Subjects & Chapters

Chapters

ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমন ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসন কোম্পানি আমল ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসন: ব্রিটিশ আমল পাকিস্তানি আমলে বাংলা ভাষা আন্দোলন ও এর গতিপ্রকৃতি.. পূর্ববাংলার স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধিকার আন্দোলন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধ. মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের (মুজিবনগর) কার্যক্রম মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী বাঙালি ও বহির্বিশ্ব শিল্পবিপ্লব ফরাসি বিপ্লব. প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং ভার্সাই সন্ধি ও লিগ অব নেশনস বলশেভিক বিপ্লব হিটলার ও মুসোলিনির উত্থান এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ জাতিসংঘ ও বিশ্বশান্তি. স্নায়ুযুদ্ধ: পুঁজিবাদ ও সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের দ্বন্দ্ব. স্নায়ুযুদ্ধ পরবর্তী বিশ্ব বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন….
ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসন কোম্পানি আমল - লেকচারশীট
Full Page Thumbnail

ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসন কোম্পানি আমল

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার চূড়ান্ত বিশ্লেষণমূলক লেকচারশীট

📋 আজকের আলোচ্য বিষয়ের রূপরেখা (Step-by-step Topic Table)

শিক্ষার্থীদের সহজে ধারণা লাভের জন্য আজকের পাঠ্যসূচির একটি পর্যায়ক্রমিক তালিকা নিচে প্রদান করা হলো:

ধাপ আলোচ্য বিষয়বস্তু
ধাপ ১ব্রিটিশ শাসনের সূচনা, বক্সারের যুদ্ধ এবং রবার্ট ক্লাইভের দ্বৈত শাসন
ধাপ ২ছিয়াত্তরের মন্বন্তর (১৭৭০)—ঔপনিবেশিক শোষণের নির্মম মানবিক বিপর্যয়
ধাপ ৩ওয়ারেন হেস্টিংসের সংস্কার, নিয়ামক আইন (১৭৭৩) এবং ঐতিহাসিক অভিশংসন
ধাপ ৪পিটের ভারত শাসন আইন (১৭৮৪) এবং লর্ড কর্নওয়ালিসের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত
ধাপ ۵লর্ড ওয়েলেসলি: অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি ও মহীশূর শক্তির পতন
ধাপ ৬লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক: সামাজিক কুসংস্কারের অবসান ও আধুনিকীকরণ
ধাপ ৭লর্ড ডালহৌসি: স্বত্ববিলোপ নীতি এবং আধুনিক অবকাঠামোর বিকাশ
ধাপ ৮কোম্পানি শাসনের বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রতিরোধ এবং ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ
ধাপ ৯লর্ড কার্জনের বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫) বনাম লর্ড রিপনের উদারনৈতিক শাসনকাল

ধাপ ১: ব্রিটিশ শাসনের সূচনা, বক্সারের যুদ্ধ এবং রবার্ট ক্লাইভের দ্বৈত শাসন

  • ব্রিটিশ শক্তির উত্থান: ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশীর প্রান্তরে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের মধ্য দিয়ে ব্রিটিশ শক্তির বীজ বপন করা হয়। পরবর্তীতে ১৭৬৪ সালের বক্সারের যুদ্ধে মীর কাসেমের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত জয়লাভ তাদের ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী রূপ দেয়।
  • দেওয়ানি লাভ ও দ্বৈত শাসন: ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে লর্ড ক্লাইভ দিল্লির মুঘল সম্রাটের কাছ থেকে 'দেওয়ানি' বা রাজস্ব আদায়ের আইনি অধিকার লাভ করেন। এর মাধ্যমে তিনি বাংলায় 'দ্বৈত শাসন' (Dual Government) প্রবর্তন করেন।
শাসক/পক্ষ প্রাপ্ত দায়িত্ব ও ক্ষমতা
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি'দায়িত্বহীন ক্ষমতা' — রাজস্ব আদায় ও দেশরক্ষা।
বাংলার নবাব'ক্ষমতাহীন দায়িত্ব' — অর্থহীন সাধারণ প্রশাসন ও বিচার ব্যবস্থা।
  • ফলাফল: এই শাসনকাঠামোয় 'আমিলদারি প্রথা'র জন্ম হয়। কোম্পানির নিযুক্ত নায়েব দেওয়ানদের নির্মম অত্যাচারে বাংলার ঐতিহ্যবাহী রেশম ও তাঁতশিল্প ধ্বংস হয় এবং অর্থনীতি পঙ্গু হয়ে পড়ে।

