Subjects & Chapters

Chapters

ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমন ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসন কোম্পানি আমল ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসন: ব্রিটিশ আমল পাকিস্তানি আমলে বাংলা ভাষা আন্দোলন ও এর গতিপ্রকৃতি.. পূর্ববাংলার স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধিকার আন্দোলন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধ. মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের (মুজিবনগর) কার্যক্রম মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী বাঙালি ও বহির্বিশ্ব শিল্পবিপ্লব ফরাসি বিপ্লব. প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং ভার্সাই সন্ধি ও লিগ অব নেশনস বলশেভিক বিপ্লব হিটলার ও মুসোলিনির উত্থান এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ জাতিসংঘ ও বিশ্বশান্তি. স্নায়ুযুদ্ধ: পুঁজিবাদ ও সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের দ্বন্দ্ব. স্নায়ুযুদ্ধ পরবর্তী বিশ্ব বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন….

Practice Questions

Total Questions: 53

1.
মুক্তিযুদ্ধে কোন বেতার কেন্দ্রের ভূমিকা অবিস্মরণীয় ছিল? [NU-Humanities: 24-25]
সঠিক উত্তর: স্বাধীন বাংলা বেতার। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে অবরুদ্ধ ও স্বাধীনতাকামী বাঙালিদের অনুপ্রেরণা জোগাতে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিল। এর অনুষ্ঠানমালা, দেশাত্মবোধক গান এবং চরমপত্র মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস জুগিয়েছিল। অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল, কারণ 'আকাশবাণী' ভারতের রাষ্ট্রীয় বেতার কেন্দ্র, যা খবর প্রচার করলেও বাংলাদেশের নিজস্ব কোনো কেন্দ্র ছিল না। 'রেডিও ফুর্তি' এবং 'রেডিও আমার' আধুনিক যুগের এফএম রেডিও চ্যানেল, যেগুলোর মুক্তিযুদ্ধের সময় কোনো অস্তিত্বই ছিল না।
2.
ইতিহাসের জনক কে? [NU-Humanities: 14-15]
সঠিক উত্তর: হেরোডোটাস। প্রাচীন গ্রিক পণ্ডিত হেরোডোটাসকে 'ইতিহাসের জনক' বলা হয়, কারণ তিনিই সর্বপ্রথম বিজ্ঞানসম্মতভাবে ও অনুসন্ধানমূলক পদ্ধতিতে গ্রিক ও পারস্য যুদ্ধের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করেছিলেন। তাঁর রচিত 'দ্য হিস্ট্রিজ' গ্রন্থটি ইতিহাস চর্চার প্রথম সার্থক নিদর্শন। অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল, কারণ 'পেরিক্লিস' ছিলেন প্রাচীন এথেন্সের একজন বিখ্যাত রাষ্ট্রনায়ক, কোনো ঐতিহাসিক নন। 'আবুল ফজল' মুঘল সম্রাট আকবরের সভাসদ ও ঐতিহাসিক হলেও সার্বজনীন ইতিহাসের জনক নন। 'কার্ল মার্কস' সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদের প্রবক্তা, ইতিহাস তত্ত্বের রূপকার হলেও ইতিহাসের আদি জনক নন।
3.
মহাকাব্য কোনটি? [NU-Humanities: 14-15]
সঠিক উত্তর: রামায়ণ। রামায়ণ হলো প্রাচীন ভারতের একটি অন্যতম প্রধান মহাকাব্য, যা মহর্ষি বাল্মীকি সংস্কৃত ভাষায় রচনা করেছিলেন। এটি বিশাল আকার, বর্ণনাত্মক শৈলী এবং রাম-রাবণের মহাকাব্যিক যুদ্ধের বিবরণ ধারণ করে বলে এটি মহাকাব্যের সার্থক উদাহরণ। অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল, কারণ 'বেদ' এবং 'ঋগ-বেদ' হলো সনাতন হিন্দু ধর্মের প্রাচীন ও পবিত্রতম ধর্মীয় শ্লোক বা মন্ত্রের সংকলন, এগুলো কোনো সাহিত্যিক মহাকাব্য নয়। অন্যদিকে 'উপনিষদ' হলো বেদের দার্শনিক ও আধ্যাত্মিক অংশ, এতে মহাকাব্যের মতো কোনো যুদ্ধ বা বীরত্বগাথা কাহিনির বর্ণনা নেই।
4.
