Limited Access!
Sign in and purchase a course to unlock full access to all notes.
Note Categories
Subjects & Chapters
বাংলা সাহিত্যের শাখা
আজকের আলোচ্য সূচি (Step-by-Step Topic Table)
| ধাপ | মূল টপিক | উপ-টপিকসমূহ |
|---|---|---|
| ধাপ ১ | সূচনা ও যুগবিভাগ | বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন, মধ্য ও আধুনিক যুগের কাল বিভাজন এবং দার্শনিক পটভূমি। |
| ধাপ ২ | প্রাচীন যুগ | চর্যাপদের আবিষ্কার, নামকরণ, সান্ধ্য ভাষা, ছন্দ, পদকর্তা এবং সাধনতত্ত্ব। |
| ধাপ ৩ | অন্ধকার যুগ | ১২০১-১৩৫০ খ্রিষ্টাব্দের সাহিত্যিক শূন্যতা এবং এর ব্যতিক্রমী নিদর্শন। |
| ধাপ ৪ | মধ্যযুগ (প্রথম পর্ব) | শ্রীকৃষ্ণকীর্তন, বৈষ্ণব পদাবলি, ব্রজবুলি ভাষা এবং জীবনী সাহিত্য। |
| ধাপ ৫ | মধ্যযুগ (দ্বিতীয় পর্ব) | মঙ্গলকাব্য (মনসা, চণ্ডী, ধর্ম, অন্নদা), অনুবাদ সাহিত্য এবং রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান। |
| ধাপ ৬ | মধ্যযুগ (তৃতীয় পর্ব) | লোকসাহিত্য, ময়মনসিংহ গীতিকা, মর্সিয়া সাহিত্য এবং অবক্ষয়ের যুগ (যুগসন্ধিক্ষণ)। |
| ধাপ ৭ | আধুনিক যুগ (গদ্য ও উপন্যাস) | ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ, বাংলা গদ্যের উদ্ভব, উপন্যাসের বিকাশ ও ত্রয়ী উপন্যাস। |
| ধাপ ৮ | আধুনিক যুগ (কবিতা, নাটক, প্রবন্ধ) | অমিত্রাক্ষর ছন্দ, মহাকাব্য, ছোটগল্পের রূপরেখা, নাটকের বিবর্তন এবং রম্যরচনা। |
| ধাপ ৯ | মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলন | ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কালজয়ী সাহিত্য এবং চলচ্চিত্রের তালিকা। |
| ধাপ ১০ | চূড়ান্ত রিভিশন (One-Liners) | ভর্তি পরীক্ষা ও এইচএসসির জন্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঠিক ৫০টি এককথার তথ্য। |
ধাপ ১
প্রথম : বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ ও এর দার্শনিক পটভূমি
- বাংলা সাহিত্যের হাজার বছরের বিস্তৃত ইতিহাসকে প্রধানত তিনটি যুগে ভাগ করা যায়: প্রাচীন যুগ, মধ্যযুগ এবং আধুনিক যুগ।
- এই যুগবিভাগ নিছক সময়ের ওপর ভিত্তি করে করা হয়নি; বরং সমাজব্যবস্থা, মানুষের জীবিকা, ধর্মাচরণ এবং মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে এই বিভাজন করা হয়েছে।
- ভাষাবিদদের মধ্যে বাংলা সাহিত্যের সূচনাকাল নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। ভাষার বিবর্তনের ধারাটি হলো— ইন্দো-ইউরোপীয় ➔ শতম ➔ সংস্কৃত ➔ প্রাকৃত ➔ অপভ্রংশ ➔ বঙ্গকামরূপী ➔ বাংলা।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে: বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের সময়কাল ৬৫০ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ। তিনি প্রাকৃত ও অপভ্রংশের সংমিশ্রণের দিকটি বিবেচনা করে ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দকে সূচনাকাল ধরেছেন।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে: এই সময়কাল ৯৫০ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ। তিনি মাগধী অপভ্রংশের বিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে ৯৫০ খ্রিষ্টাব্দকে সূচনাকাল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
- দার্শনিক পটভূমি: প্রাচীন যুগের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল ধর্মনির্ভরতা এবং গোষ্ঠীকেন্দ্রিকতা (যেমন- চর্যাপদ)। মধ্যযুগের (১২০১-১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ) সাহিত্যেও হিন্দু ও ইসলাম ধর্মভিত্তিক আখ্যানের প্রাধান্য ছিল; মানুষ এখানে দেবতার হাতের ক্রীড়নক মাত্র। তবে আধুনিক যুগে (১৮০১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বর্তমান) এসে সাহিত্যে বিশাল এক দার্শনিক বিপ্লব ঘটে। সাহিত্যে দেব-দেবীর স্থান দখল করে নেয় সাধারণ রক্তমাংসের মানুষ। নাগরিক জীবন, মানবতাবাদ, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং আত্মচেতনার চরম বিকাশ ঘটে এই যুগে।
💡 মনে রাখার শর্টকাট টেকনিক (যুগবিভাগ):
- শহীদুল্লাহ = ৬৫০ (শ এবং ৬-এর উচ্চারণগত মিল)।
