Limited Access!
Sign in and purchase a course to unlock full access to all notes.
Note Categories
Subjects & Chapters
Chapters
অপরিচিতা
বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন
বিলাসী
গৃহ
আহ্বান
আমার পথ
মানব-কল্যাণ
মাসি-পিসি
রেইনকোট
মহাজাগতিক কিউরেটর
নেকলেস
বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ
সোনার তরী
বিদ্রোহী
প্রতিদান
সুচেতনা
তাহারই পড়ে মনে
পদ্মা
আঠারো বছর বয়স
ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯
আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
নুরুলদীনের কথা মনে পড়ে যায়
ছবি
লালসালু
সিরাজউদ্দৌলা
অপরিচিতা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার জন্য বিশ্লেষণমূলক অধ্যয়ন নির্দেশিকা
আজকের আলোচ্য বিষয়ের সূচিপত্র (ধাপে ধাপে)
১ গল্পের উৎস, প্রকাশকাল ও ধরন
২ লেখক পরিচিতি (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
৩ মূল চরিত্র বিশ্লেষণ: অনুপম
৪ মূল চরিত্র বিশ্লেষণ: কল্যাণী
৫ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র: মামা ও শম্ভুনাথ সেন
৬ অন্যান্য চরিত্র: হরিশ, বিনু দাদা ও মা
৭ গল্পের মনস্তাত্ত্বিক রূপক ও উপমা
৮ বিবাহ ও যৌতুক প্রথার নির্মমতা
৯ বিবাহভঙ্গ ও ব্যক্তিত্বের জাগরণ
১০ রেলগাড়ির ঘটনা ও নারীশক্তির উন্মেষ
১১ গল্পের সমাপ্তি ও অন্তর্নিহিত তাৎপর্য
১২ ভর্তি পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ ও টীকা
১৩ চূড়ান্ত বহুনির্বাচনি (MCQ) তথ্যকণিকা (৫০টি)
চলো, এবার প্রতিটি অনুযায়ী আমরা আমাদের মূল ও বিস্তারিত আলোচনায় প্রবেশ করি।
চরিত্রগুলোর ভিজ্যুয়াল ডায়াগ্রাম
[ মামা ]
⟵ (অন্ধ আনুগত্য ও পরনির্ভরশীলতা) ⟶
(শোষক, লোভী ও নিয়ন্ত্রক)
[ অনুপম ]
[ কল্যাণী ]
⟵ (প্রত্যাখ্যান ও আত্মবিকাশ) ⟶
(আকর্ষণ ও নিষ্ক্রিয়তা)
[ অনুপম ]
[ শম্ভুনাথ সেন ]
⟵ (আদর্শের কাছে পরাজয় ও নীরবতা) ⟶
[ অনুপম ]
গুরুত্বপূর্ণ ডেটা ম্যাট্রিক্স
১. চরিত্রগুলোর বয়সের ডেটা ম্যাট্রিক্স
| চরিত্রের নাম | বিয়ের সময়ের বয়স | বর্তমান বয়স (গল্প বলার সময়) | মনে রাখার শর্টকাট কৌশল |
|---|---|---|---|
| অনুপম | ২৩ বছর | ২৭ বছর | বর্তমান বয়স থেকে বিয়ের সময়ের পার্থক্য ৪ বছর। |
| কল্যাণী | ১৫ বছর | ১৯ বছর | ১৫ + ৪ = ১৯ বছর (গল্পের বর্তমান সময়ে)। |
