Build Your Own MCQ Self Test

Pick any MCQ chapters and get a random test of questions.

Sign In to Start

Subjects & Chapters

Chapters

ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমন ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসন কোম্পানি আমল ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসন: ব্রিটিশ আমল পাকিস্তানি আমলে বাংলা ভাষা আন্দোলন ও এর গতিপ্রকৃতি.. পূর্ববাংলার স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধিকার আন্দোলন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধ. মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের (মুজিবনগর) কার্যক্রম মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী বাঙালি ও বহির্বিশ্ব শিল্পবিপ্লব ফরাসি বিপ্লব. প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং ভার্সাই সন্ধি ও লিগ অব নেশনস বলশেভিক বিপ্লব হিটলার ও মুসোলিনির উত্থান এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ জাতিসংঘ ও বিশ্বশান্তি. স্নায়ুযুদ্ধ: পুঁজিবাদ ও সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের দ্বন্দ্ব. স্নায়ুযুদ্ধ পরবর্তী বিশ্ব বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন….

Practice Questions

Total Questions: 40

1.
পানিপথের প্রথম যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল-[NU-Humanities:14-15]
এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো '১৫২৬ সালে'। ঐতিহাসিক তথ্য ও যৌক্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, ১৫২৬ সালের ২১শে এপ্রিল পানিপথের প্রথম যুদ্ধ সংঘটিত হয়, যেখানে জহিরুদ্দিন মুহাম্মদ বাবর দিল্লির সুলতান ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করে ভারতে মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করেন। এটি একটি প্রমাণিত একাডেমিক সত্য। অন্যদিকে, '১৫০৪ সালে' সম্পূর্ণ ভুল উত্তর কারণ ওই সময়ে বাবর কেবল কাবুল অধিকার করেছিলেন। পাশাপাশি '১৫২৫ সালে' সঠিক নয় কারণ তখন বাবর ভারতে চূড়ান্ত অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, কোনো বড় যুদ্ধ হয়নি। তাছাড়া '১৫২৭ সালে' অপশনটিও বাতিলযোগ্য, কেননা ওই বছর রাজপুতদের বিরুদ্ধে খানওয়ার যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। সুতরাং, অন্য তিনটি বিকল্প যৌক্তিকভাবে বাতিল হয়ে যায়।
2.
মূল্য নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি' প্রবর্তন করেন-[NU-Humanities: 14-15]
এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো 'আলাউদ্দিন খলজি'। ঐতিহাসিক তথ্যানুযায়ী, সুলতান আলাউদ্দিন খলজি তার বিশাল সেনাবাহিনীর রক্ষণাবেক্ষণ এবং সৈন্যদের কম বেতনে জীবনধারণের সুবিধার্থে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের কঠোর 'মূল্য নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি' বা বাজার দর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিলেন। এটি একটি প্রমাণিত একাডেমিক সত্য। অন্যদিকে, 'ইলতুৎমিশ' সম্পূর্ণ ভুল উত্তর কারণ তিনি ইকতা প্রথা এবং মুদ্রা ব্যবস্থার সংস্কার করেছিলেন। পাশাপাশি 'গিয়াসউদ্দিন বলবন' সঠিক নয় কারণ তিনি রক্ত ও লৌহ নীতি এবং সিজদা প্রথার জন্য পরিচিত। তাছাড়া 'মুহম্মদ বিন তুঘলক' অপশনটিও বাতিলযোগ্য, কেননা তিনি প্রতীকী মুদ্রা এবং রাজধানী স্থানান্তরের জন্য বিখ্যাত। সুতরাং, অন্য বিকল্পগুলো যৌক্তিকভাবে বাতিল হয়ে যায়।
3.
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন-[NU-Humanities: 13-14]
এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো 'লর্ড কর্ণওয়ালিশ'। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, লর্ড কর্নওয়ালিস ১৭৯৩ সালে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যায় জমির মালিকানার ওপর ভিত্তি করে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন, যার মাধ্যমে জমিদাররা জমির স্থায়ী মালিকানা লাভ করে। এটি একটি প্রমাণিত সত্য। অন্যদিকে, 'লর্ড ক্লাইভ' সম্পূর্ণ ভুল উত্তর কারণ তিনি দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য পরিচিত। পাশাপাশি 'লর্ড ওয়েলেসলী' সঠিক নয় কারণ তার নাম অধীনতামূলক মিত্রতা নীতির সাথে যুক্ত। তাছাড়া 'লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস' অপশনটিও বাতিলযোগ্য, কেননা তিনি মূলত পাঁচশালা বন্দোবস্ত চালু করেছিলেন এবং দ্বৈত শাসন বাতিল করেছিলেন। সুতরাং, সামগ্রিক মূল্যায়নে অন্য তিনটি বিকল্প যৌক্তিকভাবে বাতিল হয়ে যায়।
4.
