Subjects & Chapters

Chapters

সমাজবিজ্ঞানের উৎপত্তি ও বিকাশ.. সমাজবিজ্ঞানের বৈজ্ঞানিক মর্যাদা সমাজবিজ্ঞানীদের মতবাদ ও অবদান সমাজবিজ্ঞানর মৌল প্রত্যয়. সামাজিক প্রতিষ্ঠান. সামাজজীবনের প্রভাব বিস্তারকারী উপাদান.. সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া. সামাজিক স্তর বিন্যাস ও অসমতা. সামাজিক ব্যবস্থা.... বিচ্যুতিমূলক আচরণ এবং অপরাধ.. সামাজিক পরিবর্তন. বাংলাদেশের সামাজিক চর্চার বিকাশ... বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতি প্রত্নতত্ত্বের ভিত্তিতে বাংলাদেশের সমাজ ও সভ্যতা বাংলাদেশের নৃগোষ্ঠীর জীবনধারা বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের সামাজিক প্রেক্ষাপট, বাংলাদেশের গ্রামীন ও শহুরে সমাজ বাংলাদেশের বিবাহ, পরিবার ও জ্ঞাতিসম্পর্ক, বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তন বাংলাদেশের সামাজিক সমস্যা ও প্রতিকারের উপায়. বাংলাদেশের সামাজিক উন্নয়ন
সমাজবিজ্ঞানের বৈজ্ঞানিক মর্যাদা - লেকচারশীট
Full Page Thumbnail

সমাজবিজ্ঞানের বৈজ্ঞানিক মর্যাদা

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতির বিশ্লেষণমূলক আলোচনা

অধ্যায়ের ম্যাপ (সূচিপত্র)
বিজ্ঞানের ব্যুৎপত্তি ও আধুনিক সংজ্ঞা
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির স্তরসমূহ ও সুসংঘবদ্ধতা
পদ্ধতি ও কৌশলের পার্থক্য এবং প্রাচীন রূপ
ঐতিহাসিক ও ঘটনা অনুধ্যান পদ্ধতি
পর্যবেক্ষণ ও সামাজিক জরিপ
পরিমাণগত ও গুণগত পদ্ধতির তুলনামূলক রূপ
অংশগ্রহণমূলক সমীক্ষা ও সাক্ষাৎকার
প্রাতিষ্ঠানিক ইতিহাস ও সীমাবদ্ধতা
প্রথম ধাপ: বিজ্ঞানের ব্যুৎপত্তি ও আধুনিক সংজ্ঞা
  • শব্দের উৎপত্তি: 'Science' শব্দটির উৎপত্তি লাতিন শব্দ 'Scientia' থেকে, যার অর্থ 'জানা' বা বিশেষ জ্ঞান
  • সংজ্ঞা (টমাস হবস): ব্রিটিশ দার্শনিক টমাস হবস-এর মতে, "বিজ্ঞান বলতে বোঝায় কার্যকারণ সূত্রে গ্রথিত জ্ঞান।"
  • সংজ্ঞা (কার্ল ম্যানহেইম): সমাজবিজ্ঞানী কার্ল ম্যানহেইমের মতে, "বিজ্ঞান হলো অভিজ্ঞতালব্ধ তথ্যের বস্তুনিষ্ঠ, সঠিক ও নিয়মতান্ত্রিক বিশ্লেষণ।"
  • সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ: বিজ্ঞানের আভিধানিক অর্থ বিশেষ জ্ঞান হলেও, সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে বিজ্ঞান হলো সেই জ্ঞান যা প্রমাণ ও যুক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। দার্শনিক টমাস হবস 'কার্যকারণ' সম্পর্কটিকে বিজ্ঞানের মূলভিত্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
দ্বিতীয় ধাপ: বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির স্তরসমূহ ও সুসংঘবদ্ধতা
  • সুসংঘবদ্ধ জ্ঞান: গবেষক কুলসন ও স্টোনের মতে, "বিজ্ঞান হলো সুসংঘবদ্ধ জ্ঞান।" যেকোনো শাস্ত্রকে বিজ্ঞান হিসেবে স্বীকৃতি পেতে হলে তার জ্ঞানকে সুসংঘবদ্ধ হতে হবে।
  • গ্রন্থ: 'Science in History' গ্রন্থের রচয়িতা আইরিশ বিজ্ঞানী জে. ডি. বার্নাল
  • উদ্দেশ্য: বিজ্ঞানের মূল উদ্দেশ্য কেবল জ্ঞান অর্জন নয়, বরং সেই জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে মানবসমাজের সর্বোচ্চ কল্যাণ নিশ্চিত করা।