- সুনীতি = ৯৫০ (সুনীতির 'ন' এবং ৯-এর ধ্বনিগত মিল)।
ধাপ ২
দ্বিতীয় : প্রাচীন যুগ (চর্যাপদ)
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম এবং একমাত্র আদি নিদর্শন হলো চর্যাপদ। এটি মূলত বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের রচিত সাধনসংগীত বা গানের সংকলন, যা প্রাচীন বাংলার সমাজচিত্র ও ধর্মীয় দর্শনের এক অসামান্য দলিল।
- ১. আবিষ্কার, নামকরণ ও প্রেক্ষাপট: মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থশালা (রয়্যাল লাইব্রেরি) থেকে ১৯০৭ সালে (১৩১৪ বঙ্গাব্দে) চর্যাপদের পুথি উদ্ধার করেন। প্রথম ও দ্বিতীয়বার ব্যর্থ হওয়ার পর তৃতীয়বারের চেষ্টায় তিনি এটি আবিষ্কার করতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে ১৯১৬ সালে তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে এই পুথিসহ আরও তিনটি পুথি (সরহপাদ, কৃষ্ণপাদ এবং ডাকার্ণব) একত্রে 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' নামে প্রকাশ করেন।
- চর্যাপদের নামকরণ নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে:
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ও সংস্কৃত টীকা অনুসারে: 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'। (চর্যা = যা আচরণীয়, অচর্যা = যা আচরণীয় নয়। অর্থাৎ বৌদ্ধ ধর্মের কোন বিধিবিধানগুলো পালনীয় এবং কোনগুলো বর্জনীয়)।
- টীকাকার মুনিদত্তের মতে: 'আশ্চর্যচর্যাচয়'।
- আধুনিক পণ্ডিতগণ একে বলেন: 'চর্যাগীতিকোষ'। - ২. চর্যাপদের ভাষা, ছন্দ ও অন্তর্নিহিত অর্থ: চর্যাপদের ভাষা অত্যন্ত প্রহেলিকাপূর্ণ এবং দ্ব্যর্থবোধক। এর বাইরের দিক থেকে একটি সাধারণ অর্থ পাওয়া যায়, কিন্তু ভেতরের দিক থেকে এটি বৌদ্ধ ধর্মের গভীর সাধনতত্ত্ব ও দর্শন বহন করে। এই দ্বৈত অর্থ ও অস্পষ্টতার কারণে চর্যাপদের ভাষাকে 'সান্ধ্য ভাষা' বা 'আলো-আঁধারি ভাষা' বলা হয়।
- উদাহরণ (Example): লুইপার রচিত চর্যাপদের প্রথম পদটি হলো— "কাআ তরুবর পঞ্চ বি ডাল / চঞ্চল চীএ পৈঠো কাল।" এর সাধারণ অর্থ: শরীর হলো গাছের মতো এবং এর পাঁচটি ডাল আছে; চঞ্চল চিত্তে কাল বা ধ্বংস প্রবেশ করে। কিন্তু এর নিগূঢ় দার্শনিক অর্থ হলো: মানবদেহের পঞ্চ ইন্দ্রিয়ই হলো পাঁচটি ডাল, চিত্ত চঞ্চল হলে পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে মোহ বা কাল প্রবেশ করে সাধনা ধ্বংস করে।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় তাঁর 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দ্য বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' (ODBL - 1926) গ্রন্থে ধ্বনিতাত্ত্বিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক যুক্তিসহ প্রমাণ করেন যে চর্যাপদের ভাষা মূলত বাংলা।
- ৩. পদকর্তা ও পদসংখ্যা: চর্যাপদের রচয়িতাদের 'মহাসিদ্ধ' বলা হতো এবং তাঁদের নামের শেষে সম্মানসূচক 'পা' উপাধি যুক্ত করা হতো।
- পদসংখ্যা ও পদকর্তা: ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, পদসংখ্যা ৫০টি এবং পদকর্তা ২৩ জন। অন্যদিকে ড. সুকুমার সেনের মতে পদসংখ্যা ৫১টি এবং পদকর্তা ২৪ জন।
- প্রাপ্ত পদ: নেপালের রাজদরবার থেকে উদ্ধারকৃত পুথিতে সম্পূর্ণ অবিকৃত অবস্থায় ৪৬টি এবং একটি খণ্ডিত পদ পাওয়া গেছে (মোট সাড়ে ৪৬টি)। ২৩ নম্বর পদটি খণ্ডিত অবস্থায় পাওয়া যায় (মাত্র ৬টি চরণ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল)।
- সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা: কাহ্নপা (১৩টি)। এরপর পর্যায়ক্রমে রয়েছেন ভুসুকুপা (৮টি) এবং সরহপা (৪টি)। নারী পদকর্তা: কুক্কুরিপা।
- আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি: প্রথম পদটির রচয়িতা লুইপা, যাকে আদি কবি বলা হয়। শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে সরহপাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ভুসুকুপা নিজেকে সুস্পষ্টভাবে বাঙালি দাবি করে বলেছেন, "আজি ভুসুকু বঙ্গালী ভইলী"।
📝 নিজেকে যাচাই করো (MCQ - চর্যাপদ):
-
১. চর্যাপদের টীকাকারের নাম কী?
