প্রাকৃতিক ভূগোল - ভর্তি প্রস্তুতি
Full Page Thumbnail

প্রাকৃতিক ভূগোল

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রস্তুতি

আজকের আলোচ্য বিষয়ের সূচিপত্র

আজকের আলোচ্য বিষয়ের একটি ধাপে ধাপে (Step-by-Step) সংক্ষিপ্ত সারণি নিচে দেওয়া হলো, যাতে শিক্ষার্থীরা খুব সহজেই ধারণা করতে পারে আজ তারা কী কী শিখতে যাচ্ছে:

পর্যায় আলোচ্য টপিক (ভিত্তিক) মূল বিষয়বস্তু
ধাপ ১ প্রাকৃতিক ভূগোলের ধারণা ও পরিধি ভূগোলের সংজ্ঞা, পরিধি এবং এর প্রধান শাখাসমূহ।
ধাপ ২ পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ গঠন ভূত্বক, গুরুমণ্ডল, কেন্দ্রমণ্ডল এবং এদের মাঝে অবস্থিত বিযুক্তি রেখাসমূহ।
ধাপ ৩ ভূ-আলোড়ন, ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরি স্থিতিস্থাপক প্রতিক্ষেপণ তত্ত্ব, ভূমিকম্পের তরঙ্গ, আগ্নেয়গিরির প্রকারভেদ।
ধাপ ৪ খনিজ, শিলা এবং ভূমিরূপ আগ্নেয়, পাললিক ও রূপান্তরিত শিলা, পর্বত, মালভূমি ও সমভূমির বিস্তারিত রূপ।
ধাপ ৫ ভূমিরূপ পরিবর্তনকারী শক্তি বিচূর্ণীভবন, নগ্নীভবন এবং নদীর ক্ষয় ও সঞ্চয়কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ।
ধাপ ৬ বায়ুমণ্ডল ও বায়ুপ্রবাহ বায়ুমণ্ডলের স্তরবিন্যাস, আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাত এবং নিয়ত ও সাময়িক বায়ু।
ধাপ ৭ বারিমণ্ডল (মহাসাগর) মহাসাগরের তলদেশের ভূমিরূপ, সমুদ্রস্রোত এবং জোয়ার-ভাটার কারণ ও প্রকারভেদ।

প্রাকৃতিক ভূগোলের প্রকৃতি ও পরিসর

প্রাকৃতিক ভূগোলের ধারণা ও সংজ্ঞা:

  • প্রাকৃতিক ভূগোল (Physical Geography) হলো বিজ্ঞানের সেই শাখা, যা পৃথিবীর উপরিভাগের প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং এতে কার্যরত বিভিন্ন ভূ-প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া নিয়ে বিশদ আলোচনা করে।
  • গ্রিক পণ্ডিত ইরাটসথেনিস (Eratosthenes) সর্বপ্রথম 'Geography' শব্দটি ব্যবহার করেন।
  • প্রখ্যাত ভূগোলবিদ কার্ল রিটার বলেছেন, "প্রাকৃতিক ভূগোল হচ্ছে বিজ্ঞানের সেই শাখা যা পৃথিবীর সমস্ত অবয়ব, বৈচিত্র্য ও সম্পর্কসহ একটি স্বতন্ত্র একক হিসেবে বিচার করে।"
  • অন্যদিকে, রিচার্ড হার্টশোর্ন-এর মতে, "ভূপৃষ্ঠের পরিবর্তনশীল বৈশিষ্ট্যের সঠিক, সুবিন্যস্ত ও যুক্তিসঙ্গত বর্ণনা প্রদান করাই প্রাকৃতিক ভূগোলের কাজ।"

বিষয়বস্তু ও পরিধি:

প্রাকৃতিক ভূগোলের পরিধি মূলত চারটি সুবিশাল মণ্ডলের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে:

