Subjects & Chapters

হিসাববিজ্ঞান পরিচিতি - Admission Slide Deck
Full Page Thumbnail

হিসাববিজ্ঞান পরিচিতি

এই লেকচার শীটটি হিসাববিজ্ঞানের মৌলিক ধারণা থেকে শুরু করে এর নীতি, সমীকরণ এবং দলিলপত্রের বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে সাজানো হয়েছে।

আলোচ্যবিষয়ের সূচিপত্র (Step-by-step Topic Table)

ধাপ আলোচ্য বিষয়বস্তু মূল ফোকাস
ধাপ ১হিসাববিজ্ঞানের মৌলিক ধারণাহিসাববিজ্ঞানের উৎপত্তি, সংজ্ঞা এবং আধুনিক যুগে এর ভূমিকা।
ধাপ ২হিসাববিজ্ঞানের প্রক্রিয়া ও শাখাতথ্য শনাক্তকরণ, লিপিবদ্ধকরণ এবং হিসাববিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার প্রয়োগ।
ধাপ ৩হিসাববিজ্ঞানের উদ্দেশ্যআর্থিক ফলাফল নিরূপণ এবং ব্যবহারকারীদের তথ্য সরবরাহ।
ধাপ ৪হিসাব তথ্যের ব্যবহারকারীঅভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ব্যবহারকারীদের পরিচয় এবং তথ্যের প্রয়োজনীয়তা।
ধাপ ৫লেনদেন ও এর প্রকারভেদলেনদেনের বৈশিষ্ট্য, দৃশ্যমানতা এবং বিশেষ করে অনগদ লেনদেন বিশ্লেষণ।
ধাপ ৬হিসাব সমীকরণ ও তার প্রভাবসমীকরণের মূল ও বর্ধিত রূপ এবং লেনদেনের ফলে কাঠামোগত ও পরিমাণগত পরিবর্তন।
ধাপ ৭হিসাবের শ্রেণিবিভাগ ও ডেবিট-ক্রেডিটআধুনিক পদ্ধতিতে হিসাবের প্রকারভেদ এবং বিপরীত হিসাবসমূহের তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।
ধাপ ৮হিসাববিজ্ঞানের প্রমাণ দলিলচালান, ক্যাশমেমো, ডেবিট নোট, ক্রেডিট নোট ও ভাউচারের প্রয়োগ।
ধাপ ৯হিসাববিজ্ঞানের ধারণা ও নীতিসমূহস্বত্বামূলক ধারণা, চলমান প্রতিষ্ঠান, ঐতিহাসিক ব্যয়, মিলকরণ নীতির বিস্তারিত আলোচনা।
ধাপ ১০মান নির্ধারক সংস্থাআন্তর্জাতিক ও দেশীয় পেশাগত হিসাববিজ্ঞান সংস্থাসমূহের পরিচিতি।

১. হিসাববিজ্ঞানের মৌলিক ধারণা ও সংজ্ঞা

  • হিসাববিজ্ঞান হলো একটি সুশৃঙ্খল, বিজ্ঞানসম্মত ও পরিপূর্ণ তথ্যব্যবস্থা
  • এর মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় আর্থিক কার্যাবলি বা লেনদেনসমূহ সংগ্রহ, সুবিন্যস্তভাবে লিপিবদ্ধ, শ্রেণিবদ্ধ এবং বিশ্লেষণ করে একটি নির্দিষ্ট সময়ান্তে সঠিক আর্থিক ফলাফল ও সার্বিক আর্থিক অবস্থা নিরূপণ করা হয়।
  • আধুনিক ব্যবসায়িক জগতে হিসাববিজ্ঞানকে 'ব্যবসায়ের ভাষা' (Language of Business) বলা হয়। কারণ, ভাষা যেমন মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যম, তেমনি হিসাববিজ্ঞানও ব্যবসায়ের আর্থিক অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কথা প্রকাশ করে।
  • আমেরিকান হিসাববিজ্ঞান সমিতি (AAA) প্রদত্ত সংজ্ঞাটি সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য: "হিসাববিজ্ঞান হলো অর্থনৈতিক তথ্য শনাক্তকরণ, পরিমাপ ও সরবরাহের একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে তথ্যের ব্যবহারকারীগণ যৌক্তিক বিচার ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম হন।"
  • হিসাববিজ্ঞানের প্রদেয় বা প্রাথমিক উপাদান হলো লেনদেন এবং এর চূড়ান্ত ফলাফল হলো আর্থিক বিবরণী
  • এটি শুধু একটি কলা বা বিজ্ঞান নয়, বরং এটি কলা ও বিজ্ঞান উভয়ের এক অনন্য সংমিশ্রণ
  • উদাহরণ: 'রহিম ব্রাদার্স' একটি মুদি দোকান। সারা মাসে রহিম সাহেব কত টাকার পণ্য কিনলেন, বিক্রি করলেন, বেতন দিলেন এবং মাস শেষে ক্যাশবাক্সে কত টাকা লাভ জমা হলো—এই পুরো প্রক্রিয়াটি সুশৃঙ্খলভাবে খাতায় লিখে হিসাব বের করাই হলো হিসাববিজ্ঞানের প্রায়োগিক রূপ।

