Note Categories
Subjects & Chapters
Subjects
Chapters
পৃথিবীর গঠন
আজকের আলোচ্য বিষয়ের একটি ধাপে ধাপে (step-by-step) নির্দেশিকা
ধাপ ১: পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ গঠন ও স্তরবিন্যাস
- সৃষ্টির আদিতে পৃথিবী একটি জ্বলন্ত বাষ্পপিণ্ড ছিল।
- কালক্রমে তাপ বিকিরণ করে এটি শীতল ও কঠিন আকার ধারণ করে।
- ভূকম্পন তরঙ্গের (Seismic Waves) গতিবিধি বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ গঠনকে প্রধানত তিনটি স্তরে ভাগ করেছেন।
- অস্ট্রিয়ান ভূতত্ত্ববিদ এডোয়ার্ড সুয়েস পৃথিবীর অভ্যন্তরভাগকে অশ্মমণ্ডল, গুরুমণ্ডল এবং কেন্দ্রমণ্ডল—এই তিনটি স্তরে বিভক্ত করেন।
- ভূত্বকের নিচে যত গভীরে যাওয়া যায়, তাপমাত্রা তত বাড়তে থাকে। অশ্মমণ্ডলের নিচের দিকে প্রতি কিলোমিটারে গড়ে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস করে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।
১ অশ্মমণ্ডল বা ভূত্বক (Crust)
- পৃথিবীর উপরিভাগের সবচেয়ে পাতলা ও কঠিন আবরণকে ভূত্বক বা অশ্মমণ্ডল বলা হয়।
- এর গড় গভীরতা ২০ কিলোমিটার (পাহাড়ের নিচে সর্বোচ্চ ৪০ কিলোমিটার এবং মহাসাগরের নিচে সর্বনিম্ন ৫-১০ কিলোমিটার)।
- ভূত্বক প্রধানত অক্সিজেন (৪৬.৪৬%), সিলিকন (২৭.৬১%), অ্যালুমিনিয়াম (৮.০৭%) এবং লোহা (৫.০৬%) দ্বারা গঠিত।
- অশ্মমণ্ডলের আপেক্ষিক গুরুত্ব ২ থেকে ৩ এর মধ্যে।
- সিয়াল (SiAl): মহাদেশীয় ভূত্বক প্রধানত গ্রানাইট শিলা দ্বারা গঠিত। এখানে সিলিকন (Si) এবং অ্যালুমিনিয়ামের (Al) আধিক্য থাকায় একে 'সিয়াল' স্তর বলা হয়।
- সিমা (SiMa): মহাসাগরীয় ভূত্বক ব্যাসল্ট শিলা দ্বারা গঠিত। এখানে সিলিকন (Si) ও ম্যাগনেশিয়ামের (Mg) আধিক্য থাকায় একে 'সিমা' বা মেফিক স্তর বলা হয়। এটি সিয়াল স্তরের চেয়ে ভারী।
২ গুরুমণ্ডল (Mantle)
- অশ্মমণ্ডলের নিচ থেকে কেন্দ্রমণ্ডল পর্যন্ত বিস্তৃত স্তরকে গুরুমণ্ডল বলা হয়।
- এর বিস্তৃতি প্রায় ২,৮৮৫ কিলোমিটার।
- পৃথিবীর মোট আয়তনের ৮২% এবং মোট ওজনের ৬৮% এই গুরুমণ্ডল দখল করে আছে।
- বহিঃগুরুমণ্ডল (CroFeSiMa): ক্রোমিয়াম, লোহা, সিলিকন ও ম্যাগনেশিয়াম দ্বারা গঠিত। এর উপরের প্রায় ৩০০ কিলোমিটার গভীর স্তর আংশিক নরম বা নমনীয় অবস্থায় থাকে, যাকে 'অ্যাসথেনোস্ফিয়ার' (Asthenosphere) বা নমনীয় মণ্ডল বলা হয়। আগ্নেয়গিরির উত্তপ্ত লাভা মূলত এখান থেকেই নির্গত হয়।