  • অশ্মমণ্ডল (Lithosphere): পৃথিবীর উপরিভাগের কঠিন আবরণ বা শিলাস্তর।
  • বারিমণ্ডল (Hydrosphere): পৃথিবীর সমগ্র জলরাশি, যা পৃথিবীর মোট আয়তনের প্রায় ৭১ ভাগ দখল করে আছে।
  • বায়ুমণ্ডল (Atmosphere): ভূপৃষ্ঠ বেষ্টনকারী গ্যাসীয় আবরণ।
  • জীবমণ্ডল (Biosphere): উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবনচক্র এবং এদের বিচরণক্ষেত্র।

প্রধান শাখাসমূহ:

  • ভূমিরূপবিদ্যা (Geomorphology): পৃথিবীর উৎপত্তি, ভূত্বক, পর্বত, মালভূমি ও সমভূমি নিয়ে আলোচনা করে।
  • জলবায়ুবিদ্যা (Climatology): বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, মেঘ, বৃষ্টিপাত এবং জলবায়ু অঞ্চল নিয়ে আলোচনা করে।
  • সমুদ্রবিদ্যা (Oceanography): মহাসাগরের তলদেশ, সমুদ্রস্রোত ও জোয়ার-ভাটা এর আলোচ্য বিষয়।

পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ গঠন ও ভূ-আলোড়ন

পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ গঠন:

পৃথিবীর অভ্যন্তরভাগকে প্রধানত তিনটি স্তরে ভাগ করা যায়।

  • কেন্দ্রমণ্ডল (Core): পৃথিবীর একেবারে ভেতরের স্তর। এর পুরুত্ব প্রায় ৩,৪৮৬ কিলোমিটার। স্তরটি লোহা (Ferrum) এবং নিকেল (Nickel) দ্বারা গঠিত হওয়ায় একে 'নাইফ' (NIFE) বলা হয়। এটি অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডল (কঠিন) এবং বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল (তরলপ্রায়) এ বিভক্ত।
  • গুরুমণ্ডল (Mantle): কেন্দ্রমণ্ডলের বাইরের অংশ থেকে ভূত্বকের নিচ পর্যন্ত বিস্তৃত। এর ঊর্ধ্বভাগ ক্রোমিয়াম, লোহা, সিলিকন ও ম্যাগনেসিয়াম দ্বারা গঠিত বলে একে ক্রোফেসিমাস (CROFESIMA) স্তর বলে। নিম্নভাগ নিকেল, লোহা, সিলিকন ও ম্যাগনেসিয়াম দ্বারা গঠিত বলে একে নিফেসিমাস (NIFESIMA) স্তর বলে। এর উপরের গলিত অংশটিকে অ্যাসথেনোস্ফিয়ার বলা হয়, যেখানে প্রতি কিলোমিটারে ৩০°C তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।
  • অশ্মমণ্ডল বা ভূত্বক (Crust): গুরুমণ্ডলের ঠিক উপরের কঠিন ও পাতলা শিলাস্তর (গড় গভীরতা ২০ কি.মি.)। মহাদেশীয় অংশটি সিলিকন ও অ্যালুমিনিয়াম দ্বারা গঠিত 'সিয়াল' (SIAL) স্তর (গ্রানাইট শিলা) এবং মহাসাগরীয় অংশটি সিলিকন ও ম্যাগনেসিয়াম দ্বারা গঠিত 'সিমা' (SIMA) স্তর (ব্যাসল্ট শিলা)।

💡 মনে রাখার টেকনিক (বিযুক্তি রেখা):

  • সিয়াল ও সিমা এর মাঝে = কনরাড বিযুক্তি
  • ভূত্বক ও গুরুমণ্ডলের মাঝে = মোহোরোভিসিক বিযুক্তি
  • গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডলের মাঝে = গুটেনবার্গ বিযুক্তি

ভূ-আলোড়ন, ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরি:

