Subjects & Chapters

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি - হিসাবের বইসমূহ
Full Page Thumbnail

হিসাবের বইসমূহ

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি (Slide Deck)

📋 আজকের আলোচ্য বিষয়ের রূপরেখা (Step-by-step Topic Table)

ধাপ আলোচ্য বিষয়বস্তু শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য ও শিখনফল
প্রথম দুতরফা দাখিলা ও হিসাববিজ্ঞানের মূলভিত্তি হিসাববিজ্ঞানের উৎপত্তি, দ্বৈত সত্তা নীতি এবং বিজ্ঞানসম্মত হিসাবরক্ষণ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা লাভ।
দ্বিতীয় হিসাব সমীকরণ (মৌলিক ও বর্ধিত রূপ) সমীকরণের উপাদানগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা এবং লেনদেনের ফলে সমীকরণে কী গাণিতিক প্রভাব পড়ে তা বিশ্লেষণ।
তৃতীয় ডেবিট-ক্রেডিট নির্ণয়ের নিয়মাবলি আধুনিক (সমীকরণ) ও সনাতন (স্বর্ণসূত্র) পদ্ধতিতে নিখুঁতভাবে ডেবিট-ক্রেডিট নির্ণয়ের কৌশল আয়ত্তকরণ।
চতুর্থ হিসাবরক্ষণের উৎস দলিলসমূহ চালান, ভাউচার, ক্যাশমেমো এবং ডেবিট ও ক্রেডিট নোটের ব্যবহারিক পার্থক্য ও প্রস্তুতকারক শনাক্তকরণ।
পঞ্চম হিসাবচক্রের আবর্তন (Accounting Cycle) হিসাববিজ্ঞানের ৯টি আবশ্যিক, ২টি ঐচ্ছিক এবং ১টি পরিত্যাজ্য ধাপের তাত্ত্বিক ও ধারাবাহিক বিশ্লেষণ।
ষষ্ঠ জাবেদা (Journal) ও এর বিস্তারিত শ্রেণিবিভাগ প্রাথমিক বইয়ের ধারণা, বিশেষ জাবেদা ও প্রকৃত জাবেদার পার্থক্য এবং বিভিন্ন লেনদেনের সঠিক জাবেদাভুক্তকরণ।
সপ্তম খতিয়ান (Ledger) বা হিসাবের পাকা বই টি-ছক ও চলমান জের ছকের ব্যবহার, উদ্বৃত্ত বা ব্যালেন্সিং নির্ণয় এবং বিভিন্ন হিসাবের জেরের তাৎপর্য বিশ্লেষণ।
অষ্টম বাট্টা ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট/VAT) কারবারি ও নগদ বাট্টার পার্থক্য এবং ভ্যাট ও বাট্টা সংক্রান্ত জটিল গাণিতিক সমস্যার সূত্রভিত্তিক দ্রুত সমাধান।
নবম নগদান বই (Cash Book) ও বিপরীত দাখিলা একঘরা, দুইঘরা, তিনঘরা ও খুচরা নগদান বইয়ের নিয়ম এবং বিপরীত দাখিলা (Contra Entry) প্রয়োগের দক্ষতা।
দশম নগদ প্রাপ্তি ও প্রদান জাবেদা আধুনিক পদ্ধতিতে নগদ তারল্যের হিসাবরক্ষণ এবং কোন লেনদেনগুলো এর অন্তর্ভুক্ত হবে তা শনাক্তকরণ।
একাদশ অধ্যায় ভিত্তিক বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (MCQ) বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ও বোর্ড পরীক্ষার অনুরূপ এমসিকিউ সমাধান এবং কৌশল (Trap Detection) বিশ্লেষণ।
দ্বাদশ চূড়ান্ত One-Liner Data (১-৫০) পরীক্ষার আগের রাতের প্রস্তুতির জন্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ, নিখুঁত ও বাছাইকৃত ঠিক ৫০টি তথ্য।

📖 অধ্যায় ১: দুতরফা দাখিলা পদ্ধতি ও হিসাববিজ্ঞানের মূলভিত্তি

  • আধুনিক হিসাববিজ্ঞানের মূলভিত্তি হলো দুতরফা দাখিলা পদ্ধতি (Double Entry System)
  • ১৪৯৪ সালে ইতালীয় গণিতবিদ এবং ধর্মযাজক লুকা প্যাসিওলি (Luca Pacioli) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ "Summa de Arithmetica Geometria Proportioni et Proportionalita"-তে সর্বপ্রথম এই পদ্ধতির ধারণা প্রদান করেন।
  • দুতরফা দাখিলার মূলনীতি (Principles): এই পদ্ধতির প্রধান নীতি হলো দ্বৈত সত্তা (Dual Aspect Concept)। অর্থাৎ, প্রতিটি আর্থিক লেনদেনের অবশ্যই দুটি পক্ষ থাকবে।
  • একটি পক্ষ সুবিধা গ্রহণ করবে, যাকে বলা হয় 'ডেবিট' (Debit) এবং অপর পক্ষ সমপরিমাণ সুবিধা প্রদান করবে, যাকে বলা হয় 'ক্রেডিট' (Credit)
  • বৈশিষ্ট্যসমূহ:
    • ১. দ্বৈত সত্তা: দাতা এবং গ্রহীতা—এই দুটি পক্ষ সর্বদা বিদ্যমান থাকবে।
    • ২. সমপরিমাণ অর্থ: যে পরিমাণ অর্থ দ্বারা কোনো হিসাব ডেবিট হবে, ঠিক সমপরিমাণ অর্থ দ্বারাই অপর হিসাবটি ক্রেডিট হবে।
    • ৩. গাণিতিক শুদ্ধতা: প্রতিটি লেনদেনে সমপরিমাণ ডেবিট ও ক্রেডিট থাকায় নির্দিষ্ট সময় শেষে হিসাবের গাণিতিক শুদ্ধতা যাচাই করা অত্যন্ত সহজ হয় (রেওয়ামিলের মাধ্যমে)।
    • ৪. সার্বজনীন স্বীকৃতি: এটি একটি বিজ্ঞানসম্মত, স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি হওয়ায় সমগ্র বিশ্বে এটি সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত।
  • উদাহরণ (Example): ব্যবসায়ের জন্য নগদে ৫০,০০০ টাকার আসবাবপত্র ক্রয় করা হলো। এখানে দুটি পক্ষ জড়িত: 'আসবাবপত্র' এবং 'নগদান'। আসবাবপত্র নামক সম্পদ ব্যবসায়ে এসেছে (সুবিধা গ্রহণ), তাই এটি ডেবিট। অন্যদিকে নগদ অর্থ ব্যবসায়ে থেকে চলে গেছে (সুবিধা প্রদান), তাই এটি ক্রেডিট।