- অন্তঃগুরুমণ্ডল (NiFeSiMa): নিকেল, লোহা, সিলিকন ও ম্যাগনেশিয়াম দ্বারা গঠিত স্তর।
৩ কেন্দ্রমণ্ডল (Core)
- পৃথিবীর একেবারে কেন্দ্রের স্তরটিকে কেন্দ্রমণ্ডল বলা হয়, যার বিস্তৃতি প্রায় ৩,৪৮৬ কিলোমিটার।
- এর ঘনত্ব এবং আপেক্ষিক গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি (১০ থেকে ১৩.৬)।
- এটি মূলত নিকেল (Ni) এবং লোহা (Fe) দ্বারা গঠিত বলে একে 'নিফে' (NiFe) স্তরও বলা হয়।
- কেন্দ্রমণ্ডল পৃথিবীর মোট আয়তনের ১৬.২% এবং মোট ওজনের ৩১.৫% দখল করে আছে।
- এটি দুটি অংশে বিভক্ত: তরল বহিকেন্দ্র এবং কঠিন অন্তঃকেন্দ্র।
টেকনিক (বিযুক্তি রেখা মনে রাখার উপায়):
- কনরাড (সিয়াল ও সিমা)
- মোহো (ভূত্বক ও গুরুমণ্ডল)
- গুটেনবার্গ (গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডল)
- লেহম্যান (বহিকেন্দ্র ও অন্তঃকেন্দ্র)
(ক-মো-গু-লে: উপর থেকে নিচে স্তরের বিভাজন)
ধাপ ২: খনিজ ও শিলা
খনিজ (Mineral)
- কয়েকটি মৌলিক উপাদান প্রাকৃতিকভাবে মিলিত হয়ে যে সুনির্দিষ্ট যৌগিক পদার্থ তৈরি করে, তাকে খনিজ বলে।
- খনিজের সুনির্দিষ্ট রাসায়নিক সংকেত ও স্ফটিকাকার গঠন রয়েছে।
- যেমন— কোয়ার্টজ, ফেলস্পার, মাইকা, সোনা, হীরা।
- খনিজের কাঠিন্য মাপার জন্য 'মোহস কাঠিন্যতা মাপনী' ব্যবহার করা হয়, যেখানে সবচেয়ে নরম খনিজ হলো ট্যালক (কাঠিন্য ১) এবং সবচেয়ে কঠিন খনিজ হলো হীরা (কাঠিন্য ১০)।
শিলা (Rock)
- এক বা একাধিক খনিজ পদার্থের সংমিশ্রণে প্রাকৃতিকভাবে গঠিত পদার্থকে শিলা বলে।
- শিলার কোনো নির্দিষ্ট রাসায়নিক সংকেত নেই।
- যেমন— গ্রানাইট শিলা গঠিত হয় কোয়ার্টজ, ফেলস্পার এবং মাইকা নামক খনিজ দ্বারা।
শিলার প্রকারভেদ
উৎপত্তি ও গঠন প্রণালী অনুযায়ী শিলাকে প্রধানত ৩ ভাগে ভাগ করা যায়:
১. আগ্নেয় শিলা (Igneous Rock):
- উত্তপ্ত গলিত ম্যাগমা শীতল ও জমাট বেঁধে যে শিলা তৈরি করে, তাকে আগ্নেয় শিলা বলে।
- এটি পৃথিবীর প্রথম সৃষ্ট শিলা হওয়ায় একে 'প্রাথমিক শিলা' বা 'অস্তরীভূত শিলা' বলা হয়।
- আগ্নেয় শিলায় কোনো স্তর বা জীবাশ্ম থাকে না এবং এটি অত্যন্ত শক্ত ও স্ফটিকাকার হয়।
- বহিঃজ আগ্নেয় শিলা: ভূগর্ভের ম্যাগমা বাইরে এসে দ্রুত শীতল হয়ে ব্যাসল্ট, অবসিডিয়ান, পিউমিস গঠন করে।
- অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা: ম্যাগমা ভূগর্ভেই ধীরে ধীরে শীতল হয়ে গ্রানাইট, ডায়োরাইট, গ্যাব্রো গঠন করে।
