭৬৫)

ধাপ ৬: দেওয়ানি লাভ, দ্বৈত শাসন ও ছিয়াত্তরের মন্বন্তর

  • দেওয়ানি লাভ ও দ্বৈত শাসন: বক্সারের যুদ্ধের পর ১৭৬৫ সালে লর্ড ক্লাইভ বাংলা, বিহার ও ওড়িশার 'দেওয়ানি' লাভ করেন। শুরু হয় 'দ্বৈত শাসন'। এতে নবাব পেলেন ক্ষমতাহীন দায়িত্ব, আর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি পেল দায়িত্বহীন ক্ষমতা (লুটপাটের অধিকার)
  • ছিয়াত্তরের মন্বন্তর: সীমাহীন শোষণ এবং খাদ্যশস্যের কৃত্রিম মজুতদারির ফলে ১৭৭০ সালে (বাংলা ১১৭৬ সনে) বাংলায় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। প্রায় এক কোটি মানুষ (এক-তৃতীয়াংশ) মারা যায়, যা 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' নামে পরিচিত।

ধাপ ৭: ব্রিটিশ আমলের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার ও রাজ্য বিস্তার

  • রাজস্ব ও রাজ্য বিস্তার: ১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস প্রবর্তন করেন 'চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত' ও 'সূর্যাস্ত আইন'লর্ড ওয়েলেসলি আনেন 'অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি' এবং লর্ড ডালহৌসি প্রয়োগ করেন 'সত্যবিলোপ নীতি'
  • সংস্কার: ১৮২৯ সালে রাজা রামমোহন রায়ের সহায়তায় লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক 'সতীদাহ প্রথা' বাতিল করেন১৮৫৩ সালে লর্ড ডালহৌসি প্রথম রেলপথ স্থাপন করেন

ধাপ ৮: স্বাধিকার আন্দোলন ও সিপাহি মহাবিদ্রোহ (১৮৫৭)

  • প্রাথমিক প্রতিরোধ: হাজী শরীয়তুল্লাহর 'ফরায়েজি আন্দোলন' বা তিতুমীর-এর 'বাঁশের কেল্লা' ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল।
  • সিপাহি মহাবিদ্রোহ (১৮৫৭): লর্ড ক্যানিংয়ের আমলে ব্যারাকপুর থেকে এই মহাবিদ্রোহ শুরু হয়। সিপাহিরা মোগল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে ভারতের সম্রাট ঘোষণা করে।
  • ফলাফল: ইংরেজরা নির্মমভাবে মহাবিদ্রোহ দমন করে। তবে ১৮৫৮ সালে কোম্পানির বণিক শাসনের অবসান ঘটে এবং ব্রিটিশ রাজশক্তি সরাসরি ভারতবর্ষের শাসনভার নিজ হাতে তুলে নেয়

🎯 এমসিকিউ ট্র্যাপ অ্যানালাইসিস (প্রশ্ন বিশ্লেষণের কৌশল)

প্রশ্ন ট্র্যাপ বা বিভ্রান্তি সঠিক উত্তর ও কারণ
১. ভারতবর্ষে প্রথম ছাপাখানা স্থাপন করে কারা? মস্তিষ্ক আধুনিক প্রযুক্তির সাথে 'ইংরেজদের' যুক্ত করে ফেলে। পর্তুগিজরা। (এটি কাউন্টার-ইন্টিউটিভ তথ্য, তাই সতর্ক থাকতে হবে)।
২. ছিয়াত্তরের মন্বন্তর বাংলার কোন সনে সংঘটিত হয়েছিল? ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দ দেখলে অনেকেই দাগিয়ে ফেলবে। ১১৭৬ সনে। (প্রশ্নে 'খ্রিস্টাব্দ' নাকি 'বঙ্গাব্দ বা সন' চাওয়া হয়েছে, তা খেয়াল করতে হবে)।
৩. পলাশীর যুদ্ধে নবাবের পক্ষে কোন সেনাপতি বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করেছিলেন? অপশনে বিশ্বাসঘাতক ও বিশ্বস্তদের নাম মিশিয়ে দেওয়া হয়। মীর মদন ও মোহনলাল। (চরিত্রগুলোকে বিশ্বস্ত ও বিশ্বাসঘাতক—এই দুই ক্যাটাগরিতে ভাগ করে এলিমিনেশন পদ্ধতিতে উত্তর করতে হবে)।