📖 অধ্যায় ২: হিসাব সমীকরণ (Accounting Equation)

  • হিসাববিজ্ঞানের প্রতিটি লেনদেন হিসাব সমীকরণকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করে। দুতরফা দাখিলা পদ্ধতির গাণিতিক রূপই হলো হিসাব সমীকরণ।
  • মৌলিক হিসাব সমীকরণ: A = L + OE (Assets = Liabilities + Owner’s Equity) বা সম্পদ = দায় + মালিকানা স্বত্ব
  • বর্ধিত হিসাব সমীকরণ: মালিকানা স্বত্ব (OE)-কে ভাঙলে আমরা আরও চারটি উপাদান পাই। এগুলো হলো: মূলধন (Capital - C), আয় (Revenue - R), ব্যয় (Expense - E) এবং উত্তোলন (Drawing - D)।
    সমীকরণ: A = L + [C + R - E - D]
  • উপাদানগুলোর গাণিতিক প্রভাব:
    • মূলধন (C) ও আয় (R): এই দুটি উপাদান সর্বদা মালিকানা স্বত্বকে বৃদ্ধি করে। ব্যবসায়ে যত আয় হবে, মালিকের অধিকার তত বাড়বে।
    • ব্যয় (E) ও উত্তোলন (D): এই দুটি উপাদান সর্বদা মালিকানা স্বত্বকে হ্রাস করে। ব্যবসায়ে খরচ বাড়লে বা মালিক ব্যক্তিগত প্রয়োজনে কিছু নিলে মালিকানা স্বত্ব কমে যায়।
  • হিসাব সমীকরণে লেনদেনের প্রভাবের উদাহরণ (Examples):
    • ১. মালিক ১,০০,০০০ টাকা মূলধন নিয়ে ব্যবসা শুরু করলেন: প্রভাব: নগদ অর্থ বৃদ্ধি পাওয়ায় সম্পদ (A) বাড়বে ১,০০,০০০ টাকা। অন্যদিকে মূলধন আনয়নে মালিকানা স্বত্ব (OE) বাড়বে ১,০০,০০০ টাকা।
    • ২. ধারে ২০,০০০ টাকার পণ্য ক্রয় করা হলো: প্রভাব: পণ্য ক্রয় একটি ব্যয়, তাই মালিকানা স্বত্ব (OE) হ্রাস পাবে। অন্যদিকে ধারে কেনায় পাওনাদার নামক দায় (L) বৃদ্ধি পাবে।
    • ৩. ব্যাংক হতে ৫০,০০০ টাকা ঋণ গ্রহণ: প্রভাব: নগদ অর্থ আসায় সম্পদ (A) বৃদ্ধি পাবে এবং ব্যাংক ঋণ নামক দায় (L) বৃদ্ধি পাবে।
    • ৪. পাওনাদারকে ১০,০০০ টাকা পরিশোধ করা হলো: প্রভাব: নগদ অর্থ চলে যাওয়ায় সম্পদ (A) হ্রাস পাবে এবং পাওনাদারের পরিমাণ কমে যাওয়ায় দায় (L) হ্রাস পাবে।
    • ৫. মালিক কর্তৃক ব্যবসায়ের তহবিল থেকে আয়কর প্রদান ৫,০০০ টাকা: প্রভাব: মালিকের আয়কর বা জীবনবিমা সর্বদা 'উত্তোলন' হিসেবে গণ্য হয়। এর ফলে নগদ সম্পদ (A) হ্রাস পাবে এবং উত্তোলন বাড়ার কারণে মালিকানা স্বত্ব (OE) হ্রাস পাবে।