২. পাললিক শিলা (Sedimentary Rock):
- আগ্নেয় শিলা প্রাকৃতিক শক্তি (বৃষ্টিপাত, বায়ু, নদী) দ্বারা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে নিম্নভূমিতে বা সাগরের তলদেশে স্তরে স্তরে জমা হয়ে পাললিক শিলা গঠন করে।
- স্তরে স্তরে গঠিত হয় বলে একে 'স্তরীভূত শিলা' বলা হয়।
- পৃথিবীর ভূত্বকের উপরিভাগের প্রায় ৭৫% পাললিক শিলা দ্বারা আবৃত।
- কেবল পাললিক শিলাতেই জীবাশ্ম (Fossils) এবং তরঙ্গ চিহ্ন (Ripple marks) পাওয়া যায়।
উদাহরণ: যান্ত্রিকভাবে গঠিত (বেলেপাথর, কাদা পাথর), জৈবিকভাবে গঠিত (কয়লা, চুনাপাথর) এবং রাসায়নিকভাবে গঠিত (জিপসাম, খনিজ লবণ)।
৩. রূপান্তরিত শিলা (Metamorphic Rock):
- আগ্নেয় ও পাললিক শিলা ভূগর্ভের প্রচণ্ড তাপ, চাপ এবং রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে তাদের পূর্বের রূপ ও গুণাগুণ সম্পূর্ণ পরিবর্তন করে নতুন যে শিলা গঠন করে, তাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- এটি অত্যন্ত কঠিন ও স্ফটিকাকার হয় এবং এতে জীবাশ্ম থাকলে তা তাপে ধ্বংস হয়ে যায়।
- চুনাপাথর (পাললিক) → মার্বেল
- বেলেপাথর (পাললিক) → কোয়ার্টজাইট
- কাদা বা শেল (পাললিক) → স্লেট
- গ্রানাইট (আগ্নেয়) → নিস
- কয়লা (পাললিক) → গ্রাফাইট বা হীরা
ধাপ ৩: ভূ-আলোড়ন এবং পাত ভূগাঠনিক মতবাদ
- ভূগর্ভস্থ প্রচণ্ড তাপ ও চাপের ফলে ভূত্বকের যে পরিবর্তন ঘটে, তাকে ভূ-আলোড়ন বলে।
- এটি দুটি প্রক্রিয়ায় ঘটে: আকস্মিক আলোড়ন (ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরি) এবং ধীর আলোড়ন (পর্বত ও মালভূমি গঠন)।
পাত সঞ্চালন মতবাদ (Plate Tectonics):
- আধুনিক ভূতত্ত্বের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মতবাদ এটি।
- এই মতবাদ অনুযায়ী, পৃথিবীর অশ্মমণ্ডল কয়েকটি অনমনীয় খণ্ডে বা 'পাতে' বিভক্ত।
- পৃথিবীতে মোট ৭টি বৃহৎ পাত এবং প্রায় ২০টি ক্ষুদ্র পাত রয়েছে।
- বৃহৎ পাতগুলো হলো: উত্তর আমেরিকান, দক্ষিণ আমেরিকান, আফ্রিকান, ইউরেশীয়, ভারত-অস্ট্রেলিয়া, প্রশান্ত মহাসাগরীয় এবং অ্যান্টার্কটিক পাত।
- এই পাতগুলো অ্যাসথেনোস্ফিয়ারের গলিত ম্যাগমার ওপর ভাসমান।
- দুটি পাত যখন পরস্পরের দিকে এগিয়ে আসে, তখন তাদের সংঘর্ষের ফলে পাললিক শিলায় ভাঁজ পড়ে ভঙ্গিল পর্বত (যেমন: হিমালয়) সৃষ্টি হয়।