ধাপ ২: ছিয়াত্তরের মন্বন্তর (১৭৭০)—ঔপনিবেশিক শোষণের নির্মম মানবিক বিপর্যয়

  • সময়কাল: বাংলা ১১৭৬ সন এবং ইংরেজি ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দ
  • প্রেক্ষাপট ও কারণ: অনাবৃষ্টি ও খরার কারণে ফসল নষ্ট হওয়া সত্ত্বেও কোম্পানির কর্মচারীরা কর বা রাজস্ব আদায় কমায়নি, বরং খাদ্যশস্যের কৃত্রিম মজুতদারি শুরু করে।
  • ঐতিহাসিকদের মত: ইতিহাসবিদ আর. সি. মজুমদার এবং ডব্লিউ. ডব্লিউ. হান্টারের মতে, এই দুর্ভিক্ষ প্রাকৃতিক কারণে যতটা না হয়েছিল, তার চেয়ে বহু গুণ বেশি দায়ী ছিল কোম্পানির সীমাহীন লোভ ও নায়েবদের নির্মম কর আদায়

ধাপ ৩: ওয়ারেন হেস্টিংসের সংস্কার, নিয়ামক আইন (১৭৭৩) ও অভিশংসন

  • ক্ষমতা গ্রহণ ও সংস্কার: ১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস গভর্নর নিযুক্ত হন। তিনি দ্বৈত শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাজস্ব আদায়ের বিভাগ সরাসরি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে নেন এবং দুর্নীতিবাজ নায়েব দেওয়ান রেজা খান ও সেতাব রায়কে পদচ্যুত করেন।
  • অন্যান্য পদক্ষেপ: ভূমি রাজস্বে প্রথমে ৫ বছর মেয়াদী 'পাঁচশালা বন্দোবস্ত' এবং পরে 'একশালা বন্দোবস্ত' চালু করেন। রাজকোষ মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতায় স্থানান্তর করেন এবং বিচার বিভাগকে রাজস্ব বিভাগ থেকে আলাদা করেন।
  • নিয়ামক আইন (Regulating Act) ১৭৭৩: ব্রিটিশ পার্লামেন্ট কোম্পানিকে নিয়ন্ত্রণের জন্য এই আইন পাস করে।
    • বাংলার গভর্নর পদটি উন্নীত হয়ে 'গভর্নর জেনারেল' হয় এবং ওয়ারেন হেস্টিংস হন প্রথম গভর্নর জেনারেল
    • কলকাতার ფোর্ট উইলিয়াম দুর্গে ভারতের প্রথম সর্বোচ্চ আদালত বা সুপ্রিম কোর্ট স্থাপিত হয়
  • অভিশংসন (Impeachment): মহারাজা নন্দকুমারের ফাঁসি, অযোধ্যার বেগমদের ওপর অত্যাচার এবং নাটোরের রানি ভবানীর জমিদারি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টার কারণে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ৭ বছর তাঁর বিচার চলে। বিখ্যাত বাগ্মী এডমন্ড বার্ক তাঁকে "Enemy of Mankind" (মানবজাতির শত্রু) আখ্যায়িত করেন

ধাপ ৪: পিটের ভারত শাসন আইন (১৭৮৪) এবং লর্ড কর্নওয়ালিসের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত

  • পিটের ভারত শাসন আইন (১৭৮৪): ১৭৭৩ সালের আইনের ত্রুটি দূর করতে তরুণ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইলিয়াম পিট এটি পাস করেন। এর মাধ্যমে ৬ সদস্যের 'বোর্ড অফ কন্ট্রোল' গঠিত হয়।
  • লর্ড কর্নওয়ালিস (১৭৮৬): তিনি অত্যন্ত সৎ ও নিয়মনিষ্ঠ ছিলেন। তিনি কর্মচারীদের দুর্নীতি বন্ধে বেতন বাড়ান, ব্যক্তিগত বাণিজ্য নিষিদ্ধ করেন এবং ভারতবর্ষে 'সিভিল সার্ভিস' বা উচ্চতর প্রশাসনিক কাঠামোর গোড়াপত্তন করেন।
  • চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত: তিনি ১৭৮৯ সালে প্রথমে 'দশশালা বন্দোবস্ত' চালু করেন, যা পরবর্তীতে ১৭৯৩ সালের ২২শে মার্চ 'চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত' (Permanent Settlement) নামক ঐতিহাসিক আইনে রূপ নেয়।

ধাপ ৫: লর্ড ওয়েলেসলি: অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি ও মহীশূর শক্তির পতন

  • প্রেক্ষাপট: ১৭৯৮ সালে চরম সাম্রাজ্যবাদী লর্ড ওয়েলেসলি গভর্নর জেনারেল হন। ফরাসি বিপ্লব ও নেপোলিয়নের উত্থানের কারণে তখন ফরাসি আতঙ্ক ছিল। মহীশূরের শাসক টিপু সুলতান ফরাসি 'জ্যাকোবিন ক্লাবের' সদস্য হয়ে 'স্বাধীনতা বৃক্ষ' (Tree of Liberty) রোপণ করেছিলেন
  • অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি (Subsidiary Alliance): দেশীয় রাজারা ইংরেজদের অনুমতি ছাড়া যুদ্ধ বা সন্ধি করতে পারবে না এবং নিজেদের খরচে রাজ্যে ইংরেজ সৈন্য রাখতে হবে। ১৭৯৮ সালে হায়দ্রাবাদের নিজাম প্রথম এটি গ্রহণ করেন
  • মহীশূরের পতন: টিপু সুলতান এই নীতি প্রত্যাখ্যান করায় ১৭৯৯ সালে চতুর্থ ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধ সংঘটিত হয়। টিপু সুলতান শাহাদাত বরণ করেন এবং মহীশূর ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত হয়

ধাপ ৬: লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক: সামাজিক কুসংস্কারের অবসান ও আধুনিকীকরণ

  • ১৮২৮ সালে লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক দায়িত্ব নেন। তাঁর প্রধান অবদানগুলো নিম্নরূপ:
  • সামাজিক সংস্কার: রাজা রামমোহন রায় এবং প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের প্রচেষ্টায় ১৮২৯ সালে আইন করে 'সতীদাহ প্রথা' সম্পূর্ণরূপে রদ করেন। এছাড়া কন্যাসন্তান হত্যা ও গঙ্গায় প্রথম সন্তান বিসর্জন নিষিদ্ধ করেন।
  • শিক্ষা ও আধুনিকীকরণ: ১৮৩৫ সালে লর্ড মেকলের সুপারিশে ফার্সির পরিবর্তে ইংরেজিকে সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেন। কলকাতায় 'মেডিকেল কলেজ' স্থাপন করেন।
  • ঠগী দমন: সমাজে ত্রাস সৃষ্টিকারী 'ঠগী' দস্যুদের নির্মূল করার জন্য কর্নেল স্লীম্যানকে দায়িত্ব দেন এবং দস্যুবৃত্তির অবসান ঘটান।

ধাপ ৭: লর্ড ডালহৌসি: স্বত্ববিলোপ নীতি এবং আধুনিক অবকাঠামোর বিকাশ

  • ১৮৪৮ সালে লর্ড ডালহৌসি ক্ষমতা গ্রহণ করেন।
  • স্বত্ববিলোপ নীতি (Doctrine of Lapse): ব্রিটিশ আশ্রিত কোনো রাজা অপুত্রক অবস্থায় মারা গেলে তার দত্তক পুত্রের অধিকার বাতিল করে রাজ্য ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত করা হতো। এর মাধ্যমে তিনি সাতারা, সম্বলপুর, ঝাঁসি ও নাগপুর দখল করেন

