Subjects & Chapters

Chapters

ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমন ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসন কোম্পানি আমল ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসন: ব্রিটিশ আমল পাকিস্তানি আমলে বাংলা ভাষা আন্দোলন ও এর গতিপ্রকৃতি.. পূর্ববাংলার স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধিকার আন্দোলন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধ. মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের (মুজিবনগর) কার্যক্রম মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী বাঙালি ও বহির্বিশ্ব শিল্পবিপ্লব ফরাসি বিপ্লব. প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং ভার্সাই সন্ধি ও লিগ অব নেশনস বলশেভিক বিপ্লব হিটলার ও মুসোলিনির উত্থান এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ জাতিসংঘ ও বিশ্বশান্তি. স্নায়ুযুদ্ধ: পুঁজিবাদ ও সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের দ্বন্দ্ব. স্নায়ুযুদ্ধ পরবর্তী বিশ্ব বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন….

Practice Questions

Total Questions: 53

21.
কর্ণার্টের রাজধানীর নাম কী?
সঠিক উত্তর: আর্কট। অষ্টাদশ শতাব্দীতে দক্ষিণ ভারতে অবস্থিত কর্ণার্ট (Carnatic) নামক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যটির রাজধানী ছিল 'আর্কট'। এই আর্কটকে ঘিরেই ইংরেজ ও ফরাসিদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের ঐতিহাসিক লড়াই বা কর্ণার্টের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল কারণ 'অর্কট' বানানটি ভুল এবং এটি কোনো সঠিক স্থানের নাম নয়। 'কলিকাতা' ছিল বাংলায় ইংরেজদের প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র ও প্রশাসনিক রাজধানী। 'চন্দননগর' ছিল বাংলায় অবস্থিত ফরাসিদের একটি বাণিজ্য কুঠি, কর্ণাটের রাজধানী নয়।
22.
মোগল সাম্রাজ্যের প্রদেশগুলোর নাম কী ছিল?
সঠিক উত্তর: সুবর্ণ (সুবা)। মোগল প্রশাসনিক কাঠামোতে বিশাল সাম্রাজ্যকে কয়েকটি বৃহৎ প্রদেশে ভাগ করা হতো, ইতিহাস বইতে যাকে 'সুবা' (Subah) বলা হয়। প্রদত্ত বিকল্পে মুদ্রণজনিত ত্রুটির কারণে তা 'সুবর্ণ' হিসেবে উল্লেখিত হয়েছে, যা প্রকৃত অর্থে 'সুবা' নির্দেশ করছে। অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল কারণ 'মহকুমা' ব্রিটিশ আমলে প্রবর্তিত একটি প্রশাসনিক স্তর। 'বিভাগ' আধুনিক শাসনব্যবস্থার একটি অংশ। 'নায়ের' বলতে কোনো প্রশাসনিক অঞ্চল বোঝায় না, এটি সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক শব্দ।
23.
সুবার শাসনকর্তাদের কী বলা হতো?
সঠিক উত্তর: সুবেদার। মোগল সাম্রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোতে প্রতিটি সুবা বা প্রদেশের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক, বিচারিক ও সামরিক কর্তাকে 'সুবেদার' (Subahdar) বলা হতো। তিনি সরাসরি সম্রাটের প্রতিনিধি হিসেবে নিজ প্রদেশে শাসনকার্য পরিচালনা করতেন। অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল কারণ 'নায়ের' বা নায়েব হলো অধস্তন কর্মকর্তা বা সহকারী, যিনি সুবেদারের অধীনে কাজ করতেন। 'রাহা' বা 'উহির' মোগল শাসনকাঠামোতে কোনো বৈধ বা পরিচিত প্রশাসনিক পদবি নয়, এগুলো মনগড়া ও ভুল বিকল্প হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
24.
বাংলার শ্রেষ্ঠ সুবাদার কে ছিলেন?