কোন আইনের জন্য ১৭৭৩ সাল বিখ্যাত? [NU-Humanities: 12-13]
এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো 'রেগুলেটিং এ্যাক্ট'। ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ ও সুশৃঙ্খল করার উদ্দেশ্যে ১৭৭৩ সালে ঐতিহাসিক 'রেগুলেটিং এ্যাক্ট' বা নিয়ামক আইন পাস করে, যার মাধ্যমে বাংলায় গভর্নর জেনারেল পদের সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে, 'পিটস ইন্ডিয়া এ্যাক্ট' সম্পূর্ণ ভুল উত্তর কারণ এটি ১৭৮৪ সালে পাস হয়েছিল। পাশাপাশি 'চাটার এ্যাক্ট' সঠিক নয় কারণ চার্টার বা সনদ আইনগুলো মূলত ১৭৯৩, ১৮১৩, ১৮৩৩ এবং ১৮৫৩ সালে প্রণীত হয়। তাছাড়া 'ভারতিয় কাউন্সিল এ্যাক্ট' অপশনটিও বাতিলযোগ্য, কেননা এই নামের আইনগুলো ১৮৬১ এবং পরবর্তী সময়ে পাস হয়। সুতরাং, অন্য তিনটি বিকল্প ঐতিহাসিক কালানুক্রমে সম্পূর্ণ ভুল।
5.
কোনটি মধ্যযুগে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়?[NU-Humanities: 12-13]
এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো 'বোলোনা'। ঐতিহাসিক তথ্য ও যৌক্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, ইতালির ইউনিভার্সিটি অব বোলোনা (Bologna) ১০৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, যা ইউরোপ তথা বিশ্বের প্রাচীনতম এবং মধ্যযুগে প্রতিষ্ঠিত একটি বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়। এটি একটি প্রমাণিত একাডেমিক সত্য। অন্যদিকে, 'ইয়র্ক' সম্পূর্ণ ভুল উত্তর কারণ যুক্তরাজ্যের ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় আধুনিক যুগে (১৯৬৩ সালে) প্রতিষ্ঠিত। পাশাপাশি 'তেহরান' সঠিক নয় কারণ ইরানের তেহরান বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৩৪ সালে স্থাপিত হয়। তাছাড়া 'টরেন্টো' অপশনটিও এই প্রশ্নের প্রেক্ষাপটে বাতিলযোগ্য, কেননা কানাডার এই প্রতিষ্ঠানটি ১৮২৭ সালে প্রতিষ্ঠিত। সুতরাং, মধ্যযুগীয় সময়কাল বিবেচনায় অন্য তিনটি বিকল্প যৌক্তিকভাবে বাতিল হয়ে যায়।
6.
ভারতে সর্বপ্রথম কার সময় রেলপথ ও টেলিগ্রাফ স্থাপিত হয়? [NU-Humanities: 11-12]
এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো 'লর্ড ডালহৌসী'। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, লর্ড ডালহৌসীর শাসনকালেই ভারতবর্ষে যোগাযোগ ব্যবস্থার বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটে; ১৮৫৩ সালে বোম্বে থেকে থানে পর্যন্ত প্রথম রেলপথ এবং ১৮৫৪ সালে টেলিগ্রাফ লাইন স্থাপিত হয়। এটি একটি প্রমাণিত একাডেমিক সত্য। অন্যদিকে, 'লর্ড ওয়েলেসলী' সম্পূর্ণ ভুল উত্তর কারণ তিনি কেবল সাম্রাজ্য বিস্তার ও মিত্রতা নীতির জন্য পরিচিত। পাশাপাশি 'লর্ড বেন্টিংক' সঠিক নয় কারণ তিনি মূলত সমাজ সংস্কার বিশেষ করে সতীদাহ প্রথা বিলোপের জন্য বিখ্যাত। তাছাড়া 'লর্ড ক্যানিং' অপশনটিও বাতিলযোগ্য, কেননা তার সময়ে ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহ ঘটেছিল। সুতরাং, অন্য বিকল্পগুলো যৌক্তিকভাবে বাতিল হয়ে যায়।
7.
