Subjects & Chapters

Chapters

সমাজবিজ্ঞানের উৎপত্তি ও বিকাশ.. সমাজবিজ্ঞানের বৈজ্ঞানিক মর্যাদা সমাজবিজ্ঞানীদের মতবাদ ও অবদান সমাজবিজ্ঞানর মৌল প্রত্যয়. সামাজিক প্রতিষ্ঠান. সামাজজীবনের প্রভাব বিস্তারকারী উপাদান.. সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া. সামাজিক স্তর বিন্যাস ও অসমতা. সামাজিক ব্যবস্থা.... বিচ্যুতিমূলক আচরণ এবং অপরাধ.. সামাজিক পরিবর্তন. বাংলাদেশের সামাজিক চর্চার বিকাশ... বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতি প্রত্নতত্ত্বের ভিত্তিতে বাংলাদেশের সমাজ ও সভ্যতা বাংলাদেশের নৃগোষ্ঠীর জীবনধারা বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের সামাজিক প্রেক্ষাপট, বাংলাদেশের গ্রামীন ও শহুরে সমাজ বাংলাদেশের বিবাহ, পরিবার ও জ্ঞাতিসম্পর্ক, বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তন বাংলাদেশের সামাজিক সমস্যা ও প্রতিকারের উপায়. বাংলাদেশের সামাজিক উন্নয়ন