| মামা | ২৯ বছর | ৩৩ বছর | অনুপমের চেয়ে ঠিক ৬ বছরের বড় (২৭ + ৬ = ৩৩)। |
| শম্ভুনাথ সেন | প্রযোজ্য নয় | চল্লিশের কিছু এপার-ওপার | চুলে কাঁচা-পাক ধরেছে, এমন পরিণত বয়স। |
২. প্রকাশকাল ও পত্রিকার ডেটা ম্যাট্রিক্স
| বিষয় | সুনির্দিষ্ট তথ্য |
|---|---|
| পত্রিকার নাম | সবুজপত্র |
| পত্রিকার সম্পাদক | প্রমথ চৌধুরী |
| বঙ্গাব্দ ও সংখ্যা | ১৩২১ বঙ্গাব্দ, কার্তিক সংখ্যা |
| খ্রিস্টাব্দ | ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ |
| প্রথম গ্রন্থভুক্তি | গল্পসপ্তক |
| চূড়ান্ত সংকলন | গল্পগুচ্ছ (তৃতীয় খণ্ড) |
৩. গুরুত্বপূর্ণ উপমা ও রূপকের ডেটা ম্যাট্রিক্স
এই অংশটি থেকে ভর্তি পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন আসে, তাই এটি ছক আকারে মনে রাখা সবচেয়ে নিরাপদ:
| উপমা / রূপক | যার বা যে ঘটনার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত | অন্তর্নিহিত অর্থ বা তাৎপর্য |
|---|---|---|
| মাকাল ফল ও শিমুল ফুল | অনুপমের বাহ্যিক সৌন্দর্য | বাইরে থেকে দেখতে সুন্দর হলেও ভেতরে গুণহীন বা অসার। |
| গজাননের ছোট ভাই | অনুপমের পরনির্ভরশীলতা | মা দুর্গার কোলে আশ্রিত কার্তিকের মতো, যার নিজস্ব কোনো সিদ্ধান্ত নেই। |
| ফল্গু নদী | মামার শোষক চরিত্র | বালির নিচ দিয়ে বয়ে চলা নদীর মতো, যে সংসারকে নীরবে শুষে নিয়েছে। |
| আন্দামান দ্বীপ | কলকাতার বাইরের জগত | মামার কুপমণ্ডূকতা এবং বাইরের পৃথিবী সম্পর্কে অজ্ঞতা। |
| পদ্মবন দলিত-বিদলিত করা | বরযাত্রীদের কোলাহল | মত্ত হাতির মতো শান্ত ও সুন্দর বিবাহ আসরের পরিবেশ নষ্ট করা। |
| দক্ষযজ্ঞ | বরযাত্রীদের ভাঙচুর | অপমানিত হয়ে ফিরে আসার সময় বরপক্ষের ক্ষোভ ও ধ্বংসাত্মক আচরণ। |
| মরীচিকা | নারীরূপের মোহ | অনুপমের বেকার জীবনে অলীক বা কাল্পনিক প্রেমের তৃষ্ণা। |
ভর্তি পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৫০টি এক-লাইনার তথ্য
এই বৈজ্ঞানিক কৌশলটির একটি ছোট নির্দেশিকা। যেমন: "প্রথম রিভিশন: পড়ার ১ দিন পর। দ্বিতীয় রিভিশন: ৩ দিন পর। তৃতীয় রিভিশন: ৭ দিন পর। কঠিন বা কনফিউজিং সাল/সংখ্যাগুলো ফ্ল্যাশকার্ডে লিখে বারবার দেখা।"
১. 'অপরিচিতা' গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয় প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত 'সবুজপত্র' পত্রিকায়।
২. গল্পটি ১৩২১ বঙ্গাব্দের কার্তিক সংখ্যায় (১৯১৪ খ্রি.) প্রকাশিত হয়।