ভর্তি পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৫০টি এক-লাইনার তথ্য

১. ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দের ২০ মে পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো দা গামা ভারতের কালিকট বন্দরে উপস্থিত হন।

২. ভাস্কো দা গামা যখন ভারতে পৌঁছান, তখন কালিকটের হিন্দু রাজার উপাধি ছিল জামোরিন

৩. ভারতবর্ষে আগত প্রথম ইউরোপীয় বণিক জাতি হলো পর্তুগিজরা

৪. ভারতবর্ষে পর্তুগিজ সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয় আলফনসো ডি আলবুকার্ককে

৫. আলফনসো ডি আলবুকার্ক সামুদ্রিক শক্তি বৃদ্ধির জন্য যে কৌশল গ্রহণ করেন তা 'নীলজল নীতি' নামে পরিচিত।

৬. ১৫১০ খ্রিস্টাব্দে পর্তুগিজরা বিজাপুরের সুলতানের কাছ থেকে গোয়া বন্দরটি দখল করে নেয়।

৭. মোগল সম্রাট শাহজাহানের নির্দেশে ১৬৩২ খ্রিস্টাব্দে সুবেদার কাসিম খান হুগলি থেকে পর্তুগিজদের বিতাড়িত করেন।

৮. ভারতবর্ষে গোল আলু, আনারস, পেঁপে এবং তামাকের চাষাবাদ পর্তুগিজদের হাত ধরেই শুরু হয়েছিল।

৯. ভারতবর্ষে সর্বপ্রথম ছাপাখানা বা মুদ্রণযন্ত্র স্থাপন করেছিল পর্তুগিজরা

১০. নেদারল্যান্ডস বা হল্যান্ডের অধিবাসীদের ইতিহাসে ওলন্দাজ বা ডাচ বলা হয়।

১১. ১৬০২ খ্রিস্টাব্দে ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয়。

১২. ওলন্দাজদের প্রধান বাণিজ্যিক লক্ষ্য ছিল মসলা ও সুতি বস্ত্রের ব্যবসা

১৩. ১৭৫৯ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত ঐতিহাসিক বিদারার যুদ্ধে ওলন্দাজরা ইংরেজদের কাছে পরাজিত হয়ে ভারতবর্ষ ত্যাগ করে।

১৪. ডেনমার্কের অধিবাসীদের দিনেমার বা ড্যানিশ বলা হয় এবং তারা ১৬১৬ খ্রিস্টাব্দে ড্যানিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠন করে।

১৫. ড্যানিশরা ১৮৪৫ খ্রিস্টাব্দে তাদের সকল বাণিজ্য কুঠি ইংরেজদের কাছে বিক্রি করে স্বদেশে ফিরে যায়।

১৬. ১৬০০ খ্রিস্টাব্দের ৩১ ডিসেম্বর ইংল্যান্ডের রানি প্রথম এলিজাবেথ ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে বাণিজ্যের সনদ প্রদান করেন।

১৭. ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠনের সময় এর প্রাথমিক সদস্য সংখ্যা ছিল ২১৭ জন

১৮. ১৬০৮ খ্রিস্টাব্দে ক্যাপ্টেন উইলিয়াম হকিংস ইংল্যান্ডের রাজা প্রথম জেমসের সুপারিশপত্র নিয়ে মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের দরবারে আসেন

১৯. ১৬১২ খ্রিস্টাব্দে ক্যাপ্টেন বেস্টের নেতৃত্বে ইংরেজরা পর্তুগিজ নৌবহরকে পরাজিত করে সম্রাটের সুনজর কাড়তে সক্ষম হয়।

২০. ইংরেজরা ১৬১৩ খ্রিস্টাব্দে সুরাট বন্দরে তাদের প্রথম স্থায়ী বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।

২১. ১৬১৫ খ্রিস্টাব্দে স্যার টমাস রো রাজা প্রথম জেমসের স্থায়ী দূত হিসেবে সম্রাট জাহাঙ্গীরের দরবারে আগমন করেন।

২২. ১৬৯০ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ কোম্পানির এজেন্ট জব চার্নক মাত্র ১২০০ টাকায় সুতানুটি, গোবিন্দপুর ও কলকাতা গ্রামের জমিদারি কেনেন।

২৩. জব চার্নককেই আধুনিক কলকাতা নগরীর স্থপতি বা পত্তনকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

২৪. ইংল্যান্ডের রাজা তৃতীয় উইলিয়ামের নামানুসারে ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ নির্মিত হয়।