ক) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী খ) মুনিদত্ত গ) লুইপা ঘ) শীলভদ্র
সঠিক উত্তর: খ) মুনিদত্ত -
২. চর্যাপদের কোন পদটি খণ্ডিত অবস্থায় পাওয়া গেছে?
ক) ১১ নং খ) ২৩ নং গ) ২৪ নং ঘ) ৩৩ নং
সঠিক উত্তর: খ) ২৩ নং
ধাপ ৩
তৃতীয় : অন্ধকার যুগ (১২০১-১৩৫০ খ্রিষ্টাব্দ)
- ১২০৪ সালে ইখতিয়ারউদ্দীন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজির বাংলা বিজয়ের পর থেকে ১৩৫০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত দেড় শ বছরের সময়কালকে বাংলা সাহিত্যের 'অন্ধকার যুগ' বলা হয়। তুর্কি আক্রমণের ফলে সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ধ্বংসলীলার কারণে সাহিত্য সাধনার মতো সৃষ্টিশীল কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছিল।
- তবে অনেক ভাষাবিদ এই তত্ত্ব সম্পূর্ণভাবে মানতে নারাজ। এই যুগের উল্লেখযোগ্য নিদর্শনগুলো হলো: রামাই পণ্ডিতের 'শূন্যপুরাণ' ও হলায়ুধ মিশ্রের 'সেক শুভোদয়া'।
- ডাক ও খনার বচন: খনার বচন মূলত কৃষিভিত্তিক এবং আবহাওয়াবিষয়ক ভবিষ্যৎবাণী। যেমন— "কলা রুয়ে না কেটো পাত, তাতেই কাপড় তাতেই ভাত।" এটি প্রাচীন বাংলার গ্রামীণ কৃষিজীবী মানুষের জীবনযাপনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত।
ধাপ ৪
চতুর্থ : মধ্যযুগ (শ্রীকৃষ্ণকীর্তন ও বৈষ্ণব সাহিত্য)
- মধ্যযুগের ব্যাপ্তি ১২০১ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত। এই যুগের সাহিত্য প্রধানত ধর্মকেন্দ্রিক হলেও সাহিত্যের আঙ্গিক ও রসে বৈচিত্র্য ছিল।
- ১. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য: প্রাচীন যুগের পর বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আদি নিদর্শন হলো 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য'। এটি একক কবির রচিত সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় প্রাপ্ত প্রথম পূর্ণাঙ্গ কাব্যগ্রন্থ।
- আবিষ্কার: ১৯০৯ সালে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর শহরের কাঁকিল্যা গ্রামের দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে এটি উদ্ধার করেন।
- রচয়িতা: বড়ু চণ্ডীদাস (প্রকৃত নাম: অনন্ত)।
- বৈশিষ্ট্য: এটি রাধা এবং কৃষ্ণের প্রেমলীলা নিয়ে রচিত একটি নাট্যগীতি। এর প্রধান তিনটি চরিত্র হলো— কৃষ্ণ (পরমাত্মার প্রতীক), রাধা (জীবাত্মার প্রতীক) এবং বড়ায়ি (দুজনের সংযোগকারী বা দূতী)। পয়ার এবং ত্রিপদী ছন্দের সার্থক ব্যবহার এখানে সুস্পষ্ট।
- ২. বৈষ্ণব সাহিত্য ও পদাবলি: পঞ্চদশ শতাব্দীতে শ্রীচৈতন্যদেবের ভাববিপ্লবকে কেন্দ্র করে বাংলা সাহিত্যে যে বিশাল ধারার জন্ম হয়, তা-ই বৈষ্ণব সাহিত্য। এর দুটি শাখা: বৈষ্ণব পদাবলি এবং জীবনী সাহিত্য।
- বৈষ্ণব পদাবলি: রাধা ও কৃষ্ণের আধ্যাত্মিক প্রেমলীলাই এর উপজীব্য। এর শ্রেষ্ঠ কবি বিদ্যাপতি। তিনি জাতিতে বাঙালি ছিলেন না, ছিলেন মিথিলার কবি। তাঁর পদাবলি রচিত হয়েছিল 'ব্রজবুলি' ভাষায় (বাংলা ও মৈথিলী ভাষার সুমধুর মিশ্রণ)। বাঙালি না হয়েও বাংলা সাহিত্যে তিনি চিরস্থায়ী আসন লাভ করেছেন। তাঁকে 'মৈথিল কোকিল' বলা হয়।