২. হিসাববিজ্ঞানের উৎপত্তির প্রাচীন ইতিহাস ও ক্রমবিকাশ

  • হিসাববিজ্ঞানের ইতিহাস ও ক্রমবিকাশকে মূলত চারটি সুনির্দিষ্ট ধাপে বা যুগে ভাগ করা হয়।
  • আদিকাল বা উন্মেষকাল (প্রস্তর যুগ): প্রস্তর যুগে মানুষ যখন গুহায় বসবাস করত, তখন পাথরের গায়ে বা গুহার দেয়ালে দাগ কেটে সম্পদের হিসাব রাখত। পরবর্তীতে কৃষিকাজ শুরু হলে ঘরের দেয়ালে, গাছের বাকলে বা রশিতে গিঁট দিয়ে হিসাব সংরক্ষণের চেষ্টা করা হতো।
  • বিনিময় ও মুদ্রা যুগ (প্রাগ-বিশ্লেষণকাল): পণ্যের বিনিময়ে পণ্য প্রথা শুরু হয়। মূল্যের সঠিক পরিমাপে সমস্যা হওয়ায় মুদ্রার প্রচলন ঘটে। এরপর ধারে লেনদেন শুরু হয় এবং হিসাবের লিখিত রূপের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
  • বিশ্লেষণকাল (মধ্য যুগ ও লুকা প্যাসিওলি): ১৪৯৪ সালে ইতালির ভেনিস শহরের অধিবাসী, প্রখ্যাত গণিতবিদ এবং ধর্মযাজক লুকা প্যাসিওলি (Luca Pacioli) দুতরফা দাখিলা পদ্ধতির ওপর একটি ঐতিহাসিক গ্রন্থ রচনা করেন।
  • গ্রন্থটির নাম ছিল 'Summa de Arithmetica, Geometria, Proportioni et Proportionalita'। এই গ্রন্থে তিনি প্রথমবারের মতো প্রতিটি লেনদেনের দুটি পক্ষ (ডেবিট ও ক্রেডিট) বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানসম্মতভাবে হিসাব সংরক্ষণের নিয়মাবলি লিপিবদ্ধ করেন। এ কারণে তাকে হিসাববিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
  • আধুনিক কাল: শিল্প বিপ্লবের পর যৌথ মূলধনী কোম্পানির উদ্ভব এবং কম্পিউটারের যুগে এটি একটি শক্তিশালী তথ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। ব্যবস্থাপনা, উৎপাদন ব্যয় ও মানব সম্পদ হিসাববিজ্ঞান আধুনিক কালেরই সৃষ্টি।
  • উদাহরণ: প্রাচীনকালে কৃষক ১০টি গরুর হিসাব রাখতে মাটির পাত্রে ১০টি পাথর রাখতেন। কিন্তু আধুনিক যুগে ডেইরি ফার্ম কম্পিউটারে সফটওয়্যারের মাধ্যমে হিসাবভুক্ত করে।