৩. গল্পটি প্রথম গ্রন্থভুক্ত হয় 'গল্পসপ্তক' গ্রন্থে এবং পরে 'গল্পগুচ্ছ' তৃতীয় খণ্ডে।
৪. গল্পটি উত্তম পুরুষের জবানিতে (First-person narrative) রচিত।
৫. গল্পের নায়ক অনুপমের বর্তমান বয়স সাতাশ বছর এবং বিয়ের সময় বয়স ছিল তেইশ বছর।
৬. অনুপমের বাবার পেশা ছিল ওকালতি।
৭. অনুপমের বাবার জীবনের প্রথম অবকাশ বা ছুটি ছিল তাঁর মৃত্যু।
৮. অনুপমকে পণ্ডিতমশাই শিমুল ফুল ও মাকাল ফলের সাথে তুলনা করতেন।
৯. অনুপম নিজেকে অন্নপূর্ণার কোলে গজাননের ছোট ভাই (কার্তিক) হিসেবে ব্যঙ্গ করেছে।
১০. অনুপমের আসল অভিভাবক তার মামা, যে অনুপমের চেয়ে বড়জোর ছয় বছরের বড় (৩৩ বছর)।
১১. মামা অনুপমদের সংসারটিকে ফল্গু নদীর বালির মতো শুষে নিয়েছেন।
১২. মামা এমন বেয়াই চান যার টাকা নেই অথচ টাকা দিতে কসুর করবে না।
১৩. মামার কাছে কলকাতার বাইরের পৃথিবীটা আন্দামান দ্বীপের মতো।
১৪. মামা জীবনে একবার বিশেষ কাজে কোন্নগর পর্যন্ত গিয়েছিলেন।
১৫. মামা মনু হলে মনুসংহিতায় হাবড়ার পোল পার হওয়া নিষেধ করে দিতেন।
১৬. অনুপমের বন্ধু হরিশ কাজ করে কানপুরে।
১৭. আসর জমাতে অদ্বিতীয় এবং রসিক মানুষ হলো হরিশ।
১৮. বিয়ের সময় কল্যাণীর বয়স ছিল পনেরো বছর।
১৯. বরের হাট মহার্ঘ এবং পন হলো ধনুক ভাঙা।
২০. কন্যাকে আশীর্বাদ করতে কানপুরে পাঠানো হয় অনুপমের পিসতুতো ভাই বিনু দাদাকে।
২১. বিনু দাদার ভাষা অত্যন্ত আঁট, তিনি ‘চমৎকার’ না বলে বলেন ‘চলনসই’।
২২. বিনু দাদা কল্যাণীকে দেখে এসে বলেছিল, “মন্দ নয় হে! খাঁটি সোনা বটে।”
২৩. অনুপম বিনু দাদার রুচি ও দক্ষতার ওপর ষোলো আনা নির্ভর করে।
২৪. অনুপমের ভাগ্যে প্রজাপতির (বিয়ের দেবতা) সাথে পঞ্চশরের (প্রেমের দেবতা) কোনো বিরোধ নেই।
২৫. কল্যাণীর বাবা শম্ভুনাথ সেন পেশায় একজন ডাক্তার।
২৬. শম্ভুনাথ সেনের বয়স চল্লিশের কিছু এপার-ওপার।
২৭. শম্ভুনাথ সেনের এক উকিল বন্ধুর গলা ভাঙা, টাকপড়া এবং তিনি মিশকালো।
২৮. মামা বিয়েবাড়িতে এসে কনের গহনা মাপার জন্য সাথে নিয়ে আসেন শ্যাকরা, দাঁড়িপাল্লা ও কষ্টিপাথর।
২৯. কল্যাণীর সমস্ত গহনা ছিল পিতামহীদের আমলের, মোটা ও ভারী।
৩০. মকরমুখা বালাটিতে শ্যাকরা চাপ দিলে তা খাঁটি সোনা হওয়ায় বেঁকে যায়।
৩১. আশীর্বাদের ইয়ারিং বা কানের দুলটি ছিল বিলাতি মাল, যাতে সোনার ভাগ সামান্যই ছিল।