টোডরমলের নাম কোন সংস্কারের সঙ্গে জড়িত-[NU-Humanities: 10-11]
এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো 'রাজস্ব'। ঐতিহাসিক তথ্য ও যৌক্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, রাজা টোডরমল ছিলেন মুঘল সম্রাট আকবরের অর্থমন্ত্রী, যিনি 'দহশালা' বা দশসালা বন্দোবস্ত নামক একটি যুগান্তকারী রাজস্ব ও ভূমি জরিপ ব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছেন। এটি একটি প্রমাণিত সত্য। অন্যদিকে, 'ধর্মীয়' সম্পূর্ণ ভুল উত্তর কারণ আকবরের ধর্মীয় সংস্কারের নাম ছিল দ্বীন-ই-ইলাহি, যার সাথে টোডরমলের মূল নীতি জড়িত ছিল না। পাশাপাশি 'সামরিক' সঠিক নয় কারণ সামরিক ব্যবস্থা মূলত মনসবদারী প্রথার মাধ্যমে পরিচালিত হতো। তাছাড়া 'সামাজিক' অপশনটিও বাতিলযোগ্য, কেননা তার কাজ সমাজ সংস্কারে নিবদ্ধ ছিল না। সুতরাং অন্য বিকল্পগুলো বাতিল হয়ে যায়।
8.
হাজী শরীয়তুল্লাহ জন্মগ্রহণ করেন কত সালে?
এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো '১৭৮১'। ঐতিহাসিক তথ্য ও জীবনীর ভিত্তিতে দেখা যায় যে, ফরায়েজি আন্দোলনের প্রবর্তক এবং অবিভক্ত বাংলার অন্যতম সমাজ সংস্কারক হাজী শরীয়তুল্লাহ ১৭৮১ সালে ফরিদপুর জেলার বাহাদুরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। এটি একটি প্রমাণিত একাডেমিক সত্য। অন্যদিকে, '১৭৮২' সম্পূর্ণ ভুল উত্তর কারণ এই সালে আরেক বিখ্যাত বিপ্লবী তিতুমীর জন্মগ্রহণ করেছিলেন। পাশাপাশি '১৭৮৩' সঠিক নয় কারণ শরীয়তুল্লাহর জন্মতারিখের ঐতিহাসিক রেকর্ডের সাথে এটি সাংঘর্ষিক। তাছাড়া '১৭৮০' অপশনটিও এই প্রশ্নের প্রেক্ষাপটে বাতিলযোগ্য, কেননা কোনো নির্ভরযোগ্য ইতিহাস গ্রন্থে এই সালটির উল্লেখ নেই। সুতরাং, সামগ্রিক মূল্যায়নে অন্য তিনটি বিকল্প যৌক্তিকভাবে বাতিল হয়ে যায়।
9.
মুহম্মদ ইবনে আব্দুল ওহাব কোন আন্দোলনের প্রবর্তন করেন?
এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো 'ওহাবি আন্দোলন'। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, আরবের ধর্ম সংস্কারক মুহম্মদ ইবনে আব্দুল ওহাব ইসলামের মূল ধারায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে অষ্টাদশ শতাব্দীতে যে ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের সূচনা করেন, তা তার নামানুসারে 'ওহাবি আন্দোলন' হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। এটি একটি প্রমাণিত সত্য। অন্যদিকে, 'কৃষক আন্দোলন' সম্পূর্ণ ভুল উত্তর কারণ তার আন্দোলন মূলত ধর্মীয় সংস্কারভিত্তিক ছিল, কৃষি সম্পর্কিত নয়। পাশাপাশি 'নীল আন্দোলন' সঠিক নয় কারণ এটি বাংলায় নীলকরদের বিরুদ্ধে কৃষকদের একটি নির্দিষ্ট বিদ্রোহ ছিল। তাছাড়া 'পাঁচশালা বিদ্রোহ' বলে কোনো উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক ঘটনা নেই, পাঁচশালা ছিল একটি ভূমি বন্দোবস্ত ব্যবস্থা। সুতরাং অন্য বিকল্পগুলো বাতিলযোগ্য।
10.
শহীদ তিতুমীর কোন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন?
এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো 'চাঁদপুর'। ঐতিহাসিক তথ্য ও যৌক্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম বীর সেনানী এবং বাঁশের কেল্লার রূপকার শহীদ তিতুমীর (যার প্রকৃত নাম সৈয়দ মীর নিসার আলী) চব্বিশ পরগনা জেলার বশিরহাট মহকুমার অন্তর্গত 'চাঁদপুর' গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। এটি একটি প্রমাণিত একাডেমিক সত্য। অন্যদিকে, 'মদনপুর' সম্পূর্ণ ভুল উত্তর কারণ এই নামের সাথে তিতুমীরের জন্মস্থানের কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই। পাশাপাশি 'মোহনপুর' সঠিক নয় কারণ এটিও ইতিহাস সমর্থিত নয়। তাছাড়া 'চন্দনপুর' অপশনটিও এই প্রশ্নের প্রেক্ষাপটে বাতিলযোগ্য, কেননা এটি শুধু নামের সাদৃশ্য তৈরির জন্য দেওয়া একটি বিভ্রান্তিকর বিকল্প। সুতরাং অন্য বিকল্পগুলো বাতিল।
11.
তিতুমীর কোন সালে জন্মগ্রহণ করেন?
এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো '১৭৮২'। ঐতিহাসিক দলিল ও নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ শোষকদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা বীর শহীদ তিতুমীর ১৭৮২ সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং ১৮৩১ সালে বাঁশের কেল্লার যুদ্ধে শহীদ হন। এটি একটি প্রমাণিত একাডেমিক সত্য। অন্যদিকে, '১৭৮১' সম্পূর্ণ ভুল উত্তর কারণ এই সালে ফরায়েজি আন্দোলনের নেতা হাজী শরীয়তুল্লাহ জন্মগ্রহণ করেছিলেন। পাশাপাশি '১৬৮২' সঠিক নয় কারণ এই সালটি তিতুমীরের জীবনকালের অন্তত এক শতাব্দী আগের একটি অবাস্তব সময়কাল। তাছাড়া '১৬৮৪' অপশনটিও একই কারণে ঐতিহাসিক কালানুক্রমের সম্পূর্ণ পরিপন্থী ও বাতিলযোগ্য। সুতরাং, সামগ্রিক মূল্যায়নে অন্য তিনটি বিকল্প যৌক্তিকভাবে বাতিল হয়ে যায়।
12.
বাঁশের কেল্লা কে নির্মাণ করেন?
এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো 'তিতুমীর'। ঐতিহাসিক তথ্য ও যৌক্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, সৈয়দ মীর নিসার আলী বা শহীদ তিতুমীর ব্রিটিশ বাহিনী এবং স্থানীয় অত্যাচারী জমিদারদের আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য নারিকেলবাড়িয়ায় বাঁশ ও কাদা দিয়ে একটি শক্তিশালী দুর্গ নির্মাণ করেছিলেন, যা ইতিহাসে 'বাঁশের কেল্লা' নামে বিখ্যাত। অন্যদিকে, 'শরীয়তুল্লাহ' সম্পূর্ণ ভুল উত্তর কারণ তিনি ফরায়েজি আন্দোলনের প্রবর্তক ছিলেন, কোনো দুর্গ নির্মাণ করেননি। পাশাপাশি 'আব্দুল ওহাব' সঠিক নয় কারণ তিনি আরবে ওহাবি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। তাছাড়া 'খালেক' অপশনটিও বাতিলযোগ্য, কেননা এই নামের কোনো ঐতিহাসিক চরিত্র বাঁশের কেল্লা নির্মাণের সাথে জড়িত নন। সুতরাং অন্য বিকল্পগুলো বাতিল।
13.
সিপাহি বিদ্রোহ হয় কত সালে?
এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো '১৮৫৭'। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অপশাসনের বিরুদ্ধে ভারতীয় সেনা বা সিপাহিদের নেতৃত্বে ১৮৫৭ সালে প্রথম বৃহৎ পরিসরে সশস্ত্র অভ্যুত্থান ঘটে, যা ইতিহাসে 'সিপাহি বিদ্রোহ' বা ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ নামে পরিচিত। এটি প্রমাণিত সত্য। অন্যদিকে, '১৮৫৬' সম্পূর্ণ ভুল উত্তর কারণ এই সালে হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন পাস হয়েছিল, কোনো বিদ্রোহ হয়নি। পাশাপাশি '১৭৫৬' সঠিক নয় কারণ এই বছর নবাব সিরাজউদ্দৌলা কলকাতা আক্রমণ করেছিলেন। তাছাড়া '১৭৫৭' অপশনটিও বাতিলযোগ্য, কেননা এই সালে ঐতিহাসিক পলাশীর যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, সিপাহি বিদ্রোহ নয়। সুতরাং, অন্য তিনটি বিকল্প যৌক্তিকভাবে সম্পূর্ণ ভুল।
14.