৩. হিসাববিজ্ঞান প্রক্রিয়ার ধাপসমূহ ও হিসাবরক্ষণ

  • হিসাববিজ্ঞান মূলত একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এর প্রধানত তিনটি ধাপ রয়েছে:
  • ১. শনাক্তকরণ (Identification): ব্যবসায়ের অসংখ্য ঘটনার মধ্য থেকে কোনগুলো আর্থিক লেনদেন, তা চিহ্নিত করা
  • ২. লিপিবদ্ধকরণ (Recording): চিহ্নিত লেনদেনগুলোকে নির্দিষ্ট নিয়মে (জাবেদা ও খতিয়ান) হিসাবের বইতে লেখা
  • ৩. তথ্য সরবরাহকরণ (Communication): আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত করে ব্যবহারকারীদের নিকট প্রতিবেদন পেশ করা।
  • হিসাবরক্ষণ (Book-keeping) বনাম হিসাববিজ্ঞান: শুধুমাত্র দ্বিতীয় ধাপটিকেই (লেনদেন লিপিবদ্ধকরণ) মূলত 'হিসাবরক্ষণ' বলা হয়।
  • হিসাবরক্ষণের কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে লেনদেন বিশ্লেষণ, জাবেদভুক্তকরণ এবং খতিয়ানে স্থানান্তর। অর্থাৎ হিসাবরক্ষণ হলো হিসাববিজ্ঞানের একটি ক্ষুদ্র অংশমাত্র।
  • যেখানে হিসাবরক্ষণের কাজ শেষ হয়, ঠিক সেখান থেকেই হিসাববিজ্ঞানের আসল কাজ (বিশ্লেষণ ও তথ্য সরবরাহ) শুরু হয়।
  • উদাহরণ: একজন হিসাবরক্ষক ভাউচার দেখে জাবেদা ও খতিয়ান তৈরি করলেন, এটি হলো 'হিসাবরক্ষণ'। কিন্তু মাস শেষে প্রধান হিসাববিজ্ঞানী সেই খতিয়ান থেকে আয় বিবরণী ও উদ্বৃত্তপত্র তৈরি করে লাভ-ক্ষতি বিশ্লেষণ করলেন, তখন তা 'হিসাববিজ্ঞান' প্রক্রিয়ার পূর্ণতা পেল।

৪. হিসাববিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা ও তাদের প্রয়োগ

  • ব্যবসায়ের আকার ও পরিধি বৃদ্ধির সাথে সাথে হিসাববিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার উদ্ভব হয়েছে। প্রধান শাখাসমূহ হলো:
  • আর্থিক হিসাববিজ্ঞান (Financial Accounting): এর মূল কাজ হলো ব্যবসায়ের লাভ-ক্ষতি নিরূপণ করে মূলত বাহ্যিক ব্যবহারকারীদের (বিনিয়োগকারী, পাওনাদার) জন্য আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত করা।
  • ব্যবস্থাপনা হিসাববিজ্ঞান (Management Accounting): এটি কেবলমাত্র অভ্যন্তরীণ ব্যবহারকারী বা ব্যবস্থাপকদের ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করে। এখানে নগদ প্রবাহ, বাজেট প্রণয়ন ইত্যাদি নিয়ে কাজ করা হয়।
  • উৎপাদন ব্যয় হিসাববিজ্ঞান (Cost Accounting): এর প্রধান লক্ষ্য হলো উৎপাদিত পণ্যের একক প্রতি ব্যয় নির্ধারণ করা এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ব্যবসায়ের সর্বাধিক মুনাফা অর্জন নিশ্চিত করা।
  • উদাহরণ: 'বাটা শু কোম্পানি' জুতা তৈরি করবে। জুতা তৈরিতে চামড়া ও মজুরি খরচ বের করবে উৎপাদন ব্যয় হিসাববিজ্ঞান। মোট বিক্রি ও নিট লাভ দেখাবে আর্থিক হিসাববিজ্ঞান। আগামী বছর নতুন ফ্যাক্টরি করা লাভজনক হবে কি না, তা দেখাবে ব্যবস্থাপনা হিসাববিজ্ঞান

৫. হিসাববিজ্ঞানের উদ্দেশ্য ও প্রয়োজনীয়তা

  • প্রাথমিক বা গৌণ উদ্দেশ্য: প্রতিটি আর্থিক লেনদেন সঠিকভাবে হিসাবের বইতে লিপিবদ্ধ করা, শ্রেণিবদ্ধ করা এবং গাণিতিক শুদ্ধতা যাচাই করা
  • প্রধান বা মুখ্য উদ্দেশ্য: ব্যবসায়ের নিট আর্থিক ফলাফল (লাভ বা ক্ষতি) নিরূপণ করা এবং ব্যবসায়ের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা (সম্পদ ও দায়) সম্পর্কে হিসাব তথ্যের ব্যবহারকারী বা আগ্রহী পক্ষসমূহের নিকট তথ্য সরবরাহ করা।
  • প্রয়োজনীয়তা: সঠিকভাবে হিসাব সংরক্ষণের মাধ্যমে ব্যবসায়ের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে সমতা বিধান করা যায়।
  • জালিয়াতি ও প্রতারণা রোধ করা সম্ভব হয়।
  • সরকার ও কর কর্তৃপক্ষের নিকট গ্রহণযোগ্য আয় বিবরণী উপস্থাপন করে সঠিক কর নির্ধারণ করা যায়, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।