- চণ্ডীদাস: বৈষ্ণব পদাবলির আরেক দিকপাল। তাঁর অমর পঙ্ক্তি— "শুনহ মানুষ ভাই / সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।" এটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মানবতাবাদী চরণ।
- জীবনী সাহিত্য ও চৈতন্যদেব: শ্রীচৈতন্যদেব নিজে কোনো বাংলা গ্রন্থ রচনা করেননি (লিখেছিলেন সংস্কৃত 'শিক্ষাস্টকম')। তবু তাঁকে কেন্দ্র করে বিশাল চৈতন্য যুগ (১৫০০-১৭০০ খ্রিষ্টাব্দ) সৃষ্টি হয়। বাংলা জীবনী সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন বৃন্দাবন দাসের 'শ্রীচৈতন্যভাগবত' এবং কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত'। (এই ধারায় পরবর্তীতে গিরিশচন্দ্র সেন রচিত হযরত মুহম্মদ (সা.)-এর জীবনভিত্তিক 'মহাপুরুষচরিত' সীরাত গ্রন্থ হিসেবে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে)।
ধাপ ৫
পঞ্চম : মধ্যযুগ (মঙ্গলকাব্য)
- হিন্দু দেবদেবীর মহিমা, অলৌকিক ক্ষমতা প্রচার এবং মর্ত্যে তাঁদের পূজা প্রবর্তনের কাহিনি নিয়েই মঙ্গলকাব্যগুলো রচিত হয়েছিল।
- 💡 মঙ্গলকাব্যের ৫টি অংশ (Structural Pattern): ১. বন্দনা, ২. গ্রন্থোৎপত্তির কারণ, ৩. দেবখণ্ড, ৪. মর্ত্যখণ্ড, ৫. শ্রুতিফল।
- মনসামঙ্গল: সর্পদেবী মনসা এবং শিবভক্ত চাঁদ সওদাগরের সংঘাত এর মূল বিষয়। চাঁদ সওদাগরকে মধ্যযুগের সবচেয়ে প্রতিবাদী চরিত্র হিসেবে গণ্য করা হয়, যিনি দেবীর অন্যায়ের কাছে সহজে মাথা নত করেননি। বেহুলা-লখিন্দরের সতীত্বের কাহিনি এখানে স্থান পেয়েছে। আদি কবি কানা হরিদত্ত এবং শ্রেষ্ঠ কবি বিজয়গুপ্ত ('পদ্মপুরাণ')।
- ধর্মমঙ্গল: ধর্মঠাকুরের মহিমা কীর্তন করা হয়েছে, যিনি শূন্যবাদের প্রতীক। সমাজের নিম্নবর্গীয় মানুষের জীবনচিত্র এখানে ফুটে উঠেছে। এর প্রধান চরিত্র লাউসেন। সর্বশ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী।
- চণ্ডীমঙ্গল: সাধারণ ব্যাধ বা শিকারি কালকেতু কীভাবে দেবী চণ্ডীর আশীর্বাদে বিপুল ধনসম্পদের মালিক হয়ে কলিঙ্গ নগরের রাজা হন, তাই বর্ণিত হয়েছে। চণ্ডীমঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তী (উপাধি: কবিকঙ্কণ)।
- অন্নদামঙ্গল: এটি মঙ্গলকাব্য ধারার সর্বশেষ শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। অষ্টাদশ শতাব্দীর কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর এই কাব্য রচনা করেন। ভারতচন্দ্রকে মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ ও নাগরিক কবি বলা হয়। তাঁর কাব্যের বিখ্যাত চরণ— "আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে।" ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দে ভারতচন্দ্রের মৃত্যুর মধ্য দিয়েই বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের অবসান ঘটে।
📝 নিজেকে যাচাই করো (MCQ - মধ্যযুগ):
-
১. 'ব্রজবুলি' মূলত কী?
ক) ব্রজধামের ভাষা খ) বাংলা ও মৈথিলীর মিশ্র ভাষা গ) সংস্কৃতের রূপান্তর ঘ) এক ধরনের প্রাকৃত ভাষা
সঠিক উত্তর: খ) বাংলা ও মৈথিলীর মিশ্র ভাষা -
২. মধ্যযুগের সবচেয়ে প্রতিবাদী চরিত্র কোনটি?