বাংলার প্রথম স্বাধীন রাজা- [NU-Humanities: 14-15]
সঠিক উত্তর: শশাঙ্ক। প্রাচীন বাংলার প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম নরপতি ছিলেন রাজা শশাঙ্ক। তিনি ৭ম শতকের শুরুতে গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন এবং গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের পর প্রথমবারের মতো বাংলার একটি বড় অংশকে একত্রিত করে স্বাধীন রাজ্য স্থাপন করেন। অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল, কারণ 'গোপাল' ছিলেন পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা, যিনি শশাঙ্কের অনেক পরে বাংলায় শাসন করেন। 'বিজয় সেন' সেন বংশের একজন উল্লেখযোগ্য শাসক, যিনি পালদের পরে আসেন। 'আকবর' ছিলেন মুঘল সম্রাট, প্রাচীন বাংলার রাজা নন।
5.
তাজমহল অবস্থিত- [NU-Humanities: 14-15]
সঠিক উত্তর: আগ্রা। বিখ্যাত স্মৃতিস্তম্ভ তাজমহল ভারতের উত্তর প্রদেশের আগ্রা শহরে যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত। মুঘল সম্রাট শাহজাহান তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী মমতাজ মহলের স্মৃতির উদ্দেশ্যে এই অপূর্ব শ্বেতপাথরের স্থাপত্যটি নির্মাণ করেছিলেন। অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল, কারণ 'দিল্লি' মুঘল সাম্রাজ্যের অন্যতম রাজধানী এবং সেখানে লালকেল্লা অবস্থিত হলেও তাজমহল সেখানে নয়। 'বেনারস' (বারাণসী) গঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত একটি প্রাচীন হিন্দু তীর্থস্থান, তাজমহলের সাথে এর সম্পর্ক নেই। 'আজমির' রাজস্থানে অবস্থিত, যা খাজা মঈনুদ্দিন চিশতীর দরগাহর জন্য বিখ্যাত।
6.
ইংরেজরা বাংলার দেওয়ানি লাভ করে- [NU-Humanities: 14-15]
সঠিক উত্তর: ১৭৬৫ সালে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৬৫ সালে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের কাছ থেকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি অর্থাৎ রাজস্ব আদায়ের বৈধ অধিকার লাভ করে। রবার্ট ক্লাইভ এলাহাবাদ চুক্তির মাধ্যমে এই অধিকার নিশ্চিত করেছিলেন, যা বাংলায় দ্বৈত শাসনের সূচনা করে। অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল, কারণ '১৭৫৭ সালে' পলাশীর যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, দেওয়ানি লাভ নয়। '১৭৬০ সালে' মীর জাফরকে সরিয়ে মীর কাসিমকে বাংলার নবাব করা হয়। '১৭৭০ সালে' (বাংলা ১১৭৬) ভয়াবহ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর হয়েছিল।
7.
হরপ্পা এবং মহেঞ্জোদারো কোন সভ্যতার অন্তর্গত? [NU-Humanities: 13-14]
সঠিক উত্তর: সিন্ধু সভ্যতার। হরপ্পা এবং মহেঞ্জোদারো হলো প্রাচীন সিন্ধু সভ্যতার (Indus Valley Civilization) দুটি অন্যতম প্রধান ও উন্নত নগর কেন্দ্র। ১৯২১-২২ সালে প্রত্নতাত্ত্বিক খননের মাধ্যমে এই দুটি নগরের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয়, যা এই সভ্যতার নগর-পরিকল্পনার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে। অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল, কারণ 'রোমান সভ্যতা' ইতালির টাইবার নদীর তীরে গড়ে ওঠা সভ্যতা। 'গ্রীক সভ্যতা' ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে বিকশিত হয়েছিল, যার সাথে ভারতীয় উপমহাদেশের কোনো সম্পর্ক নেই। 'চৈনিক সভ্যতা' হোয়াংহো নদীর তীরে চীনে বিকশিত হয়।
8.
চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের রাজধানী কোথায় অবস্থিত ছিল? [NU-Humanities: 13-14]
সঠিক উত্তর: পাটালিপুত্রে। চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ছিলেন প্রাচীন ভারতের সুবিশাল মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা, এবং তাঁর সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল পাটালিপুত্র (বর্তমান বিহারের পাটনা)। এই নগরীটি সে যুগে গঙ্গা ও শোন নদীর সঙ্গমস্থলে অবস্থিত একটি সমৃদ্ধশালী ও সুরক্ষিত প্রশাসনিক কেন্দ্র ছিল। অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল, কারণ 'গৌড়' ছিল প্রাচীন বাংলার একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। 'কর্ণ সুবর্ণ' ছিল রাজা শশাঙ্কের রাজধানী, যা বাংলায় অবস্থিত। 'পুন্ড্র নগর' (মহাস্থানগড়) ছিল প্রাচীন বাংলার পুন্ড্রবর্ধন ভুক্তির রাজধানী, এটি মৌর্যদের প্রাদেশিক কেন্দ্র হলেও মূল রাজধানী ছিল না।
9.
আকবরনামা'র রচয়িতার নাম- [NU-Humanities: 13-14]
সঠিক উত্তর: আবুল ফজল। 'আকবরনামা' হলো মুঘল সম্রাট আকবরের রাজত্বকালের সরকারি ইতিহাস, যা রচনা করেছিলেন তাঁর সভার অন্যতম রত্ন ও বিখ্যাত পণ্ডিত আবুল ফজল আল্লামি। গ্রন্থটির তৃতীয় খণ্ড 'আইন-ই-আকবরী' নামে পরিচিত। অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল, কারণ 'সম্রাট আকবর' নিজে কোনো গ্রন্থ রচনা করেননি, তিনি নিরক্ষর ছিলেন। 'আবদুল কাদির বদাউনী' আকবরের সমসাময়িক একজন ঐতিহাসিক হলেও তিনি 'মুনতাখাব-উত-তাওয়ারিখ' রচনা করেছিলেন। 'কাফি খান' আওরঙ্গজেবের শাসনামলের ঐতিহাসিক ছিলেন, যিনি 'মুনতাখাব-উল-লুবাব' রচনা করেন।
10.
সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসীরা কোন নৃ-গোষ্ঠীর? [NU-Humanities: 12-13]
সঠিক উত্তর: দ্রাবিড়। ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, সিন্ধু সভ্যতার মূল রূপকার ও অধিবাসীরা ছিলেন মূলত 'দ্রাবিড়' নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ। তারাই এই উন্নত নগর সভ্যতা গড়ে তুলেছিলেন, যা পরে বহিরাগত আর্যদের আগমনের ফলে বা প্রাকৃতিক কারণে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় বলে ধারণা করা হয়। অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল, কারণ 'মঙ্গোলিয়' নৃ-গোষ্ঠীর মানুষেরা সাধারণত পূর্ব এশিয়া ও হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চলে বসবাস করত। 'আর্য'রা সিন্ধু সভ্যতার পতনের পর ভারতে প্রবেশ করে। 'নিগ্রো' নৃ-গোষ্ঠীর আদি নিবাস আফ্রিকা মহাদেশ, প্রাচীন ভারতে তাদের বসতি ছিল না।
11.
ইবনে বতুতা ভারতে আসেন কোন সুলতানের শাসন আমলে? [NU-Humanities: 12-13]
সঠিক উত্তর: মুহম্মদ বিন তুঘলক। বিখ্যাত মুসলিম পরিব্রাজক ইবনে বতুতা মরক্কো থেকে ১৩৩৩ সালে ভারতে আসেন, তখন দিল্লির সুলতান ছিলেন মুহম্মদ বিন তুঘলক। তাঁর রচিত 'কিতাবুল রেহলা' গ্রন্থে এই সময়ের ভারতের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল কারণ আলাউদ্দীন খালজি অনেক আগের শাসক ছিলেন। ফখরুদ্দীন মোবারক শাহ বাংলার স্বাধীন সুলতান ছিলেন। নাসিরুদ্দীন খসরু শাহ খলজি বংশের শেষ দিককার শাসক ছিলেন, ইবনে বতুতা তার রাজত্বকালে ভারতে আসেননি।
12.