আধুনিকীকরণ (অবকাঠামোগত বিকাশ):

সাল উদ্ভাবন / পদক্ষেপ
১৮৫৩বোম্বে থেকে থানে পর্যন্ত প্রথম রেলপথ চালু (তাঁকে 'আধুনিক ভারতের রেলপথের জনক' বলা হয়)।
১৮৫৪কলকাতা থেকে আগ্রা পর্যন্ত প্রথম টেলিগ্রাফ লাইন স্থাপন এবং 'পেনি পোস্ট কার্ড' চালুর মাধ্যমে আধুনিক ডাক ব্যবস্থার প্রবর্তন
১৮৫৬ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সহায়তায় ঐতিহাসিক 'বিধবা বিবাহ আইন' পাস

ধাপ ৮: কোম্পানি শাসনের বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রতিরোধ এবং ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ

  • প্রাথমিক প্রতিরোধ: হাজী শরীয়তুল্লাহ ও দুদু মিয়ার 'ফরায়েজি আন্দোলন' এবং ১৮২৩ সালে মীর নিসার আলী তিতুমীরের 'বাঁশের কেল্লা'র সশস্ত্র প্রতিরোধ
  • মহাবিদ্রোহ (১৮৫৭):
    • প্রত্যক্ষ কারণ: 'এনফিল্ড রাইফেল'-এর কার্তুজে গরু ও শুকরের চর্বি মেশানো থাকার গুজব
    • বেতন বৈষম্য: ৩ লক্ষাধিক ভারতীয় সেনার জন্য ব্যয় ৯৮ লক্ষ পাউন্ড, অন্যদিকে ৫১ হাজার ব্রিটিশ সেনার জন্য ব্যয় ৫৬ লক্ষ পাউন্ড।
  • ফলাফল: ব্যারাকপুরে শুরু হওয়া এই বিদ্রোহের পর শেষ মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে রেঙ্গুনে নির্বাসিত করা হয়
  • কোম্পানি শাসনের অবসান: ১৮৫৮ সালের ২রা আগস্ট 'ভারত শাসন আইন' পাস হয়। এর মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে এবং শাসনভার ব্রিটিশ রানীর হাতে চলে যায়লর্ড ক্যানিং ভারতের প্রথম ভাইসরয় হন

ধাপ ৯: লর্ড কার্জনের বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫) বনাম লর্ড রিপনের উদারনৈতিক শাসনকাল

শাসক নীতি ও পদক্ষেপ
লর্ড কার্জন'ভাগ করো ও শাসন করো' নীতিতে বিশ্বাসী। জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও হিন্দু-মুসলিম ঐক্য ভাঙতে ১৯০৫ সালের ১৬ই অক্টোবর বঙ্গভঙ্গ করেন। তীব্র স্বদেশী আন্দোলনের মুখে ১৯১১ সালে তা রদ করা হয়
লর্ড রিপন"Ripon the Good" নামে পরিচিত। কুখ্যাত সংবাদপত্র আইন বাতিল করেন। ১৮৮১ সালে প্রথম কারখানা আইন পাস (শিশুশ্রম নিষিদ্ধ ও ৮ ঘণ্টা কাজ)। 'ইলবার্ট বিল' পাস করে ভারতীয় বিচারকদের শ্বেতাঙ্গদের বিচারের অধিকার দেন এবং স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

ভর্তি পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৫০টি এক-লাইনার তথ্য

১. ভারতবর্ষের প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন ওয়ারেন হেস্টিংস এবং প্রথম ভাইসরয় ছিলেন লর্ড ক্যানিং

২. ১৭৬৫ সালে লর্ড ক্লাইভ বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যায় দ্বৈত শাসনব্যবস্থার প্রবর্তন করেন