📖 অধ্যায় ৩: ডেবিট ও ক্রেডিট নির্ণয়ের নিয়মাবলি

  • যেকোনো লেনদেনকে হিসাবের খাতায় লিপিবদ্ধ করার প্রথম শর্ত হলো সঠিকভাবে ডেবিট ও ক্রেডিট নির্ণয় করা। এটি দুটি পদ্ধতিতে করা যায়।
  • ১. আধুনিক বা সমীকরণ পদ্ধতি (Modern Approach): আধুনিক পদ্ধতিতে হিসাবকে ৫ ভাগে ভাগ করা হয়।
    • সম্পদ (Asset), ব্যয় (Expense) এবং উত্তোলন (Drawing): এই তিনটির স্বাভাবিক জের ডেবিট। এগুলো বৃদ্ধি পেলে ➞ ডেবিট, এগুলো হ্রাস পেলে ➞ ক্রেডিট।
    • দায় (Liability), আয় (Revenue) এবং মূলধন (Capital): এই তিনটির স্বাভাবিক জের ক্রেডিট। এগুলো বৃদ্ধি পেলে ➞ ক্রেডিট, এগুলো হ্রাস পেলে ➞ ডেবিট।
  • ২. সনাতন বা প্রথাগত পদ্ধতি (Traditional Approach - Golden Rules): সনাতন পদ্ধতিতে হিসাব ৩ প্রকার:
    • ব্যক্তিবাচক হিসাব (Personal Account): সুবিধা গ্রহণকারী (Receiver) ডেবিট এবং সুবিধা প্রদানকারী (Giver) ক্রেডিট
    • সম্পত্তিবাচক হিসাব (Real Account): প্রতিষ্ঠানে কোনো সম্পদ আসলে (Comes in) ডেবিট এবং সম্পদ চলে গেলে (Goes out) ক্রেডিট
    • নামিক বা আয়-ব্যয়বাচক হিসাব (Nominal Account): ব্যবসায়ের সকল প্রকার খরচ বা লোকসান ডেবিট এবং সকল প্রকার আয় বা লাভ ক্রেডিট
  • উদাহরণস্বরূপ লেনদেন বিশ্লেষণ: কর্মচারীদের ১০,০০০ টাকা বেতন নগদে প্রদান করা হলো।
    • আধুনিক নিয়মে: বেতন একটি ব্যয়। ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে, তাই বেতন হিসাব ডেবিট। নগদ অর্থ নামক সম্পদ হ্রাস পেয়েছে, তাই নগদান হিসাব ক্রেডিট।
    • সনাতন নিয়মে: বেতন একটি নামিক হিসাব। খরচ হওয়ায় বেতন ডেবিট। নগদান একটি সম্পত্তিবাচক হিসাব। নগদ টাকা চলে যাওয়ায় তা ক্রেডিট।

📖 অধ্যায় ৪: হিসাবরক্ষণের উৎস দলিলসমূহ (Source Documents)

  • লেনদেন সংঘটিত হওয়ার পর তা প্রমাণের জন্য কিছু দালিলিক প্রমাণের প্রয়োজন হয়।
  • চালান (Invoice): ধারে বা বাকিতে পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের প্রামাণ্য দলিল হলো চালান। এটি বিক্রেতা প্রস্তুত করেন। চালানের ওপর ভিত্তি করেই ক্রয় ও বিক্রয় জাবেদা তৈরি হয়।
  • ভাউচার (Voucher): নগদ আদান-প্রদানের প্রমাণপত্র। এটি দুই প্রকার: ডেবিট ভাউচার (নগদ খরচের জন্য) এবং ক্রেডিট ভাউচার (নগদ আয়ের জন্য)।
  • ক্যাশমেমো (Cash Memo): নগদে পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের প্রামাণ্য দলিল। এটি বিক্রেতা তৈরি করে ক্রেতাকে প্রদান করেন।
  • ডেবিট নোট (Debit Note): ধারে কেনা পণ্য ক্রেতা যখন বিক্রেতাকে ফেরত পাঠায়, তখন পণ্যের সাথে যে চিঠি পাঠায় তাকে ডেবিট নোট বলে। এটি ক্রেতা প্রস্তুত করেন এবং এর ভিত্তিতে ক্রয় ফেরত জাবেদা তৈরি হয়।
  • ক্রেডিট নোট (Credit Note): ধারে বিক্রি করা পণ্য যখন ক্রেতার কাছ থেকে ফেরত আসে, তখন বিক্রেতা ক্রেতাকে যে চিঠি পাঠায় তাকে ক্রেডিট নোট বলে। এটি বিক্রেতা তৈরি করেন এবং এর সাহায্যে বিক্রয় ফেরত জাবেদা প্রস্তুত হয়।

📖 অধ্যায় ৫: হিসাবচক্র (Accounting Cycle)

  • একটি নির্দিষ্ট হিসাবকালে লেনদেন শনাক্তকরণ থেকে শুরু করে আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত এবং পরবর্তী বছরের শুরুতে হিসাব স্থানান্তরের যে ধারাবাহিক ও চক্রাকার আবর্তন, তাকে হিসাবচক্র বলে।
  • হিসাবচক্রের ৯টি আবশ্যিক ধাপ (Mandatory Steps):
    • ১. লেনদেন শনাক্তকরণ: ঘটনা লেনদেন কি না (অর্থের অঙ্কে পরিমাপযোগ্য কি না), তা চিহ্নিত করা।
    • ২. জাবেদাভুক্তকরণ: ডেবিট-ক্রেডিট বিশ্লেষণ করে তারিখের ক্রমানুসারে জাবেদায় লিপিবদ্ধ করা।
    • ৩. খতিয়ানে স্থানান্তর: জাবেদা থেকে পৃথক শিরোনামে খতিয়ানে স্থানান্তর। (প্রথম তিনটি ধাপ সারা বছর ধরে দৈনন্দিন ভিত্তিতে চলে)।
    • ৪. রেওয়ামিল প্রস্তুতকরণ: গাণিতিক শুদ্ধতা যাচাই করার জন্য খতিয়ানের উদ্বৃত্তগুলো নিয়ে রেওয়ামিল তৈরি।
    • ৫. সমন্বয় দাখিলা: বকেয়া, অগ্রিম, অবচয় ইত্যাদি সমন্বয় করার জন্য হিসাবকাল শেষে দাখিলা প্রদান।
    • ৬. সমন্বিত রেওয়ামিল: সমন্বয় দাখিলার পর রেওয়ামিলটি সংশোধন।
    • ৭. আর্থিক বিবরণী প্রস্তুতকরণ: নিট লাভ বা ক্ষতি এবং আর্থিক অবস্থা জানার জন্য বিবরণী তৈরি। (এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ)।
    • ৮. সমাপনী দাখিলা: বছর শেষে সকল নামিক হিসাব (আয়, ব্যয় ও উত্তোলন) চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার জন্য সমাপনী দাখিলা।
    • ৯. সমাপন-পরবর্তী রেওয়ামিল: সমাপনী দাখিলা দেওয়ার পর শুধু সম্পদ, দায় ও মূলধন হিসাবগুলো নিয়ে নতুন বছরের শুরুতে রেওয়ামিল তৈরি।
  • ঐচ্ছিক ধাপ (Optional Steps): কার্যপত্র (Worksheet) এবং বিপরীত দাখিলা (Reversing Entries) প্রস্তুত করা আধুনিক হিসাববিজ্ঞানে সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক।
  • পরিত্যাজ্য ধাপ: ভুল সংশোধনী দাখিলা (Rectifying Entry)। হিসাবরক্ষণের উদ্দেশ্য নির্ভুল হিসাব রাখা, তাই ভুল হলে তবেই এই ধাপের প্রয়োজন হয়, অন্যথায় এটি অনাকাঙ্ক্ষিত বা পরিত্যাজ্য

