মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যা এবং এর সমাধান - লেকচারশীট
Full Page Thumbnail

মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যা এবং এর সমাধান

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রস্তুতি লেকচারশীট

📑

আজকের আলোচ্য বিষয়ের ধাপসমূহ (সূচিপত্র)

আজকের পাঠের সামগ্রিক রূপরেখাটি নিচে একটি ধাপে ধাপে সাজানো সারণির মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
ধাপ আলোচ্য বিষয়
ধাপ ১ অর্থনীতির মৌলিক ধারণা ও বিভিন্ন অর্থনীতিবিদদের প্রামাণ্য সংজ্ঞা
ধাপ ২ অর্থনীতির যমজ সমস্যা: দুষ্প্রাপ্যতা ও নির্বাচন
ধাপ ৩ সমাজের তিনটি মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যা
ধাপ ৪ উৎপাদন সম্ভাবনা রেখা ও এর নানাবিধ ব্যবহার
ধাপ ৫ সুযোগ ব্যয় ও এর প্রকারভেদ
ধাপ ৬ বিশ্বের বিভিন্ন অর্থব্যবস্থা ও তাদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ
ধাপ ৭ ব্যষ্টিক ও সামষ্টিক অর্থনীতির তুলনামূলক আলোচনা
ধাপ ৮ ভর্তি পরীক্ষার জন্য চূড়ান্ত ৫০টি এক বাক্যের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

📖 বিস্তারিত ও বিশ্লেষণাত্মক আলোচনা

১. অর্থনীতির মৌলিক ধারণা ও প্রামাণ্য সংজ্ঞা

  • অর্থনীতি এমন একটি বিষয়, যা মানবজীবনের দৈনন্দিন অভাব ও তা পূরণের সীমিত সম্পদের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করে।
  • অর্থনীতির উৎপত্তি ও বিকাশে বিভিন্ন যুগে বিভিন্ন অর্থনীতিবিদ নানা ধরনের সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।
  • অর্থনীতির জনক অ্যাডাম স্মিথ অর্থনীতিকে 'সম্পদের বিজ্ঞান' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
  • তাঁর মতে, অর্থনীতি মূলত একটি দেশের সম্পদের উৎপাদন ও বণ্টন নিয়ে আলোচনা করে।
  • এরপর অধ্যাপক আলফ্রেড মার্শাল অর্থনীতিকে 'কল্যাণের বিজ্ঞান' হিসেবে বর্ণনা করেন, যেখানে সম্পদের চেয়ে মানুষের কল্যাণকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
  • তবে আধুনিক অর্থনীতিতে সবচেয়ে নিখুঁত ও বিজ্ঞানসম্মত সংজ্ঞাটি দিয়েছেন অধ্যাপক এল. রবিন্স
  • তাঁর মতে, অর্থনীতি হলো এমন একটি বিজ্ঞান, যা মানুষের অসীম অভাব এবং বিকল্প ব্যবহারযোগ্য দুষ্প্রাপ্য সম্পদের মধ্যে সমন্বয় সাধন সংক্রান্ত মানবীয় আচরণকে বিশ্লেষণ করে।
  • অর্থাৎ, রবিন্সের সংজ্ঞায় মানবজীবনের অসীম অভাব, সম্পদের সীমাবদ্ধতা এবং সম্পদের বিকল্প ব্যবহারের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে।

২. অর্থনীতির যমজ সমস্যা: দুষ্প্রাপ্যতা ও নির্বাচন

  • অর্থনীতির মূল ভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে দুটি প্রধান স্তম্ভের ওপর—দুষ্প্রাপ্যতানির্বাচন
  • মানুষের অভাব অসীম; একটি অভাব পূরণ হতে না হতেই আরেকটি অভাব এসে হাজির হয়।
  • কিন্তু এই অসীম অভাব পূরণের জন্য প্রকৃতিতে বা মানুষের হাতে যে পরিমাণ সম্পদ রয়েছে, তা নিতান্তই সীমিত।
  • প্রয়োজনের তুলনায় সম্পদের এই সীমাবদ্ধতা বা অপর্যাপ্ততাকেই অর্থনীতিতে 'দুষ্প্রাপ্যতা' বলা হয়।
  • যদি পৃথিবীতে সম্পদ অসীম হতো, তবে অর্থনীতির কোনো প্রয়োজনই পড়ত না।
  • সম্পদ যেহেতু দুষ্প্রাপ্য, তাই মানুষ তার সব অভাব একসাথে পূরণ করতে পারে না।
  • তাকে তার অসংখ্য অভাবের মধ্য থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভাবগুলোকে বাছাই করে নিতে হয়।
  • বাছাই করার এই প্রক্রিয়াকেই অর্থনীতিতে 'নির্বাচন' বলা হয়।
  • অধ্যাপক পল স্যামুয়েলসন এর মতে, অর্থনীতি হলো নির্বাচনের বিজ্ঞান
  • সুতরাং, সীমিত সম্পদ দিয়ে কীভাবে অসীম অভাবের মধ্যে সর্বোচ্চ তৃপ্তি লাভ করা যায়, তা নির্ধারণ করাই হলো অর্থনীতির প্রধান কাজ।

৩. সমাজের তিনটি মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যা

  • অধ্যাপক পল স্যামুয়েলসন প্রতিটি সমাজের জন্য তিনটি মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন।
  • সম্পদ সীমিত হওয়ার কারণেই প্রতিটি সমাজ বা রাষ্ট্রকে এই তিনটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়:
  • ক) কী উৎপাদন করা হবে: যেহেতু সম্পদ সীমিত, তাই একটি সমাজ তার সব প্রয়োজনীয় দ্রব্য একসাথে উৎপাদন করতে পারে না। তাকে সিদ্ধান্ত নিতে হয় যে, সে কোন দ্রব্যটি কী পরিমাণে উৎপাদন করবে। যেমন, একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ জমি ব্যবহার করে একটি দেশ খাদ্য বেশি উৎপাদন করবে, নাকি বস্ত্র বেশি উৎপাদন করবে—সেই সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই হলো প্রথম মৌলিক সমস্যা।
  • খ) কীভাবে উৎপাদন করা হবে: উৎপাদন পদ্ধতি প্রধানত দুই ধরনের—শ্রমনিবিড় এবং মূলধননিবিড়
  • যে পদ্ধতিতে মূলধনের চেয়ে শ্রমের ব্যবহার বেশি হয়, তাকে শ্রমনিবিড় পদ্ধতি বলে (যা বাংলাদেশ বা ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য উপযোগী)।
  • অন্যদিকে, যে পদ্ধতিতে শ্রমের চেয়ে যন্ত্র বা মূলধনের ব্যবহার বেশি হয়, তাকে মূলধননিবিড় পদ্ধতি বলে (যা যুক্তরাষ্ট্র বা জাপানের মতো উন্নত দেশের জন্য প্রযোজ্য)। সমাজকে তার সম্পদের সহজলভ্যতা অনুযায়ী এই দুটির মধ্যে একটি উপযুক্ত পদ্ধতি বেছে নিতে হয়।
  • গ) কার জন্য উৎপাদন করা হবে: সমাজে ধনী ও গরিব উভয় শ্রেণির মানুষ বাস করে। উৎপাদিত দ্রব্য সমাজের কোন শ্রেণির মানুষের ভোগে ব্যবহৃত হবে, তা নির্ধারণ করাই হলো তৃতীয় সমস্যা। উৎপাদিত সম্পদ সমাজের সবার মাঝে কীভাবে বণ্টিত হবে, তা এই সমস্যার মূল আলোচ্য বিষয়।

৪. উৎপাদন সম্ভাবনা রেখা ও এর ব্যবহার

  • উৎপাদন সম্ভাবনা রেখা হলো এমন একটি রেখা, যা একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ এবং একটি নির্দিষ্ট উৎপাদন কৌশল ব্যবহার করে দুটি দ্রব্য উৎপাদনের সম্ভাব্য বিভিন্ন সংমিশ্রণ নির্দেশ করে।
  • এই রেখার সাহায্যে সমাজের মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যাগুলোকে খুব সহজেই চিত্রের মাধ্যমে উপস্থাপন করা যায়।
  • পূর্ণ নিয়োগ ও সর্বোচ্চ উৎপাদন: উৎপাদন সম্ভাবনা রেখার উপরিভাগের যেকোনো বিন্দু নির্দেশ করে যে, সমাজের সকল সম্পদ সম্পূর্ণরূপে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং উৎপাদন তার সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
  • বেকারত্ব বা অপূর্ণ নিয়োগ: এই রেখার ভেতরের যেকোনো বিন্দুতে উৎপাদন করা সম্ভব হলেও, তা করা উচিত নয়। কারণ রেখার ভেতরের বিন্দু নির্দেশ করে যে, সমাজের কিছু সম্পদ অব্যবহৃত পড়ে আছে, অর্থাৎ অর্থনীতিতে বেকারত্ব ও অদক্ষতা বিরাজ করছে। এই অঞ্চলকে ঘাটতি বিন্দু বা বেকারত্ব বিন্দু বলা হয়।
  • অ-অর্জনযোগ্য অঞ্চল: উৎপাদন সম্ভাবনা রেখার বাইরের কোনো বিন্দুতে উৎপাদন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়, কারণ ওই পরিমাণ সম্পদ আমাদের হাতে নেই। এটিকে অ-অর্জনযোগ্য বিন্দু বলা হয়।

৫. সুযোগ ব্যয় ও এর প্রকারভেদ

  • সুযোগ ব্যয় হলো অর্থনীতির অন্যতম একটি আকর্ষণীয় ধারণা।
  • দুটি দ্রব্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে, সম্পদ সীমিত হওয়ার কারণে একটি দ্রব্যের উৎপাদন বাড়াতে গেলে অপর একটি দ্রব্যের উৎপাদন অবশ্যই কমাতে হয় বা ছেড়ে দিতে হয়।
  • একটি দ্রব্যের অতিরিক্ত কিছু পরিমাণ পাওয়ার জন্য অপর দ্রব্যের যতটুকু পরিমাণ ছাড়তে হয়, সেই ছেড়ে দেওয়া পরিমাণটিকেই প্রথম দ্রব্যের সুযোগ ব্যয় বলা হয়।
  • উদাহরণস্বরূপ, তোমার কাছে থাকা নির্দিষ্ট পরিমাণ জমি ব্যবহার করে যদি তুমি ধানের উৎপাদন বাড়াতে চাও, তবে বাধ্য হয়ে তোমাকে পাটের উৎপাদন কমাতে হবে। এই যে পাটের উৎপাদন তুমি কমিয়ে দিলে বা ত্যাগ করলে, সেটিই হলো ধানের অতিরিক্ত উৎপাদনের সুযোগ ব্যয়।
  • সুযোগ ব্যয় তিন প্রকারের হয়ে থাকে: ক্রমবর্ধমান সুযোগ ব্যয়, ক্রমহ্রাসমান সুযোগ ব্যয় এবং সমানুপাতিক সুযোগ ব্যয়

৬. অর্থব্যবস্থা ও তার প্রকারভেদ

  • যে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে কোনো দেশের যাবতীয় অর্থনৈতিক কার্যাবলি পরিচালিত হয়, তাকে অর্থব্যবস্থা বলে। বিশ্বে প্রধানত চার ধরনের অর্থব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে:
  • ক) ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা: এই অর্থব্যবস্থায় সম্পদের ওপর সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত মালিকানা থাকে। ভোক্তা ও উৎপাদক উভয়েই চরম স্বাধীনতা ভোগ করে। এখানে সরকার বা রাষ্ট্রের কোনো সরাসরি হস্তক্ষেপ থাকে না। ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করা। এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো 'স্বয়ংক্রিয় দাম ব্যবস্থা' বা অদৃশ্য হাত, যেখানে বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতার চাহিদা ও যোগানের পারস্পরিক ঘাত-প্রতিঘাতের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দ্রব্যের দাম নির্ধারিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশে এই ব্যবস্থা বিদ্যমান।
  • খ) সমাজতান্ত্রিক বা নির্দেশমূলক অর্থব্যবস্থা: এই অর্থব্যবস্থায় সম্পদের ওপর কোনো ব্যক্তিগত মালিকানা থাকে না; সকল সম্পদের মালিক হলো রাষ্ট্র। উৎপাদন, বণ্টন ও ভোগের সকল সিদ্ধান্ত একটি কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে গৃহীত হয়। এখানে ভোক্তাদের কোনো স্বাধীনতা থাকে না এবং অবাধ প্রতিযোগিতা অনুপস্থিত থাকে। এর মূল লক্ষ্য হলো মুনাফা অর্জনের বদলে সমাজের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং শ্রেণিশোষণ দূর করা। উত্তর কোরিয়া, কিউবা ও চীনে এ ধরনের অর্থব্যবস্থা দেখা যায়।
  • গ) মিশ্র অর্থব্যবস্থা: মিশ্র অর্থব্যবস্থা হলো ধনতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার একটি জগাখিচুড়ি বা সমন্বিত রূপ। এখানে সরকারি ও বেসরকারি খাত পাশাপাশি অবস্থান করে। ব্যক্তিমালিকানা ও মুনাফা অর্জনের সুযোগ থাকলেও জনকল্যাণের স্বার্থে সরকার বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করে। স্বয়ংক্রিয় দাম ব্যবস্থা থাকলেও প্রয়োজনে সরকার দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। বাংলাদেশ, ভারত ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশে এই অর্থব্যবস্থা প্রচলিত।
  • ঘ) ইসলামি অর্থব্যবস্থা: পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর বিধান অনুযায়ী যে অর্থব্যবস্থা পরিচালিত হয়, তাকে ইসলামি অর্থব্যবস্থা বলে। এই অর্থব্যবস্থায় সম্পদের প্রকৃত মালিক মহান আল্লাহ এবং মানুষ হলো তার আমানতদার। এই ব্যবস্থায় সুদ, ঘুষ ও মজুতদারি সম্পূর্ণ হারাম। সুদের বদলে এখানে লাভ-ক্ষতির অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালিত হয়। ইসলামি অর্থব্যবস্থায় সম্পদের সুষম বণ্টনের জন্য জাকাত, ওশর, ফিতরা ইত্যাদির বিধান রয়েছে।

৭. ব্যষ্টিক ও সামষ্টিক অর্থনীতি

  • ১৯৩৩ সালে অর্থনীতিবিদ র‍্যাগনার ফ্রিশ সমগ্র অর্থনীতিকে দুটি প্রধান শাখায় বিভক্ত করেন—ব্যষ্টিক ও সামষ্টিক অর্থনীতি।
  • ব্যষ্টিক অর্থনীতি: এটি গ্রিক শব্দ 'Mikros' থেকে এসেছে, যার অর্থ ক্ষুদ্র। অর্থনীতির যে শাখায় কোনো একটি দেশের অর্থনীতির ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র একক নিয়ে আলাদাভাবে আলোচনা করা হয়, তাকে ব্যষ্টিক অর্থনীতি বলে। যেমন: একজন ব্যক্তির আয়, একটি ফার্মের উৎপাদন, একটি নির্দিষ্ট দ্রব্যের দাম ইত্যাদি।
  • সামষ্টিক অর্থনীতি: এটি গ্রিক শব্দ 'Makros' থেকে এসেছে, যার অর্থ বৃহৎ। অর্থনীতির যে শাখায় কোনো দেশের অর্থনীতির সামগ্রিক বা পূর্ণাঙ্গ চিত্র নিয়ে আলোচনা করা হয়, তাকে সামষ্টিক অর্থনীতি বলে। যেমন: দেশের মোট জাতীয় আয়, মোট বেকারত্ব, সাধারণ মূল্যস্তর, সামগ্রিক চাহিদা ও যোগান ইত্যাদি।
🎯

ভর্তি পরীক্ষার জন্য চূড়ান্ত ৫০টি এক বাক্যের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

ভর্তি পরীক্ষার বহুনির্বাচনি অংশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও অত্যাবশ্যকীয় ৫০টি তথ্য নিচে দেওয়া হলো। এই তথ্যগুলো ভালোভাবে আত্মস্থ করলে পরীক্ষার যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়া তোমাদের জন্য অত্যন্ত সহজ হবে:
০১.

অর্থনীতির জনক হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত হলেন অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মিথ

০২.

১৭৭৬ সালে প্রকাশিত 'দ্যা ওয়েলথ অব নেশন্স' নামক বিখ্যাত গ্রন্থের রচয়িতা অ্যাডাম স্মিথ

০৩.

আধুনিক অর্থনীতির জনক বলা হয় বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ পল স্যামুয়েলসনকে

০৪.

অর্থনীতিকে 'সম্পদের বিজ্ঞান' হিসেবে সর্বপ্রথম আখ্যায়িত করেছেন অ্যাডাম স্মিথ

০৫.

অর্থনীতিকে 'সামাজিক বিজ্ঞান''কল্যাণের বিজ্ঞান' বলে অভিহিত করেছেন অধ্যাপক আলফ্রেড মার্শাল

০৬.

অর্থনীতিকে 'স্বল্পতার বিজ্ঞান' বা 'দুষ্প্রাপ্যতার বিজ্ঞান' বলে নিখুঁত সংজ্ঞা প্রদান করেছেন অধ্যাপক এল. রবিন্স

০৭.

পল স্যামুয়েলসন এর মতে, অর্থনীতি হলো মূলত নির্বাচনের বিজ্ঞান

০৮.

অর্থনীতিতে মানবজীবনের 'যমজ সমস্যা' বলতে বোঝায় দুষ্প্রাপ্যতা ও নির্বাচনকে

০৯.

১৯৬৯ সাল থেকে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার প্রদান প্রবর্তন করা হয়।

১০.

অর্থনীতিতে সর্বপ্রথম নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অর্থনীতিবিদ হলেন র‍্যাগনার ফ্রিশ ও টিনবার জেন

১১.

অর্থনীতিতে নোবেল জয়ী বিশ্বের প্রথম নারী হলেন এলিনর অসট্রাম

১২.

বাঙালি অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন ১৯৯৮ সালে

১৩.

'সামাজিক চয়ন তত্ত্বের' প্রবক্তা হলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন

১৪.

মানবজীবনে অভাব অসীম, কিন্তু সেই অভাব পূরণের সম্পদ নিতান্তই সীমিত বা দুষ্প্রাপ্য

১৫.

মানুষের অসীম অভাবের তুলনায় সম্পদের এই যে অপর্যাপ্ততা বা সীমাবদ্ধতা, তাকেই অর্থনীতিতে দুষ্প্রাপ্যতা বলা হয়।

১৬.

যেকোনো বস্তুগত বা অবস্তুগত দ্রব্যের মাধ্যমে মানুষের অভাব পূরণের ক্ষমতাকে উপযোগ বলে।

১৭.

যেকোনো অর্থনৈতিক সমাজের মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যা হলো তিনটি: কী উৎপাদন করা হবে, কীভাবে উৎপাদন করা হবে এবং কার জন্য উৎপাদন করা হবে

১৮.

অর্থনীতিতে তিনটি মৌলিক সমস্যার কথা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন পল স্যামুয়েলসন

১৯.

উৎপাদন সম্ভাবনা রেখা হলো এমন একটি রেখা যা দুটি দ্রব্য উৎপাদনের সম্ভাব্য বিভিন্ন সংমিশ্রণ প্রকাশ করে।

২০.

উৎপাদন সম্ভাবনা রেখার উপরিভাগের যেকোনো বিন্দু সমাজের সম্পদের পূর্ণ নিয়োগ ও সর্বোচ্চ উৎপাদন নির্দেশ করে।

২১.

উৎপাদন সম্ভাবনা রেখার ভেতরের যেকোনো বিন্দু অসম্পূর্ণ নিয়োগ, অদক্ষতা বা বেকারত্ব নির্দেশ করে।

২২.

সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে উৎপাদন সম্ভাবনা রেখার বাইরের কোনো বিন্দু কখনোই অর্জনযোগ্য নয়

২৩.

সমাজে সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে কিংবা উন্নত প্রযুক্তির আবিষ্কার হলে উৎপাদন সম্ভাবনা রেখা ডানদিকে স্থানান্তরিত হয়।

২৪.

একটি দ্রব্যের অতিরিক্ত উৎপাদন পাওয়ার জন্য অপর দ্রব্যের যতটুকু উৎপাদন ছেড়ে দিতে হয়, তাকে সুযোগ ব্যয় বলে।

২৫.

উৎপাদন পরিবর্তনের ধরন অনুযায়ী সুযোগ ব্যয় প্রধানত তিন প্রকার: ক্রমবর্ধমান, ক্রমহ্রাসমান এবং সমানুপাতিক সুযোগ ব্যয়

২৬.

বিশ্বে বর্তমানে প্রধানত চার ধরনের অর্থব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে: ধনতান্ত্রিক, সমাজতান্ত্রিক, মিশ্র ও ইসলামি

২৭.

ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় সকল সম্পদের ওপর ব্যক্তিমালিকানা থাকে এবং ভোক্তা ও উৎপাদকের পূর্ণ স্বাধীনতা বিরাজ করে।

২৮.

ধনতান্ত্রিক বা পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থায় সকল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল লক্ষ্য হলো সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করা

২৯.

স্বয়ংক্রিয় দাম ব্যবস্থা বা অদৃশ্য হাতের উপস্থিতি ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার সবচেয়ে বড় এবং অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।

৩০.

সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় সম্পদের কোনো ব্যক্তিমালিকানা থাকে না, সকল সম্পদ রাষ্ট্রের অধীন থাকে।

৩১.

সমাজতান্ত্রিক বা নির্দেশমূলক অর্থব্যবস্থায় সকল উৎপাদন ও বণ্টনের সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করে।

৩২.

সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার মূল লক্ষ্য মুনাফা অর্জন নয়, বরং সমাজের সার্বিক কল্যাণ সাধন করা

৩৩.

সমাজে শ্রেণিশোষণ সম্পূর্ণভাবে অনুপস্থিত থাকে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায়।

৩৪.

বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে কিউবা, চীন এবং উত্তর কোরিয়ায় নির্দেশমূলক বা সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান রয়েছে।

৩৫.

মিশ্র অর্থব্যবস্থা হলো ধনতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার একটি অপূর্ব সংমিশ্রণ, যেখানে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সহাবস্থান থাকে।

৩৬.

বাংলাদেশ, ভারত ও যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই বর্তমানে মিশ্র অর্থব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে।

৩৭.

ইসলামি অর্থব্যবস্থা মূলত পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর সুনির্দিষ্ট বিধান অনুযায়ী পরিচালিত হয়।

৩৮.

ইসলামি অর্থব্যবস্থায় সুদ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ; এর বদলে মুনাফা ও ক্ষতি বণ্টনের অংশীদারিত্ব নীতি গ্রহণ করা হয়।

৩৯.

ইসলামি অর্থব্যবস্থার অন্যতম প্রধান একটি বৈশিষ্ট্য হলো জাকাত ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা হয়।

৪০.

ইসলামি অর্থনীতিতে সম্পদের ওপর ধার্যকৃত জাকাতের হার হলো আড়াই শতাংশ (২.৫%)

৪১.

ইসলামি অর্থব্যবস্থায় কৃষিজাত ফসলের উৎপাদনের ওপর যে কর ধার্য করা হয়, তাকে ওশর বলা হয়, যার হার ৫% থেকে ১০%

৪২.

১৯৩৩ সালে অর্থনীতিবিদ র‍্যাগনার ফ্রিশ সর্বপ্রথম অর্থনীতিকে ব্যষ্টিক ও সামষ্টিক এই দুটি পৃথক শাখায় বিভক্ত করেন।

৪৩.

ব্যষ্টিক বা মাইক্রো শব্দটি উদ্ভূত হয়েছে প্রাচীন গ্রিক শব্দ 'মিক্রোস' (Mikros) থেকে, যার শাব্দিক অর্থ হলো ক্ষুদ্র

৪৪.

সামষ্টিক বা ম্যাক্রো শব্দটি এসেছে প্রাচীন গ্রিক শব্দ 'মাক্রোস' (Makros) থেকে, যার শাব্দিক অর্থ হলো বৃহৎ

৪৫.

ব্যষ্টিক অর্থনীতিতে ব্যক্তিগত আয়, একক ফার্মের আচরণ, নির্দিষ্ট দ্রব্যের দাম ইত্যাদি ক্ষুদ্র বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

৪৬.

সামষ্টিক অর্থনীতিতে জাতীয় আয়, মোট বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতি, সাধারণ মূল্যস্তর ইত্যাদি জাতীয় বা বৃহৎ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

৪৭.

সামষ্টিক অর্থনীতির জনক হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত হলেন জন মেনার্ড কেইনস (জে. এম. কেইনস)

৪৮.

'জেনারেল থিওরি অব এমপ্লয়মেন্ট, ইন্টারেস্ট অ্যান্ড মানি' শীর্ষক বিখ্যাত গ্রন্থের রচয়িতা হলেন জে. এম. কেইনস

৪৯.

শ্রমনিবিড় উৎপাদন কৌশলে মূলধনের চেয়ে শ্রমের ব্যবহার বেশি হয়, যা মূলত বাংলাদেশ ও ভারতের মতো অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশে দেখা যায়।

৫০.

মূলধননিবিড় উৎপাদন কৌশলে শ্রমের চেয়ে যন্ত্র বা মূলধনের ব্যবহার বেশি হয়, যা প্রধানত উন্নত দেশগুলোর উৎপাদন ব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্য।

ভর্তি পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রস্তুতির জন্য সতর্কতার সাথে সংকলিত। সবার জন্য শুভকামনা!