৬. হিসাব তথ্যের ব্যবহারকারী

  • ক. অভ্যন্তরীণ ব্যবহারকারী (Internal Users): প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থেকে যারা নীতি নির্ধারণ ও পরিচালনায় সরাসরি অংশগ্রহণ করেন।
  • এর মধ্যে রয়েছে: মালিক (একমালিকানা ও অংশীদারি ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে), ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (পরিচালক, সিইও), বিভিন্ন শাখার ব্যবস্থাপক ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষক
  • খ. বাহ্যিক ব্যবহারকারী (External Users): যারা প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন পরিচালনার সাথে সরাসরি যুক্ত নন, কিন্তু আর্থিক ফলাফলের ওপর তাদের স্বার্থ জড়িত থাকে।
  • এর মধ্যে রয়েছে: যৌথ মূলধনী কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার বা বিনিয়োগকারী, পাওনাদার ও ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান (ব্যাংক), সরকার ও কর কর্তৃপক্ষ, শ্রমিক সংঘ (Labor Union) ও ভোক্তাসমাজ।
  • উদাহরণ: একটি ব্যাংক যখন 'প্রাণ-আরএফএল' গ্রুপকে ১০০ কোটি টাকা ঋণ দিতে চাইবে, তখন ব্যাংকটি লাভ-ক্ষতির হিসাব দেখতে চাইবে। এখানে ব্যাংক হলো বাহ্যিক ব্যবহারকারী। মার্কেটিং ম্যানেজার যখন পণ্যের বিজ্ঞাপন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেবেন, তখন তিনি হলেন অভ্যন্তরীণ ব্যবহারকারী

৭. লেনদেনের ধারণা, বৈশিষ্ট্য ও প্রকারভেদ

  • হিসাববিজ্ঞানের মূল ভিত্তি হলো লেনদেন। পৃথিবীতে ঘটে যাওয়া সব ঘটনা লেনদেন নয়, কিন্তু সব লেনদেনই এক একটি ঘটনা
  • লেনদেনের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য: ১. অর্থের অঙ্কে পরিমাপযোগ্যতা। ২. ব্যবসায়ের আর্থিক অবস্থার (সম্পদ, দায় বা মালিকানা স্বত্ব) পরিবর্তন। ৩. দ্বৈত সত্তা (দুটি পক্ষ—দাতা ও গ্রহীতা)।
  • দৃশ্যমানতার ভিত্তিতে: দৃশ্যমান (আসবাবপত্র ক্রয়) এবং অদৃশ্যমান (আসবাবপত্রের অবচয়)।
  • পক্ষগুলোর ভিত্তিতে: আন্তঃলেনদেন (ব্যবসায়ের ভেতরের ঘটনা, যেমন—অবচয় ধার্য) এবং বহিলেনদেন (বাইরের পক্ষের সাথে ঘটনা, যেমন—পণ্য বিক্রয়)।
  • ঘটনা বনাম লেনদেন: ব্যবসায়ের জন্য মাসিক ২০,০০০ টাকা বেতনে ম্যানেজার নিয়োগ দেওয়া হলো। এটি ঘটনা কিন্তু লেনদেন নয়, কারণ আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। মাস শেষে ম্যানেজারকে বেতন প্রদান করা হলো। এটি লেনদেন
  • অনগদ লেনদেন (Non-cash Transactions): যেসব আর্থিক ঘটনায় নগদ অর্থের আদান-প্রদান ঘটে না। যেমন—অবচয়, অবলোপন, ধারে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় এবং প্রদত্ত বা প্রাপ্ত নগদ বাট্টা
  • উদাহরণ (নগদ বাট্টা): পাওনা ১০,০০০ টাকার বদলে ৯,৫০০ টাকা নিয়ে ৫০০ টাকা ছাড় দিলে, ওই ৫০০ টাকা নগদ বাট্টা যা অনগদ লেনদেন