  • ভূ-অভ্যন্তরে পরিচলন স্রোতের ফলে সৃষ্ট শক্তি যখন ভূত্বকের পরিবর্তন ঘটায়, তাকে ভূ-আলোড়ন বলে। এটি ধীর (যেমন- পর্বত গঠন) বা দ্রুত (যেমন- ভূমিকম্প) হতে পারে।
  • ভূমিকম্প (Earthquake): ১৯০৬ সালে বিজ্ঞানী এইচ. এফ. রিড 'স্থিতিস্থাপক প্রতিক্ষেপণ' (Elastic Rebound) তত্ত্ব প্রদান করেন। শিলাস্তরে মাত্রাতিরিক্ত চাপ পড়লে তা ভেঙে গিয়ে সঞ্চিত শক্তি মুক্ত হয় এবং কম্পন সৃষ্টি করে। ভূমিকম্পের ৩টি তরঙ্গ: P-Wave (সবচেয়ে দ্রুত), S-Wave (শুধুমাত্র কঠিন মাধ্যমে চলে), L-Wave (ভূপৃষ্ঠ দিয়ে চলে এবং সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক)
  • আগ্নেয়গিরি (Volcano): ম্যাগমা ফাটল দিয়ে বেরিয়ে এলে তাকে লাভা বলে। আগ্নেয়গিরি ৩ প্রকার: সক্রিয় (মাউনা লোয়া), সুপ্ত (ফুজিয়ামা), মৃত (পোপো)। ম্যাগমা ভূ-অভ্যন্তরে জমাট বাঁধলে ব্যাথোলিথ, ল্যাকোলিথ, ডাইক (খাড়া)সিল (সমান্তরাল) নামক ভূমিরূপ তৈরি হয়।

📝 ভিত্তিক MCQ (যাচাইকরণ):

১. নিচের কোন ভূমিকম্পের তরঙ্গ তরল মাধ্যমে হারিয়ে যায়?

(ক) P-Wave    (খ) S-Wave    (গ) L-Wave    (ঘ) T-Wave

(বিশ্লেষণ: S-Wave বা মাধ্যমিক তরঙ্গ শুধু কঠিন মাধ্যমে চলতে পারে। উত্তর: খ)

খনিজ, শিলা এবং ভূমিরূপ পরিবর্তন

খনিজ ও শিলা (Minerals & Rocks):

  • নির্দিষ্ট রাসায়নিক সংকেতযুক্ত প্রাকৃতিক যৌগিক পদার্থ হলো খনিজ (যেমন- কোয়ার্টজ, ফেল্ডস্পার)।
  • কাঠিন্য মাপা হয় মোহ'স স্কেলে (হীরা সবচেয়ে কঠিন)।
  • এক বা একাধিক খনিজ মিলে তৈরি হয় শিলা।
  • আগ্নেয় শিলা (Igneous Rock): ম্যাগমা শীতল হয়ে গঠিত হয়। এতে কোনো জীবাশ্ম বা স্তর থাকে না। এটি স্ফটিকাকার। উদাহরণ: গ্রানাইট (অন্তঃজ), ব্যাসাল্ট (বহিঃজ)।
  • পাললিক শিলা (Sedimentary Rock): পলি স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয়ে সৃষ্টি হয়। এতে জীবাশ্ম ও স্তরভেদ থাকে। উদাহরণ: বেলেপাথর (যান্ত্রিক), চুনাপাথর (রাসায়নিক), কয়লা (জৈবিক)।
  • রূপান্তরিত শিলা (Metamorphic Rock): প্রচণ্ড তাপ ও চাপে পূর্বের শিলার রূপ পরিবর্তন। এটি অত্যন্ত কঠিন হয়। উদাহরণ: চুনাপাথর থেকে মার্বেল, কয়লা থেকে গ্রাফাইট, শেল থেকে স্লেট

পর্বত, মালভূমি ও সমভূমি:

  • পর্বত: ভঙ্গিল পর্বত (হিমালয়, আল্পস - পাললিক শিলায় ভাঁজ পড়ে সৃষ্টি), স্তূপ পর্বত (ব্ল্যাক ফরেস্ট), আগ্নেয় পর্বত (ফুজিয়ামা), ক্ষয়জাত পর্বত (ব্ল্যাক হিলস)।
  • মালভূমি: পর্বতবেষ্টিত মালভূমি (তিব্বত মালভূমি - পৃথিবীর বৃহত্তম), মহাদেশীয় মালভূমি (গ্রিনল্যান্ড)।
  • সমভূমি: প্লাবন সমভূমি, ব-দ্বীপ সমভূমি (গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র)