💡 স্টাডি হ্যাক (অ্যাক্রোনিম কৌশল):

  • বিজ্ঞানের মূল ভিত্তি ৪টি (ব-ব্যা-পূ-নি): বর্ণনা, ব্যাখ্যা, পূর্বাভাস, নিয়ন্ত্রণ।
  • বিজ্ঞানের বৈশিষ্ট্য ৩টি (স-কা-অ): সর্বজনীনতা, কারণিকতা, অভিজ্ঞতালব্ধতা।
তৃতীয় ধাপ: পদ্ধতি বনাম কৌশল এবং প্রাচীন রূপ
  • মূল্যবোধ নিরপেক্ষতা: সমাজবিজ্ঞানী স্যামুয়েল কোনিগ সমাজবিজ্ঞানকে একটি "মূল্যবোধ নিরপেক্ষ বিজ্ঞান" হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। অর্থাৎ গবেষণায় আবেগ পরিহার করতে হবে।
  • বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি: জি. এ. লুন্ডবার্গের মতে, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মূল কথা হলো তথ্যরাজির ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ ও শ্রেণিকরণ
  • পদ্ধতি ও কৌশলের পার্থক্য: পদ্ধতি হলো একটি সার্বিক পথ, আর কৌশল হলো সেই পথে হাঁটার হাতিয়ার (যেমন— জরিপ হলো পদ্ধতি, আর প্রশ্নপত্র হলো তার কৌশল)।
  • প্রাচীন রূপ: সামাজিক বিজ্ঞানের সবচেয়ে প্রাচীন পদ্ধতি হচ্ছে দার্শনিক পদ্ধতি, যার শ্রেষ্ঠ দৃষ্টান্ত গ্রিক দার্শনিক প্লেটোর গ্রন্থ ‘রিপাবলিক’
চতুর্থ ধাপ: ঐতিহাসিক ও ঘটনা অনুধ্যান পদ্ধতি
  • ঐতিহাসিক পদ্ধতি: ঐতিহাসিক বর্ণনার ভিত্তিতে অতীত ঘটনা সম্পর্কে যুক্তিনির্ভর গবেষণাই হলো ঐতিহাসিক পদ্ধতি। বর্তমান সমাজকে বুঝতে হলে অতীতকে জানা অপরিহার্য।
  • উপাদান: লিখিত (সরকারি নথিপত্র) এবং অলিখিত (প্রাচীন মুদ্রা বা ভাস্কর্য)।
  • ঘটনা অনুধ্যান পদ্ধতি (Case Study): ফরাসি সমাজবিজ্ঞানী ফ্রেডারিক ল্য প্লে সর্বপ্রথম এটি ব্যবহার করেন।
  • সমাজবিজ্ঞানী বার্জেস একে 'সামাজিক অণুবীক্ষণ যন্ত্র' বলেছেন। কারণ অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে যেমন ক্ষুদ্র বস্তুর খুঁটিনাটি দেখা যায়, তেমনি এর মাধ্যমে ব্যক্তি বা পরিবারের জীবনের গভীর তথ্য উদ্‌ঘাটন করা সম্ভব।
  • সি. আর. কোঠারির মতে, এটি ব্যাপ্তির চেয়ে গভীরতার ওপর বেশি জোর দেয়।
পঞ্চম ধাপ: পর্যবেক্ষণ ও সামাজিক জরিপ
  • পর্যবেক্ষণ: পলিন ভি. ইয়ং-এর মতে, দৃশ্যমান ঘটনা বা বিষয়কে সুশৃঙ্খলভাবে নিরীক্ষণ করাই হলো পর্যবেক্ষণ।
  • প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণমূলক পর্যবেক্ষণ: গবেষক যখন নিজের পরিচয় গোপন করে গবেষণাধীন দলের সাথে মিশে যান।
  • সামাজিক জরিপ: পদ্ধতিটি মূলত দুই প্রকার:
    • ১. নমুনা জরিপ: বিশাল জনগোষ্ঠীর একটি ক্ষুদ্র ও সুনির্দিষ্ট অংশকে (নমুনা) বেছে নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা।
    • ২. পূর্ণ গণনামূলক জরিপ (শুমারি): সমগ্র জনগোষ্ঠীর সবার কাছ থেকে তথ্য নেওয়া।
ষষ্ঠ ধাপ: পরিমাণগত ও গুণগত পদ্ধতির তুলনামূলক রূপ
  • চলক (Variables): সামাজিক গবেষণায় চলক মূলত দুই প্রকার:
    • ১. স্বাধীন চলক: যা 'কারণ' হিসেবে কাজ করে।
    • ২. নির্ভরশীল চলক: যা সেই কারণের 'ফল'