৮. হিসাব সমীকরণ ও এর প্রভাব

  • হিসাব সমীকরণ প্রমাণ করে যে, ব্যবসায়ের মোট সম্পদ সর্বদা এর মোট দায় এবং মালিকানা স্বত্বের যোগফলের সমান হবে।
  • মূল সমীকরণ: A = L + OE (Assets = Liabilities + Owner's Equity)। অর্থাৎ, সম্পদ = দায় + মালিকানা স্বত্ব
  • বর্ধিত সমীকরণ: মালিকানা স্বত্বকে ভাঙলে চারটি উপাদান পাওয়া যায়: মূলধন (Capital), আয় (Revenue), ব্যয় (Expense) এবং উত্তোলন (Drawings)
  • সুতরাং, বর্ধিত রূপটি হলো: A = L + C + R - E - D (সম্পদ = দায় + মূলধন + আয় - ব্যয় - উত্তোলন)।
  • মালিকানা স্বত্ব বাড়ে: মূলধন আনয়ন এবং আয় হলে। মালিকানা স্বত্ব কমে: ব্যয় সংঘটন এবং মালিকের উত্তোলন হলে।
  • কাঠামোগত বা গুণগত পরিবর্তন: সমীকরণের যেকোনো একপাশে পরিবর্তন ঘটলে। (যেমন- নগদে যন্ত্রপাতি ক্রয়: সম্পদ বাড়ল, সম্পদ কমল)।
  • নিট বা পরিমাণগত পরিবর্তন: সমীকরণের উভয় পাশে সমমুখী পরিবর্তন ঘটলে। (যেমন- ধারে পণ্য ক্রয়: ব্যয় বাড়ায় স্বত্ব কমল, দায় বাড়ল)।

৯. হিসাবের শ্রেণিবিভাগ, ডেবিট-ক্রেডিট নির্ণয় ও বিপরীত হিসাব

  • আধুনিক বা সমীকরণ পদ্ধতিতে হিসাবকে পাঁচটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়: সম্পদ, দায়, মালিকানা স্বত্ব, আয় এবং ব্যয়
  • ডেবিট-ক্রেডিট নির্ণয়ের আধুনিক সূত্র:
  • সম্পদ ও ব্যয়: বৃদ্ধি পেলে ডেবিট, হ্রাস পেলে ক্রেডিট
  • দায়, আয় ও মালিকানা স্বত্ব: বৃদ্ধি পেলে ক্রেডিট, হ্রাস পেলে ডেবিট
  • বিপরীত হিসাব (Contra Accounts): এটি সংশ্লিষ্ট প্রধান হিসাবের স্বাভাবিক জেরের বিপরীত দিকে বসে এবং আর্থিক বিবরণীতে সেই প্রধান হিসাব থেকে বিয়োগ করে দেখানো হয়।
  • বিপরীত সম্পদ: পুঞ্জীভূত অবচয় (সম্পদ থেকে বাদ যায়)। বিপরীত মালিকানা স্বত্ব: উত্তোলন (মূলধন থেকে বাদ যায়)।
  • বিপরীত আয়: বিক্রয় ফেরত, বিক্রয় বাট্টা (বিক্রয় থেকে বাদ যায়)। বিপরীত ব্যয়: ক্রয় ফেরত, ক্রয় বাট্টা (ক্রয় থেকে বাদ যায়)।
  • উদাহরণ: 'বিক্রয় ফেরত' একটি ডেবিট হিসাব এবং এটি বিপরীত আয় হিসেবে গণ্য হয়।

১০. হিসাববিজ্ঞানের প্রমাণ দলিলসমূহ

  • ১. চালান (Invoice): ধারে পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের প্রামাণ্য দলিল। বিক্রেতা এটি প্রস্তুত করেন।
  • ২. ক্যাশমেমো (Cash Memo): নগদে পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের প্রামাণ্য দলিল। এটি সাধারণত তিন প্রস্থে প্রস্তুত করা হয়, মূল কপি ক্রেতাকে দেওয়া হয়।
  • ৩. ডেবিট নোট (Debit Note): ক্রয়কৃত পণ্য ত্রুটিপূর্ণ হলে ক্রেতা যখন পণ্য ফেরত পাঠান, তখন যে বিবরণী পাঠানো হয় (ক্রয় ফেরতের দলিল)।
  • ৪. ক্রেডিট নোট (Credit Note): বিক্রেতা যখন ফেরত আসা পণ্য গ্রহণ করেন এবং ক্রেতার দেনা হ্রাসের বিষয়টি নিশ্চিত করেন (বিক্রয় ফেরতের দলিল)।
  • ৫. ভাউচার (Voucher): আয় বা ব্যয়ের প্রমাণ। ডেবিট ভাউচার (ব্যয়) এবং ক্রেডিট ভাউচার (আয়)। ভাউচারে ৪ জনের স্বাক্ষর থাকে (ক্যাশিয়ার, হিসাবরক্ষক, ব্যবস্থাপক এবং গ্রহীতা)।

১১. হিসাববিজ্ঞানের ধারণা, নীতি ও প্রথাসমূহ (Accounting Concepts and Principles)