- পাতগুলো পরস্পর থেকে দূরে সরে গেলে ফাটল বা চ্যুতির সৃষ্টি হয়, যার ফলে স্তূপ পর্বত বা ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়।
ধাপ ৪: ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরি
ভূমিকম্প (Earthquake)
- ভূগর্ভে শিলাচ্যুতি বা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে আকস্মিক ভূ-কম্পনকে ভূমিকম্প বলে।
- ভূগর্ভের যে স্থানে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয় তাকে 'কেন্দ্র' (Focus) বলে।
- কেন্দ্র থেকে ঠিক লম্বালম্বিভাবে ভূপৃষ্ঠের উপরের বিন্দুকে 'উপকেন্দ্র' (Epicenter) বলে।
ভূকম্পন তরঙ্গ: ৩ প্রকার।
- P-তরঙ্গ (Primary): সবচেয়ে দ্রুতগামী, কঠিন তরল উভয় মাধ্যমে চলে।
- S-তরঙ্গ (Secondary): তরলে চলতে পারে না।
- L-তরঙ্গ (পৃষ্ঠ তরঙ্গ): ভূপৃষ্ঠ দিয়ে চলে এবং সবচেয়ে বেশি ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।
পরিমাপ: ভূমিকম্পের মাত্রা মাপা হয় রিখটার স্কেলে (চার্লস রিখটার ১৯৩২ সালে আবিষ্কার করেন, মাত্রা ১-১০) এবং তীব্রতা মাপা হয় মার্ক্যালি স্কেলে।
আগ্নেয়গিরি (Volcano)
- ভূগর্ভের গলিত ম্যাগমা, গ্যাস ও ভস্ম প্রচণ্ড চাপে ভূত্বকের কোনো দুর্বল ফাটল দিয়ে বাইরে বেরিয়ে এলে তাকে আগ্নেয়গিরি বলে।
প্রকারভেদ:
- 🔥 সক্রিয় আগ্নেয়গিরি: যেখান থেকে নিয়মিত লাভা বের হয় (যেমন: হাওয়াই দ্বীপের মৌনালোয়া, ইতালির স্ট্রম্বোলি)।
- ⚠️ সুপ্ত আগ্নেয়গিরি: যা বহুদিন ধরে শান্ত কিন্তু যেকোনো সময় অগ্ন্যুৎপাত হতে পারে (যেমন: জাপানের ফুজিয়ামা)।
- 🪨 মৃত আগ্নেয়গিরি: যা থেকে ভবিষ্যতে অগ্ন্যুৎপাতের কোনো সম্ভাবনা নেই (যেমন: মিয়ানমারের পোপো, ইরানের কোহ-ই-সুলতান)।
ধাপ ৫: ভূমিরূপ (পর্বত, মালভূমি ও সমভূমি)
১ পর্বত (Mountains)
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কমপক্ষে ১০০০ মিটারের অধিক উচ্চতাবিশিষ্ট, সুবিস্তৃত এবং খাড়া ঢালবিশিষ্ট শিলাস্তূপকে পর্বত বলে। উৎপত্তির ধরন অনুযায়ী পর্বত ৫ প্রকার:
ভঙ্গিল পর্বত (Fold Mountain):
দুটি পাতের সংঘর্ষে পাললিক শিলায় ভাঁজ পড়ে এই পর্বত গঠিত হয়। এশিয়ার হিমালয়, ইউরোপের আল্পস, উত্তর আমেরিকার রকি এবং দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ হলো এর উদাহরণ।
চ্যুতি-স্তূপ পর্বত (Block Mountain):
ভূ-আলোড়নের ফলে ফাটল বা চ্যুতির সৃষ্টি হয়ে কোনো অংশ ওপরে উঠে এই পর্বত গঠন করে। জার্মানির ব্ল্যাক ফরেস্ট, ফ্রান্সের ভোজ পর্বত এবং ভারতের বিন্ধ্য ও সাতপুরা পর্বত এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