সঠিক উত্তর: ইসলাম খাঁ। সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনামলে বাংলার সুবাদার হিসেবে ইসলাম খাঁ চিশতী অত্যন্ত সফল ছিলেন। তিনি বাংলার প্রতাপশালী বারো ভূঁইয়াদের বিদ্রোহ কঠোর হস্তে দমন করেন এবং ঢাকায় বাংলার রাজধানী স্থানান্তর করে মুঘল শাসন অত্যন্ত সুসংহত করেন। অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল কারণ সুজাউদ্দীন খাঁ ও মুর্শিদ কুলি খাঁ ছিলেন বাংলার স্বাধীন নবাব, সুবাদার হিসেবে ইসলাম খাঁর মতো মুঘল কর্তৃত্বের প্রতিষ্ঠাতা নন। কুতুবউদ্দিন অত্যন্ত স্বল্প সময়ের জন্য বাংলার শাসনকর্তা ছিলেন।
25.
মোগল সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা কে?
সঠিক উত্তর: বাবর। জহিরউদ্দীন মুহম্মদ বাবর ১৫২৬ সালে ঐতিহাসিক পানিপথের প্রথম যুদ্ধে দিল্লির সুলতান ইব্রাহিম লোদীকে পরাজিত করে ভারতে মোগল সাম্রাজ্যের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন, তাই তাকেই মোগল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে গণ্য করা হয়। অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল কারণ আকবর মোগল সাম্রাজ্যকে সুসংহত করে সর্বশ্রেষ্ঠ রূপ দিলেও, সাম্রাজ্যের সূচনা তিনি করেননি। মুর্শিদ কুলি খাঁ এবং সুহাউদ্দীন খাঁ (সুজাউদ্দীন) ছিলেন বাংলার স্বাধীন নবাব, তারা কোনোভাবেই মোগল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা বা দিল্লির শাসক ছিলেন না।
26.
মীর জুমলাকে বাংলার সুবাদার নিযুক্ত করেন কে?
সঠিক উত্তর: আওরঙ্গজেব। মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেব তাঁর বিশ্বস্ত সেনাপতি মীর জুমলাকে ১৬৬০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার সুবাদার হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন। মীর জুমলা আসাম ও কোচবিহার অভিযানে অসামান্য সামরিক দক্ষতা প্রদর্শন করে মোগল সাম্রাজ্যের সীমানা সম্প্রসারণ করেছিলেন। অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল কারণ জাহাঙ্গীর অনেক আগের সম্রাট ছিলেন। ঈশা খাঁ ছিলেন বাংলার স্বাধীন জমিদার বা বারো ভূঁইয়াদের নেতা, তিনি সম্রাট ছিলেন না। শায়েস্তা খাঁ ছিলেন মীর জুমলার পরবর্তী সুবাদার, নিয়োগকর্তা নন।
27.
টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেত কার আমলে?
সঠিক উত্তর: শায়েস্তা খাঁ। মোগল সুবাদার শায়েস্তা খাঁর শাসনামল বাংলায় অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদন ও সস্তা দ্রব্যমূল্যের জন্য ইতিহাসে বিখ্যাত। তার সময়ে জিনিসপত্রের দাম এতই সস্তা ছিল যে, মাত্র এক টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেত। অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল কারণ মীর জুমলার সময়ে আসাম যুদ্ধের কারণে অর্থনীতি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত ছিল। মুর্শিদ কুলি খাঁ রাজস্ব সংস্কার করলেও এমন সস্তা দ্রব্যমূল্য ছিল না। ওয়ারেন্ট হেস্টিংস ব্রিটিশ গভর্নর ছিলেন, তার সময়ে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ হয়েছিল।
28.
বাংলায় নতুন নবাব বংশ প্রতিষ্ঠা করেন কে?