📖 অধ্যায় ৬: জাবেদা (Journal) - হিসাবের প্রাথমিক বই

  • ফরাসি শব্দ 'Jour' থেকে জাবেদা (Journal) শব্দের উৎপত্তি, যার অর্থ হলো 'দিবস'। লেনদেন সংঘটিত হওয়ার পর সর্বপ্রথম যে বইতে লিপিবদ্ধ করা হয়, তাকে জাবেদা বলে। একে হিসাবের প্রাথমিক বই বা সহকারী বই বলা হয়।
  • ১. বিশেষ জাবেদা (Special Journal): বড় প্রতিষ্ঠানে একই জাতীয় অসংখ্য লেনদেনের জন্য আলাদা জাবেদা রাখা হয়।
    • ক্রয় জাবেদা: শুধুমাত্র ধারে বা বাকিতে পণ্য (বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে যা কেনা হয়) ক্রয় লিপিবদ্ধ হয়।
    • বিক্রয় জাবেদা: শুধুমাত্র ধারে বা বাকিতে পণ্য বিক্রয় লিপিবদ্ধ হয়।
    • ক্রয় ফেরত ও বিক্রয় ফেরত জাবেদা: ধারে ক্রীত পণ্য ফেরত পাঠানো এবং ধারে বিক্রীত পণ্য ফেরত আসার হিসাব।
    • নগদ প্রাপ্তি ও নগদ প্রদান জাবেদা: নগদ ও ব্যাংকের মাধ্যমে সকল প্রাপ্তি ও প্রদান লিপিবদ্ধ হয়।
  • ২. প্রকৃত বা সাধারণ জাবেদা (General Journal): যেসব লেনদেন বিশেষ জাবেদায় বসানো যায় না, সেগুলো প্রকৃত জাবেদায় বসে। (ভর্তি পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ)
    • সম্পদ ক্রয়-বিক্রয়: বাকিতে যন্ত্রপাতি বা আসবাবপত্র ক্রয় (এটি ক্রয় জাবেদায় যাবে না, প্রকৃত জাবেদায় বসবে)
    • অনগদ লেনদেন: স্থায়ী সম্পত্তির অবচয়, অনাদায়ী পাওনা ধার্য করা।
    • পণ্য উত্তোলন ও বিনামূল্যে বিতরণ: মালিক ব্যক্তিগত প্রয়োজনে পণ্য উত্তোলন করলে জাবেদা হবে: উত্তোলন হিসাব ডেবিট, ক্রয় হিসাব ক্রেডিট। এটি প্রকৃত জাবেদায় বসবে

📖 অধ্যায় ৭: বাট্টা ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট)

  • বাট্টার ধারণা ও প্রকারভেদ (Discount):
    • কারবারি বাট্টা (Trade Discount): পণ্যের লিখিত মূল্যের ওপর বিক্রেতা যে ছাড় দেয়। এটি কখনোই হিসাবের খাতায় বা জাবেদায় লিপিবদ্ধ করা হয় না
    • নগদ বাট্টা (Cash Discount): বাকিতে কেনাবেচার অর্থ দ্রুত আদায়ের জন্য ছাড়। এটি জাবেদায় লিপিবদ্ধ করতে হয়"২/১০, নিট ৩০" - এর অর্থ হলো, ১০ দিনের মধ্যে টাকা দিলে ২% ছাড়, নতুবা ৩০ দিনের মধ্যে পুরো টাকা দিতেই হবে।
  • মূল্য সংযোজন কর (VAT - Value Added Tax): বাংলাদেশে ১৯৯১ সালের ১ জুলাই সর্বপ্রথম মূসক প্রথা চালু হয়। এর আদর্শ হার ১৫%
  • ভ্যাট নির্ণয়ের সূত্র (Formula):
    • ১. যদি বলা থাকে 'লিখিত মূল্যের ওপর ১৫% ভ্যাট', তবে সরাসরি ১৫% গুণ করতে হবে।
    • ২. যদি বলা থাকে 'ভ্যাটসহ পণ্য মূল্য', তবে ভ্যাট নির্ণয়ের সূত্র হবে = (মোট টাকা ÷ ১১৫) × ১৫
  • গাণিতিক উদাহরণ: রহিমের নিকট ১০% কারবারি বাট্টায় ৩০,০০০ টাকার পণ্য বিক্রয় এবং ১৫% ভ্যাট আদায়।
    • কারবারি বাট্টা বাদ = ৩০,০০০ এর ১০% = ৩,০০০ টাকা। নিট বিক্রয় = ২৭,০০০ টাকা।
    • ভ্যাট সবসময় নিট মূল্যের ওপর ধরতে হয়। ২৭,০০০ এর ১৫% = ৪,০৫০ টাকা।
    • জাবেদা: নগদান হিসাব ডেবিট ৩১,০৫০; বিক্রয় হিসাব ক্রেডিট ২৭,০০০; ভ্যাট চলতি হিসাব ক্রেডিট ৪,০৫০