ক) কালকেতু খ) লাউসেন গ) চাঁদ সওদাগর ঘ) ধনপতি
সঠিক উত্তর: গ) চাঁদ সওদাগর
ধাপ ৬
ষষ্ঠ : মধ্যযুগ (অনুবাদ, রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ও লোকসাহিত্য)
- ১. অনুবাদ সাহিত্য: মুসলিম সুলতানদের (বিশেষ করে সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ এবং হোসেন শাহের) প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় অনুবাদ সাহিত্যের বিকাশ ঘটে।
- রামায়ণ: সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি অনুবাদক কৃত্তিবাস ওঝা। এছাড়া চন্দ্রাবতী রামায়ণ অনুবাদ করেন, যিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি।
- মহাভারত: প্রথম অনুবাদ করেন কবীন্দ্র পরমেশ্বর ('পরাগলী মহাভারত')। তবে মহাভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও শ্রেষ্ঠ অনুবাদক হলেন কাশীরাম দাস।
- ২. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান: মুসলিম কবিরাই প্রথম মর্ত্যের সাধারণ মানুষের প্রেম, বিরহ ও মানবিক অনুভূতিকে সাহিত্যের মূল বিষয়বস্তু হিসেবে তুলে আনেন (দেব-দেবীর বদলে)।
- শাহ মুহম্মদ সগীর: পঞ্চদশ শতকে ফারসি আখ্যান অবলম্বনে 'ইউসুফ-জোলেখা' রচনা করেন, যা বাংলার প্রথম রোমান্টিক কাব্য।
- সৈয়দ আলাওল: এই ধারার সর্বশ্রেষ্ঠ কবি। তিনি হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সীর 'পদুমাবৎ' অবলম্বনে 'পদ্মাবতী' মহাকাব্যিক আখ্যান রচনা করেন। তাঁর কাব্যের অনুপম সৌন্দর্য: "সিন্ধুতীরে দেখি দিব্যস্থান / ধর্মমার্গে যেন সে সুনিৰ্মাণ।"
- অন্যান্য: দৌলত উজির বাহরাম খানের 'লাইলী-মজনু' এবং ফকির গরীবুল্লাহর 'আমির হামজা'।
- ৩. লোকসাহিত্য ও ময়মনসিংহ গীতিকা: সাধারণ গ্রামীণ মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত সাহিত্যই লোকসাহিত্য। এর সবচেয়ে সমৃদ্ধ ধারা হলো 'গীতিকা' বা পালাগান।
- ময়মনসিংহ গীতিকা: মহুয়া, মলুয়া, চন্দ্রাবতী ও দেওয়ানা মদিনার মতো অপূর্ব প্রেমের আখ্যান এতে স্থান পেয়েছে। দীনেশচন্দ্র সেন ১৯২৩ সালে চন্দ্রকুমার দে-এর সংগৃহীত পালাগানগুলো সম্পাদনা করে প্রকাশ করেন, যা ২৩টি ভাষায় অনূদিত হয়।
- মর্সিয়া সাহিত্য ও কবিগান: মর্সিয়া অর্থ শোকগীতি (কারবালার ঘটনা নিয়ে রচিত, যেমন শেখ ফয়জুল্লাহর 'জয়নবের চৌতিশা')। কবিগান হলো প্রশ্ন-উত্তরের প্রতিযোগিতামূলক গান, যার জনক রামনিধি গুপ্ত বা নিধুবাবু।
ধাপ ৭
সপ্তম : যুগসন্ধিক্ষণ এবং আধুনিক যুগের গদ্যসাহিত্য
- ১. যুগসন্ধিক্ষণ (১৭৬০-১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ): ১৭৬০ সালে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের মৃত্যুর পর থেকে ১৮৬০ সাল পর্যন্ত সময়কালকে 'যুগসন্ধিক্ষণ' বা 'অবক্ষয়ের যুগ' বলা হয়। মধ্যযুগের দেব নির্ভরতা শেষ হচ্ছিল, কিন্তু আধুনিক চিন্তা তখনও পূর্ণতা পায়নি। এই সময়ের শ্রেষ্ঠ কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। তিনি প্রাচীন মূল্যবোধ ও আধুনিক শিক্ষার এক অদ্ভুত মেলবন্ধন ঘটিয়েছিলেন। তাঁকে 'স্ববিরোধী কবি' বা 'খাঁটি বাঙালি কবি' বলা হয়।
- ২. বাংলা গদ্যের উদ্ভব ও ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ: আধুনিক যুগের (১৮০১-বর্তমান) সবচেয়ে বড় বৈপ্লবিক পরিবর্তন হলো 'বাংলা গদ্যের উদ্ভব'। প্রাচীন ও মধ্যযুগে সবই পদ্যে রচিত হতো।
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ: ১৮০০ সালের ৪ঠা মে লর্ড ওয়েলেসলি কলকাতায় এটি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮০১ সালে এখানে বাংলা বিভাগ খোলা হয় যার অধ্যক্ষ ছিলেন উইলিয়াম কেরি।
- প্রথম গদ্যগ্রন্থ: রামরাম বসু রচিত 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' (১৮০১) বাঙালি লিখিত এবং বাংলা অক্ষরে মুদ্রিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ।