সঠিক উত্তর: মুর্শিদ কুলি খাঁ। মুর্শিদ কুলি খাঁ ১৭১৭ সালে মোগল সম্রাটের কাছ থেকে সুবাদারি লাভ করে কার্যত স্বাধীনভাবে বাংলা শাসন শুরু করেন এবং বাংলায় বংশানুক্রমিক নবাবী শাসনের শক্ত ভিত্তি বা নতুন নবাব বংশ প্রতিষ্ঠা করেন। অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল কারণ শায়েস্তা খাঁ এবং মীর জুমলা ছিলেন সরাসরি দিল্লির মোগল সম্রাটের নিযুক্ত সুবাদার, তারা স্বাধীন নবাব বংশ স্থাপন করেননি। সুজাউদ্দীন খাঁ ছিলেন মুর্শিদ কুলি খাঁর জামাতা ও উত্তরাধিকারী, প্রতিষ্ঠাতা নন।
29.
মুর্শিদ কুলি খাঁকে 'জাফর খাঁ' উপাধি দেয় কে?
সঠিক উত্তর: খাররুখশিয়া। মোগল সম্রাট ফারুকশিয়ার (খাররুখশিয়া) মুর্শিদ কুলি খাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা ও রাজস্ব আদায়ের অসাধারণ যোগ্যতায় মুগ্ধ হয়ে তাকে সম্মানসূচক 'জাফর খাঁ' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন এবং পরে তাকে বাংলার সুবাদার পদে উন্নীত করেন। অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল কারণ আওরঙ্গজেব তাকে প্রথম দেওয়ান হিসেবে বাংলায় পাঠিয়েছিলেন, জাফর খাঁ উপাধি দেননি। মোবারক শাহ এবং আজিম উস শাহ্ (আজিম-উস-শান) মোগল ইতিহাসের অন্য চরিত্র, তারা মুর্শিদ কুলিকে এই উপাধি প্রদান করেননি।
30.
নান করের প্রবর্তক কে?
সঠিক উত্তর: মুর্শিদ কুলি খাঁ। বাংলার নবাব মুর্শিদ কুলি খাঁ অত্যন্ত কড়াকড়িভাবে রাজস্ব আদায়ের ব্যবস্থা করেছিলেন। যারা ভূমি রাজস্ব বা খাজনা দিতে ব্যর্থ হতো বা নির্ধারিত সময়ে রাজস্ব পরিশোধ করতে পারত না, তাদের ওপর শাস্তিমূলকভাবে অতিরিক্ত কর হিসেবে 'নান কর' বা আবওয়াব চাপিয়ে দেওয়া হতো। অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল কারণ সিরাজউদ্দৌলা অল্প বয়সে নবাব হয়ে নানামুখী ষড়যন্ত্রের শিকার ছিলেন। ঈশা খাঁ ছিলেন বিদ্রোহী জমিদার এবং মীর জাফর ছিলেন ইংরেজদের আজ্ঞাবহ পুতুল নবাব।
31.
ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ নির্মাণ করা হয় কত সালে?
সঠিক উত্তর: ১৭০০। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি নিজেদের বাণিজ্যিক ও সামরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে কলকাতার ভাগীরথী নদীর তীরে ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে আনুষ্ঠানিকভাবে ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে। রাজা তৃতীয় উইলিয়ামের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়। অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল কারণ ১৮০০ সালে লর্ড ওয়েলেসলি সেখানে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ স্থাপন করেন, সামরিক দুর্গ নয়। ১৭০১ বা ১৮০১ সাল ব্রিটিশ কোম্পানির দুর্গ নির্মাণের ঐতিহাসিক সাল হিসেবে স্বীকৃত বা সঠিক নয়।
32.
ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ নবাব সিরাজউদ্দৌলা আক্রমণ করেন কবে?
সঠিক উত্তর: ২০শে জুন। বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা ইংরেজদের ঔদ্ধত্য, অবাধ্যতা ও অবৈধ দুর্গ নির্মাণ বন্ধ করতে ১৭৫৬ সালের ২০শে জুন কলকাতার ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ আক্রমণ করে তা সফলভাবে দখল করে নেন। অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল কারণ ২০শে মার্চ বা ২০শে এপ্রিল তারিখে নবাবের তরফ থেকে এমন কোনো বৃহৎ সামরিক অভিযান সংঘটিত হয়নি। ২০শে মে ইতিহাস স্বীকৃত কোনো উল্লেখযোগ্য তারিখ নয়। সিরাজের কলকাতা বিজয়ের সুনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক তারিখ ২০শে জুন হিসেবেই সুপ্রতিষ্ঠিত।
33.