📖 অধ্যায় ৮: খতিয়ান (Ledger) - হিসাবের পাকা বই

  • জাবেদায় লিপিবদ্ধ লেনদেনগুলোকে শ্রেণিবদ্ধ করে পৃথক পৃথক শিরোনামে স্থায়ীভাবে যে বইতে সংরক্ষণ করা হয়, তাকে খতিয়ান বলে। 'Ledge' (তাক) থেকে খতিয়ান শব্দটি এসেছে।
  • খতিয়ান থেকে ব্যবসায়ের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা ও চূড়ান্ত জের জানা যায় বলে একে হিসাবের পাকা বই, স্থায়ী বই এবং সকল বইয়ের রাজা বলা হয়। খতিয়ান প্রস্তুত করা বাধ্যতামূলক।
  • খতিয়ানের ছক:
    • ১. টি-ছক (T-format): সনাতন পদ্ধতি। এর দুই দিক থাকে এবং মোট কলাম সংখ্যা ৮টি
    • ২. চলমান জের ছক (Moving Balance format): আধুনিক পদ্ধতি। এর মোট কলাম ৭টি। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, লেনদেন লিপিবদ্ধ করার সাথে সাথেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাবের উদ্বৃত্ত বা ব্যালেন্স জানা যায়।
  • উদ্বৃত্ত নির্ণয় বা ব্যালেন্সিং (Balancing): খতিয়ানের ডেবিট ও ক্রেডিট দিকের যোগফলের পার্থক্যকে উদ্বৃত্ত বা জের বলে।
  • বছর শেষে যে ব্যালেন্স বের করা হয় তাকে ব্যালেন্স সি/ডি (Balance C/D - Carried Down) এবং পরের বছরের শুরুতে ওই ব্যালেন্সকে ব্যালেন্স বি/ডি (Balance B/D - Brought Down) বলা হয়।
  • সম্পদ ও ব্যয় হিসাব সর্বদা ডেবিট উদ্বৃত্ত প্রকাশ করে। দায়, আয় ও মূলধন হিসাব সর্বদা ক্রেডিট উদ্বৃত্ত প্রকাশ করে।

📖 অধ্যায় ৯: নগদান বই (Cash Book) ও বিপরীত দাখিলা

  • নগদান বইকে একই সাথে জাবেদা ও খতিয়ান বলা হয়, কারণ এটি প্রাথমিক বই হিসেবে কাজ করে আবার ব্যালেন্স নির্ণয়ের মাধ্যমে খতিয়ানের কাজও করে।
  • প্রকারভেদ:
    • ১. একঘরা নগদান বই: শুধু নগদ লেনদেন থাকে। এটি সর্বদা ডেবিট উদ্বৃত্ত প্রকাশ করে।
    • ২. দুইঘরা নগদান বই: নগদ ও ব্যাংক লেনদেনের জন্য দুটি টাকার ঘর থাকে।
    • ৩. তিনঘরা নগদান বই: নগদ, ব্যাংক এবং নগদ বাট্টার হিসাব রাখা হয়।
    • ৪. খুচরা নগদান বই: ছোটখাটো খরচের জন্য অগ্রদত্ত পদ্ধতিতে (Imprest System) রাখা হয়। এতে মাসের শুরুতে ও শেষে খুচরা ক্যাশিয়ারের হাতে নগদ উদ্বৃত্তের পরিমাণ সর্বদা সমান থাকে।
  • বিপরীত দাখিলা (Contra Entry): যে লেনদেনের ফলে হিসাব সমীকরণে শুধু সম্পদের পরিবর্তন হয় (নগদ বাড়ে ও ব্যাংক কমে, অথবা বিপরীত), তাকে বিপরীত দাখিলা বলে। এটি উভয় দিকে বসে এবং 'C' বা 'ক' দ্বারা চিহ্নিত করতে হয়।
    • উদাহরণ ১: ব্যাংকে নগদ ৫,০০০ টাকা জমা দেওয়া হলো।
    • উদাহরণ ২: অফিসের প্রয়োজনে ব্যাংক হতে ৫,০০০ টাকা উত্তোলন।
    • (নোট: মালিক ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যাংক থেকে তুললে তা উত্তোলন হিসাব হবে, কন্ট্রা এন্ট্রি হবে না)।

📖 অধ্যায় ১০: নগদ প্রাপ্তি ও প্রদান জাবেদা

  • ১. নগদ প্রাপ্তি জাবেদা (Cash Receipts Journal): যেসব লেনদেনের ফলে ব্যবসায়ে নগদ অর্থ বা চেক আসে, সেগুলো এখানে লিপিবদ্ধ হয়।
    • উদাহরণ: নগদে পণ্য বিক্রয়, দেনাদারের নিকট থেকে টাকা আদায়, কমিশন প্রাপ্তি, ব্যাংক সুদ মঞ্জুর।
    • এখানে কোনো বিপরীত দাখিলা বা অনগদ লেনদেন বসে না। এর টাকার ঘর সাধারণত ৫টি।
  • ২. নগদ প্রদান জাবেদা (Cash Payments Journal): যেসব লেনদেনের ফলে ব্যবসায়ে নগদ অর্থ বা চেক চলে যায়, সেগুলো এখানে লিপিবদ্ধ হয়।
    • উদাহরণ: নগদে পণ্য ক্রয়, পাওনাদারকে পরিশোধ, ব্যাংক চার্জ, কর্মচারীদের বেতন প্রদান।
    • এরও টাকার ঘর সাধারণত ৫টি (ক্রয়, পাওনাদার, অন্যান্য, প্রাপ্ত বাট্টা এবং নগদান)।