💡 স্টাডি হ্যাক (তুলনামূলক ম্যাট্রিক্স):

পদ্ধতির ধরন যুক্তির প্রয়োগ মূল জিজ্ঞাসা
পরিমাণগত পদ্ধতি অবরোহমূলক যুক্তি এটি জানতে চায় 'কতজন'
গুণগত পদ্ধতি আরোহমূলক যুক্তি এটি জানতে চায় 'কেন'
সপ্তম ধাপ: অংশগ্রহণমূলক সমীক্ষা ও সাক্ষাৎকার
  • অংশগ্রহণমূলক গ্রামীণ সমীক্ষা: রবার্ট চেম্বার্স উদ্ভাবিত এই সমীক্ষার আদি রূপ ছিল 'দ্রুত গ্রামীণ সমীক্ষা'। এতে সাধারণ গ্রামবাসীকে দিয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য সামাজিক মানচিত্রাঙ্কন বা ভেন-চিত্র ব্যবহার করা হয়।
  • কেন্দ্রিক দলগত আলোচনা (FGD): সমমনা ৬ থেকে ১২ জন সদস্য নিয়ে এটি পরিচালিত হয়। অবাঞ্ছিত ব্যক্তিদের বাধা দেওয়ার জন্য এখানে 'দ্বাররক্ষী' বা Gatekeeper-এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
  • মুখ্য তথ্যদাতার সাক্ষাৎকার: সমাজের অভিজ্ঞ ও তথ্যসমৃদ্ধ ব্যক্তিদের কাছ থেকে সরাসরি তথ্য নেওয়ার কৌশল।
অষ্টম ধাপ: প্রাতিষ্ঠানিক ইতিহাস ও সীমাবদ্ধতা
  • প্রাতিষ্ঠানিক ইতিহাস: ১৯৫৭-৫৮ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফরাসি নৃবিজ্ঞানীর নেতৃত্বে সর্বপ্রথম একটি স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে সমাজবিজ্ঞানের প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
  • সীমাবদ্ধতা: সমাজবিজ্ঞানের মূল উপাদান হলো মানুষ, যাদের নিজস্ব ইচ্ছা আছে। তাই তাদের পরীক্ষাগারের বস্তুর মতো নিয়ন্ত্রণ করা যায় না।
  • মূল্যায়ন: প্রখ্যাত পণ্ডিত হেনরি পঁয়কারে মন্তব্য করেছেন, "সমাজবিজ্ঞান সবচেয়ে বেশি পদ্ধতির আশ্রয় নিয়েছে এবং সবচেয়ে কম ফলাফল লাভ করেছে।"

📌 শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ দিকনির্দেশনা:

  • ১. ৪ ঘণ্টার ডিপ ওয়ার্ক: ডিজিটাল ডিস্ট্রাকশন পুরোপুরি পরিহার করে দিনে অন্তত ৪ ঘণ্টার একটি নিরবচ্ছিন্ন স্টাডি ব্লক তৈরি করা।
  • ২. নান্দনিক স্টাডি সেটআপ: টেবিলটি গুছিয়ে পড়া, যা মস্তিষ্ককে ফোকাস ধরে রাখতে সাহায্য করে।
  • ৩. মাইন্ডসেট শিফট: মনে রাখা প্রয়োজন— "আজকের বই, আগামীকালের সম্মান"
🎯 চূড়ান্ত ৫০টি One-Liner Data (এককথায় তথ্য)

ভর্তি পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৫০টি এক-লাইনার তথ্য নিচে দেওয়া হলো। লাল চিহ্নিত অংশগুলো মুখস্থ করে ফেলো!

১. 'Science' শব্দটির উৎপত্তি লাতিন শব্দ 'Scientia' থেকে, যার অর্থ 'জানা' বা বিশেষ জ্ঞান।
২. "বিজ্ঞান বলতে বোঝায় কার্যকারণ সূত্রে গ্রথিত জ্ঞান"—সংজ্ঞাটি ব্রিটিশ দার্শনিক টমাস হবস প্রদান করেছেন।
৩. সমাজবিজ্ঞানী কার্ল ম্যানহেইমের মতে, "বিজ্ঞান হলো অভিজ্ঞতালব্ধ তথ্যের বস্তুনিষ্ঠ, সঠিক ও নিয়মতান্ত্রিক বিশ্লেষণ।"
৪. গবেষক কুলসন ও স্টোনের মতে অত্যন্ত সহজ ভাষায়, "বিজ্ঞান হলো সুসংঘবদ্ধ জ্ঞান।"
৫. 'Science in History' গ্রন্থের রচয়িতা আইরিশ বিজ্ঞানী জে. ডি. বার্নাল
৬. বিজ্ঞানের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো বস্তুনিষ্ঠ ঘটনা অনুসন্ধানের মাধ্যমে সমাজের সর্বাধিক কল্যাণ সাধন করা
৭. আমেরিকান সমাজবিজ্ঞানী অগবার্ন ও নিমকফ-এর মতে বিজ্ঞানের তিনটি সাধারণ নিদর্শন রয়েছে: তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা, জ্ঞানের সংগঠিত রূপ এবং বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি।
৮. সমাজবিজ্ঞানী স্যামুয়েল কোনিগ সমাজবিজ্ঞানকে একটি "মূল্যবোধ নিরপেক্ষ বিজ্ঞান" হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
৯. সুসংঘবদ্ধ জ্ঞান প্রতিষ্ঠার জন্য পরিচালিত কিছু সংখ্যক নীতির সমষ্টিকেই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বলে।
১০. সমাজবিজ্ঞানী জি. এ. লুন্ডবার্গের মতে, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হলো তথ্যরাজির এক ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ ও শ্রেণিকরণ।
১১. বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রধান ও অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো বস্তুনিষ্ঠতা এবং এটি সম্পূর্ণ পক্ষপাতিত্বের ঊর্ধ্বে।
১২. বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তর হচ্ছে গবেষণার জন্য বিষয় বা সমস্যা নির্বাচন
১৩. কোনো বিষয়কে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে গবেষক যখন নিজের মতো করে সংজ্ঞা প্রদান করেন, তখন তাকে 'কার্যকরী সংজ্ঞা' বলে।
১৪. গবেষণা সমস্যার ধারণাগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণের মাধ্যমে আনুমানিক বিবৃতি প্রদানকে অনুকল্প বা প্রকল্প প্রণয়ন বলে।
১৫. অল্প কিছু তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জন্য সাধারণ সূত্র প্রতিষ্ঠা করাকে সাধারণীকরণ বলে।