ভূমিরূপ পরিবর্তনকারী শক্তি (বিচূর্ণীভবন ও নদীর কাজ):

  • বিচূর্ণীভবন (Weathering): শিলা স্বস্থানে চূর্ণ-বিচূর্ণ হওয়া। রাসায়নিক বিচূর্ণীভবনের মধ্যে রয়েছে জারণ/Oxidation (লোহায় মরিচা ধরা), হাইড্রেশন, কার্বোনেশন (চুনাপাথর গলানো)।
  • নদীর কাজ:
    • উচ্চগতি/পার্বত্য অবস্থা: ক্ষয়কাজ প্রধান। 'V' আকৃতির উপত্যকা, গিরিখাত (Gorge) এবং শুষ্ক অঞ্চলে ক্যানিয়ন (Canyon) সৃষ্টি হয়।
    • মধ্যগতি: নদী প্রশস্ত হয়, নদীবাঁক (Meander) এবং অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ (Ox-bow lake) তৈরি হয়।
    • নিম্নগতি: স্রোত কমে যায়, মোহনায় পলি জমে ব-দ্বীপ (Delta) সৃষ্টি হয়।

বায়ুমণ্ডল ও জলবায়ু

বায়ুমণ্ডলের স্তরবিন্যাস:

  • প্রধান উপাদান: নাইট্রোজেন (৭৮.০৮%), অক্সিজেন (২০.৯৫%)
  • ট্রপোমণ্ডল: ০-১৬ কি.মি. (নিরক্ষীয়)। উচ্চতা বাড়লে তাপমাত্রা কমে (৬.৫°C/কি.মি.)। মেঘ, বৃষ্টি সব এখানেই হয়।
  • স্ট্র্যাটোমণ্ডল: ১৬-৫০ কি.মি.। এখানে ওজোন স্তর থাকে যা অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে। তাপমাত্রা উচ্চতার সাথে বাড়ে।
  • মেসোমণ্ডল: ৫০-৮0 কি.মি.। তাপমাত্রা দ্রুত কমে। উল্কাপিণ্ড পুড়ে ছাই হয়।
  • তাপমণ্ডল (আয়নমণ্ডল): ৮০-৫০০ কি.মি.। বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয় এবং মেরুপ্রভা (Aurora) দেখা যায়।
  • এক্সোমণ্ডল: ক্রমশ মহাশূন্যে বিলীন।

আর্দ্রতা ও বৃষ্টিপাত:

  • আপেক্ষিক আর্দ্রতা (Relative Humidity): বায়ুতে উপস্থিত জলীয় বাষ্প এবং ঐ তাপমাত্রায় বায়ুকে সম্পৃক্ত করতে প্রয়োজনীয় জলীয় বাষ্পের অনুপাত।
  • বৃষ্টিপাতের প্রকারভেদ:
    • পরিচলন বৃষ্টি: নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রতিদিন বিকেলে হয়।
    • শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি: পর্বতে বাধা পেয়ে বৃষ্টি হয়। পর্বতের বিপরীত দিককে 'বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল' (Rain shadow) বলে।
    • ঘূর্ণিবাত বৃষ্টি: নিম্নচাপ কেন্দ্রে বায়ু ঘূর্ণির আকারে উঠে বৃষ্টি ঘটায়।
    • সংঘর্ষ বৃষ্টি: উষ্ণ ও শীতল বায়ুর মিলনে সৃষ্টি হয়।

বায়ুপ্রবাহ ও জলবায়ু:

  • নিয়ত বায়ু: আয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু (গর্জনশীল চল্লিশা), মেরু বায়ু। কোরিওলিস শক্তির কারণে উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণে বামদিকে বেঁকে যায় (ফেরেলের সূত্র)।
  • সাময়িক বায়ু: মৌসুমি বায়ু (ঋতুভিত্তিক দিক পরিবর্তন করে)।
  • স্থানীয় বায়ু: চিনুক (রকি পর্বত), খামসিন (সাহারা)
  • কোপেনের জলবায়ু শ্রেণিবিভাগ: A (উষ্ণমণ্ডলীয়), B (শুষ্ক/মরু), C (মৃদু শীত), D (চরম ভাবাপন্ন), E (মেরুদেশীয়/বরফ)।

📝 ভিত্তিক MCQ (যাচাইকরণ):

১. লোহায় মরিচা ধরা কোন প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত?