আগ্নেয় পর্বত (Volcanic Mountain):
আগ্নেয়গিরির লাভা স্তরে স্তরে জমা হয়ে মোচাকৃতির এই পর্বত তৈরি করে। জাপানের ফুজিয়ামা এবং ইতালির ভিসুভিয়াস এর উদাহরণ।
ল্যাকোলিথ পর্বত (Laccolith Mountain):
ভূগর্ভের ম্যাগমা বাইরে আসতে না পেরে ভূত্বককে গম্বুজের মতো উঁচু করে এই পর্বত তৈরি করে। আমেরিকার ব্ল্যাক হিলস ও হেনরি পর্বত এর উদাহরণ।
ক্ষয়জাত পর্বত (Residual Mountain):
প্রাচীন পর্বত প্রাকৃতিক শক্তিতে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে নিচু পর্বতে পরিণত হলে তাকে ক্ষয়জাত পর্বত বলে। ভারতের আরাবল্লী এবং ইউরোপের সিয়েরা নেভাদা এর উদাহরণ।
২ মালভূমি (Plateaus)
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উঁচু অথচ উপরিভাগ প্রায় সমতল বা সামান্য তরঙ্গায়িত বিস্তীর্ণ ভূভাগকে মালভূমি বলে। অবস্থান অনুযায়ী মালভূমি ৩ প্রকার:
- পর্বত মধ্যবর্তী মালভূমি: পর্বতের মাঝে অবস্থিত। তিব্বতের মালভূমি পৃথিবীর বৃহত্তম মালভূমি। দক্ষিণ আমেরিকার বলিভিয়া মালভূমি আরেকটি উদাহরণ।
- পাদদেশীয় মালভূমি: পর্বতের পাদদেশে ক্ষয়িত পদার্থ জমে তৈরি হয়। উদাহরণ: উত্তর আমেরিকার কলোরাডো ও প্যাটাগোনিয়া মালভূমি।
- মহাদেশীয় মালভূমি: বিশাল মহাদেশ জুড়ে বিস্তৃত। উদাহরণ: আরব উপদ্বীপ, অস্ট্রেলিয়া, গ্রিনল্যান্ড।
৩ সমভূমি (Plains)
সমুদ্রপৃষ্ঠের প্রায় সমউচ্চতায় অবস্থিত বিস্তীর্ণ সমতল ভূমিকে সমভূমি বলে। এটি প্রধানত দুটি প্রক্রিয়ায় গঠিত হয়:
- সঞ্চয়জাত সমভূমি: পলি জমে নদীর তীরে প্লাবন সমভূমি (গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সমভূমি), নদীর মোহনায় বদ্বীপ সমভূমি, এবং বায়ুতাড়িত বালুকা জমে লোয়েস সমভূমি (চীনের হোয়াংহো অববাহিকা) সৃষ্টি হয়।
- ক্ষয়জাত সমভূমি: নদীর ক্ষয়ে সৃষ্ট হাডসন উপসাগর তীরবর্তী সমভূমি এবং হিমবাহের ক্ষয়ে সৃষ্ট ফিনল্যান্ডের সমভূমি।
অধ্যায় ভিত্তিক MCQ (সমাধানের কৌশল সহ)
১. পৃথিবীর গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডলের মধ্যবর্তী বিযুক্তি রেখার নাম কী?
২. নিচের কোনটি রূপান্তরিত শিলার উদাহরণ নয়?
৩. জীবাশ্ম বা Fossils নিচের কোন শিলায় পাওয়া যায়?
৪. পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মালভূমি 'তিব্বতের মালভূমি' কোন ধরনের মালভূমি?