পলাশি কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
সঠিক উত্তর: ভাগীরথী। ঐতিহাসিক পলাশীর প্রান্তর বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নদীয়া জেলায় 'ভাগীরথী' নদীর তীরে অবস্থিত। এখানেই ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন সিরাজউদ্দৌলার সাথে লর্ড ক্লাইভের নেতৃত্বাধীন ব্রিটিশ বাহিনীর ভাগ্যনির্ধারণী যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল কারণ 'বুড়িগঙ্গা' নদীর তীরে ঢাকা শহর অবস্থিত। 'ভৈরব' নদ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত। 'পদ্মা' বাংলাদেশের একটি প্রধান নদী, যার সাথে পলাশীর যুদ্ধক্ষেত্রের ভৌগোলিক কোনো সম্পর্ক নেই, কারণ পলাশী সম্পূর্ণভাবে ভাগীরথীর অববাহিকায় অবস্থিত।
34.
সিরাজউদ্দৌলা কোথায় ধৃত হন?
সঠিক উত্তর: ভগবান গোলায়। পলাশীর যুদ্ধে পরাজয়ের পর নবাব সিরাজউদ্দৌলা রাজধানী মুর্শিদাবাদ থেকে পালিয়ে নৌপথে পাটনার দিকে যাওয়ার সময় 'ভগবান গোলা' নামক স্থানে পথভ্রষ্ট হয়ে ধরা পড়েন। পরে তাকে বন্দি করে মীর জাফরের ছেলে মিরনের কাছে পাঠানো হয়। অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল কারণ আম্রকাননে (পলাশীর প্রান্তর) মূল যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, তিনি সেখানে ধৃত হননি। 'রুপালি কানন' কাল্পনিক নাম। ভাগীরথীর তীরে যুদ্ধ হলেও তিনি ধরা পড়েছিলেন নির্দিষ্টভাবে ভগবান গোলায়।
35.
ছিয়াত্তরের মন্বন্তরে কত লোক মারা যায়?
সঠিক উত্তর: এক কোটি। ছিয়াত্তরের মন্বন্তর (বাংলা ১১৭৬, ইংরেজি ১৭৭০) ছিল বাংলার ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মাত্রাতিরিক্ত রাজস্ব আদায় এবং খরা প্রকোপের কারণে সৃষ্ট এই দুর্ভিক্ষে বাংলার প্রায় এক কোটি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল কারণ ঐতিহাসিক প্রামাণ্য দলিল এবং উইলিয়াম হান্টারের বিবরণ অনুসারে তৎকালীন বাংলার মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ প্রায় এক কোটি লোক মারা যায়। দেড়, দুই বা তিন কোটি সঠিক পরিসংখ্যান নয়।
36.
দস্তকের অপব্যবহারের প্রতিকার চেয়ে মীর কাসিম কার নিকট পত্র লেখেন?
সঠিক উত্তর: ভান্সিটার্ট। বাংলার নবাব মীর কাসিম কোম্পানির কর্মচারীদের দ্বারা বিনা শুল্কে বাণিজ্যের ছাড়পত্র বা 'দস্তক'-এর চরম অপব্যবহারের কারণে দেশীয় বণিকদের ক্ষতি হচ্ছিল বলে তৎকালীন ইংরেজ গভর্নর ভান্সিটার্ট-এর কাছে প্রতিকার চেয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পত্র লিখেছিলেন। অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল কারণ রবার্ট ক্লাইভ তখন ইংল্যান্ডে ছিলেন। আওরঙ্গজেব অনেক আগেই মৃত্যুবরণ করেছিলেন। সিনফ্রে ছিলেন ফরাসি গোলন্দাজ সেনাপতি যিনি পলাশীতে সিরাজের পক্ষে লড়েছিলেন, তিনি কোম্পানির কোনো প্রশাসনিক কর্মকর্তা বা গভর্নর ছিলেন না।
37.