চার্টার অ্যাক্ট প্রণয়ন করা হয় কত সালে?
এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো '১৮৩৩'। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ক্ষমতা ও প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ন্ত্রণের জন্য বিভিন্ন সময়ে চার্টার অ্যাক্ট বা সনদ আইন পাস করেছিল (যথা ১৭৯৩, ১৮১৩, ১৮৩৩ এবং ১৮৫৩)। প্রদত্ত বিকল্পগুলোর মধ্যে ১৮৩৩ সালে কোম্পানির বাণিজ্যিক অধিকার পুরোপুরি বিলুপ্ত করে একটি গুরুত্বপূর্ণ চার্টার অ্যাক্ট প্রণীত হয়। এটি প্রমাণিত সত্য। অন্যদিকে, '১৮৩০', '১৮৩১', এবং '১৮৩২' সম্পূর্ণ ভুল উত্তর কারণ ব্রিটিশ শাসনতান্ত্রিক ইতিহাসে এই সুনির্দিষ্ট বছরগুলোতে ভারতের জন্য কোনো প্রধান চার্টার অ্যাক্ট বা সনদ আইন পাস হওয়ার ঐতিহাসিক নজির নেই। সুতরাং, সামগ্রিক মূল্যায়নে অন্য তিনটি বিকল্প যৌক্তিকভাবে বাতিল হয়ে যায়।
15.
সতীদাহ প্রথা বিলোপ করেন কে?
এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো 'বেন্টিঙ্ক'। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক রাজা রামমোহন রায়ের সহায়তায় ১৮২৯ সালে আইন প্রণয়নের (Regulation XVII) মাধ্যমে হিন্দু সমাজের অমানবিক সতীদাহ প্রথা আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ ও বিলোপ করেন। এটি একটি প্রমাণিত সত্য। অন্যদিকে, 'ডালহৌসি' সম্পূর্ণ ভুল উত্তর কারণ তিনি ভারতে রেলপথ বিস্তার ও স্বত্ববিলোপ নীতির জন্য পরিচিত। পাশাপাশি 'ওয়ারেন হেস্টিংস' সঠিক নয় কারণ তিনি প্রশাসনিক ও রাজস্ব সংস্কার করেছিলেন, সমাজ সংস্কার নয়। তাছাড়া 'ইশ্বরচন্দ্র' অপশনটিও বাতিলযোগ্য, কেননা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিধবা বিবাহ প্রচলনের জন্য কাজ করেছিলেন, সতীদাহ বিলোপে তার মূল ভূমিকা ছিল না। সুতরাং অন্য বিকল্পগুলো যৌক্তিকভাবে ভুল।
16.
সতীদাহ প্রথা বিলোপ করা হয় কত সালে?
এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো '১৮২৯'। ঐতিহাসিক তথ্যানুযায়ী, তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের গভর্নর জেনারেল লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক ১৮২৯ সালের ৪ ডিসেম্বর 'রেগুলেশন ১৭' জারির মাধ্যমে নিষ্ঠুর ও অমানবিক সতীদাহ প্রথাকে সম্পূর্ণ বেআইনি ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করেন। এটি একটি প্রমাণিত একাডেমিক সত্য। অন্যদিকে, '১৮৩০', '১৮৩১', এবং '১৮৩২' সম্পূর্ণ ভুল উত্তর কারণ সতীদাহ প্রথা বিলোপের ঐতিহাসিক আইনটি এই বছরগুলোতে প্রণীত হয়নি। এই সালগুলোতে এই ধরনের কোনো বড় সামাজিক সংস্কারমূলক আইনের অস্তিত্ব ইতিহাসে পাওয়া যায় না। সুতরাং, ঐতিহাসিক কালানুক্রম বিবেচনা করলে অন্য তিনটি বিকল্প যৌক্তিকভাবে সরাসরি বাতিল হয়ে যায় এবং ১৮২৯ সালই একমাত্র নির্ভুল উত্তর।
17.
কত খ্রিষ্টাব্দে প্রথম ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়?
এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো '১৭৬৯'। ঐতিহাসিক তথ্য ও যৌক্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, মহীশূরের শাসক হায়দার আলী এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মধ্যে সংঘটিত প্রথম ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধ (১৭৬৭-১৭৬৯) সমাপ্ত হয় ১৭৬৯ সালের এপ্রিলে স্বাক্ষরিত বিখ্যাত 'মাদ্রাজ চুক্তি'-এর মাধ্যমে। এটি একটি প্রমাণিত একাডেমিক সত্য। অন্যদিকে, '১৭৬৮' সম্পূর্ণ ভুল উত্তর কারণ ওই সময়ে যুদ্ধ পূর্ণমাত্রায় চলমান ছিল। পাশাপাশি '১৭৭০' এবং '১৭৭১' সঠিক নয় কারণ যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ও শান্তিচুক্তি এর আগেই সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল। সুতরাং, ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ এবং চুক্তির কালানুক্রমিক বিশ্লেষণে অন্য তিনটি বিকল্প যৌক্তিকভাবে বাতিল হয়ে যায় এবং ১৭৬৯ সালটিই সঠিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
18.
টিপু সুলতান কত খ্রিষ্টাব্দে সিংহাসন আরোহণ করেন?
এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো '১৭৮২'। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধ চলাকালে ১৭৮২ সালের ডিসেম্বরে মহীশূরের শাসক হায়দার আলীর মৃত্যু হলে তার যোগ্য পুত্র টিপু সুলতান সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং সাহসিকতার সাথে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যান। এটি একটি প্রমাণিত সত্য। অন্যদিকে, '১৭৮০' সম্পূর্ণ ভুল উত্তর কারণ তখন দ্বিতীয় মহীশূর যুদ্ধ মাত্র শুরু হয়েছিল এবং হায়দার আলী জীবিত ও ক্ষমতায় ছিলেন। পাশাপাশি '১৭৮১' সঠিক নয় কারণ তখনও হায়দার আলী রাজ্যের শাসক হিসেবে আসীন ছিলেন। তাছাড়া '১৭৮৩' অপশনটিও বাতিলযোগ্য, কেননা টিপু সুলতান এর আগের বছরেই ক্ষমতা গ্রহণ করেছিলেন। সুতরাং অন্য বিকল্পগুলো সম্পূর্ণ বাতিল।
19.
ইন্ডিয়া অ্যাক্ট' আইন পাশ করেন কে?
এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো 'উইলিয়াম পিট'। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ওপর সংসদীয় নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইলিয়াম পিট (দ্য ইয়াঙ্গার) ১৭৮৪ সালে বিখ্যাত 'পিটস ইন্ডিয়া অ্যাক্ট' পাস করেন। এটি একটি প্রমাণিত একাডেমিক সত্য। অন্যদিকে, 'লর্ড কর্নওয়ালিস' সম্পূর্ণ ভুল উত্তর কারণ তিনি ছিলেন একজন গভর্নর জেনারেল, ব্রিটেনের আইন প্রণেতা বা প্রধানমন্ত্রী নন। পাশাপাশি 'ওয়ারেন হেস্টিংস' সঠিক নয় কারণ এই আইনটির কারণে তার ক্ষমতা সংকুচিত হয়েছিল। তাছাড়া 'লর্ড নর্থ' অপশনটিও বাতিলযোগ্য, কেননা লর্ড নর্থের সরকার ১৭৭৩ সালের রেগুলেটিং অ্যাক্ট পাস করেছিল, পিটস ইন্ডিয়া অ্যাক্ট নয়। সুতরাং অন্য বিকল্পগুলো বাতিল।
20.
কত খ্রিষ্টাব্দে হেস্টিংস পদত্যাগ করে দেশে ফিরে যান?
এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো '১৭৮৪' (বিকল্প 'গ' অনুসারে)। ঐতিহাসিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, ১৭৮৪ সালে পিটস ইন্ডিয়া অ্যাক্ট পাস হওয়ার কারণে কোম্পানির নীতি ও নিজের ক্ষমতার ওপর হস্তক্ষেপ হচ্ছে অনুভব করে ওয়ারেন হেস্টিংস চরম অসন্তুষ্ট হন এবং ১৭৮৪ সালেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে প্রক্রিয়া শুরু করেন, যার ধারাবাহিকতায় তিনি ভারত ত্যাগ করেন। অন্যদিকে, '১৭৮২' এবং '১৭৮৩' সম্পূর্ণ ভুল উত্তর কারণ ওই সময় তিনি পূর্ণ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থেকে শাসনকাজ পরিচালনা করছিলেন। তাছাড়া '১৭৮৫' সালে তিনি চূড়ান্তভাবে ইংল্যান্ডে পৌঁছান ঠিকই, কিন্তু প্রদত্ত উত্তরপত্র ও পদত্যাগের মূল প্রেক্ষাপট হিসেবে ১৭৮৪ সালই এখানে সবচেয়ে যৌক্তিক ও গ্রহণীয়।