ভর্তি পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৫০টি এক-লাইনার তথ্য
- ১. পৃথিবীর নিরক্ষীয় রেখা বরাবর ব্যাসার্ধ ৬,৩৭৮ কিলোমিটার।
- ২. পৃথিবীর মেরুরেখা বরাবর ব্যাসার্ধ ৬,৩৫৭ কিলোমিটার।
- ৩. পৃথিবীর উপরিভাগের সবচেয়ে পাতলা ও কঠিন আবরণকে ভূত্বক বা অশ্মমণ্ডল বলা হয়।
- ৪. অশ্মমণ্ডলের গড় গভীরতা ২০ কিলোমিটার এবং এর আপেক্ষিক গুরুত্ব ২ থেকে ৩।
- ৫. মহাদেশীয় ভূত্বক প্রধানত গ্রানাইট শিলা দ্বারা গঠিত এবং একে 'সিয়াল' (SiAl) স্তর বলা হয়।
- ৬. মহাসাগরীয় ভূত্বক প্রধানত ব্যাসল্ট শিলা দ্বারা গঠিত এবং একে 'সিমা' (SiMa) স্তর বলা হয়।
- ৭. সিয়াল এবং সিমা স্তরের মধ্যবর্তী সংযোগস্থলকে কনরাড বিযুক্তি রেখা বলা হয়।
- ৮. অশ্মমণ্ডল এবং গুরুমণ্ডলের মধ্যবর্তী বিভাজনকারী রেখাকে মোহোবিযুক্তি রেখা বলা হয়।
- ৯. পৃথিবীর মোট আয়তনের ৮২% এবং মোট ওজনের ৬৮% দখল করে আছে গুরুমণ্ডল।
- ১০. বহিঃগুরুমণ্ডলের উপরের আংশিক তরল ও নমনীয় স্তরকে অ্যাসথেনোস্ফিয়ার (Asthenosphere) বলে।
- ১১. গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডলের মধ্যবর্তী বিযুক্তি রেখাকে গুটেনবার্গ বিযুক্তি রেখা বলা হয়।
- ১২. পৃথিবীর একেবারে কেন্দ্রের স্তর কেন্দ্রমণ্ডল মূলত লোহা ও নিকেল দ্বারা গঠিত বলে একে নিফে (NiFe) স্তর বলা হয়।
- ১৩. কেন্দ্রমণ্ডল পৃথিবীর মোট আয়তনের ১৬.২% এবং ওজনের ৩১.৫% দখল করে আছে।
- ১৪. বহিকেন্দ্র (তরল) এবং অন্তঃকেন্দ্র (কঠিন) এর মধ্যবর্তী বিযুক্তি রেখাকে লেহম্যান বিযুক্তি রেখা বলে।
- ১৫. ভূত্বকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায় অক্সিজেন (৪৬.৪৬%)।
- ১৬. ভূত্বকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পরিমাণে পাওয়া যায় সিলিকন (২৭.৬১%)।
- ১৭. খনিজের কাঠিন্য মাপার জন্য 'মোহস কাঠিন্যতা মাপনী' ব্যবহার করা হয়।
- ১৮. মোহস স্কেল অনুযায়ী পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন খনিজ হলো হীরা (কাঠিন্য ১০) এবং সবচেয়ে নরম খনিজ ট্যালক (কাঠিন্য ১)।
- ১৯. উত্তপ্ত গলিত ম্যাগমা শীতল ও জমাট বেঁধে আগ্নেয় শিলা তৈরি হয়, যাকে প্রাথমিক শিলাও বলে।
- ২০. ব্যাসল্ট একটি বহিঃজ আগ্নেয় শিলা, যা মহাসাগরীয় ভূত্বক গঠনে মুখ্য ভূমিকা রাখে।
- ২১. গ্রানাইট হলো একটি অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা, যা মহাদেশীয় ভূত্বকের প্রধান উপাদান।
- ২২. প্রাকৃতিক শক্তিতে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে স্তরে স্তরে জমাট বেঁধে পাললিক শিলা গঠিত হয়।
- ২৩. পৃথিবীর উপরিভাগের প্রায় ৭৫% পাললিক শিলা দ্বারা গঠিত।
- ২৪. কেবল পাললিক শিলাতেই জীবাশ্ম (Fossils) এবং তরঙ্গ চিহ্ন (Ripple marks) পাওয়া যায়।