রাজবল্লভ কার দেওয়ান ছিল?
সঠিক উত্তর: ঘসেটি বেগম। রাজা রাজবল্লভ ছিলেন নবাব সিরাজউদ্দৌলার খালা ও অন্যতম প্রধান ষড়যন্ত্রকারী ঘসেটি বেগমের অত্যন্ত বিশ্বস্ত দেওয়ান বা কোষাধ্যক্ষ। তিনি ঘসেটি বেগমের প্রচুর ধনসম্পদ দেখাশোনা করতেন এবং সিরাজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল কারণ মীর জাফরের কোনো দেওয়ান ছিলেন না রাজবল্লভ। আমেনা খাতুন সিরাজউদ্দৌলার মা ছিলেন, তিনি ষড়যন্ত্রকারী ছিলেন না। জগৎশেঠ ছিলেন বাংলার একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যাংকার, তিনি কারও ব্যক্তিগত দেওয়ান ছিলেন না।
38.
ইউরোপ থেকে ভারতে আসার জলপথ আবিষ্কার করেন কে?
সঠিক উত্তর: ভাস্কো-দা-গামা। ১৪৯৮ সালে পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দা-গামা আফ্রিকা মহাদেশের উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে ভারতের পশ্চিম উপকূলের কালিকট বন্দরে এসে পৌঁছান। এর মাধ্যমেই ইউরোপ থেকে ভারতে আসার সরাসরি ও নিরাপদ সমুদ্রপথ আবিষ্কৃত হয়। অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল কারণ বার্থলমিউ দিয়াজ কেবল উত্তমাশা অন্তরীপ পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছিলেন। আলভারেঞ্জ ক্যাব্রাল ব্রাজিল আবিষ্কারের সাথে যুক্ত ছিলেন। আল বুকার্ক ভারতে পর্তুগিজ সাম্রাজ্যের শক্ত ভিত গড়েছিলেন ঠিকই, তবে সমুদ্রপথ আবিষ্কারের কৃতিত্ব সম্পূর্ণভাবে ভাস্কো-দা-গামার।
39.
এ দেশের অসহায় বালক বালিকাদের জোর করে খ্রিষ্টান বানাতো কারা?
সঠিক উত্তর: পর্তুগিজরা। বাংলায় আগত ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে পর্তুগিজরা (যাদের মগ বা হার্মাদ বলা হতো) ছিল অত্যন্ত নিষ্ঠুর। তারা বাংলার উপকূলীয় অঞ্চলে জলদস্যুতা ও লুটতরাজ করত এবং অসহায় বালক-বালিকাদের অপহরণ করে জোরপূর্বক খ্রিষ্টান ধর্মে দীক্ষিত করে দাস হিসেবে বিক্রি করত। অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল কারণ ওলন্দাজ, ফরাসি এবং ইংরেজরা মূলত লাভজনক বাণিজ্য ও রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের দিকে মনোযোগী ছিল; জোর করে ব্যাপক হারে ধর্মান্তরিত করা বা জলদস্যুতার মতো জঘন্য কাজ তারা করেনি।
40.
কোন মোগল সম্রাট পর্তুগিজদের এ দেশ থেকে বিতাড়িত করেন?
সঠিক উত্তর: শাহজাহান। পর্তুগিজদের অবৈধ বাণিজ্য, লুণ্ঠন, জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ এবং উদ্ধত আচরণের কারণে মোগল সম্রাট শাহজাহান অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন। তাঁর কঠোর নির্দেশে বাংলার সুবাদার কাসিম খান ১৬৩২ সালে হুগলি আক্রমণ করে পর্তুগিজদের বাংলা থেকে বিতাড়িত করেন। অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল কারণ আকবর এবং জাহাঙ্গীরের আমলে পর্তুগিজরা বাণিজ্যের প্রাথমিক অনুমতি পেয়েছিল। আওরঙ্গজেবের শাসনামলে পর্তুগিজদের ক্ষমতা আগেই খর্ব হয়ে গিয়েছিল, মূলত শাহজাহানের আমলেই তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।