- গদ্যের জনক: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যে যতিচিহ্নের (Punctuation) সার্থক প্রয়োগ ঘটিয়ে একে শৈল্পিক রূপ দেন। তাই বিদ্যাসাগরকে 'বাংলা গদ্যের জনক' বলা হয়।
- ৩. বাংলা উপন্যাস: উপন্যাসে মানুষের বৃহত্তর জীবন অত্যন্ত বাস্তবসম্মতভাবে ফুটে ওঠে।
- প্রথম উপন্যাস: প্যারীচাঁদ মিত্রের 'আলালের ঘরের দুলাল' (১৮৫৮)। এটি কথ্য বা 'আলালি ভাষায়' রচিত।
- প্রথম সার্থক উপন্যাস: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫)। তাঁর অন্যান্য অমর সৃষ্টি কপালকুণ্ডলা, বিষবৃক্ষ, আনন্দমঠ ইত্যাদি।
- রবীন্দ্রনাথ ও শরৎচন্দ্র: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'চোখের বালি'র মাধ্যমে মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাসের সূচনা করেন। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (দেবদাস, শ্রীকান্ত, পথের দাবী) হলেন বাংলা সাহিত্যের সর্বাধিক পঠিত ঔপন্যাসিক।
- ত্রয়ী উপন্যাস: তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম এবং সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সেই সময়, পূর্ব-পশ্চিম, প্রথম আলো বিখ্যাত ত্রয়ী উপন্যাসের উদাহরণ।
💡 শর্টকাট (উপন্যাসিক চেনার উপায়):
- বিভূতিভূষণ: প্রকৃতিপ্রেম, অরণ্য, গ্রামীণ সারল্য (পথের পাঁচালী, আরণ্যক)।
- মানিক: ফ্রয়েডীয় মনস্তত্ত্ব, অবচেতন মন, মার্ক্সবাদ (পদ্মানদীর মাঝি, পুতুলনাচের ইতিকথা)।
- তারাশঙ্কর: ক্ষয়িষ্ণু জমিদার প্রথা, রাঢ় বাংলার সমাজ (গণদেবতা)।
ধাপ ৮
অষ্টম : আধুনিক যুগ (ছোটগল্প, কবিতা, নাটক ও প্রবন্ধ)
- ১. বাংলা ছোটগল্প: বাংলা ছোটগল্পের প্রকৃত উদ্ভব ও চরম উৎকর্ষ সাধিত হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাতে (প্রথম সার্থক গল্প: দেনা-পাওনা)।
- বৈশিষ্ট্য: ছোটগল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো সংক্ষিপ্ততা এবং সমাপ্তিতে অতৃপ্তি।
- উদাহরণ: রবীন্দ্রনাথ তাঁর 'বর্ষাযাপন' কবিতায় ছোটগল্পের নিখুঁত সংজ্ঞা দিয়েছেন— "অন্তরে অতৃপ্তি রবে সাঙ্গ করি মনে হবে, / শেষ হয়েও হইল না শেষ।" তাঁর বিখ্যাত ছোটগল্প: পোস্টমাস্টার, কাবুলিওয়ালা, ক্ষুধিত পাষাণ।
- ২. বাংলা কবিতা, মহাকাব্য ও ছন্দ: আধুনিক বাংলা কবিতার প্রবর্তক মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- অবদান: তিনি বাংলা সাহিত্যে 'অমিত্রাক্ষর ছন্দ' এবং 'সনেট' (চতুর্দশপদী কবিতা) প্রবর্তন করেন। সনেটের বৈশিষ্ট্য হলো এর ১৪টি চরণ এবং প্রতি চরণে ১৪টি মাত্রা থাকে। প্রথম ৮ চরণকে 'অষ্টক' (ভাবের প্রবর্তনা) এবং শেষের ৬ চরণকে 'ষষ্টক' (ভাবের পরিণতি) বলে।
- মহাকাব্য: তাঁর রচিত 'মেঘনাদবধ কাব্য' (১৮৬১) বাংলা ভাষার প্রথম ও একমাত্র সার্থক মহাকাব্য।
- পঞ্চপাণ্ডব: রবীন্দ্র-প্রভাবের বাইরে গিয়ে ত্রিশের দশকে যে পাঁচজন আধুনিক কবি (জীবনানন্দ দাশ, বিষ্ণু দে, বুদ্ধদেব বসু, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, অমিয় চক্রবর্তী) নতুন ধারা তৈরি করেন, তাঁদের 'পঞ্চপাণ্ডব' বলা হয়।
- ৩. বাংলা নাটক: নাটক দৃশ্য ও শ্রব্য উভয় কাব্য। সমাজে এটি সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে।
- বিকাশ: বাঙালি রচিত প্রথম মৌলিক নাটক তারাচরণ শিকদারের 'ভদ্রার্জুন' (১৮৫২)। তবে প্রথম সার্থক নাট্যকার মাইকেল মধুসূদন দত্ত (তাঁর শর্মিষ্ঠা প্রথম সার্থক নাটক, কৃষ্ণকুমারী প্রথম ট্র্যাজেডি)।
- সামাজিক প্রভাব: দীনবন্ধু মিত্রের 'নীলদর্পণ' নাটকটি ব্রিটিশ নীলকরদের শোষণের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে, যা ঢাকায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়।
- ৪. প্রবন্ধ ও রম্যরচনা: প্রবন্ধ পাঠকের জ্ঞানতৃষ্ণাকে তৃপ্ত করে। এটি দুই প্রকার: তন্ময় (বস্তুনিষ্ঠ/তথ্যভিত্তিক) এবং মন্ময় (ব্যক্তিগত/আবেগমিশ্রিত)।
