ভোক্তা ও উৎপাদকের আচরণ - ভর্তি পরীক্ষা লেকচারশীট
Full Page Thumbnail

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতি লেকচারশীট

বিষয়: ভোক্তা ও উৎপাদকের আচরণ

আজকের আলোচ্য বিষয়ের সারণি (ধাপে ধাপে শিক্ষণক্রম)

ধাপ আলোচ্য বিষয়
উপযোগের মৌলিক ধারণা ও শ্রেণিবিভাগ
মোট উপযোগ ও প্রান্তিক উপযোগের সম্পর্ক
ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উপযোগ বিধি ও এর সীমাবদ্ধতা
চাহিদার প্রকৃতি, চাহিদা বিধি এবং এর ব্যতিক্রমসমূহ
চাহিদার পরিমাণের পরিবর্তন বনাম চাহিদার স্থানান্তর
যোগানের ধারণা ও যোগান বিধি
বাজার ভারসাম্য নির্ধারণের যৌক্তিক প্রক্রিয়া
স্থিতিস্থাপকতা, চলক, ধ্রুবক এবং রেখার ঢাল বিশ্লেষণ
বিষয়ভিত্তিক বিশ্লেষণ - ০১

১. উপযোগের মৌলিক ধারণা ও শ্রেণিবিভাগ

  • অর্থনীতিতে উপযোগ বলতে কোনো দ্রব্যের মানুষের অভাব পূরণের ক্ষমতাকে বোঝায়।
  • এটি সম্পূর্ণ একটি মানসিক ধারণা
  • কোনো দ্রব্য ভালো নাকি মন্দ, কিংবা নৈতিকভাবে তা গ্রহণযোগ্য কি না, তার ওপর উপযোগ নির্ভর করে না।
  • যেমন— ক্ষতিকর হওয়া সত্ত্বেও মাদকাসক্ত ব্যক্তির কাছে মাদকের উপযোগ রয়েছে, কারণ তা তার নির্দিষ্ট অভাব মেটায়।
  • উপযোগকে প্রধানত দুটি পদ্ধতিতে পরিমাপ করা যায়:
    • সংখ্যাবাচক পদ্ধতি (অধ্যাপক আলফ্রেড মার্শাল প্রদত্ত), যার একক হলো 'ইউটিল'
    • পর্যায়গত পদ্ধতি (জে. আর. হিক্স ও অ্যালেন প্রদত্ত), যেখানে পছন্দক্রম বা ক্রমিক অবস্থান দিয়ে উপযোগ বোঝানো হয়।
  • উপযোগ বিভিন্নভাবে সৃষ্টি হতে পারে। দ্রব্যের আকার পরিবর্তন করে (যেমন: কাঠ থেকে আসবাবপত্র) রূপগত উপযোগ, এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে (যেমন: গ্রামের সবজি শহরে এনে) স্থানগত উপযোগ, সময় পরিবর্তনের মাধ্যমে (যেমন: শীতকালে আইসক্রিমের চেয়ে গরমকালে এর চাহিদা বৃদ্ধি) কালগত উপযোগ, সেবাদানের মাধ্যমে সেবাগত উপযোগ এবং মালিকানা পরিবর্তনের মাধ্যমে স্বত্বগত উপযোগ সৃষ্টি হয়।
বিষয়ভিত্তিক বিশ্লেষণ - ০২