  • হিসাববিজ্ঞানের তথ্যাবলি সর্বজনীনভাবে গ্রহণযোগ্য করতে GAAP (Generally Accepted Accounting Principles) মেনে চলা হয়।
  • ব্যবসায়িক সত্তা বা স্বত্বামূলক ধারণা: ব্যবসায়ের মালিক এবং ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান—এদের উভয়ের অস্তিত্ব সম্পূর্ণ আলাদা। (মালিকের ব্যক্তিগত খরচ হলো 'উত্তোলন')।
  • চলমান প্রতিষ্ঠান ধারণা: ধরে নেওয়া হয় ব্যবসায়টি অনির্দিষ্টকাল ধরে চলতে থাকবে। (এর ভিত্তিতে অবচয় ধার্য করা হয়)।
  • হিসাবকাল ধারণা: ব্যবসায়ের অসীম আয়ুষ্কালকে ছোট ছোট নির্দিষ্ট অংশে (যেমন—১ বছর) ভাগ করে আর্থিক ফলাফল নিরূপণ করা।
  • আর্থিক একক ধারণা: শুধুমাত্র অর্থের অঙ্কে পরিমাপযোগ্য লেনদেনগুলোকেই হিসাবভুক্ত করা।
  • ঐতিহাসিক ব্যয় নীতি: স্থায়ী সম্পদকে তার ক্রয়মূল্যে লিপিবদ্ধ করা হয়।
  • মিলকরণ বা ব্যয় স্বীকৃতি নীতি: নির্দিষ্ট হিসাবকালে অর্জিত আয়ের বিপরীতে ঠিক যতটুকু ব্যয় সংঘটিত হয়েছে, কেবল ততটুকুই আয়ের সাথে সমন্বয় করতে হবে।
  • রক্ষণশীলতার প্রথা: ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য কোনো আয়কে হিসাবভুক্ত না করা, কিন্তু ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য সকল ক্ষতি বা ব্যয়কে আগেই হিসাবভুক্ত করা। (যেমন: সমাপনী মজুতের বাজারমূল্য কম হলে তা লেখা)।
  • সামঞ্জস্য প্রথা: হিসাবরক্ষণে একবার যে পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়, তা বছরের পর বছর চালিয়ে যাওয়া

১২. মান নির্ধারক সংস্থাসমূহ

  • সারাবিশ্বে হিসাবরক্ষণ পদ্ধতিতে একটি অভিন্ন মান বা সমতা বজায় রাখার জন্য বেশ কিছু সংস্থা কাজ করে:
  • AICPA: American Institute of Certified Public Accountants (গঠিত: ১৮৮৭ সালে)।
  • FASB: Financial Accounting Standards Board - এরা আমেরিকায় GAAP প্রণয়ন করে।
  • IASB: International Accounting Standards Board (গঠিত: ২০০১ সালে) - এরা আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদন মান (IFRS - International Financial Reporting Standards) প্রণয়ন করে।
  • ICAB: Institute of Chartered Accountants of Bangladesh (গঠিত: ১৯৭৩ সালে) - বাংলাদেশে পেশাগত অডিট ও একাউন্টিং সনদ প্রদান করে।
  • ICMAB: Institute of Cost and Management Accountants of Bangladesh (গঠিত: ১৯৭৭ সালে) - দেশে উৎপাদন ব্যয় হিসাববিজ্ঞান নিয়ে কাজ করে।