📝 অধ্যায় ভিত্তিক বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (MCQ) - নিজেকে যাচাই করুন

  • ১. হিসাববিজ্ঞানের কাঁচামাল বা ইনপুট হিসেবে নিচের কোনটিকে গণ্য করা হয়?
    ক) খতিয়ান খ) জাবেদা গ) লেনদেন ঘ) রেওয়ামিল
    (ব্যাখ্যা: লেনদেন সংঘটিত না হলে হিসাববিজ্ঞানের কাজ শুরু হয় না, তাই লেনদেনই হলো কাঁচামাল। উত্তর: গ)
  • ২. বিনামূল্যে পণ্য বিতরণের সঠিক জাবেদা দাখিলা কোনটি?
    ক) বিজ্ঞাপন হিসাব ডেবিট, নগদান হিসাব ক্রেডিট খ) বিজ্ঞাপন হিসাব ডেবিট, ক্রয় হিসাব ক্রেডিট
    (ব্যাখ্যা: বিনামূল্যে পণ্য দিলে বিজ্ঞাপন নামক খরচ বাড়ে এবং ব্যবসায়ের পণ্য কমে যাওয়ায় ক্রয় হিসাবকে ক্রেডিট করতে হয়। উত্তর: খ)
  • ৩. আধুনিক পদ্ধতিতে চলমান জের ছকে খতিয়ানের কলাম সংখ্যা কয়টি?
    ক) ৮টি খ) ৬টি গ) ৭টি ঘ) ৫টি
    (ব্যাখ্যা: তারিখ, বিবরণ, জাবেদা পৃষ্ঠা, ডেবিট টাকা, ক্রেডিট টাকা, জের/উদ্বৃত্ত (ডেবিট ও ক্রেডিট) - মোট ৭টি। উত্তর: গ)
  • ৪. নিচের কোন লেনদেনটির জন্য বিপরীত দাখিলা (Contra Entry) হবে না?
    ক) ব্যাংকে নগদ অর্থ জমা দান খ) ব্যবসায়ের প্রয়োজনে ব্যাংক হতে উত্তোলন গ) মালিক কর্তৃক ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যাংক হতে উত্তোলন
    (ব্যাখ্যা: মালিক ব্যক্তিগত প্রয়োজনে তুললে উত্তোলন হিসাব ডেবিট ও ব্যাংক হিসাব ক্রেডিট হয়। এখানে নগদ বাড়ে না, তাই এটি কন্ট্রা এন্ট্রি নয়। উত্তর: গ)
  • ৫. ১০% কারবারি বাট্টায় ২০,০০০ টাকার পণ্য ক্রয় করে ১৫% ভ্যাট প্রদান করা হলো। জাবেদায় ভ্যাট চলতি হিসাব কত টাকা ডেবিট হবে?
    ক) ৩,০০০ টাকা খ) ২,৭০০ টাকা গ) ২,৩০০ টাকা ঘ) ২,০০০ টাকা
    (ব্যাখ্যা: প্রথমে কারবারি বাট্টা ২০০০ টাকা বাদ। নিট ক্রয় ১৮,০০০ টাকা। ১৮,০০০ এর ১৫% = ২৭০০ টাকা। উত্তর: খ)
  • ৬. কোনটি হিসাবচক্রের পরিত্যাজ্য বা অনাকাঙ্ক্ষিত ধাপ?
    ক) সমন্বয় দাখিলা খ) কার্যপত্র গ) ভুল সংশোধনী দাখিলা ঘ) বিপরীত দাখিলা
    (ব্যাখ্যা: ভুল করা হিসাবরক্ষণের উদ্দেশ্য নয়, তাই ভুল সংশোধনী দাখিলা একটি পরিত্যাজ্য ধাপ। উত্তর: গ)
  • ৭. নিচের কোনটি সর্বদা ডেবিট উদ্বৃত্ত প্রকাশ করে?
    ক) ব্যাংক হিসাব খ) মূলধন হিসাব গ) একঘরা নগদান বই ঘ) পাওনাদার হিসাব
    (ব্যাখ্যা: নগদ প্রাপ্তির চেয়ে প্রদান কখনোই বেশি হতে পারে না, তাই একঘরা নগদান বই সর্বদা ডেবিট ব্যালেন্স দেখায়। উত্তর: গ)
  • ৮. বাকিতে আসবাবপত্র ক্রয় করা হলে তা কোন জাবেদায় লিপিবদ্ধ হবে?
    ক) ক্রয় জাবেদা খ) নগদ প্রদান জাবেদা গ) প্রকৃত বা সাধারণ জাবেদা ঘ) আসবাবপত্র জাবেদা
    (ব্যাখ্যা: সম্পদ বাকিতে কিনলে তা ক্রয় জাবেদায় যায় না, সাধারণ জাবেদায় যায়। উত্তর: গ)
  • ৯. দেনাদার হতে অর্থ আদায়ের সময় যে ছাড় দেওয়া হয়, তার ফলে হিসাব সমীকরণে কী প্রভাব পড়ে?
    ক) সম্পদ ও মালিকানা স্বত্ব হ্রাস পায় খ) দায় ও সম্পদ হ্রাস পায়
    (ব্যাখ্যা: ছাড় দেওয়া মানে প্রদত্ত বাট্টা (খরচ), যা মালিকানা স্বত্ব কমায়। অন্যদিকে দেনাদার কমায় সম্পদ হ্রাস পায়। উত্তর: ক)
  • ১০. ভ্যাটসহ পণ্য বিক্রয়ের পরিমাণ ১১,৫০০ টাকা হলে এতে ভ্যাটের পরিমাণ কত?
    ক) ১,৭২৫ টাকা খ) ১,৫০০ টাকা গ) ১,০০০ টাকা ঘ) ১,১৫০ টাকা
    (ব্যাখ্যা: ভ্যাটসহ বলা থাকলে (মোট টাকা ÷ ১১৫) × ১৫। ১১৫০০ ÷ ১১৫ × ১৫ = ১৫০০ টাকা। উত্তর: খ)