২. মোট উপযোগ ও প্রান্তিক উপযোগের সম্পর্ক

  • ভোক্তা যখন একই দ্রব্যের বিভিন্ন একক পর্যায়ক্রমে ভোগ করতে থাকে, তখন প্রতিটি অতিরিক্ত একক থেকে প্রাপ্ত উপযোগকে প্রান্তিক উপযোগ বলে।
  • অন্যদিকে, সবগুলো একক থেকে প্রাপ্ত প্রান্তিক উপযোগের যোগফলই হলো মোট উপযোগ
  • ভোক্তা যখন ভোগ বাড়াতে থাকে, মোট উপযোগ ক্রমশ বাড়ে, কিন্তু প্রান্তিক উপযোগ কমতে থাকে
  • যখন প্রান্তিক উপযোগ একেবারে শূন্য হয়ে যায়, তখন মোট উপযোগ সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছায়।
  • এরপরেও যদি ভোক্তা ভোগ চালিয়ে যায়, তবে প্রান্তিক উপযোগ ঋণাত্মক হয়ে পড়ে এবং ফলস্বরূপ মোট উপযোগ কমতে শুরু করে
বিষয়ভিত্তিক বিশ্লেষণ - ০৩

৩. ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উপযোগ বিধি ও এর সীমাবদ্ধতা

  • অর্থনীতিবিদ হেনরি গোশেন প্রথমে এই বিধির ধারণা দিলেও, এর পূর্ণাঙ্গ ও সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেন অধ্যাপক আলফ্রেড মার্শাল (১৮৯০ সালে তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থে)
  • এই বিধির মূল বক্তব্য হলো— অন্যান্য অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে, কোনো নির্দিষ্ট সময়ে একজন ভোক্তা একই দ্রব্য ক্রমাগতভাবে ভোগ করতে থাকলে, তার মোট উপযোগ বৃদ্ধি পেলেও প্রান্তিক উপযোগ ক্রমশ হ্রাস পায়
  • এই বিধিটি কিছু অনুমিত শর্তের ওপর নির্ভরশীল। যেমন: দ্রব্যটি সমজাতীয় হতে হবে, ভোগের মাঝে কোনো বিরতি থাকা চলবে না, ভোক্তার আয় ও রুচি অপরিবর্তিত থাকতে হবে এবং ভোক্তাকে যুক্তিশীল হতে হবে।
  • যদি ভোক্তার অভ্যাস পরিবর্তন হয়ে যায়, অথবা সে নেশাগ্রস্ত হয়, কিংবা কৃপণ ব্যক্তির ক্ষেত্রে অর্থের লালসার কথা বিবেচনা করা হয়— তবে এই বিধি কার্যকর হয় না
  • তখন প্রান্তিক উপযোগ কমার বদলে বরং বৃদ্ধি পেতে পারে
বিষয়ভিত্তিক বিশ্লেষণ - ০৪

৪. চাহিদার প্রকৃতি, চাহিদা বিধি এবং এর ব্যতিক্রমসমূহ

  • অর্থনীতিতে কেবল ইচ্ছা থাকলেই তাকে চাহিদা বলা যায় না।
  • চাহিদা সৃষ্টির জন্য তিনটি শর্ত পূরণ হওয়া আবশ্যক:
    ক. দ্রব্যটি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা
    খ. দ্রব্যটি ক্রয়ের আর্থিক সামর্থ্য এবং
    গ. অর্থ ব্যয়ের ইচ্ছা
  • চাহিদা বিধি অনুযায়ী, অন্যান্য অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে কোনো দ্রব্যের দাম বাড়লে চাহিদার পরিমাণ কমে এবং দাম কমলে চাহিদার পরিমাণ বাড়ে
  • দাম ও চাহিদার এই বিপরীতমুখী সম্পর্কের কারণেই চাহিদা রেখা বাম থেকে ডান দিকে নিম্নগামী হয়।
  • তবে এর কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে। যেমন— গিফেন দ্রব্য বা নিকৃষ্ট মানের দ্রব্য (মোটা চাল, মোটা কাপড়)। এসব দ্রব্যের দাম বাড়লে চাহিদা না কমে উল্টো বেড়ে যায়।
  • আবার বিলাসজাত বা আভিজাত্যপূর্ণ দ্রব্যের ক্ষেত্রেও সমাজের বিত্তবানরা মর্যাদা প্রদর্শনের জন্য দাম বাড়লে বেশি ক্রয় করে।
  • নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য (যেমন: লবণ, ওষুধ) এর ক্ষেত্রে দাম বাড়লেও চাহিদা কমে না, তখন চাহিদা রেখা লম্ব অক্ষের সমান্তরাল হয়।
  • এসব ক্ষেত্রে চাহিদা রেখা নিম্নগামী না হয়ে ঊর্ধ্বগামী বা সমান্তরাল রূপ ধারণ করে।
বিষয়ভিত্তিক বিশ্লেষণ - ০৫