- বাংলা প্রবন্ধ সাহিত্যের প্রবর্তক রাজা রামমোহন রায়।
- রম্যরচনা: গুরুগম্ভীর বিষয়কে কৌতুকপূর্ণ ভাষায় উপস্থাপন। বঙ্কিমচন্দ্রের 'কমলাকান্তের দপ্তর' এবং সৈয়দ মুজতবা আলীর 'দেশে-বিদেশে' এর শ্রেষ্ঠ উদাহরণ।
ধাপ ৯
নবম : মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনভিত্তিক সাহিত্য
- বাঙালির আত্মপরিচয়ের স্তম্ভ ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ সাহিত্যে বিশাল প্রভাব ফেলেছে।
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস: আনোয়ার পাশার 'রাইফেল রোটি আওরাত' (প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস, রচনার সময় ১৯৭১), শওকত ওসমানের 'জাহান্নাম হইতে বিদায়', হুমায়ূন আহমেদের 'আগুনের পরশমণি', সেলিনা হোসেনের 'হাঙর নদী গ্রেনেড'।
- ভাষা আন্দোলনভিত্তিক নাটক: মুনীর চৌধুরীর 'কবর' (ঢাকা জেলে বসে ১৯৫৩ সালে রচিত)।
- চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র: জহির রায়হানের ভাষা আন্দোলনভিত্তিক চলচ্চিত্র 'জীবন থেকে নেয়া' (১৯৭০)। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র চাষী নজরুল ইসলামের 'ওরা ১১ জন' (১৯৭২)। তারেক মাসুদের 'মাটির ময়না' কান চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত প্রথম বাংলাদেশি চলচ্চিত্র।
ধাপ ১০
চূড়ান্ত রিভিশন (One-Liners) - ৫০টি এককথার তথ্য
ভর্তি পরীক্ষা ও এইচএসসি প্রস্তুতির জন্য বাছাইকৃত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। এগুলো ঠোঁটস্থ রাখতে হবে।
- ১. বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম এবং একমাত্র আদি নিদর্শন— চর্যাপদ।
- ২. চর্যাপদ নেপালের রাজদরবার থেকে ১৯০৭ সালে আবিষ্কার করেন— মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
- ৩. চর্যাপদে সবচেয়ে বেশি পদ রচনা করেছেন— কাহ্নপা (১৩টি)।
- ৪. চর্যাপদের আদি কবি হিসেবে পরিচিত— লুইপা।
- ৫. চর্যাপদের দ্ব্যর্থবোধক ও দার্শনিক ভাষাকে বলা হয়— সান্ধ্য ভাষা বা আলো-আঁধারি ভাষা।
- ৬. বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগের সময়কাল— ১২০১ থেকে ১৩৫০ খ্রিষ্টাব্দ।
- ৭. মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও আদি নিদর্শন— শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য।
- ৮. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা— বড়ু চণ্ডীদাস (প্রকৃত নাম অনন্ত)।
- ৯. ব্রজবুলি ভাষায় রচিত পদাবলির শ্রেষ্ঠ অবাঙালি কবি— বিদ্যাপতি।
- ১০. বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি— চন্দ্রাবতী।
- ১১. মধ্যযুগে জীবনী সাহিত্যের কেন্দ্রবিন্দু ও প্রবর্তক পুরুষ— শ্রীচৈতন্যদেব।
- ১২. শ্রীচৈতন্যদেব রচিত একমাত্র সাহিত্যকর্ম— শিক্ষাস্টকম (৮টি শ্লোক, সংস্কৃত ভাষায়)।
- ১৩. মনসামঙ্গল কাব্যের আদি কবি— কানা হরিদত্ত।
- ১৪. মধ্যযুগের সাহিত্যে সবচেয়ে প্রতিবাদী চরিত্র— চাঁদ সওদাগর (মনসামঙ্গল)।
- ১৫. চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের শ্রেষ্ঠ কবি— মুকুন্দরাম চক্রবর্তী (কবিকঙ্কণ)।
- ১৬. মধ্যযুগের সর্বশেষ শ্রেষ্ঠ কবি— ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর (অন্নদামঙ্গল)।
- ১৭. বাংলা ভাষায় রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক— কৃত্তিবাস ওঝা।
- ১৮. মহাভারতের প্রথম অনুবাদক— কবীন্দ্র পরমেশ্বর (পরাগলী মহাভারত)।
- ১৯. মহাভারতের শ্রেষ্ঠ ও সর্বাধিক জনপ্রিয় অনুবাদক— কাশীরাম দাস।
- ২০. বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান— ইউসুফ-জোলেখা (শাহ মুহম্মদ সগীর)।
- ২১. হিন্দি 'পদুমাবৎ' অবলম্বনে রোমান্টিক মহাকাব্য 'পদ্মাবতী' রচনা করেন— সৈয়দ আলাওল।