ভর্তি পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৫০টি এক-লাইনার তথ্য

১. হিসাববিজ্ঞানকে আধুনিক ব্যবসায়ের ভাষা (Language of Business) হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
২. হিসাববিজ্ঞানের উৎপত্তিস্থল হিসেবে ইতালির ভেনিস শহর সর্বজনস্বীকৃত।
৩. হিসাববিজ্ঞানের প্রদেয় উপাদান হলো লেনদেন এবং চূড়ান্ত ফলাফল হলো আর্থিক বিবরণী
৪. আন্তর্জাতিক হিসাববিজ্ঞান দিবস প্রতিবছর ১০ই নভেম্বর উদ্‌যাপিত হয়।
৫. আধুনিক হিসাববিজ্ঞানের সর্বশেষ ও উন্নত সংযোজন হলো মানব সম্পদ হিসাববিজ্ঞান
৬. হিসাববিজ্ঞানের মূল ভিত্তি হলো দুতরফা দাখিলা পদ্ধতি এবং এই পদ্ধতির ভিত্তি হলো লেনদেন
৭. হিসাববিজ্ঞানের প্রধান বা মুখ্য উদ্দেশ্য হলো সংশ্লিষ্ট আগ্রহী ব্যবহারকারীদের নিকট আর্থিক তথ্য সরবরাহ করা
৮. হিসাববিজ্ঞানের প্রাথমিক বা গৌণ উদ্দেশ্য হলো লেনদেন লিপিবদ্ধ করা ও গাণিতিক শুদ্ধতা যাচাই করা
৯. আর্থিক বিবরণীকে সর্বজনগ্রাহ্য করার আন্তর্জাতিক আধুনিক মানদণ্ড হলো আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদন মান (IFRS)
১০. ব্যাংক থেকে জমার অতিরিক্ত উত্তোলন বা ব্যাংক জমাতিরিক্ত একটি চলতি দায়
১১. একাউন্টিং শব্দটি ল্যাটিন শব্দ 'কম্পিউটার' এবং ফরাসি শব্দ 'ক্যালকুলি' থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
১২. একমালিকানা ব্যবসায়ের মালিক হিসাব তথ্যের একমাত্র অভ্যন্তরীণ মালিক ব্যবহারকারী
১৩. অংশীদারি বা যৌথ মূলধনী কোম্পানির মালিক ও শেয়ারমালিকগণ হিসাব তথ্যের বাহ্যিক ব্যবহারকারী
১৪. সরকার, কর কর্তৃপক্ষ, পাওনাদার এবং গবেষকগণ হিসাব তথ্যের বাহ্যিক ব্যবহারকারীর অন্তর্ভুক্ত।
১৫. অবচয়, ইজারা সম্পদের অবলোপন এবং নগদ বাট্টা হলো হিসাববিজ্ঞানের অনগদ লেনদেনের উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
১৬. নগদ বাট্টা অনগদ লেনদেন হওয়া সত্ত্বেও নিয়মানুসারে এটি নগদান বইতে লিপিবদ্ধ করা হয়
১৭. হিসাব সমীকরণের ডানপাশের উপাদানগুলো (L + OE) হলো ব্যবসায়ের মোট সম্পদের ওপর বিভিন্ন পক্ষের দাবি
১৮. ধারে পণ্য বিক্রয়ের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে বিক্রেতা চালান তৈরি করেন।
১৯. নগদে পণ্য বিক্রয়ের ক্ষেত্রে বিক্রেতা সাধারণত তিন প্রস্থে ক্যাশমেমো প্রস্তুত করেন।
২০. ধারে ক্রয়কৃত পণ্য ত্রুটিপূর্ণ হলে ফেরত পাঠানোর সময় ক্রেতা ডেবিট নোট প্রস্তুত করেন
২১. বিক্রেতা যখন ধারে বিক্রিত পণ্য ফেরত পান, তখন তিনি ক্রেডিট নোট ইস্যু করেন
২২. মেশিন বা যন্ত্রপাতির সংস্থাপন ব্যয় একটি মূলধনজাতীয় ব্যয় এবং এটি সংশ্লিষ্ট সম্পদের মূল্যের সাথে যুক্ত হয়।
২৩. ডেবিট ভাউচার সমস্ত প্রকার ব্যয় লিপিবদ্ধ করার জন্য এবং ক্রেডিট ভাউচার আয় লিপিবদ্ধ করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
২৪. ক্যাশমেমোর মূল কপি ক্রেতাকে প্রদান করা হয় এবং বাকিগুলো হিসাব ও বিক্রয় বিভাগে সংরক্ষিত থাকে।
২৫. আয় ও অতিরিক্ত মূলধন মালিকানা স্বত্ব বৃদ্ধি করে; অপরদিকে ব্যয় ও উত্তোলন মালিকানা স্বত্ব হ্রাস করে।
২৬. দুতরফা দাখিলা পদ্ধতির জনক লুকা প্যাসিওলি ১৪৯৪ সালে হিসাববিজ্ঞানের ওপর প্রথম গ্রন্থ রচনা করেন।