ইউরোপীয় জাতিসমূহের মধ্যে সবার আগে ভারতে আসে- [NU-Humanities: 12-13]
সঠিক উত্তর: পর্তুগিজ। ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো দা গামা ১৪৯৮ সালে সমুদ্রপথে সর্বপ্রথম ভারতের কালিকট বন্দরে এসে পৌঁছান। ফলে ইউরোপীয়দের মধ্যে পর্তুগিজরাই প্রথম ভারতে বাণিজ্য শুরু করে। অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল কারণ ইংরেজরা ১৬০০ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠনের পর ভারতে আসে। ফরাসিরা সবার শেষে ১৬৬৪ সালে এবং দিনেমার বা ডেনিশরা ১৬১৬ সালে ভারতে বাণিজ্য করার উদ্দেশ্যে আগমন করেছিল, সবার আগে নয়।
13.
কোন যুগ প্রাচীন ভারতে স্বর্ণযুগ হিসাবে পরিচিত? [NU-Humanities: 11-12]
সঠিক উত্তর: গুপ্ত যুগ। প্রাচীন ভারতের ইতিহাসে গুপ্ত যুগকে 'স্বর্ণযুগ' বলা হয় কারণ এই সময়ে সাহিত্য, বিজ্ঞান, গণিত, স্থাপত্য ও ভাস্কর্যে ভারত অভাবনীয় উন্নতি লাভ করেছিল। কালিদাস এবং আর্যভট্টের মতো পণ্ডিতরা এই যুগে আবির্ভূত হন। অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল কারণ মৌর্য যুগ শক্তিশালী প্রশাসনিক ঐক্যের জন্য বিখ্যাত হলেও সার্বিক উৎকর্ষতায় গুপ্তদের নিচে। কুষাণ যুগ এবং ব্যাকট্রিয় যুগ ভারতের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের খণ্ডচিত্র মাত্র, স্বর্ণযুগ হিসেবে স্বীকৃত নয়।
14.
দিল্লি সালতানাতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন- [NU-Humanities: 11-12]
সঠিক উত্তর: শামসুদ্দীন ইলতুৎমিশ। কুতুবউদ্দীন আইবেক দিল্লি সালতানাতের সূচনা করলেও, এর আইনি স্বীকৃতি, প্রশাসনিক কাঠামো গঠন এবং মুদ্রাব্যবস্থা প্রবর্তনের কারণে শামসুদ্দীন ইলতুৎমিশকে প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়। খলিফার স্বীকৃতিও তিনি পেয়েছিলেন। অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল কারণ কুতুবউদ্দীন আইবেক কেবল ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন, প্রকৃত রূপ দিতে পারেননি। গিয়াসউদ্দীন বলবন সাম্রাজ্যকে সুদৃঢ় করেছিলেন মাত্র। আলাউদ্দীন খলজী ছিলেন খলজি বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক, তবে সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা তিনি ছিলেন না।
15.
আর্যরা ভারতে প্রথম বসতি স্থাপন করেছিল- [NU-Humanities: 10-11]
সঠিক উত্তর: উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত অঞ্চল ও পাঞ্জাবে। মধ্য এশিয়া থেকে আগত আর্যরা সর্বপ্রথম ভারতের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত অঞ্চল এবং পাঞ্জাব বা 'সপ্তসিন্ধু' অঞ্চলে বসতি স্থাপন করেছিল। এখানেই তারা তাদের প্রাথমিক বৈদিক সভ্যতা গড়ে তোলে। অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল কারণ বেলুচিস্তান সিন্ধু সভ্যতার অংশ হলেও আর্যদের প্রথম কেন্দ্র ছিল না। দক্ষিণ ভারত ছিল মূলত দ্রাবিড়দের আবাসস্থল। আর্যরা বাংলায় প্রবেশ করেছিল অনেক পরে, তাই এটি তাদের প্রাথমিক বসতি ছিল না।
16.
সিন্ধু সভ্যতা আবিষ্কারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে- [NU-Humanities: 09-10]
সঠিক উত্তর: রাখালদাস বন্দোপাধ্যায়। প্রখ্যাত বাঙালি প্রত্নতাত্ত্বিক রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯২২ সালে সিন্ধু সভ্যতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র মহেঞ্জোদারো আবিষ্কারে প্রধান ভূমিকা পালন করেন। তাঁর এই আবিষ্কার প্রাচীন ভারতের ইতিহাসের গতিপথ পাল্টে দেয়। অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল কারণ আর.সি. মজুমদার একজন প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ হলেও প্রত্নতাত্ত্বিক খননের সাথে সরাসরি যুক্ত ছিলেন না। নীহার রঞ্জন রায় এবং কালিদাস নাগ প্রখ্যাত বাঙালি ঐতিহাসিক ও সমাজবিজ্ঞানী, তাঁরা সিন্ধু সভ্যতার প্রাথমিক আবিষ্কারক ছিলেন না।
17.