৩. ছিয়াত্তরের মন্বন্তর বাংলা ১১৭৬ সনে এবং ইংরেজি ১৭৭০ সালে সংঘটিত হয়েছিল

৪. ওয়ারেন হেস্টিংস ১৭৭২ সালে দ্বৈত শাসনের অবসান ঘটান এবং কালেক্টর পদের সৃষ্টি করেন।

৫. ১৭৭৩ সালের নিয়ামক আইন প্রণয়ন করেন তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লর্ড নর্থ।

৬. ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইলিয়াম পিট ১৭৮৪ সালে প্রশাসনিক ত্রুটি দূর করতে 'পিটের ভারত শাসন আইন' পাস করেন

৭. ওয়ারেন হেস্টিংস মারাঠাদের আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য অযোধ্যকে বাফার স্টেট হিসেবে ব্যবহার করেন

৮. প্রথম ইঙ্গ-মারাঠা যুদ্ধের অবসান ঘটে ১৭৮২ সালে সলবায়ের সন্ধির মাধ্যমে

৯. লর্ড কর্নওয়ালিস ১৭৯৩ সালের ২২শে মার্চ চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন

১০. লর্ড কর্নওয়ালিস ভারতবর্ষে সিভিল সার্ভিস বা উচ্চতর প্রশাসনিক কাঠামোর সূচনা করেন

১১. চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে কঠোর সূর্যাস্ত আইনের উদ্ভব ঘটে, যেখানে নির্দিষ্ট দিনে খাজনা দিতে হতো।

১২. লর্ড কর্নওয়ালিস পুলিশ ব্যবস্থার সংস্কার করে থানায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দারোগা নিয়োগ করেন

১৩. লর্ড ওয়েলেসলি ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বিস্তারে অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি প্রবর্তন করেন

১৪. অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি সর্বপ্রথম গ্রহণ করতে বাধ্য হন হায়দ্রাবাদের দুর্বল নিজাম

১৫. লর্ড ওয়েলেসলি ভারতবর্ষের তরুণ ব্রিটিশ কর্মচারীদের জন্য ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ স্থাপন করেন

১৬. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক ১৮২৯ সালে রাজা রামমোহন রায়ের সহায়তায় সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত করেন

১৭. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের সময়ে ১৮৩৫ সালে ইংরেজি শিক্ষাকে সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়

১৮. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক ভয়ঙ্কর ঠগী দস্যুদের দমনের জন্য কর্নেল স্লীম্যানকে বিশেষ দায়িত্ব দেন

১৯. লর্ড ডালহৌসি ভারতবর্ষে সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্য স্বত্ববিলোপ নীতি বা Doctrine of Lapse প্রবর্তন করেন

২০. স্বত্ববিলোপ নীতির মাধ্যমে লর্ড ডালহৌসি সাতারা, সম্বলপুর, ঝাঁসি ও নাগপুর দখল করেন

২১. লর্ড ডালহৌসিকে তাঁর অভূতপূর্ব উন্নয়নের জন্য ভারতের রেলপথের জনক বলা হয়

২২. লর্ড ডালহৌসি ১৮৫৩ সালে বোম্বে থেকে থানে পর্যন্ত ভারতবর্ষের প্রথম রেলপথ চালু করেন

২৩. লর্ড ডালহৌসি ১৮৫৪ সালে কলকাতা থেকে আগ্রা পর্যন্ত প্রথম টেলিগ্রাফ লাইন স্থাপন করেন

২৪. ১৮৫৬ সালে লর্ড ডালহৌসির উদ্যোগে এবং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সহায়তায় বিধবা বিবাহ আইন পাস হয়

২৫. লর্ড ডালহৌসির সময়ে ভারতবর্ষে আধুনিক শিক্ষার প্রসারে চার্লস উডের শিক্ষা নির্দেশিকা (১৮৫৪) প্রকাশিত হয়

২৬. হাজী শরীয়তুল্লাহ ছিলেন বাংলার কৃষকদের অধিকার আদায়ের ফরায়েজি আন্দোলনের প্রবর্তক