২৭. মালিকানা স্বত্ব হিসাবের একটি প্রধান বিপরীত হিসাব হলো উত্তোলন, যা মূলধন কমায়।
২৮. পুঞ্জীভূত অবচয় হলো একটি বিপরীত সম্পদ হিসাব, যা উদ্বৃত্তপত্রে নির্দিষ্ট সম্পদ থেকে বিয়োগ করা হয়।
২৯. হিসাব সমীকরণের যেকোনো একপাশে পরিবর্তন ঘটলে তাকে লেনদেনের কাঠামোগত বা গুণগত পরিবর্তন বলে।
৩০. হিসাব সমীকরণের উভয় পাশে (সম্পদ ও দায়/মালিকানা স্বত্ব) পরিবর্তন ঘটলে তাকে লেনদেনের নিট বা পরিমাণগত পরিবর্তন বলে।
৩১. ব্যবসায়ের মালিক এবং ব্যবসায়ের পৃথক সত্তা বিদ্যমান—এটি স্বত্বামূলক বা ব্যবসায়িক সত্তা ধারণার মূল কথা।
৩২. ব্যবসায়ের স্থায়ী সম্পদের ওপর প্রতি বছর অবচয় ধার্য করা হয় চলমান প্রতিষ্ঠান ধারণার ভিত্তিতে
৩৩. নগদ অর্থের আদান-প্রদান না হলেও লেনদেন সংঘটিত হওয়ার সাথে সাথে তা লিপিবদ্ধ করা বকেয়া ভিত্তিক ধারণার অংশ
৩৪. সম্ভাব্য ক্ষতিকে হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা কিন্তু সম্ভাব্য আয়কে উপেক্ষা করা রক্ষণশীলতার প্রথার মূল বিষয়।
৩৫. সমাপনী মজুত পণ্যের ক্রয়মূল্য ও বাজারমূল্যের মধ্যে যেটি কম, সেটি লিপিবদ্ধ করা হয় রক্ষণশীলতার নীতি অনুযায়ী।
৩৬. হিসাবরক্ষণে একবার গৃহীত পদ্ধতি পরবর্তী বছরগুলোতেও অপরিবর্তিত রাখা হয় সামঞ্জস্য বা ধারাবাহিকতা প্রথার কারণে
৩৭. শুধুমাত্র অর্থের অঙ্কে পরিমাপযোগ্য ঘটনাগুলোই হিসাবের বইতে লিপিবদ্ধ হয় আর্থিক একক ধারণার আলোকে।
৩৮. সম্পদের ক্রয়মূল্যকে চিরকাল হিসাবভুক্ত করে রাখা হয় ঐতিহাসিক ব্যয় নীতির ভিত্তিতে
৩৯. আমেরিকান ইনস্টিটিউট অব সার্টিফাইড পাবলিক অ্যাকাউন্ট্যান্টস (AICPA) গঠিত হয় ১৮৮৭ সালে
৪০. আন্তর্জাতিক হিসাব মান নির্ণায়ক কমিটি (IASC) প্রথম গঠিত হয় ১৯৭৩ সালে
৪১. ২০০১ সালে আন্তর্জাতিক হিসাব মান নির্ণায়ক বোর্ড (IASB) আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়।
৪২. অগ্রিম প্রদত্ত ব্যয় (যেমন অগ্রিম বিমা) হিসাব সমীকরণে সম্পদ হিসেবে এবং বকেয়া ব্যয় (যেমন বকেয়া বেতন) দায় হিসেবে বিবেচিত হয়।
৪৩. আয় বিবরণীতে শুধু একটি নির্দিষ্ট হিসাবকালের মুনাফাজাতীয় আয় ও ব্যয়সমূহ লিপিবদ্ধ করে নিট লাভ বা ক্ষতি নিরূপণ করা হয়।
৪৪. ব্যয়ের সাথে প্রাপ্ত সুবিধার তুলনা করে হিসাবরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ব্যয়-সুবিধা সম্পর্ক প্রথার মাধ্যমে
৪৫. হিসাব তথ্যের গাণিতিক শুদ্ধতা যাচাই করার জন্য খতিয়ানের জেরগুলো নিয়ে রেওয়ামিল প্রস্তুত করা হয়
৪৬. হিসাবরক্ষণ হলো হিসাববিজ্ঞান প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় ধাপ, যার কাজ হলো লেনদেন বিশ্লেষণ, জাবেদভুক্তকরণ ও খতিয়ানে স্থানান্তর
৪৭. আন্তর্জাতিক হিসাব মান-১ (IAS-1) অনুযায়ী একটি পূর্ণাঙ্গ আর্থিক বিবরণীর প্রধান অংশ হলো ৫টি
৪৮. স্বত্বামূলক ধারণার মূল ভিত্তি হলো তিনটি—মালিকানা স্বত্ব, দায় স্বত্ব এবং ব্যবসায়িক স্বত্ব
৪৯. হিসাব সমীকরণের মূল উপাদান তিনটি (A, L, OE) হলেও, বর্ধিত রূপের মোট উপাদান হলো ছয়টি
৫০. আমেরিকান হিসাববিজ্ঞান সমিতির (AAA) প্রদত্ত সংজ্ঞাটি হিসাববিজ্ঞানের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞাগুলোর একটি।