📌 ভর্তি পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৫০টি এক-লাইনার তথ্য

  • ১. হিসাববিজ্ঞানের জনক হলেন ইতালীয় গণিতবিদ ও ধর্মযাজক লুকা প্যাসিওলি
  • ২. ১৪৯৪ সালে লুকা প্যাসিওলি সর্বপ্রথম দুতরফা দাখিলা পদ্ধতির বৈজ্ঞানিক বর্ণনা প্রদান করেন।
  • ৩. দুতরফা দাখিলা পদ্ধতির মূলনীতি হলো দ্বৈত সত্তা, অর্থাৎ প্রতিটি লেনদেনের দুটি পক্ষ থাকবে।
  • ৪. হিসাববিজ্ঞানের কাঁচামাল বা মূল ইনপুট হিসেবে আর্থিক লেনদেনকে গণ্য করা হয়।
  • ৫. ফরাসি শব্দ 'Jour' থেকে জাবেদা (Journal) শব্দের উৎপত্তি, যার শাব্দিক অর্থ হলো দিবস বা দিন
  • ৬. জাবেদাকে হিসাবের প্রাথমিক বই, দৈনিক বই, দৈনন্দিন বই বা সহকারী বই বলা হয়।
  • ৭. খতিয়ান (Ledger) শব্দটি ইংরেজি 'Ledge' শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ তাক বা সেলফ
  • ৮. খতিয়ানকে হিসাবের পাকা বই, স্থায়ী বই, প্রধান বই এবং সকল বইয়ের রাজা বলা হয়।
  • ৯. আধুনিক মতানুসারে একটি পূর্ণাঙ্গ হিসাবচক্রের আবশ্যিক ধাপ হলো ৯টি
  • ১০. লেনদেন বিশ্লেষণ, জাবেদাভুক্তকরণ এবং খতিয়ানে স্থানান্তর—এই তিনটি কাজ ব্যবসায়ে দৈনন্দিন ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়।
  • ১১. কার্যপত্র (Worksheet) এবং বিপরীত দাখিলা (Reversing Entry) হলো আধুনিক হিসাবচক্রের ঐচ্ছিক ধাপ।
  • ১২. ভুল সংশোধনী দাখিলাকে হিসাবচক্রের একটি পরিত্যাজ্য বা অনাকাঙ্ক্ষিত ধাপ বলা হয়।
  • ১৩. সনাতন পদ্ধতিতে রেওয়ামিলকে হিসাবচক্রের ঐচ্ছিক ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  • ১৪. জাবেদা প্রস্তুত করা ঐচ্ছিক হলেও প্রতিটি ব্যবসায়ের জন্য খতিয়ান প্রস্তুত করা বাধ্যতামূলক
  • ১৫. শুধুমাত্র বাকিতে বা ধারে পণ্য (বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে যা কেনা হয়) ক্রয় লিপিবদ্ধ হয় ক্রয় জাবেদায়
  • ১৬. শুধুমাত্র বাকিতে বা ধারে পণ্য বিক্রয় লিপিবদ্ধ হয় বিক্রয় জাবেদায়
  • ১৭. বাকিতে সম্পদ ক্রয় (যেমন: যন্ত্রপাতি বা আসবাবপত্র) কখনোই ক্রয় জাবেদায় যায় না, এটি প্রকৃত বা সাধারণ জাবেদায় লিপিবদ্ধ হয়।
  • ১৮. বিক্রয় ফেরত জাবেদার উৎস দলিল হলো ক্রেডিট নোট, যা বিক্রেতা তৈরি করেন।
  • ১৯. ক্রয় ফেরত জাবেদার উৎস দলিল হলো ডেবিট নোট, যা সর্বদা ক্রেতা তৈরি করেন।
  • ২০. ধারে পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের প্রধান প্রামাণ্য দলিল হলো চালান, যা বিক্রেতা প্রস্তুত করেন।
  • ২১. কারবারি বাট্টা বা ব্যবসায়িক বাট্টা কখনোই হিসাবের খাতায় বা জাবেদায় লিপিবদ্ধ করা হয় না
  • ২২. নগদ বাট্টা দেনা-পাওনা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য দেওয়া হয় এবং এটি অবশ্যই জাবেদায় লিপিবদ্ধ করতে হয়
  • ২৩. দেনাদার থেকে টাকা আদায়ের সময় যে ছাড় দেওয়া হয়, তাকে প্রদত্ত বাট্টা (যা এক প্রকার খরচ বা ডেবিট) বলে।
  • ২৪. পাওনাদারকে অর্থ পরিশোধের সময় যে ছাড় পাওয়া যায়, তাকে প্রাপ্ত বাট্টা (যা এক প্রকার আয় বা ক্রেডিট) বলে।
  • ২৫. মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট হলো এক ধরনের পরোক্ষ কর
  • ২৬. বাংলাদেশে সর্বপ্রথম মূসক বা ভ্যাট প্রথা চালু হয় ১ জুলাই ১৯৯১ সালে
  • ২৭. বাংলাদেশে সরকার নির্ধারিত আদর্শ ভ্যাটের হার হলো ১৫%
  • ২৮. বিক্রেতার নিকট পণ্য বিক্রয়লব্ধ আদায়কৃত ভ্যাট হলো ব্যবসায়ের জন্য একটি দায় (ক্রেডিট)