(ক) কার্বোনেশন    (খ) জারণ (Oxidation)    (গ) হাইড্রেশন    (ঘ) দ্রবণ

(বিশ্লেষণ: রাসায়নিক বিচূর্ণীভবনের অক্সিডেশন বা জারণ প্রক্রিয়ায় অক্সিজেনের সাথে লোহার বিক্রিয়ায় মরিচা ধরে। উত্তর: খ)

বারিমণ্ডল (মহাসাগর)

মহাসাগরের তলদেশের ভূমিরূপ:

সমুদ্র তলদেশ সমতল নয়, একে ৫ ভাগে ভাগ করা যায়:

  • মহীসোপান (Continental Shelf): অগভীর অংশ, ১৮৩ মিটার পর্যন্ত গভীর।
  • মহীঢাল: হঠাৎ খাড়াভাবে নেমে যাওয়া অংশ।
  • গভীর সমুদ্র সমভূমি।
  • গভীর সমুদ্রখাত: প্রশান্ত মহাসাগরের মারিয়ানা বা মিনদানাও খাত (১০,৭৯৭ মি.) পৃথিবীর গভীরতম স্থান।

সমুদ্রস্রোত (Ocean Currents):

  • কারণ: নিয়ত বায়ুপ্রবাহ (প্রধান কারণ), পৃথিবীর আবর্তন, তাপমাত্রার পার্থক্য এবং লবণাক্ততার তারতম্য।
  • প্রধান স্রোতসমূহ: উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোত, শীতল ল্যাব্রাডর স্রোত (উভয়ই আটলান্টিকে)। শীতল পেরু বা হামবোল্ট স্রোত (প্রশান্ত মহাসাগর)।
  • প্রভাব: উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের জন্য ইউরোপের বন্দরগুলো শীতেও বরফমুক্ত থাকে। উষ্ণ ও শীতল স্রোতের মিলনে 'প্ল্যাঙ্কটন' জন্মায়, যা মাছের প্রিয় খাদ্য, ফলে গ্র্যান্ড ব্যাংকের মতো বিখ্যাত মৎস্যক্ষেত্র গড়ে ওঠে।

জোয়ার-ভাটা (Tides):

  • চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষ শক্তি এবং পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ শক্তির কারণে পানি ফুলে ওঠাকে জোয়ার বলে।
  • তেজ কটাল (Spring Tide): অমাবস্যা ও পূর্ণিমায় চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবী এক সরলরেখায় থাকলে প্রবল জোয়ার হয়।
  • মরা কটাল (Neap Tide): অষ্টমী তিথিতে এরা সমকোণে অবস্থান করলে।
  • সময়ের ব্যবধান: দুটি মুখ্য জোয়ারের ব্যবধান ২৪ ঘণ্টা ৫২ মিনিট। একটি স্থানে দিনে দুইবার জোয়ার ও দুইবার ভাটা হয়।

ভর্তি পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৫০টি এক-লাইনার তথ্য

চূড়ান্ত রিভিশনের জন্য (One-Liner)

নোট: পরীক্ষার আগের রাতে এই ৫০টি তথ্য অবশ্যই দেখে যাবে। এগুলো থেকে সরাসরি প্রশ্ন আসার সম্ভাবনা সর্বাধিক।