১৬. সামাজিক গবেষণায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সর্বশেষ ধাপ হচ্ছে গবেষণাকৃত বিষয় সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করা
১৭. কোনো গবেষণাকার্য সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার মূল পন্থা হলো পদ্ধতি, আর তা বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট উপায় হলো কৌশল
১৮. সামাজিক বিজ্ঞানের আলোচনা ও অনুশীলনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রাচীন পদ্ধতি হচ্ছে দার্শনিক পদ্ধতি
১৯. গ্রিক দার্শনিক প্লেটোর রচিত বিশ্ববিখ্যাত গ্রন্থ ‘রিপাবলিক’ প্রাচীন দার্শনিক পদ্ধতির এক অনন্য ও সর্বশ্রেষ্ঠ দৃষ্টান্ত।
২০. 'Theory and Practice in Social Research' গ্রন্থটির রচয়িতা হ্যান্স রাজ
২১. ঐতিহাসিক বর্ণনার ভিত্তিতে অতীত ঘটনা সম্পর্কে যুক্তিনির্ভর গবেষণার প্রচেষ্টাকে ঐতিহাসিক পদ্ধতি বলে।
২২. সমাজতাত্ত্বিক গবেষণায় ঐতিহাসিক পদ্ধতিকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়: লিখিত উপাদান ও অলিখিত উপাদান
২৩. একাধিক প্রপঞ্চ বা ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে একটি সাধারণ সূত্রে উপনীত হওয়ার প্রচেষ্টাকে ঘটনা অনুধ্যান পদ্ধতি বলে।
২৪. ফরাসি অর্থনীতিবিদ ও সমাজবিজ্ঞানী ফ্রেডারিক ল্য প্লে সর্বপ্রথম সামাজিক বিজ্ঞানে ঘটনা অনুধ্যান পদ্ধতি ব্যবহার করেন।
২৫. ঘটনা অনুধ্যান পদ্ধতি সম্পর্কে সমাজবিজ্ঞানী বার্জেসের মতে, এটি হলো একটি 'সামাজিক অণুবীক্ষণ যন্ত্র'
২৬. গবেষক সি. আর. কোঠারির মতে, ঘটনা অনুধ্যান হলো এমন একটি পদ্ধতি যা ব্যাপ্তির চেয়ে গভীরতার ওপর বেশি জোর দেয়।
২৭. সমাজবিজ্ঞানী হার্বার্ট স্পেন্সার তাঁর গবেষণায় ঘটনা অনুধ্যান পদ্ধতি অত্যন্ত সফলভাবে ব্যবহার করেছিলেন।
২৮. পলিন ভি. ইয়ং-এর মতে, দৃশ্যমান ঘটনা বা বিষয়কে সুশৃঙ্খলভাবে নিরীক্ষণ করাই হলো পর্যবেক্ষণ
২৯. গবেষক যখন নিজের পরিচয় গোপন করে বা প্রকাশ করে গবেষণাধীন দলের দৈনন্দিন জীবনাচরণের সাথে সম্পৃক্ত থাকেন, তখন তাকে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণমূলক পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি বলে।
৩০. পলিন ভি. ইয়ং-এর মতে, সামাজিক অগ্রগতির জন্য গঠনমূলক কর্মসূচি প্রণয়নের উদ্দেশ্যে সামাজিক অবস্থার ওপর বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানই হলো সামাজিক জরিপ
৩১. সামাজিক জরিপ পদ্ধতিকে উপাত্ত সংগ্রহের ভিত্তিতে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়: নমুনা জরিপ ও পূর্ণ গণনামূলক জরিপ
৩২. গবেষণায় সমগ্র জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী ক্ষুদ্র ও সুনির্দিষ্ট অংশকে নমুনা বলা হয়।
৩৩. আমেরিকান সমাজবিজ্ঞানী ফ্রাংকলিন এইচ. গিডিংস সর্বপ্রথম সামাজিক ঘটনা বিশ্লেষণে সংখ্যাতাত্ত্বিক পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন।
৩৪. বিভিন্ন সমাজ ও সম্প্রদায়ের মধ্যে তুলনা করে তাদের জীবনযাপন পদ্ধতির সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য যাচাই করার প্রক্রিয়াকে তুলনামূলক পদ্ধতি বলে।