৫. চাহিদার পরিমাণের পরিবর্তন বনাম চাহিদার স্থানান্তর

  • দামের পরিবর্তনের কারণে চাহিদার যে হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে, তাকে চাহিদার পরিমাণের পরিবর্তন বলে।
  • এক্ষেত্রে একই চাহিদা রেখার ওপর বিভিন্ন বিন্দুতে সঞ্চালন ঘটে।
  • কিন্তু দাম অপরিবর্তিত থেকে যদি ভোক্তার আয়, রুচি, অভ্যাস বা বিকল্প দ্রব্যের দামের পরিবর্তনের কারণে চাহিদার পরিবর্তন হয়, তবে সম্পূর্ণ চাহিদা রেখাটিই স্থানান্তরিত হয়।
  • আয় বৃদ্ধি পেলে চাহিদা রেখা ডানদিকে স্থানান্তরিত হয় (চাহিদা বৃদ্ধি), আর আয় কমে গেলে রেখাটি বামদিকে স্থানান্তরিত হয় (চাহিদা হ্রাস)।
বিষয়ভিত্তিক বিশ্লেষণ - ০৬

৬. যোগানের ধারণা ও যোগান বিধি

  • যোগান হলো একজন বিক্রেতার দৃষ্টিকোণ
  • একটি নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট দামে বিক্রেতা যে পরিমাণ দ্রব্য বিক্রি করতে প্রস্তুত থাকে, তাকেই যোগান বলে।
  • মনে রাখতে হবে, মজুত হলো বিক্রয়যোগ্য মোট পরিমাণ, আর যোগান হলো সেই মজুতের নির্দিষ্ট দামে বিক্রয়ের জন্য প্রস্তুতকৃত অংশ
  • যোগান বিধি অনুযায়ী, দ্রব্যের দাম বাড়লে যোগান বাড়ে এবং দাম কমলে যোগান কমে
  • দাম ও যোগানের এই সমমুখী সম্পর্কের কারণে যোগান রেখা সর্বদা বাম থেকে ডান দিকে ঊর্ধ্বগামী হয়।
  • উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেলে, কাঁচামালের দাম বাড়লে কিংবা সরকারের করারোপের ফলে যোগান হ্রাস পায়
  • অপরদিকে, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সরকারি ভর্তুকির ফলে উৎপাদন খরচ কমে ও যোগান বৃদ্ধি পায়
বিষয়ভিত্তিক বিশ্লেষণ - ০৭

৭. বাজার ভারসাম্য নির্ধারণের যৌক্তিক প্রক্রিয়া

  • বাজার ভারসাম্য হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে ক্রেতার চাহিদা এবং বিক্রেতার যোগান পরস্পর সমান হয়।
  • অর্থাৎ যে নির্দিষ্ট দামে চাহিদার পরিমাণ ও যোগানের পরিমাণ সম্পূর্ণ সমান হয়, তাকে ভারসাম্য দাম বলে।
  • বাজারে যদি দাম ভারসাম্য দামের চেয়ে বেশি থাকে, তবে চাহিদার চেয়ে যোগান বেশি হয় (উদ্বৃত্ত যোগান), ফলে দাম কমার প্রবণতা তৈরি হয়।
  • আবার দাম ভারসাম্য স্তরের চেয়ে কম হলে, যোগানের চেয়ে চাহিদা বেশি থাকে (উদ্বৃত্ত চাহিদা), ফলে দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা দেয়।
  • পরিশেষে এমন একটি বিন্দুতে এসে দাম স্থির হয় যেখানে চাহিদা ও যোগান সমান
বিষয়ভিত্তিক বিশ্লেষণ - ০৮

৮. স্থিতিস্থাপকতা, চলক, ধ্রুবক এবং রেখার ঢাল বিশ্লেষণ

  • দামের শতকরা পরিবর্তনের ফলে চাহিদার বা যোগানের পরিমাণের শতকরা পরিবর্তনের অনুপাতকে স্থিতিস্থাপকতা বলা হয়।
  • যদি দামের সামান্য পরিবর্তনে চাহিদার ব্যাপক পরিবর্তন হয়, তবে তা স্থিতিস্থাপক চাহিদা (যেমন: বিলাসবহুল দ্রব্য)।
  • আর যদি দামের ব্যাপক পরিবর্তনেও চাহিদার অতি সামান্য পরিবর্তন হয়, তবে তা অস্থিতিস্থাপক চাহিদা (যেমন: নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য)।
  • অর্থনীতিতে যে রাশির মান পরিবর্তনশীল তাকে চলক বলে এবং যার মান স্থির থাকে তাকে ধ্রুবক বলে।
  • স্বাধীন চলকের ওপর অধীন চলক নির্ভর করে। স্বাধীন ও অধীন চলকের এই নির্ভরশীলতার সম্পর্ককে গাণিতিকভাবে অপেক্ষক বলা হয়।
  • রেখার ঢাল হলো অধীন চলকের পরিবর্তনকে স্বাধীন চলকের পরিবর্তন দিয়ে ভাগ করার ফলাফল।
  • সমমুখী সম্পর্ক থাকলে ঢাল ধনাত্মক হয় (যেমন: যোগান রেখা), আর বিপরীতমুখী সম্পর্ক থাকলে ঢাল ঋণাত্মক হয় (যেমন: চাহিদা রেখা)।

ভর্তি পরীক্ষার জন্য চূড়ান্ত তথ্যকণিকা (One-Liner Data)

বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য নিচের ৫০টি তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো মুখস্থ রাখার মাধ্যমে তুমি যেকোনো গাণিতিক ও তাত্ত্বিক প্রশ্নের উত্তর দ্রুত দিতে সক্ষম হবে:

১. কোনো দ্রব্যের মাধ্যমে মানুষের অভাব পূরণের ক্ষমতাকে অর্থনীতিতে উপযোগ বলা হয়।
২. উপযোগ একটি সম্পূর্ণ মানসিক ধারণা, এর সাথে কোনো দ্রব্যের নৈতিকতার সম্পর্ক নেই।
৩. কাঠের রূপ পরিবর্তন করে আসবাবপত্র তৈরি করা হলো রূপগত উপযোগ সৃষ্টির উদাহরণ।
৪. উপযোগ পরিমাপের সংখ্যাবাচক পদ্ধতির প্রবক্তা হলেন অর্থনীতিবিদ আলফ্রেড মার্শাল
৫. উপযোগ পরিমাপের পর্যায়গত পদ্ধতির মূল প্রবক্তা হলেন জে. আর. হিক্স এবং অ্যালেন
৬. সংখ্যাবাচক উপযোগ পরিমাপের একককে বলা হয় 'ইউটিল'
৭. কোনো দ্রব্যের প্রথম একক ভোগ করে যে তৃপ্তি পাওয়া যায়, তাকে প্রাথমিক উপযোগ বলে এবং এটি সর্বদা ধনাত্মক হয়।
৮. কোনো দ্রব্যের অতিরিক্ত এক একক ভোগের ফলে মোট উপযোগের যে পরিবর্তন হয়, তাকে প্রান্তিক উপযোগ বলে।
৯. ভোগের পরিমাণ ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকলে প্রান্তিক উপযোগ ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে থাকে
১০. প্রান্তিক উপযোগ যখন একদম শূন্য হয়, তখন মোট উপযোগ তার সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছায়।
১১. প্রান্তিক উপযোগ ঋণাত্মক স্তরে নেমে গেলে মোট উপযোগ হ্রাস পেতে শুরু করে।
১২. ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উপযোগ বিধির সর্বপ্রথম ধারণা প্রদান করেন অর্থনীতিবিদ হেনরি গোশেন
১৩. ১৮৯০ সালে আলফ্রেড মার্শাল তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থে ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উপযোগ বিধির পূর্ণাঙ্গ রূপ ও সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেন।
১৪. নির্দিষ্ট সময়ে দ্রব্য কেনার আকাঙ্ক্ষা, সামর্থ্য ও অর্থ ব্যয়ের ইচ্ছার সমন্বিত রূপই হলো চাহিদা
১৫. দাম ও চাহিদার পরিমাণের মধ্যে সম্পর্ক সর্বদা বিপরীতমুখী হয়ে থাকে।
১৬. দাম ও চাহিদার পরিমাণের বিপরীতমুখী সম্পর্কের কারণেই চাহিদা রেখা বাম থেকে ডান দিকে নিম্নগামী হয়।
১৭. দুটি চলকের মধ্যে বিপরীতমুখী সম্পর্ক বিদ্যমান থাকলে লেখচিত্রে প্রাপ্ত রেখাটি নিম্নগামী হয়।
১৮. গিফেন দ্রব্য বা নিকৃষ্ট মানের দ্রব্যের ক্ষেত্রে প্রচলিত চাহিদা বিধি কার্যকর হয় না।
১৯. গিফেন দ্রব্যের ক্ষেত্রে দাম বৃদ্ধি পেলে চাহিদার পরিমাণ হ্রাস পাওয়ার বদলে বৃদ্ধি পায়
২০. দাম ও চাহিদার সমমুখী সম্পর্কের কারণে গিফেন দ্রব্যের চাহিদা রেখা ঊর্ধ্বগামী হয়।
২১. বিলাসজাত বা আভিজাত্যপূর্ণ দ্রব্যের ক্ষেত্রেও চাহিদা বিধি অকার্যকর হওয়ায় এর রেখা ঊর্ধ্বগামী হয়।
২২. নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের (যেমন: ওষুধ, লবণ) চাহিদা রেখা লম্ব অক্ষের সমান্তরাল হয়ে থাকে।
২৩. ভোক্তার আয় বৃদ্ধি পেলে দ্রব্যের চাহিদা বৃদ্ধি পায় এবং চাহিদা রেখা ডানদিকে স্থানান্তরিত হয়।
২৪. দাম অপরিবর্তিত থেকে অন্যান্য কারণে চাহিদার পরিবর্তন ঘটলে চাহিদা রেখার সম্পূর্ণ স্থানান্তর ঘটে।
২৫. দামের পরিবর্তনের ফলে চাহিদার যে পরিবর্তন হয়, সেখানে একই চাহিদা রেখার ওপর সঞ্চালন ঘটে।
২৬. চা ও কফি হলো পরস্পর পরিবর্তক বা বিকল্প দ্রব্যের উদাহরণ।
২৭. কাগজ ও কলম হলো পরস্পর পরিপূরক দ্রব্যের সবচেয়ে উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
২৮. দুটি পরিপূরক দ্রব্যের ক্ষেত্রে একটির দাম বৃদ্ধি পেলে অন্যটির চাহিদা স্বয়ংক্রিয়ভাবে হ্রাস পায়
২৯. কোনো নির্দিষ্ট সময়ে ও দামে বিক্রেতা যে পরিমাণ দ্রব্য বিক্রি করতে প্রস্তুত থাকে, তাকে যোগান বলে।
৩০. একটি নির্দিষ্ট সময়ে বিক্রয়যোগ্য দ্রব্যের মোট পরিমাণকে মজুত বলা হয় এবং যোগান হলো মজুতের একটি অংশ মাত্র।
৩১. দাম ও যোগানের পরিমাণের মধ্যে সম্পর্ক সর্বদা প্রত্যক্ষ বা সমমুখী হয়ে থাকে।
৩২. দাম ও যোগানের সমমুখী সম্পর্কের কারণেই যোগান রেখা বাম থেকে ডান দিকে ঊর্ধ্বগামী হয়।
৩৩. উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেলে যোগান হ্রাস পায় এবং যোগান রেখা বামদিকে স্থানান্তরিত হয়।
৩৪. উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে উৎপাদন খরচ হ্রাস পায় এবং ফলস্বরূপ যোগান বৃদ্ধি পায়
৩৫. সরকার শিল্পে ভর্তুকি প্রদান করলে উৎপাদন বাড়ে এবং এর ফলে যোগান বৃদ্ধি পায়
৩৬. যে দামে বাজারে চাহিদার পরিমাণ এবং যোগানের পরিমাণ পরস্পর সমান হয়, তাকে ভারসাম্য দাম বলে।
৩৭. বাজার ভারসাম্য অবস্থায় পৌঁছানোর পর দ্রব্যের দাম কমার বা বাড়ার কোনো প্রবণতা থাকে না
৩৮. বাজারে চাহিদার তুলনায় যোগান বেশি হলে বিক্রেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতায় দ্রব্যের দাম হ্রাস পায়
৩৯. বাজারে যোগানের তুলনায় চাহিদা বেশি হলে ক্রেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতার কারণে দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি পায়
৪০. দামের শতকরা পরিবর্তনের ফলে চাহিদার পরিমাণের শতকরা পরিবর্তনের অনুপাতকে স্থিতিস্থাপকতা বলা হয়।
৪১. দামের পরিবর্তনের হারের চেয়ে চাহিদার পরিবর্তনের হার বেশি হলে তাকে স্থিতিস্থাপক চাহিদা বলে।
৪২. দামের ব্যাপক পরিবর্তনের ফলেও চাহিদার অতি সামান্য পরিবর্তন ঘটলে তাকে অস্থিতিস্থাপক চাহিদা বলে।
৪৩. জীবনরক্ষাকারী ওষুধ, লবণ বা চালের চাহিদা সাধারণত অস্থিতিস্থাপক হয়ে থাকে।
৪৪. এসি, গাড়ি বা দামি আসবাবপত্রের মতো বিলাসবহুল দ্রব্যের চাহিদা সাধারণত স্থিতিস্থাপক হয়।
৪৫. যে চলকের মান অন্য কোনো চলকের ওপর নির্ভর করে না এবং স্বেচ্ছায় মান গ্রহণ করতে পারে, তাকে স্বাধীন চলক বলে।
৪৬. চাহিদা সমীকরণে দ্রব্যের দাম হলো স্বাধীন চলক এবং চাহিদার পরিমাণ হলো অধীন চলক
৪৭. দুই বা ততোধিক চলকের পারস্পরিক নির্ভরতার গাণিতিক সম্পর্ককে অর্থনীতিতে অপেক্ষক বলা হয়।
৪৮. স্বাধীন চলকের পরিবর্তনের ফলে অধীন চলকের পরিবর্তনের অনুপাতকে গাণিতিক পরিভাষায় ঢাল বলা হয়।
৪৯. চাহিদা রেখা নিম্নগামী হওয়ায় এর ঢাল সাধারণত ঋণাত্মক হয় এবং যোগান রেখা ঊর্ধ্বগামী হওয়ায় এর ঢাল ধনাত্মক হয়।
৫০. কোনো চলকের সাথে গুণ আকারে থাকা স্থির সংখ্যাকে সহগ বলা হয় এবং স্বাধীনভাবে অবস্থানরত অপরিবর্তনশীল সংখ্যাকে ধ্রুবক বলে।

© ভর্তি প্রস্তুতি সহায়িকা - ভোক্তা ও উৎপাদকের আচরণ | Prepared for Interactive Revision