  • ২৯. ক্রেতার নিকট পণ্য ক্রয়ের সময় প্রদত্ত ভ্যাট হলো ব্যবসায়ের জন্য এক প্রকার খরচ (ডেবিট)
  • ৩০. স্থায়ী সম্পদ ক্রয়ের সময় প্রদত্ত ভ্যাট সম্পদের মূল্যের সাথে যুক্ত হয়, আলাদা ভ্যাট হিসাব হিসেবে দেখানো হয় না।
  • ৩১. '২/১০, নিট ৩০' শর্তের অর্থ: ১০ দিনের মধ্যে মূল্য পরিশোধে ২% বাট্টা পাওয়া যাবে, অন্যথায় ৩০ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ বাধ্যতামূলক।
  • ৩২. বিনামূল্যে পণ্য বিতরণ বা পণ্য উত্তোলন নগদ প্রাপ্তি বা প্রদান জাবেদায় অন্তর্ভুক্ত হয় না, এটি প্রকৃত জাবেদায় বসে।
  • ৩৩. নগদান বইকে একই সাথে ব্যবসায়ের জাবেদা ও খতিয়ান উভয় হিসেবেই গণ্য করা হয়।
  • ৩৪. ব্যাংকে নগদ টাকা জমা দান এবং অফিসের প্রয়োজনে ব্যাংক থেকে নগদ টাকা উত্তোলন—এই দুটি লেনদেনকে বিপরীত দাখিলা (Contra Entry) বলে।
  • ৩৫. বিপরীত দাখিলা বা কন্ট্রা এন্ট্রি কখনোই নগদ প্রাপ্তি জাবেদা বা নগদ প্রদান জাবেদায় অন্তর্ভুক্ত হয় না
  • ৩৬. খুচরা নগদান বইয়ের অগ্রদত্ত (Imprest) পদ্ধতিতে হিসাবকালের শুরুতে এবং শেষে খুচরা ক্যাশিয়ারের নিকট নগদ উদ্বৃত্তের পরিমাণ সর্বদা সমান থাকে
  • ৩৭. হিসাবকাল শেষে খুচরা নগদান বইয়ের সমাপনী নগদ উদ্বৃত্তের সাথে মোট খরচের পরিমাণ যোগ করলে তা প্রারম্ভিক অগ্রদত্ত টাকার সমান হয়
  • ৩৮. মালিক কর্তৃক পণ্য উত্তোলনের (মুনাফাবিহীন বিক্রয়) সঠিক জাবেদা দাখিলা হলো: উত্তোলন হিসাব ডেবিট এবং ক্রয় হিসাব ক্রেডিট
  • ৩৯. খতিয়ানের সনাতন টি-ছকে (T-format) মোট কলাম সংখ্যা ৮টি এবং আধুনিক চলমান জের ছকে মোট কলাম সংখ্যা ৭টি
  • ৪০. খতিয়ানের ডেবিট ও ক্রেডিট দিকের যোগফলের পার্থক্যকে গাণিতিক উদ্বৃত্ত বা ব্যালেন্সিং (Balancing) জের বলে।
  • ৪১. নামিক বা আয়-ব্যয়বাচক হিসাবের সমাপনী উদ্বৃত্ত বছর শেষে আয় বিবরণীতে স্থানান্তরের মাধ্যমে চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
  • ৪২. শুধুমাত্র সম্পদ, দায় ও মালিকানা স্বত্ব (মূলধন) হিসাবের জের বা উদ্বৃত্তগুলো পরবর্তী বছরে স্থানান্তরিত হয়
  • ৪৩. যেকোনো হিসাবের ১০% দ্রুত বের করতে হলে মূল সংখ্যার ডানদিক থেকে একটি শূন্য বাদ দিতে হয়।
  • ৪৪. "ভ্যাটসহ" বা "ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত" উল্লেখ থাকলে ভ্যাটের পরিমাণ নির্ণয়ের গাণিতিক সূত্র হলো: মোট প্রদত্ত টাকা × (১৫ ÷ ১১৫)
  • ৪৫. "বাট্টা বাদে" অর্থ পরিশোধ উল্লেখ থাকলে প্রদত্ত বা প্রাপ্ত টাকাকে (১০০ - বাট্টার হার) দ্বারা ভাগ করে বাট্টার হার দিয়ে গুণ করলে বাট্টার পরিমাণ পাওয়া যায়।
  • ৪৬. অবচয় ধার্য এবং অনাদায়ী পাওনা ধার্যের মতো অনগদ লেনদেনগুলো সর্বদা প্রকৃত বা সাধারণ জাবেদায় লিপিবদ্ধ হয়।
  • ৪৭. মালিক ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ব্যবসায়ের কর্মচারীদের বেতন প্রদান করলে বেতন হিসাব ডেবিট এবং মূলধন হিসাব ক্রেডিট হয়।
  • ৪৮. ব্যবসায়ের ব্যয় কম দেখানো হলে ব্যবসায়ের নিট লাভ বৃদ্ধি পায় এবং ফলস্বরূপ মালিকানা স্বত্ব বেশি প্রদর্শিত হয়
  • ৪৯. একঘরা নগদান বই সর্বদা ডেবিট উদ্বৃত্ত প্রকাশ করে, কারণ নগদ প্রাপ্তির চেয়ে প্রদান কখনও বেশি হতে পারে না।
  • ৫০. আধুনিক হিসাব সমীকরণ পদ্ধতিতে সম্পদ ও ব্যয় বৃদ্ধি পেলে ডেবিট হয়; অন্যদিকে দায়, আয় ও মূলধন বৃদ্ধি পেলে ক্রেডিট হয়।