- ২৫. চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে মার্বেল পাথরে পরিণত হয়।
- ২৬. বেলেপাথর প্রচণ্ড তাপ ও চাপে রূপান্তরিত হয়ে কোয়ার্টজাইটে পরিণত হয়।
- ২৭. কাদা পাথর বা শেল রূপান্তরিত হয়ে স্লেটে পরিণত হয়।
- ২৮. কয়লা রূপান্তরিত হয়ে গ্রাফাইট এবং গ্রাফাইট আরও তাপে হীরায় পরিণত হয়।
- ২৯. গ্রানাইট শিলা রূপান্তরিত হয়ে নিস (Gneiss) শিলা গঠন করে।
- ৩০. পাত ভূগাঠনিক মতবাদ (Plate Tectonics) অনুযায়ী পৃথিবীর অশ্মমণ্ডল প্রধান ৭টি বৃহৎ পাতে বিভক্ত।
- ৩১. দুটি পাতের পরস্পরের দিকে অগ্রসর হয়ে সংঘর্ষের ফলে ভঙ্গিল পর্বত সৃষ্টি হয়।
- ৩২. এশিয়ার হিমালয় পর্বতমালা একটি ভঙ্গিল বা ভাঁজ পর্বতের উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
- ৩৩. ইউরোপের আল্পস এবং উত্তর আমেরিকার রকি পর্বতমালা ভঙ্গিল পর্বতের পর্যায়ভুক্ত।
- ৩৪. ভূ-আলোড়নের ফলে ফাটল বা চ্যুতির মাধ্যমে স্তূপ পর্বতের সৃষ্টি হয়।
- ৩৫. জার্মানির ব্ল্যাক ফরেস্ট এবং ভারতের বিন্ধ্য পর্বত স্তূপ পর্বতের উদাহরণ।
- ৩৬. দুটি চ্যুতির মাঝখানের নিচু অংশকে গ্রস্ত উপত্যকা বলা হয় (যেমন: নর্মদা নদীর উপত্যকা)।
- ৩৭. আগ্নেয়গিরির লাভা সঞ্চিত হয়ে আগ্নেয় পর্বত বা সঞ্চয়জাত পর্বত গঠিত হয়।
- ৩৮. জাপানের ফুজিয়ামা এবং ইতালির ভিসুভিয়াস আগ্নেয় পর্বতের উদাহরণ।
- ৩৯. ভূগর্ভের ম্যাগমা ভূত্বককে গম্বুজের মতো উঁচু করে ল্যাকোলিথ পর্বত গঠন করে, যেমন- আমেরিকার ব্ল্যাক হিলস।
- ৪০. প্রাচীন পর্বত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে নিচু হলে তাকে ক্ষয়জাত পর্বত বলে, যেমন- ভারতের আরাবল্লী পর্বত।
- ৪১. সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২০১ থেকে ৬০০ মিটার উঁচু বিস্তীর্ণ সমতল ভূমিকে মালভূমি বলে।
- ৪২. তিব্বতের মালভূমি পৃথিবীর বৃহত্তম মালভূমি, যা একটি পর্বত-মধ্যবর্তী মালভূমি।
- ৪৩. উত্তর আমেরিকার প্যাটাগোনিয়া মালভূমি একটি পাদদেশীয় মালভূমি।
- ৪৪. বায়ুতাড়িত বালুকা জমে যে বিস্তীর্ণ সমতল ভূমির সৃষ্টি হয়, তাকে লোয়েস সমভূমি বলে।
- ৪৫. গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র নদীর মোহনায় সৃষ্ট বদ্বীপ সমভূমিটি পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বদ্বীপ সমভূমি।
- ৪৬. ভূমিকম্পের মাত্রা নির্ণয়ের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য স্কেল হলো রিখটার স্কেল (মাত্রা ১-১০)।
- ৪৭. ভূমিকম্পের কেন্দ্র থেকে সরাসরি ভূপৃষ্ঠের উপরের বিন্দুকে উপকেন্দ্র (Epicenter) বলে।
- ৪৮. ভূকম্পন পরিমাপক যন্ত্রের নাম সিসমোগ্রাফ (Seismograph)।
- ৪৯. P-তরঙ্গ বা প্রাথমিক তরঙ্গ কঠিন, তরল ও বায়বীয় তিনটি মাধ্যমের ভেতর দিয়েই প্রবাহিত হতে পারে।
- ৫০. হাওয়াই দ্বীপের মৌনালোয়া পৃথিবীর একটি বিখ্যাত সক্রিয় আগ্নেয়গিরির উদাহরণ।