৩৫. ফরাসি সমাজবিজ্ঞানী এমিল ডুর্খেইম সর্বপ্রথম তুলনামূলক পদ্ধতির তাৎপর্য অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেন।
৩৬. একটি সুনিয়ন্ত্রিত পরিবেশে দুই বা ততোধিক সামাজিক ঘটনার মধ্যে কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় করার পদ্ধতিকে পরীক্ষণ পদ্ধতি বলে।
৩৭. সামাজিক গবেষণায় চলক বা পরিমাপযোগ্য উপাদান মূলত দুই প্রকার: স্বাধীন চলক এবং নির্ভরশীল চলক
৩৮. স্বাধীন বা নিরপেক্ষ চলককে 'কারণ' এবং নির্ভরশীল চলককে সেই কারণের 'ফল' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
৩৯. পরিমাণগত পদ্ধতি হলো গবেষণার এমন একটি রূপ, যেখানে চলকভিত্তিক উপাত্ত সংগ্রহ করে গাণিতিক বিশ্লেষণ করা হয়।
৪০. পরিমাণগত পদ্ধতিতে অবরোহমূলক যুক্তির প্রয়োগ ঘটে এবং গুণগত পদ্ধতিতে আরোহমূলক যুক্তির প্রয়োগ ঘটে।
৪১. গুণগত পদ্ধতি হলো বর্ণনামূলক, যেখানে গাণিতিক উপাত্তের চেয়ে মানুষের গভীর মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গির ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়।
৪২. রবার্ট চেম্বার্স উদ্ভাবিত অংশগ্রহণমূলক গ্রামীণ সমীক্ষার পূর্ববর্তী বা আদি রূপ ছিল 'দ্রুত গ্রামীণ সমীক্ষা'
৪৩. এই সমীক্ষায় সাধারণ গ্রামবাসীকে দিয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য সামাজিক মানচিত্রাঙ্কন, সময়রেখা, ভেন-চিত্র এবং মৌসুমি দিনপঞ্জি ব্যবহার করা হয়।
৪৪. সমমনা ৬ থেকে ১২ জন সদস্য নিয়ে একজন সঞ্চালকের উপস্থিতিতে নির্দিষ্ট বিষয়ে দলগত আলোচনাকে কেন্দ্রিক দলগত আলোচনা বলা হয়।
৪৫. কেন্দ্রিক দলগত আলোচনায় সঞ্চালকের পাশাপাশি তথ্য লিপিবদ্ধকারী এবং বহিরাগতদের বাধা দেওয়ার জন্য 'দ্বাররক্ষী' অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
৪৬. অত্যন্ত দক্ষ, অভিজ্ঞ এবং তথ্যসমৃদ্ধ ব্যক্তিদের কাছ থেকে সরাসরি তথ্য সংগ্রহের কৌশলকে মুখ্য তথ্যদাতার সাক্ষাৎকার বলে।
৪৭. ১৯৫৭-৫৮ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফরাসি নৃবিজ্ঞানীর নেতৃত্বে সর্বপ্রথম একটি স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে সমাজবিজ্ঞানের প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
৪৮. ক্রিয়াবাদী মতবাদের অন্যতম প্রধান প্রবক্তা হলেন সমাজবিজ্ঞানী র‍্যাডক্লিফ ব্রাউন, আর. কে. মার্টন এবং ট্যালকট পারসন্স
৪৯. প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের উপাদান গবেষকের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সমাজবিজ্ঞানের গবেষণার উপাদান মানুষের নিজস্ব ইচ্ছা থাকায় তা গবেষকের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকে না।
৫০. সমাজবিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে প্রখ্যাত পণ্ডিত হেনরি পঁয়কারে মন্তব্য করেছেন, "সমাজবিজ্ঞান সবচেয়ে বেশি পদ্ধতির আশ্রয় নিয়েছে এবং সবচেয়ে কম ফলাফল লাভ করেছে।"