- ২২. ময়মনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে এবং সম্পাদনা করেন— ড. দীনেশচন্দ্র সেন।
- ২৩. যুগসন্ধিক্ষণ বা অবক্ষয়ের যুগের (১৭৬০-১৮৬০) শ্রেষ্ঠ কবি— ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- ২৪. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা বিভাগ খোলা হয়— ১৮০১ সালে।
- ২৫. বাঙালির লেখা ও বঙ্গাক্ষরে মুদ্রিত প্রথম গ্রন্থ— রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র (রামরাম বসু)।
- ২৬. বাংলা গদ্যে যতিচিহ্নের সার্থক প্রয়োগকারী ও বাংলা গদ্যের জনক— ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- ২৭. বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস— আলালের ঘরের দুলাল (প্যারীচাঁদ মিত্র, ১৮৫৮)।
- ২৮. বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস— দুর্গেশনন্দিনী (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ১৮৬৫)।
- ২৯. বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলমান রচিত উপন্যাস— রত্নবতী (মীর মশাররফ হোসেন)।
- ৩০. বাংলা সাহিত্যের সর্বাধিক পঠিত ও জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক— শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- ৩১. বাংলা ছোটগল্পের প্রকৃত উদ্ভবকারী ও জনক— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- ৩২. কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত রচনা (গল্প)— বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী।
- ৩৩. বাংলা সাহিত্যে চতুর্দশপদী কবিতা বা সনেটের প্রবর্তক— মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- ৩৪. বাংলা কবিতায় অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক— মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- ৩৫. বাংলা কবিতার 'পঞ্চপাণ্ডব'— তিরিশের দশকের ৫ জন প্রথিতযশা আধুনিক কবি (জীবনানন্দ, বিষ্ণু দে, সুধীন্দ্রনাথ, বুদ্ধদেব, অমিয়)।
- ৩৬. বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক নাটক— ভদ্রার্জুন (তারাচরণ শিকদার, ১৮৫২)।
- ৩৭. বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্র্যাজেডি নাটক— কৃষ্ণকুমারী (মাইকেল মধুসূদন দত্ত)।
- ৩৮. প্রথম মুসলমান রচিত বাংলা নাটক— বসন্ত কুমারী (মীর মশাররফ হোসেন)।
- ৩৯. ঢাকায় প্রথম অভিনীত নাটক (ব্রিটিশ বিরোধী)— নীলদর্পণ (দীনবন্ধু মিত্র)।
- ৪০. বাংলা প্রবন্ধ সাহিত্যের প্রবর্তক— রাজা রামমোহন রায়।
- ৪১. ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য সমাজের মুখপাত্র ছিল— শিখা পত্রিকা।
- ৪২. 'জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব'— এটি শিখা পত্রিকার মূল স্লোগান।
- ৪৩. বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও সার্থক মহাকাব্য— মেঘনাদবধ কাব্য (মাইকেল মধুসূদন দত্ত)।
- ৪৪. হযরত মুহম্মদ (সা.)-কে নিয়ে রচিত প্রথম জীবনচরিত বা সীরাত গ্রন্থ— মহাপুরুষচরিত (গিরিশচন্দ্র সেন)।
- ৪৫. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র— ওরা ১১ জন (পরিচালক: চাষী নজরুল ইসলাম, ১৯৭২)।
- ৪৬. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিখ্যাত প্রামাণ্যচিত্র 'স্টপ জেনোসাইড' নির্মাণ করেন— জহির রায়হান।
- ৪৭. কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রথম পুরস্কারপ্রাপ্ত বাংলাদেশি চলচ্চিত্র— মাটির ময়না (পরিচালক: তারেক মাসুদ)।
- ৪৮. বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়— ১৯৫৫ সালের ৩রা ডিসেম্বর।
- ৪৯. বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ 'বাংলাপিডিয়া'-এর প্রধান সম্পাদক— ড. সিরাজুল ইসলাম।
- ৫০. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস বিষয়ক প্রথম সার্থক গ্রন্থ— বঙ্গভাষা ও সাহিত্য (ড. দীনেশচন্দ্র সেন)।