  1. 'Geography' শব্দটি সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন গ্রিক পণ্ডিত ইরাটসথেনিস
  2. আধুনিক ভূগোলের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিত আলেকজান্ডার ফন হামবোল্ট এবং কার্ল রিটার
  3. পৃথিবীর মোট জলরাশির শতকরা প্রায় ৯৭ ভাগ সমুদ্র ও মহাসাগরে লবণাক্ত পানি হিসেবে সঞ্চিত।
  4. বারিমণ্ডল পৃথিবীর মোট আয়তনের ৭১ ভাগ স্থান দখল করে আছে।
  5. কেন্দ্রমণ্ডলের প্রধান উপাদান নিকেল এবং লোহা হওয়ায় একে একত্রে 'নাইফ' (NIFE) বলা হয়।
  6. গুরুমণ্ডলের উপরের অংশকে ক্রোফেসিমাস (ক্রোমিয়াম, লোহা, সিলিকন, ম্যাগনেসিয়াম) স্তর বলা হয়।
  7. ভূত্বক এবং গুরুমণ্ডলের সংযোগস্থলে অবস্থিত বিযুক্তি রেখাকে মোহোরোভিসিক বিযুক্তি রেখা বলে।
  8. মহাদেশীয় ভূত্বক মূলত সিলিকন ও অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে গঠিত, তাই এর অপর নাম 'সিয়াল' (SIAL)
  9. সিয়াল ও সিমা স্তরের মধ্যবর্তী রেখাকে কনরাড বিযুক্তি রেখা বলা হয়।
  10. কঠিন শিলাস্তরের নিচে অবস্থিত উত্তপ্ত ও গলিত স্তরটির নাম অ্যাসথেনোস্ফিয়ার
  11. কাঠিন্য পরিমাপের জন্য মোহ'স স্কেল ব্যবহৃত হয়, যেখানে সবচেয়ে কঠিন খনিজ হলো হীরা
  12. সিলিকন এবং অক্সিজেনের রাসায়নিক মিশ্রণে গঠিত খনিজ হলো কোয়ার্টজ
  13. উত্তপ্ত ও গলিত ম্যাগমা শীতল ও ঘনীভূত হয়ে গঠিত শিলাকে প্রাথমিক বা আগ্নেয় শিলা বলে।
  14. আগ্নেয় শিলায় কোনো স্তর বা জীবাশ্ম থাকে না এবং এটি অত্যন্ত সুদৃঢ়।
  15. পাললিক শিলা স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয় বলে একে স্তরীভূত শিলা বলা হয় এবং এতে জীবাশ্ম পাওয়া যায়।
  16. চুনাপাথর রাসায়নিক উপায়ে সৃষ্ট একটি পাললিক শিলা, যা রূপান্তরিত হয়ে মার্বেল পাথরে পরিণত হয়।
  17. পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘ এবং উচ্চতম পর্বতমালাগুলো ভঙ্গিল পর্বতের উদাহরণ (যেমন- হিমালয়, আন্দিজ)।
  18. স্তূপ পর্বতের মাঝের নিচু উপত্যকাকে গ্রস্ত উপত্যকা এবং উঁচু অংশকে হোর্স্ট বলে।
  19. তিব্বত মালভূমি পৃথিবীর বৃহত্তম ও উচ্চতম পর্বতবেষ্টিত মালভূমি।
  20. নদী, বায়ু বা হিমবাহের মতো প্রাকৃতিক শক্তির মাধ্যমে শিলা চূর্ণ-বিচূর্ণ হওয়াকে বিচূর্ণীভবন বলে।
  21. অক্সিডেশন বা জারণ প্রক্রিয়ার কারণে লোহা মিশ্রিত শিলায় মরিচা ধরে এবং তা সহজে ভেঙে যায়।
  22. নদীর উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত গতিপথকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়: উচ্চ, মধ্য এবং নিম্নগতি
  23. উচ্চগতিতে নদীর প্রবল নিম্নক্ষয়ের ফলে ইংরেজি 'V' আকৃতির উপত্যকা সৃষ্টি হয়।
  24. অত্যন্ত গভীর ও খাড়া ঢালবিশিষ্ট 'V' আকৃতির উপত্যকাকে ক্যানিয়ন বলা হয়, যেমন- কলোরাডো নদীর গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন
  25. নদীর নিম্নগতিতে সঞ্চয়কার্যের ফলে মোহনায় 'ব' অক্ষরের মতো যে ভূমিরূপ সৃষ্টি হয়, তাকে ব-দ্বীপ বলে।
  26. বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রধান উপাদান হলো নাইট্রোজেন (৭৮.০৮%) এবং অক্সিজেন (২০.৯৫%)
  27. বায়ুমণ্ডলে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ মাত্র ০.০০৩% হলেও এটি পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে প্রধান ভূমিকা রাখে।