২৭. তিতুমীর ১৭৮২ খ্রিস্টাব্দে চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার চাঁদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন

২৮. জমিদার ও ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে তিতুমীর নারকেলবাড়িয়ায় ঐতিহাসিক বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন

২৯. ভারতবর্ষের ইতিহাসে ১৭৬০ সাল হতে সুপরিচিত ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ শুরু হয়

৩০. ১৮৫৭ সালের ঐতিহাসিক মহাবিদ্রোহ বা সিপাহি বিদ্রোহ সর্বপ্রথম ব্যারাকপুরের সেনানিবাসে শুরু হয়েছিল

৩১. ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের প্রত্যক্ষ কারণ ছিল এনফিল্ড রাইফেলের কার্তুজের ব্যবহার

৩২. ভারতীয় উপমহাদেশের শেষ মুঘল সম্রাট ছিলেন দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ

৩৩. ১৮৫৮ সালের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে ভারতবর্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের চিরস্থায়ী অবসান ঘটে

৩৪. ১৮৫৮ সালের আইন অনুযায়ী ভারতের শাসনভার সরাসরি মহারানী ভিক্টোরিয়ার হাতে চলে যায়

৩৫. লর্ড রিপন ১৮৮২ সালে দেশীয় সংবাদপত্র আইন বাতিল করে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন

৩৬. লর্ড রিপন ১৮৮২ সালে ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে উইলিয়াম হান্টারের নেতৃত্বে শিক্ষা কমিশন গঠন করেন

৩৭. ভারতীয় বিচারকদের শ্বেতাঙ্গদের বিচার করার অধিকার দিতে লর্ড রিপন ইলবার্ট বিল প্রণয়ন করেন

৩৮. লর্ড রিপন স্থানীয় জনগণের ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৮৮২ সালে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন প্রবর্তন করেন

৩৯. লর্ড রিপন ১৮৮১ সালে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় উপমহাদেশের প্রথম কারখানা আইন প্রণয়ন করেন

৪০. লর্ড কার্জন প্রাচীন কীর্তি সংরক্ষণের জন্য ১৯০৪ সালে প্রত্নতত্ত্ব সংরক্ষণ আইন পাস করেন

৪১. কৃষকদের ঋণ সহায়তা দেওয়ার জন্য লর্ড কার্জন ১৯০৪ সালে সমবায় ঋণদান সমিতি আইন পাস করেন

৪২. লর্ড কার্জন পুলিশ বাহিনীর আমূল সংস্কারের জন্য অ্যান্ড্রু ফ্রেজারের নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠন করেছিলেন

৪৩. লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালের ১৬ই অক্টোবর বাংলাকে বিভক্ত করে বঙ্গভঙ্গ কার্যকর করেন

৪৪. বঙ্গভঙ্গের ফলে নবগঠিত পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের রাজধানী হিসেবে ঢাকাকে নির্বাচন করা হয়

৪৫. বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে ভারতবর্ষ জুড়ে যে প্রবল আন্দোলন শুরু হয়, তা স্বদেশী আন্দোলন নামে পরিচিত

৪৬. প্রবল স্বদেশী আন্দোলনের মুখে ১৯১১ সালের ১২ই ডিসেম্বর লর্ড হার্ডিঞ্জ বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হন

৪৭. মহীশূরের বিখ্যাত শাসক ছিলেন টিপু সুলতান, যাকে মহীশূরের বাঘ বলা হতো

৪৮. ফরাসি বিপ্লবের আদর্শে অনুপ্রাণিত জ্যাকোবিন ক্লাবের সদস্য ছিলেন মহীশূরের শাসক টিপু সুলতান

৪৯. ১৭৮৪ সালে ম্যাঙ্গালোরের সন্ধির মাধ্যমে দ্বিতীয় ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধের চূড়ান্ত অবসান ঘটে

৫০. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৭ সালে মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনার মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসনের সম্পূর্ণ অবসান ঘটে