চৈনিক পর্যটক ভারতে আসেন কার রাজত্বকালে? [NU-Humanities: 09-10]
সঠিক উত্তর: দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত। বিখ্যাত চৈনিক পরিব্রাজক ফাহিয়েন গুপ্ত সম্রাট দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত (যিনি বিক্রমাদিত্য নামেও পরিচিত)-এর রাজত্বকালে ভারতে আগমন করেন। তিনি মূলত বৌদ্ধ তীর্থস্থান দর্শন এবং বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ভারতে এসেছিলেন। অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল কারণ সমুদ্রগুপ্তের আমলে কোনো উল্লেখযোগ্য চৈনিক পর্যটক আসেননি। প্রথম চন্দ্রগুপ্ত গুপ্ত সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা হলেও ফাহিয়েন তার আমলে আসেননি। সম্রাট অশোক মৌর্য বংশের শাসক ছিলেন, তার সময়ে ফাহিয়েনের ভারত আগমনের ঘটনা ঘটেনি।
18.
অন্ধকূপ হত্যা' কাহিনি কার তৈরি? [NU-Humanities: 09-10]
সঠিক উত্তর: হলওয়েল। 'অন্ধকূপ হত্যা' বা ব্ল্যাক হোল ট্র্যাজেডি কাহিনিটি ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মকর্তা জে. জেড. হলওয়েল তৈরি করেছিলেন। তিনি দাবি করেন নবাব সিরাজউদ্দৌলা ১৪৬ জন ইংরেজকে একটি ছোট ঘরে বন্দি করে রেখেছিলেন যার ফলে শ্বাসরোধ হয়ে অনেকে মারা যায়। অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল কারণ মীর জাফর ছিলেন নবাবের বিশ্বাসঘাতক সেনাপতি। রবার্ট ক্লাইভ পলাশীর যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। লর্ড কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেছিলেন, অন্ধকূপ হত্যা কাহিনির সাথে এদের সম্পর্ক নেই।
19.
ভৌগোলিক আবিষ্কারের প্রচেষ্টা শুরু হয়- [NU-Humanities: 09-10]
সঠিক উত্তর: ষোড়শ শতাব্দীতে। পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষভাগ এবং ষোড়শ শতাব্দীতে ইউরোপীয়রা নতুন সমুদ্রপথ আবিষ্কারের জন্য ব্যাপক অভিযান শুরু করে, যা ইতিহাসে ভৌগোলিক আবিষ্কারের যুগ (Age of Discovery) নামে পরিচিত। ভাস্কো দা গামা, কলম্বাস প্রমুখ এই সময়েই অভিযান চালান। অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল কারণ একাদশ, দ্বাদশ এবং ত্রয়োদশ শতাব্দীতে ইউরোপ মূলত মধ্যযুগীয় সামন্তবাদ ও ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধে লিপ্ত ছিল, তখন বৈশ্বিক সমুদ্রাভিযান বা সামুদ্রিক আবিষ্কারের মতো প্রযুক্তিগত বিকাশ ঘটেনি।
20.
ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কোন সালে গঠন করা হয়?
সঠিক উত্তর: ১৬৬৪। ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে সবার শেষে ফরাসিরা প্রাচ্যের সাথে বাণিজ্য করার উদ্দেশ্যে ১৬৬৪ সালে 'ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' গঠন করে। ফরাসি অর্থমন্ত্রী কলবার্টের উদ্যোগে রাজা চতুর্দশ লুইয়ের আমলে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল কারণ ১৬৬০, ১৬৬১ বা ১৬৬৩ সালে ফরাসি কোম্পানি গঠিত হয়নি। ১৬০০ সালে ইংরেজদের এবং ১৬০২ সালে ডাচদের কোম্পানি গঠিত হলেও, ফরাসিদের প্রাতিষ্ঠানিক বাণিজ্যিক উদ্যোগ শুরু হতে ১৬৬৪ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।