৩২. শম্ভুনাথ সেন বরপক্ষকে খাইয়ে দিয়ে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বিয়ে ভেঙে দেন।
৩৩. শম্ভুনাথ সেন বলেন, “ঠাট্টার সম্পর্কটাকে স্থায়ী করিবার ইচ্ছা আমার নাই।”
৩৪. বরযাত্রীরা ফেরার সময় রাগে দক্ষযজ্ঞের পালা সেরে বা ভাঙচুর করে ফিরে আসে।
৩৫. অনুপমের মন অবকাশের মরুভূমিতে নারীরূপের মরীচিকা দেখছিল।
৩৬. অনুপম রেলগাড়িতে মাঝরাতে একটি সুধাময় কণ্ঠ শুনতে পায়, “শিগগির চলে আয়, এই গাড়িতে জায়গা আছে।”
৩৭. অনুপমের চিরকালের গানের ধোঁয়া হয়ে দাঁড়ায় “জায়গা আছে” কথাটি।
৩৮. অনুপমের কাছে রূপের চেয়ে চিরকাল গলার স্বরই বড় সত্য।
৩৯. রেলগাড়ির চাকায় লোহার মৃদঙ্গে তাল বাজছিল।
৪০. পরের দিন সকালে সেকেন্ড ক্লাসের গাড়ি থেকে কল্যাণী অনুপমদের তাদের কামরায় ডাকে।
৪১. তাড়াহুড়োয় ট্রেনে ওঠার সময় অনুপম তার ফটোগ্রাফ তুলিবার ক্যামেরাটি স্টেশনে ফেলে আসে।
৪২. কল্যাণীকে প্রথম দেখার পর অনুপম তার বয়স ১৬ কি ১৭ বছর বলে অনুমান করে।
৪৩. কল্যাণীর সৌন্দর্যের শুচিতা অপূর্ব এবং গতি ছিল সহজ ও নির্মল।
৪৪. স্টেশনে খাবারওয়ালার কাছ থেকে কল্যাণী এক পত্তন চানা-মুঠ কিনেছিল।
৪৫. ইংরেজ স্টেশন মাস্টার এবং জেনারেলের অন্যায়ের প্রতিবাদ করে কল্যাণী টিকিট প্ল্যাটফর্মে ছুড়ে ফেলেছিল।
৪৬. কল্যাণী স্টেশন মাস্টারের সাথে ইংরেজিতে এবং রেলওয়ের দেশি কর্মচারীর সাথে হিন্দিতে কথা বলেছিল।
৪৭. মামার নিষেধ অমান্য করে অনুপম কানপুরে শম্ভুনাথ সেনের কাছে ছুটে যায়।
৪৮. কল্যাণী পুনরায় বিবাহ না করার কারণ হিসেবে ‘মাতৃ-আজ্ঞা’র কথা উল্লেখ করে।
৪৯. মাতৃ-আজ্ঞা বলতে এখানে মাতৃভূমির প্রতি দায়বদ্ধতা এবং নারী শিক্ষার ব্রতকে বোঝানো হয়েছে।
৫০. গল্পের শেষে অনুপম কানপুরেই অবস্থান করে এবং কল্যাণীর সান্নিধ্য পেয়েই মনে করে “এই তো জায়গা পাইয়াছি।”
MCQ 'Reverse Engineering' ও 'Active Recall' কৌশল
প্রশ্ন সমাধানের কৌশল: "প্রশ্নে যদি অপরিচিতা গল্পের পত্রিকার নাম জানতে চায় এবং অপশনে 'বঙ্গদর্শন' বা 'ভারতী' থাকে, তবে সাল ও সম্পাদকের নাম লজিক্যালি চিন্তা করে সেগুলো প্রথমেই বাতিল (Eliminate) করতে হবে, কারণ সেগুলো অন্য ঘরানার বা ভিন্ন সময়ের।"
এই সুবিন্যস্ত পাঠ্য নির্দেশিকাটি বারবার অধ্যয়ন করলে ভর্তি পরীক্ষায় ‘অপরিচিতা’ গল্প সম্পর্কিত যেকোনো বহুনির্বাচনি প্রশ্নের উত্তর তুমি নিশ্চিতভাবে সঠিকভাবে দিতে পারবে। তোমার সফলতার জন্য রইল আন্তরিক শুভকামনা!