২৫. ১৭১৭ খ্রিস্টাব্দে মোগল সম্রাট ফররুখশিয়ার ইংরেজদের বিনা শুল্কে বাণিজ্য করার অধিকার দিয়ে ঐতিহাসিক ফরমান জারি করেন

২৬. ডা. হ্যামিল্টন নামক ইংরেজ চিকিৎসক সম্রাট ফররুখশিয়ারকে দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে সুস্থ করে তুলেছিলেন।

২৭. ১৬৬৪ খ্রিস্টাব্দে ফরাসি সরকারের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় ফ্রেঞ্চ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয়।

২৮. ইউরোপীয় বণিক জাতিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শেষে ভারতবর্ষে আগমন করে ফরাসিরা

২৯. ইংরেজ এবং ফরাসিদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘটিত যুদ্ধ ইতিহাসে কর্ণাটকের যুদ্ধ নামে পরিচিত।

৩০. ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দের বন্দিবাসের যুদ্ধে ফরাসিরা ইংরেজদের কাছে চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়

৩১. মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেব মুর্শিদ কুলি খানকে বাংলার দেওয়ান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন।

৩২. মুর্শিদ কুলি খান বাংলায় 'মালজামিনি' নামক নতুন রাজস্ব ব্যবস্থার প্রবর্তন করেছিলেন।

৩৩. মুর্শিদ কুলি খান জায়গির প্রথা বাতিল করে জমিগুলোকে সরকারি খাস জমিতে পরিণত করেন।

৩৪. আলিবর্দী খানের প্রকৃত নাম ছিল মির্জা মোহাম্মদ আলী

৩৫. আলিবর্দী খান তাঁর শাসনামলে বাংলায় বর্গি বা মারাঠাদের আক্রমণ কঠোর হস্তে দমন করেন।

৩৬. ১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে নবাব আলিবর্দী খানের মৃত্যুর পর মাত্র ২৩ বছর বয়সে সিরাজউদ্দৌলা বাংলার সিংহাসনে বসেন

৩৭. নবাব সিরাজউদ্দৌলার প্রধান সেনাপতি ছিলেন মীর জাফর, যিনি পলাশীর যুদ্ধে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেন

৩৮. অন্ধকূপ হত্যার ভিত্তিহীন গল্পটি তৈরি করেছিলেন ইংরেজ ঐতিহাসিক হলওয়েল

৩৯. নবাব সিরাজউদ্দৌলা ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ দখল করে কলকাতার নাম পরিবর্তন করে আলীনগর রেখেছিলেন।

৪০. ঐতিহাসিক পলাশীর যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দের ২৩ জুন ভাগীরথী নদীর তীরে।

৪১. পলাশীর যুদ্ধে নবাবের পক্ষে মীর মদন এবং মোহনলাল অত্যন্ত বীরত্বের সাথে প্রাণপণ যুদ্ধ করেছিলেন।

৪২. স্বাধীনচেতা নবাব মীর কাসিম ইংরেজদের প্রভাব থেকে বাঁচতে রাজধানী মুর্শিদাবাদ থেকে মুঙ্গেরে স্থানান্তর করেছিলেন।

৪৩. მীর কাসিম দেশীয় বণিকদের স্বার্থ রক্ষার্থে সকলের জন্য বাণিজ্য শুল্ক মওকুফ করে দিয়েছিলেন

৪৪. বক্সারের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল ১৭৬৪ খ্রিস্টাব্দের ২২ অক্টোবর

৪৫. বক্সারের যুদ্ধে মীর কাসিমের মিত্র বাহিনীতে ছিলেন অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা এবং মোগল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম

৪৬. বক্সারের যুদ্ধে ইংরেজ বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মেজর হেক্টর মুনরো

৪৭. ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে লর্ড ক্লাইভ মোগল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের কাছ থেকে বাংলা, বিহার ও ওড়িশার দেওয়ানি লাভ করেন

৪৮. ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ানি লাভের পর লর্ড ক্লাইভ বাংলায় দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন

৪৯. দ্বৈত শাসন ব্যবস্থায় নবাব পেয়েছিলেন ক্ষমতাহীন দায়িত্ব এবং ইংরেজরা পেয়েছিল দায়িত্বহীন ক্ষমতা

৫০. কোম্পানির সীমাহীন লুণ্ঠনের ফলে ১১৭৬ বঙ্গাব্দে বা ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় সংঘটিত ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' নামে পরিচিত।