  28. ভূপৃষ্ঠের সবচেয়ে কাছের বায়ুমণ্ডলীয় স্তর ট্রপোমণ্ডল, যেখানে মেঘ, বৃষ্টি ও ঝড় সংঘটিত হয়।
  29. ট্রপোমণ্ডলে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে প্রতি কিলোমিটারে ৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস হারে তাপমাত্রা হ্রাস পায়।
  30. স্ট্র্যাটোমণ্ডলে অবস্থিত ওজোন স্তর সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে জীবজগতকে রক্ষা করে।
  31. মেসোমণ্ডলের উপরের স্তরে উল্কাপিণ্ড এসে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
  32. বেতার তরঙ্গ আয়নমণ্ডল বা থার্মোস্ফিয়ার থেকে প্রতিফলিত হয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসে।
  33. আয়নমণ্ডলে চুম্বকীয় আকর্ষণের প্রভাবে উত্তর ও দক্ষিণ মেরুতে মেরুপ্রভা বা অরোরা সৃষ্টি হয়।
  34. সারা পৃথিবীতে মোট সাতটি বায়ুচাপ বলয় রয়েছে।
  35. কোরিওলিস শক্তির প্রভাবে বায়ু উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়।
  36. আয়ন বায়ু কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়।
  37. চল্লিশ থেকে ষাট ডিগ্রি দক্ষিণ অক্ষাংশে প্রবল বেগে প্রবাহিত পশ্চিমা বায়ুকে গর্জনশীল চল্লিশা বলা হয়।
  38. দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু গ্রীষ্মকালে বাংলাদেশ ও ভারত উপমহাদেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়।
  39. চিনুক হলো রকি পর্বতের ঢাল বেয়ে নামা একটি উষ্ণ স্থানীয় বায়ু
  40. সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড় মূলত ক্রান্তীয় অঞ্চলে প্রবল নিম্নচাপের ফলে সৃষ্টি হয়, যার কেন্দ্রে 'চোখ' বা শান্ত বলয় থাকে।
  41. মহীসোপান হলো মহাদেশের উপকূল থেকে সমুদ্রের দিকে ক্রমনিম্ন অগভীর অংশ, যার গভীরতা ১৮৩ মিটার পর্যন্ত।
  42. গভীর সমুদ্রখাতগুলোর মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগরের মিনদানাও বা মারিয়ানা খাত সবচেয়ে পরিচিত।
  43. সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির প্রধান কারণ হলো নিয়ত বায়ুপ্রবাহ
  44. উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের কারণে উত্তর-পশ্চিম ইউরোপের বন্দরগুলো শীতকালেও বরফমুক্ত থাকে।
  45. শীতল ল্যাব্রাডর স্রোত ও উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের মিলনস্থলে ঘন কুয়াশা ও ঝড়ের সৃষ্টি হয়।
  46. চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণ এবং পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ শক্তির প্রভাবে জোয়ার-ভাটার সৃষ্টি হয়।
  47. একটি স্থানে দিনে দুইবার জোয়ার এবং দুইবার ভাটা হয়।
  48. দুটি মুখ্য জোয়ারের মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবধান ২৪ ঘণ্টা ৫২ মিনিট
  49. অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবী এক সরলরেখায় অবস্থান করলে তেজ কটাল বা ভরা কটাল সৃষ্টি হয়।
  50. অষ্টমী তিথিতে চাঁদ ও সূর্য পৃথিবীর সাথে সমকোণে অবস্থান করলে মরা কটাল বা মরা জোয়ার সৃষ্টি হয়।

© প্রাকৃতিক ভূগোল লেকচারশীট। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতি।