বাংলা সাহিত্যের যুগ বিভাগ
Full Page Thumbnail

বাংলা সাহিত্যের যুগ বিভাগ (প্রাচীন, মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগ)

পর্যায়ক্রমিক আলোচ্য সূচি

বাংলা সাহিত্যের যুগ বিভাজনের রূপরেখা
প্রাচীন যুগের সাহিত্য ও চর্যাপদ
যুগসন্ধিক্ষণ বা অন্ধকার যুগের সাহিত্য
মধ্যযুগের সাহিত্যের বিশাল ক্যানভাস
আধুনিক যুগের উন্মেষ ও বিকাশ
বিগত সালের বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও বিশ্লেষণ (৫০টি)
চূড়ান্ত প্রস্তুতির জন্য ৫০টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এককথার তথ্য

১. বাংলা সাহিত্যের যুগ বিভাজনের রূপরেখা

  • বাংলা সাহিত্যকে এর রচনাশৈলী, বিষয়বস্তু এবং বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে প্রধান তিনটি যুগে ভাগ করা হয়েছে:
  • প্রাচীন যুগ: ৬৫০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১২০০ খ্রিস্টাব্দ
  • মধ্যযুগ: ১২০১ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ
  • আধুনিক যুগ: ১৮০১ খ্রিস্টাব্দ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত।
যুগ বিভাজন

২. প্রাচীন যুগের সাহিত্য ও চর্যাপদ

  • বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন হলো চর্যাপদ
  • ৬৫০ থেকে ১২০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে রচিত এই পদগুলো মূলত পাল শাসনামলে বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের সাধন সংগীত।
  • এ যুগের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো ধর্মনির্ভরতা এবং গোষ্ঠী কেন্দ্রিকতা
  • আবিষ্কার ও প্রকাশ: মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজগ্রন্থাগার (রয়্যাল লাইব্রেরি) থেকে চর্যাপদের পুঁথি আবিষ্কার করেন।
  • পরবর্তীতে ১৯১৬ সালে কলকাতার 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' থেকে 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' নামে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
  • হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যাপদের ভাষাকে 'সন্ধ্যা ভাষা' বা আলো-আঁধারি ভাষা বলে আখ্যায়িত করেছেন, কারণ এর একটি আক্ষরিক অর্থ এবং একটি অন্তর্নিহিত বা গূঢ় অর্থ রয়েছে।
  • ভাষাতাত্ত্বিক প্রমাণ: ১৯২৬ সালে ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় তাঁর ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রমাণ করেন যে চর্যাপদের ভাষা বাংলা।
  • ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে চর্যাপদের ভাষা হলো 'বঙ্গকামরূপী'
  • পদকর্তা ও পদসংখ্যা: চর্যাপদের মোট পদকর্তা ২৪ জন এবং মোট পদ ৫১টি (ড. সুকুমার সেনের মতে)। তবে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে পদকর্তা ২৩ জন এবং পদসংখ্যা ৫০টি
  • সবচেয়ে বেশি পদ রচনা করেছেন কাহ্নপা (১৩টি)। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা ভুসুকুপা (৮টি), যিনি ৪৯ নং পদে নিজেকে 'বাঙালি' বলে পরিচয় দিয়েছেন এবং এতে পদ্মা নদীর কথাও উল্লেখ আছে।
  • চর্যাপদের আদি কবি হলেন লুইপা। একমাত্র মহিলা কবি হিসেবে বিবেচনা করা হয় কুক্কুরীপা-কে
  • টীকা ও অনুবাদ: চর্যাপদের সংস্কৃত টীকা রচনা করেন মুনিদত্ত। তবে তিনি ১১ নং পদের কোনো ব্যাখ্যা দেননি
  • চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র, যা ১৯৩৮ সালে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী আবিষ্কার করেন।
চর্যাপদ

৩. যুগসন্ধিক্ষণ বা অন্ধকার যুগের সাহিত্য

  • ১২০১ থেকে ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে বাংলা সাহিত্যের 'অন্ধকার যুগ' বা 'অনুর্বর যুগ' বলা হয়।
  • সেন বংশের পতনের পর তুর্কি আক্রমণের ফলে সৃষ্ট রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার কারণে এ সময়ে উল্লেখযোগ্য কোনো সাহিত্য সৃষ্টি হয়নি।
  • তবে এই যুগে কিছু প্রাকৃত ও অপভ্রংশ ভাষার সাহিত্য পাওয়া যায়, যা সাহিত্যিক নিদর্শন হিসেবে বিবেচ্য:
  • শূন্যপুরাণ: রামাই পণ্ডিত রচিত ধর্মপূজার শাস্ত্রগ্রন্থ, যা গদ্য ও পদ্যের মিশ্রণে রচিত একটি চম্পুকাব্য
  • সেক শুভোদয়া: রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভাকবি হলায়ুধ মিশ্র রচিত চম্পুকাব্য।
  • ডাক ও খনার বচন: কৃষি, আবহাওয়া ও মানবচরিত্র নিয়ে লেখা এই বচনগুলো প্রাচীন যুগের মুখে মুখে প্রচলিত সৃষ্টি হলেও মধ্যযুগের শুরুতে এটি লিখিত রূপ পায়।
অন্ধকার যুগ

৪. মধ্যযুগের সাহিত্যের বিশাল ক্যানভাস

  • মধ্যযুগের সাহিত্য মূলত ধর্মকেন্দ্রিক এবং দেব-দেবীর মহিমায় পরিপূর্ণ। এ যুগের সাহিত্যকে শ্রীচৈতন্য দেবের আবির্ভাবের ওপর ভিত্তি করে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়: চৈতন্য-পূর্ববর্তী, চৈতন্য যুগ এবং চৈতন্য-পরবর্তী যুগ।
  • শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য: মধ্যযুগের আদি নিদর্শন হলো বডু চণ্ডীদাস রচিত 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য, যা খাঁটি বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম গ্রন্থ১৯০৯ সালে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রামের এক গোয়ালঘরের মাচা থেকে এটি আবিষ্কার করেন এবং ১৯১৬ সালে প্রকাশ করেন। কাব্যটি ১৩টি খণ্ডে বিভক্ত এবং এর প্রধান চরিত্র কৃষ্ণ, রাধা ও বড়াই।
  • মঙ্গলকাব্য: দেব-দেবীর আরাধনা ও মাহাত্ম্য কীর্তন করে রচিত কাহিনীকাব্যকে মঙ্গলকাব্য বলা হয়। এর প্রধান শাখা তিনটি: মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও অন্নদামঙ্গল।
    • মনসামঙ্গল: আদি কবি কানাহরি দত্ত এবং শ্রেষ্ঠ কবি বিজয়গুপ্ত। এর প্রতিবাদী চরিত্র চাঁদ সওদাগর এবং পতিপ্রাণা চরিত্র বেহুলা
    • চণ্ডীমঙ্গল: আদি কবি মানিক দত্ত এবং শ্রেষ্ঠ কবি কবিকঙ্কণ মুকুন্দরাম চক্রবর্তী। কালকেতু, ফুল্লরা, ভাঁড়ুদত্ত (খল চরিত্র) ও মুরারিশীল (ধূর্ত চরিত্র) এর উল্লেখযোগ্য চরিত্র।
    • ধর্মমঙ্গল: আদি কবি ময়ূর ভট্ট এবং শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী।
    • অন্নদামঙ্গল: এর রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর, যিনি মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ কবি। তাঁর মৃত্যুতেই (১৭৬০) মধ্যযুগের সমাপ্তি ধরা হয়।
  • বৈষ্ণব পদাবলি: রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত এই পদাবলির আদি রচয়িতা বিদ্যাপতি (মিথিলার কবি)। তিনি মৈথিলি ও বাংলা ভাষার মিশ্রণে 'ব্রজবুলি' নামক এক কৃত্রিম সাহিত্যিক ভাষার সৃষ্টি করেন। বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি রচয়িতা হলেন চণ্ডীদাস। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবি হলেন জ্ঞানদাস ও গোবিন্দদাস।
  • অনুবাদ সাহিত্য: রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদক কৃত্তিবাস ওঝা। মহাভারতের প্রথম অনুবাদক কবীন্দ্র পরমেশ্বর (পরাগলী মহাভারত) এবং শ্রেষ্ঠ অনুবাদক কাশীরাম দাস। ভাগবতের প্রথম অনুবাদক মালাধর বসু, যিনি 'গুণরাজ খান' উপাধি পেয়েছিলেন।
  • প্রণয়োপাখ্যান ও রোসাঙ্গ রাজসভা: বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর, যিনি 'ইউসুফ-জুলেখা' রচনা করেন। আরাকান রাজসভার প্রথম বাঙালি কবি দৌলত কাজী (সতী ময়না ও লোরচন্দ্রানী রচয়িতা) এবং শ্রেষ্ঠ কবি মহাকবি আলাওল (পদ্মাবতী রচয়িতা)
  • লোকসাহিত্য: মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত সাহিত্যকে লোকসাহিত্য বলে। চন্দ্রকুমার দের সংগ্রহে এবং ড. দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় 'ময়মনসিংহ গীতিকা' প্রকাশিত হয়, যার অন্তর্গত মহুয়া, মলুয়া, দেওয়ানা মদিনা প্রভৃতি পালা বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।
মধ্যযুগ

৫. আধুনিক যুগের উন্মেষ ও বিকাশ

  • ১৮০১ সালে আধুনিক যুগের সূচনা হয় মূলত গদ্যের বিকাশের মধ্য দিয়ে। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতেরা গদ্য রচনা শুরু করেন। রামরাম বসুর 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' বাঙালির লেখা প্রথম মুদ্রিত বাংলা গ্রন্থ
  • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর: বাংলা গদ্যের জনক এবং বিরাম চিহ্নের প্রবর্তক। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি', 'শকুন্তলা', 'সীতার বনবাস' এবং মৌলিক গ্রন্থ 'প্রভাবতী সম্ভাষণ'
  • মাইকেল মধুসূদন দত্ত: বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবিঅমিত্রাক্ষর ছন্দ ও সনেটের প্রবর্তক। তাঁর সার্থক মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য', প্রথম সার্থক নাটক 'শর্মিষ্ঠা', ট্র্যাজেডি 'কৃষ্ণকুমারী' এবং কমেডি 'পদ্মাবতী'।
  • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: বাংলা উপন্যাসের সম্রাট। তাঁর রচিত 'দুর্গেশনন্দিনী' বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হলো কপালকুণ্ডলা, বিষবৃক্ষ, কৃষ্ণকান্তের উইল, আনন্দমঠ।
  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম: রবীন্দ্রনাথ বাংলা ছোটগল্পের জনক এবং তাঁর মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস 'চোখের বালি', 'গোরা', 'শেষের কবিতা' বাংলা সাহিত্যের অমূল্য রত্ন। কাজী নজরুল ইসলামের 'বিদ্রোহী' কবিতা এবং তাঁর সাম্যবাদী চেতনা বাংলা সাহিত্যকে এক নতুন উচ্চতা দান করে।
  • ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্য: ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ বাংলা সাহিত্যকে প্রবলভাবে প্রভাবিত করেছে। মুনীর চৌধুরীর 'কবর', জহির রায়হানের 'স্টপ জেনোসাইড', সেলিনা হোসেনের 'হাঙর নদী গ্রেনেড', শওকত ওসমানের 'জাহান্নাম হতে বিদায়' এবং এম আর আখতার মুকুলের 'চরমপত্র' আধুনিক সাহিত্যের ঐতিহাসিক ও লড়াকু দলিল।
আধুনিক যুগ

৬. বিগত সালের বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও বিশ্লেষণ (৫০টি)

০১. 'প্রদোষে প্রাকৃতজন' উপন্যাসের লেখক-

ক. শওকত আলী
খ. শওকত ওসমান
গ. শহীদুল জহির
ঘ. শহীদুল্লাহ কায়সার
উত্তর:
ব্যাখ্যা: 'প্রদোষে প্রাকৃতজন' শওকত আলী রচিত একটি বিখ্যাত ঐতিহাসিক উপন্যাস।

০২. 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' -

ক. উপন্যাস
খ. চিত্রকর্ম
গ. নাটক
ঘ. চলচ্চিত্র
উত্তর:
ব্যাখ্যা: 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাসটির রচয়িতা আলাউদ্দিন আল আজাদ

০৩. উপন্যাসে উপস্থাপিত কাহিনিকে কী বলা হয়?

ক. আখ্যানভাগ
খ. উপকাহিনী
গ. ভাষারভঙ্গি
ঘ. বলারভঙ্গি
উত্তর:
ব্যাখ্যা: আখ্যানভাগ হলো উপন্যাসের মূল কাহিনি বা গল্পের কাঠামো-যেখানে চরিত্র, ঘটনা, স্থান ও সময়ের ধারাবাহিক বিন্যাসে কাহিনি গড়ে ওঠে। এটি উপন্যাসের প্রাণভিত্তি।

০৪. বাংলা ভাষার প্রথম সাময়িক পত্র কোনটি?

ক. সংবাদ প্রভাকর
খ. দিগ্দর্শন
গ. বঙ্গদর্শন
ঘ. তত্ত্ববোধিনী
উত্তর:

০৫. ভারতবর্ষে প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র কোনটি?

ক. ক্যালকাটা গেজেট
খ. সমাচার দর্পণ
গ. বেঙ্গল গেজেট
ঘ. বাঙ্গাল গেজেট
উত্তর:

০৬. প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত 'সবুজপত্র' প্রথম কত সালে প্রকাশিত হয়?

ক. ১৯১৩
খ. ১৯১৪
গ. ১৯১৫
ঘ. ১৯১৭
উত্তর:

০৭. 'ইডিপাস' কার রচিত ট্র্যাজেডি নাটক?

ক. ইউরিপিদেস
খ. সফোক্লিস
গ. শেক্সপিয়ার
ঘ. প্লটাস
উত্তর:

০৮. 'হুমায়ুননামা' কে লিখেছেন?

ক. গুলবদন বেগম
খ. সম্রাট আকবর
গ. সম্রাট হুমায়ুন
ঘ. হুমায়ূন আহমেদ
উত্তর:
ব্যাখ্যা: গুলবদন বেগম ছিলেন মুঘল সম্রাট বাবরের কন্যা এবং সম্রাট হুমায়ুনের বোন। তিনি ফারসি ভাষায় 'হুমায়ুননামা' নামক জীবনীগ্রন্থটি লেখেন।

০৯. 'চর্যাপদ' বাংলা ভাষায় রচিত এ বিষয়টি প্রথম কে প্রমাণ করেন?

ক. সুকুমার সেন
খ. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
গ. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ঘ. ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায়
উত্তর:

১০. বাংলা সাহিত্যের আদি গ্রন্থ চর্যাপদ রচিত হয় কোন আমলে-

ক. শশাংকের আমলে
খ. পাল আমলে
গ. সেন আমলে
ঘ. সুলতানী আমলে
উত্তর:

১১. চর্যাপদ কোন ছন্দে লেখা?

ক. মাত্রাবৃত্ত
খ. অক্ষরবৃত্ত
গ. স্বরবৃত্ত
ঘ. অমিত্রাক্ষর
উত্তর:

১২. 'নিষেধের বিড়ম্বনা' কার লেখা?

ক. আবুল মনসুর আহমদ
খ. আবুল হুসেন
গ. আবুল হোসেন
ঘ. আবুল ফজল
উত্তর:
ব্যাখ্যা: 'নিষেধের বিড়ম্বনা' একটি ব্যঙ্গাত্মক প্রবন্ধ

১৩. 'বখতিয়ারের ঘোড়া' - এর রচয়িতা কে?

ক. ফররুখ আহমদ
খ. কাজী নজরুল ইসলাম
গ. শহীদ কাদরী
ঘ. আল মাহমুদ
উত্তর:

১৪. 'বাঙালির ইতিহাস' বইটি লিখেছেন?

ক. তারাপদ রায়
খ. নীহাররঞ্জন রায়
গ. সুকুমার রায়
ঘ. লোকনাথ রায়
উত্তর:

১৫. গাড়ি চলে না, চলে না, চলে না রে গাড়ি চলে না...... গানের রচয়িতা কে-

ক. শাহ আব্দুল করিম
খ. হাসন রাজা
গ. লালন শাহ
ঘ. সিরাজ শাহ
উত্তর:

১৬. 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি' -এ গানের গীতিকার কে?

ক. আবদুল লতিফ
খ. আসাদ চৌধুরী
গ. আবদুল গাফফার চৌধুরী
ঘ. আলতাফ মাহমুদ
উত্তর:

১৭. "ধন ধান্য পুষ্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা" গানটির রচয়িতা কে?

ক. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খ. কাজী নজরুল ইসলাম
গ. মনিরুজ্জামান
ঘ. দ্বিজেন্দ্র লাল রায়
উত্তর:

১৮. 'সব কটা জানালা খুলে দাও না' এর গীতিকার কে?

ক. আলতাফ মাহমুদ
খ. নজরুল ইসলাম বাবু
গ. মুনীর চৌধুরী
ঘ. ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল
উত্তর:

১৯. মুনীর চৌধুরীর 'মুখরা রমণী বশীকরণ' কার লেখার অনুবাদ-

ক. Williams Wordsworth
খ. W. Somerset Maugham
গ. William Shakespeare
ঘ. Charles Dickens
উত্তর:

২০. ড. মুহাম্মদ ইউনূস কত সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার অর্জন করেন?

ক. ২০০৪
খ. ২০০৫
গ. ২০০৬
ঘ. ২০০৭
উত্তর:

২১. মরমী কবি বলা হয় কাকে?

ক. হাসন রাজা
খ. লালন শাহ
গ. জসীম উদ্‌দীন
ঘ. নজরুল ইসলাম
উত্তর:

২২. 'মোমেনের জবানবন্দী'র রচয়িতা মাহবুব-উল আলম চট্টগ্রামের কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?

ক. পতেঙ্গা
খ. রাউজান
গ. ফতেয়াবাদ
ঘ. মাদার্শা
উত্তর:

২৩. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বংশ পদবি কী ছিল?

ক. মুখোপাধ্যায়
খ. চট্টোপাধ্যায়
গ. বন্দ্যোপাধ্যায়
ঘ. চক্রবর্তী
উত্তর:

২৪. মীর মশাররফ হোসেনের বিখ্যাত গ্রন্থ কোনটি?

ক. বিষাদসিন্ধু
খ. বিষাদবিন্ধু
গ. বিষাদ-সিন্ধু
ঘ. বিষাদ সিন্ধু
উত্তর:

২৫. 'শিখা' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে কে দায়িত্ব পালন করেছেন?

ক. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
খ. কাজী মোতাহার হোসেন
গ. আহসান হাবীব
ঘ. কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর:

২৬. 'সংস্কৃতি কথা' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?

ক. কাজী আবদুল ওদুদ
খ. আবুল মনসুর আহমদ
গ. কাজী মোতাহার হোসেন
ঘ. মোতাহার হোসেন চৌধুরী
উত্তর:

২৭. প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম কোনটি?

ক. প্রেমচাঁদ ঠাকুর
খ. টেকচাঁদ ঠাকুর
গ. চন্দ্র ঠাকুর
ঘ. যাযাবর ঠাকুর
উত্তর:

২৮. আবেগের 'উৎকট প্রাধান্য' থাকে কোন ধরনের নাটকে?

ক. কমেডি
খ. ট্রাজেডি
গ. মেলোড্রামা
ঘ. যাত্রা
উত্তর:
ব্যাখ্যা: আবেগের 'উৎকট প্রাধান্য' মানে হলো অতিরঞ্জিত ও চরম আবেগের প্রকাশ। মেলোড্রামার মূল বৈশিষ্ট্যই হলো দর্শকের আবেগে আঘাত করা।

২৯. জহির রায়হানের জন্ম কোন জেলায়?

ক. ঢাকা
খ. ফেনী
গ. বরিশাল
ঘ. মানিকগঞ্জ
উত্তর:

৩০. বাংলা সাহিত্যে 'ডাক ও খনার বচন' কোন যুগের সাহিত্যিক নিদর্শন?

ক. প্রাচীন যুগ
খ. আধুনিক যুগ
গ. উত্তর-আধুনিক যুগ
ঘ. মধ্যযুগ
উত্তর:

৩১. নিচের কোন চিরায়ত সাহিত্যের অনুবাদ যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত এর নয়?

ক. হ্যামলেট
খ. ম্যাকবেথ
গ. জুলিয়াস সিজার
ঘ. ওথেলো
উত্তর:

৩২. 'লায়লী-মজনু' প্রণয়োপাখ্যান সম্পাদনা করেন কে?

ক. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
খ. মুহাম্মদ এনামুল হক
গ. আনোয়ার পাশা
ঘ. আহমদ শরীফ
উত্তর:
ব্যাখ্যা: 'লায়লী-মজনু' প্রণয়োপাখ্যান রচনা করেন দৌলত উজির বাহরাম খাঁন, এই গ্রন্থটি সম্পাদনা করেন আহমদ শরীফ; বাংলা একাডেমি থেকে ১৯৫৭ সালে তা প্রকাশিত হয়।

৩৩. 'সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত' উক্তিটি কার?

ক. প্রমথ চৌধুরী
খ. কাজী আব্দুল ওদুদ
গ. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ঘ. মোহাম্মদ লুৎফর রহমান
উত্তর:

৩৪. 'রিক্তের বেদন' কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?

ক. অভিভাষণ
খ. উপন্যাস
গ. গল্প
ঘ. প্রবন্ধ
উত্তর:
ব্যাখ্যা: 'রিক্তের বেদন' কাজী নজরুল ইসলামের একটি গল্পগ্রন্থ। এতে মোট ৮টি ছোট গল্প রয়েছে।

৩৫. 'সুখ-দুঃখ-বেদনা উপলব্ধির ফলে অন্তরের যে পরিপক্বতা, তাই তো-----।' শূন্যস্থানে নিচের কোনটি হবে?

ক. আত্মা
খ. অনুভব
গ. চিত্ত
ঘ. মনুষ্যত্ব
উত্তর:
ব্যাখ্যা: এ বাক্যটি মোতাহের হোসেন চৌধুরীর 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধ থেকে নেওয়া হয়েছে।

৩৬. 'খোয়াবনামা' কী ধরনের গ্রন্থ?

ক. কাব্য
খ. ছোট গল্প
গ. উপন্যাস
ঘ. নাটক
উত্তর:

৩৭. 'ইকারুশের আকাশ' এর 'ইকারুশ' কোন মিথ থেকে গৃহীত?

ক. স্প্যানিশ
খ. রুশ
গ. সংস্কৃত
ঘ. গ্রিক
উত্তর:
ব্যাখ্যা: 'ইকারুশ' নামটি গ্রিক পুরাণের ইকারাস চরিত্র থেকে গৃহীত যিনি ড্যাডালাসের ছেলেরূপে পরিচিত। 'ইকারুসের আকাশ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা শামসুর রাহমান

৩৮. 'রদাঁ' কে ছিলেন?

ক. চিত্রশিল্পী
খ. ভাস্কর
গ. লেখক
ঘ. সংগীতশিল্পী
উত্তর:
ব্যাখ্যা: অগুস্ত রদাঁ (Auguste Rodin), যিনি ছিলেন একজন ফরাসি ভাস্কর

৩৯. বাংলায় অনূদিত হয়েছে এমন প্রাচীনতম আইন কোন দেশে প্রচলিত ছিল?

ক. ভারত
খ. গ্রিস
গ. ইরাক
ঘ. মিশর
উত্তর:

৪০. 'গাজীর গান' এর গাজী কে?

ক. দক্ষিণবঙ্গের জমিদার
খ. খোয়াজখিজিরের শিষ্য
গ. কুমিরের দেবতা
ঘ. বাঘের অধিষ্ঠাতা
উত্তর:
ব্যাখ্যা: গাজীর গান হচ্ছে লোকজ গাজী পীরের বন্দনাগীতি। মাঝখানের বড় ছবিটি পীর গাজীর; যেখানে গাজী বসে আছে বাঘের ওপর

৪১. 'কত নদী সরোবর' গ্রন্থের লেখক কে?

ক. হুমায়ূন আহমেদ
খ. হুমায়ুন আজাদ
গ. আনিসুল হক
ঘ. সৈয়দ শামসুল হক
উত্তর:
ব্যাখ্যা: হুমায়ুন আজাদ রচিত প্রবন্ধ 'কতো নদী সরোবর' (১৯৮৭)।

৪২. 'সুবচন নির্বাসনে' কোন ধরনের গ্রন্থ?

ক. উপন্যাস
খ. নাটক
গ. কাব্য
ঘ. ছোটগল্প
উত্তর:
ব্যাখ্যা: 'সুবচন নির্বাসনে' আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত দ্বিতীয় প্রকাশিত নাটক

৪৩. 'একুশে ফেব্রুয়ারী' সংকলনটি কার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়?

ক. শামসুর রাহমান
খ. হাসান হাফিজুর রহমান
গ. আবুল হাসান
ঘ. শহীদ কাদরী
উত্তর:
ব্যাখ্যা: ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম সংকলন একুশে ফেব্রুয়ারি; সম্পাদক হাসান হাফিজুর রহমান

৪৪. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক কোনটি?

ক. কী চাহ হে শঙ্খচিল
খ. বাকি ইতিহাস
গ. চাকা
ঘ. কবর
উত্তর:
ব্যাখ্যা: মমতাজউদদীন আহমদ রচিত নাটক 'কী চাহ হে শঙ্খচিল'

৪৫. মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিকায় লেখা কাব্য কোনটি?

ক. নেকড়ে অরণ্য
খ. বন্দী শিবির থেকে
গ. প্রিয়যোদ্ধা প্রিয়তম
ঘ. নিষিদ্ধ লোবান
উত্তর:
ব্যাখ্যা: মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত শামসুর রাহমানের কাব্যগ্রন্থ 'বন্দী শিবির থেকে' (১৯৭২)

৪৬. শহিদ মুনীর চৌধুরীর মানুষ নাটকের উপজীব্য বিষয় কী?

ক. মানবতা
খ. মৌলিক চেতনা
গ. অসাম্প্রদায়িকতা
ঘ. স্বাধীনতা
উত্তর:
ব্যাখ্যা: 'মানুষ' নাটকের উপজীব্য বিষয় 'সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রেক্ষাপট'

৪৭. নিচের কোনটি গল্প ও উপন্যাস?

ক. মৃত্যুক্ষুধা
খ. ছায়ানট
গ. শবনম
ঘ. দূর সঙ্গী
উত্তর:
ব্যাখ্যা: মৃত্যুক্ষুধা কাজী নজরুল ইসলামের একটি উপন্যাস

৪৮. শিক্ষা ও সাহিত্য পরস্পর-

ক. পরিপূরক
খ. সমান্তরাল
গ. বিপরীত
ঘ. নির্ভরশীল
উত্তর:

৪৯. নিচের কোনটি চম্পুকাব্যের নিদর্শন?

ক. শূণ্যপুরাণ
খ. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
গ. রামায়ণ
ঘ. সেক শুভোদয়া
উত্তর:
ব্যাখ্যা: রামাই পণ্ডিত রচিত ধর্মপূজার শাস্ত্রগ্রন্থ শূন্যপুরাণ গদ্য ও পদ্যের মিশ্রণে রচিত একটি চম্পুকাব্য

৫০. নিচের কোন সাহিত্য ধারাটি ব্যতিক্রম?

ক. বৈষ্ণব সাহিত্য
খ. নাথ সাহিত্য
গ. লোক সাহিত্য
ঘ. শাক্ত পদ
উত্তর:
ব্যাখ্যা: লোক সাহিত্য হলো লোক মুখে প্রচলিত গাঁথা কাহিনি, গান বা ছড়া। অন্যদিকে বৈষ্ণব, নাথ এবং শাক্ত পদ সাহিত্যগুলো মধ্যযুগের লিখিত ধর্মভিত্তিক সাহিত্যকর্ম।

৭. চূড়ান্ত প্রস্তুতির জন্য ৫০টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এককথার তথ্য (One-Liner Data)

১.

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকে তিনটি যুগে ভাগ করা যায়: প্রাচীন যুগ, মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগ

২.

প্রাচীন যুগের একমাত্র লিখিত সাহিত্যিক নিদর্শন হলো চর্যাপদ

৩.

মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রয়্যাল লাইব্রেরি থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন।

৪.

১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' নামে চর্যাপদ প্রকাশিত হয়।

৫.

ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে তাঁর 'ODBL' গ্রন্থে প্রমাণ করেন যে চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।

৬.

চর্যাপদের ভাষাকে 'সন্ধ্যা ভাষা' বা আলো-আঁধারি ভাষা বলা হয়।

৭.

চর্যাপদে সবচেয়ে বেশি পদ রচনা করেছেন কাহ্নপা (১৩টি পদ)

৮.

লুইপা হলেন বাংলা সাহিত্যের আদি কবি।

৯.

চর্যাপদের সংস্কৃত টীকা রচনা করেন মুনিদত্ত (তিনি ১১ নং পদের ব্যাখ্যা করেননি)।

১০.

ভুসুকুপা তাঁর রচিত ৪৯ নং পদে নিজেকে বাঙালি বলে পরিচয় দিয়েছেন এবং এতে পদ্মা নদীর উল্লেখ রয়েছে।

১১.

বাংলা সাহিত্যের 'অন্ধকার যুগ' বা 'যুগসন্ধিক্ষণ' ধরা হয় ১২০১ থেকে ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে।

১২.

অন্ধকার যুগের উল্লেখযোগ্য সাহিত্যিক নিদর্শন হলো 'শূন্যপুরাণ' (রামাই পণ্ডিত) এবং 'সেক শুভোদয়া' (হলায়ুধ মিশ্র)

১৩.

মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রথম নিদর্শন এবং খাঁটি বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম গ্রন্থ হলো 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য

১৪.

'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যটি রচনা করেন বডু চণ্ডীদাস এবং আবিষ্কার করেন বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ ১৯০৯ সালে

১৫.

মধ্যযুগের সাহিত্যের মূল বৈশিষ্ট্য হলো দেব-দেবীর আরাধনা ও ধর্মনির্ভরতা

১৬.

মনসামঙ্গল কাব্যের আদি কবি কানাহরি দত্ত এবং শ্রেষ্ঠ কবি বিজয়গুপ্ত

১৭.

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত এবং শ্রেষ্ঠ কবি কবিকঙ্কণ মুকুন্দরাম চক্রবর্তী

১৮.

ধর্মমঙ্গল কাব্যের আদি কবি ময়ূর ভট্ট এবং শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী

১৯.

অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর, যিনি মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ ও শেষ কবি হিসেবে সমাদৃত।

২০.

বৈষ্ণব পদাবলির আদি রচয়িতা বিদ্যাপতি, যিনি 'ব্রজবুলি' ভাষায় পদ রচনা করেন।

২১.

'ব্রজবুলি' হলো মৈথিলি এবং বাংলা ভাষার এক অপূর্ব কৃত্রিম সংমিশ্রণ।

২২.

বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি রচয়িতা হলেন চণ্ডীদাস

২৩.

বাংলা সাহিত্যে অনুবাদ সাহিত্যের সূচনা হয় কৃত্তিবাস ওঝার 'রামায়ণ' অনুবাদের মধ্য দিয়ে।

২৪.

মহাভারতের প্রথম অনুবাদক কবীন্দ্র পরমেশ্বর এবং শ্রেষ্ঠ অনুবাদক কাশীরাম দাস

২৫.

ভাগবতের প্রথম অনুবাদক মালাধর বসু এবং তাঁর উপাধি ছিল 'গুণরাজ খান'

২৬.

বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর, যিনি 'ইউসুফ-জুলেখা' কাব্য রচনা করেন।

২৭.

আরাকান রাজসভার প্রথম বাঙালি কবি দৌলত কাজী, যাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি 'সতী ময়না ও লোরচন্দ্রানী'

২৮.

আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি মহাকবি আলাওল, যিনি 'পদ্মাবতী' রচনা করেন।

২৯.

চন্দ্রকুমার দের সংগ্রহে এবং ড. দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় 'ময়মনসিংহ গীতিকা' প্রকাশিত হয়।

৩০.

আধুনিক যুগের সূচনা হয় ১৮০১ সালে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের মাধ্যমে গদ্য রচনার মধ্য দিয়ে।

৩১.

রামরাম বসুর 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' হলো বাঙালির লেখা প্রথম মুদ্রিত বাংলা গদ্যগ্রন্থ।

৩২.

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয় এবং তিনি বাংলা ভাষায় বিরাম চিহ্নের প্রবর্তক

৩৩.

'দুর্গেশনন্দিনী' বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস, যা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচনা করেন।

৩৪.

মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দ এবং সনেটের প্রবর্তন করেন।

৩৫.

বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্র্যাজেডি নাটক হলো মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'কৃষ্ণকুমারী'

৩৬.

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'চোখের বালি' বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।

৩৭.

কাজী নজরুল ইসলাম 'বিদ্রোহী' কবিতার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনেন।

৩৮.

ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম সংকলন 'একুশে ফেব্রুয়ারি' সম্পাদনা করেন হাসান হাফিজুর রহমান

৩৯.

মুনীর চৌধুরী বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বসে 'কবর' নাটক রচনা করেন।

৪০.

জহির রায়হান পরিচালিত 'স্টপ জেনোসাইড' হলো ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতা তুলে ধরা একটি প্রামাণ্যচিত্র।

৪১.

সেলিনা হোসেন রচিত 'হাঙর নদী গ্রেনেড' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি অনবদ্য উপন্যাস।

৪২.

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস তাঁর 'খোয়াবনামা' এবং 'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাসে জাদুকরী বাস্তবতার প্রয়োগ ঘটিয়েছেন।

৪৩.

বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের 'সুলতানার স্বপ্ন' বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম প্রথম নারীবাদী কল্পবিজ্ঞান রচনা।

৪৪.

বাংলা সাহিত্যে প্রথম জীবনী সাহিত্য রচিত হয় শ্রীচৈতন্য দেবকে কেন্দ্র করে (যেমন: বৃন্দাবন দাসের 'চৈতন্যভাগবত')।

৪৫.

মধ্যযুগের সবচেয়ে প্রতিবাদী পুরুষ চরিত্র হলো মনসামঙ্গলের 'চাঁদ সওদাগর'

৪৬.

মধ্যযুগের সবচেয়ে প্রতিবাদী নারী চরিত্র হলো চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের 'ফুল্লরা'

৪৭.

'নীলদর্পণ' নাটকটি রচনা করেন দীনবন্ধু মিত্র, যা নীলকরদের অত্যাচারের চিত্র তুলে ধরে।

৪৮.

'নীলদর্পণ' নাটকের ইংরেজি অনুবাদ করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত (A Native ছদ্মনামে)

৪৯.

প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত 'সবুজপত্র' পত্রিকার মাধ্যমে চলিত রীতির প্রবর্তন ও প্রসার ঘটে।

৫০.

শওকত ওসমানের 'জাহান্নাম হতে বিদায়' ১৯৭১ সালের রাজনৈতিক বিভীষিকা ও মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত একটি বিখ্যাত উপন্যাস।