Practice Questions

Total Questions: 15

1.
"Sociology is the science of institutions"- উক্তিটি-
ফরাসি সমাজবিজ্ঞানী এমিল ডুর্খেইম (Emile Durkheim) সমাজবিজ্ঞানের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও প্রাতিষ্ঠানিক সংজ্ঞা প্রদান করেছেন। তাঁর বিখ্যাত উক্তিটি হলো "Sociology is the science of institutions" অর্থাৎ সমাজবিজ্ঞান হলো সামাজিক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞান। তাই অপশন ঘ সম্পূর্ণ সঠিক। অন্যদিকে, ম্যাক্স ওয়েবার সমাজবিজ্ঞানকে 'সামাজিক ক্রিয়ার (Social Action) পাঠ' হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। রবার্টসন এবং পোপেনো আধুনিক যুগের সমাজবিজ্ঞানী এবং তাদের সংজ্ঞা মূলত সামাজিক আচরণ ও সমাজের সাধারণ কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে দেওয়া, ডুর্খেইমের মতো প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক নয়। তাই লজিক্যাল এলিমিনেশনের মাধ্যমে বলা যায় যে অন্যান্য অপশনগুলো এই নির্দিষ্ট উক্তির জন্য ভুল।
2.
"সমাজ বিজ্ঞান হচ্ছে সামাজিক ঘটনাবলীর বিজ্ঞান"-উক্তিটি কোন সমাজ বিজ্ঞানীর? [NU-Humanities: 10-11]
প্রখ্যাত আমেরিকান সমাজবিজ্ঞানী ফ্র্যাঙ্কলিন হেনরি গিডিংস (F.H. Giddings) সমাজবিজ্ঞানের সংজ্ঞায়নে বলেছেন যে, "সমাজ বিজ্ঞান হচ্ছে সামাজিক ঘটনাবলীর বিজ্ঞান" (Sociology is the science of social phenomena)। তাঁর মতে, সমাজবিজ্ঞান সামগ্রিকভাবে সামাজিক ঘটনাবলির বস্তুনিষ্ঠ অধ্যয়ন করে। তাই অপশন খ সঠিক। অন্যদিকে, ডুর্খেইম সমাজবিজ্ঞানকে 'সামাজিক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞান' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। জর্জ সিমেলের মতে সমাজবিজ্ঞান হলো 'মানব সম্পর্কের আকার বা রূপের বিজ্ঞান'। রবার্ট ম্যাকাইভার সমাজবিজ্ঞানকে 'সামাজিক সম্পর্কের জাল' বা সমাজ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। অন্যান্য চিন্তাবিদদের সংজ্ঞার মূল ফোকাস ভিন্ন হওয়ায় যৌক্তিকভাবেই সেগুলো ভুল উত্তর।
3.
"সমাজবিজ্ঞান হলো সামাজিক ক্রিয়া-কর্ম বা কার্যাবলির পাঠ" উক্তিটি-
জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার (Max Weber) সমাজবিজ্ঞানের সংজ্ঞায় সামাজিক ক্রিয়ার (Social Action) ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিনি বলেছেন যে, সমাজবিজ্ঞান হলো সেই বিজ্ঞান যা সামাজিক ক্রিয়া-কর্ম বা কার্যাবলির ব্যাখ্যামূলক পাঠ প্রদান করে। তাই অপশন ক সঠিক। অন্যদিকে, কোভালেভস্কী মূলত সামাজিক বিবর্তন ও প্রতিষ্ঠান নিয়ে কাজ করেছেন। ডুর্খেইম সমাজবিজ্ঞানকে 'সামাজিক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞান' হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন, সামাজিক ক্রিয়ার পাঠ হিসেবে নয়। নিল জে. স্মেলসারের সংজ্ঞা মূলত সামাজিক কাঠামো এবং সামাজিক পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দেয়। তাই অন্য তিন সমাজবিজ্ঞানীর তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন হওয়ায় সেগুলো এই প্রশ্নের ভুল উত্তর।
4.
Sociology' প্রত্যয়টি কে প্রথম ব্যবহার করেন? [NU-Humanities: 14-15]
ফরাসি চিন্তাবিদ অগাস্ট কোঁৎ (Auguste Comte) ১৮৩৯ সালে তাঁর 'কোর্স ডি ফিলোসফি পজিটিভ' গ্রন্থের চতুর্থ খণ্ডে সর্বপ্রথম 'Sociology' বা সমাজবিজ্ঞান শব্দটি ব্যবহার করেন। তিনি মূলত সমাজকে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে অধ্যয়নের জন্যই এই পরিভাষাটি উদ্ভাবন করেন। তাই যৌক্তিকভাবে অগাস্ট কোঁৎ সঠিক উত্তর। অন্যদিকে, জর্জ সিমেল সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার রূপ নিয়ে কাজ করেছেন, শব্দটি আবিষ্কার করেননি। হার্বার্ট স্পেনসার সামাজিক বিবর্তনবাদ নিয়ে কাজ করেছেন, আর ম্যাক্স ওয়েবার সামাজিক ক্রিয়া নিয়ে তত্ত্ব দিয়েছেন, কিন্তু তাঁরা কেউই সমাজবিজ্ঞানের নামের প্রবর্তক নন। সুতরাং, বাকি অপশনগুলো ভুল।
5.
অগাস্ট কোঁৎ কোন দেশের নাগরিক? [NU-Humanities: 13-14]
সমাজবিজ্ঞানের জনক অগাস্ট কোঁৎ ১৭৯৮ সালের ১৯ জানুয়ারি ফ্রান্সের মন্টপেলিয়র নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন এবং তাঁর সমস্ত বুদ্ধিবৃত্তিক গবেষণা ও সমাজতাত্ত্বিক কর্মকাণ্ড ফ্রান্সে বসেই পরিচালিত হয়েছে। তাই তিনি ফ্রান্সের নাগরিক ছিলেন এবং অপশন ২ সঠিক। অন্যদিকে, কার্ল মার্কস ও ম্যাক্স ওয়েবার জার্মানির নাগরিক ছিলেন, অগাস্ট কোঁৎ নন। ইতালির সাথে তাঁর কোনো নাগরিকত্বের সম্পর্ক ছিল না। হার্বার্ট স্পেনসার ছিলেন ইংল্যান্ডের সমাজবিজ্ঞানী। যেহেতু কোঁৎ ফ্রান্সের এক ঐতিহাসিক সমাজতাত্ত্বিক প্রেক্ষাপটে সমাজবিজ্ঞান শব্দটি প্রবর্তন করেছিলেন, তাই যৌক্তিক এলিমিনেশনের মাধ্যমে অন্য সব দেশের নাম ভুল বলে প্রমাণিত হয়।
6.
ইবনে খালদুনের মতে, সমাজবিজ্ঞানের মূল প্রত্যয় হচ্ছে-
বিখ্যাত আরব চিন্তাবিদ ইবনে খালদুন (Ibn Khaldun) তাঁর 'মুকাদ্দিমা' গ্রন্থে সমাজবিজ্ঞানের আলোচনায় 'আসাবিয়াহ' (Asabiyyah) নামক প্রত্যয়টি ব্যবহার করেন, যার বাংলা অর্থ হলো 'সামাজিক সংহতি' বা দলীয় ঐক্য। এটিই তাঁর সমাজতাত্ত্বিক চিন্তাধারার মূল ভিত্তি। তাই অপশন গ সঠিক। অন্যদিকে, 'সামাজিক বিচ্যুতি' (Social deviance) আধুনিক সমাজবিজ্ঞানী রবার্ট মার্টন বা ডুর্খেইমের তত্ত্বের অংশ। 'শ্রেণি বৈষম্য' প্রত্যয়টি কার্ল মার্কসের দ্বন্দ্ব তত্ত্বের মূল বিষয়। 'পরস্পর সমঝোতা' একটি সাধারণ সামাজিক ধারণা যা খালদুনের তাত্ত্বিক কাঠামোতে মূল প্রত্যয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি। তাই যৌক্তিক কারণেই অন্যান্য অপশনগুলো ভুল বলে প্রমাণিত হয়।
7.
এডওয়ার্ড রস সামাজিক মনোবিজ্ঞানকে কীসের একটি শাখা হিসেবে গণ্য করেছেন?
প্রখ্যাত আমেরিকান সমাজবিজ্ঞানী এডওয়ার্ড এ. রস (E.A. Ross) সামাজিক মনোবিজ্ঞানকে সমাজবিজ্ঞানের একটি অবিচ্ছেদ্য শাখা হিসেবে গণ্য করেছেন। কারণ, সামাজিক মনোবিজ্ঞান মানুষের দলবদ্ধ আচরণ এবং সমাজের মধ্যে ব্যক্তির মানসিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা করে, যা সমাজবিজ্ঞানের মূল উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই অপশন গ সঠিক। অন্যদিকে, সাধারণ মনোবিজ্ঞান মূলত একক ব্যক্তির মন ও আচরণ নিয়ে কাজ করে, তাই রস এটিকে মনোবিজ্ঞানের একক শাখা বলেননি। নৃবিজ্ঞান মানব সংস্কৃতি ও বিবর্তন নিয়ে এবং ইতিহাস অতীতের ঘটনাবলি নিয়ে আলোচনা করে। এই তিনটি শাস্ত্র সমাজের বৃহত্তর মানব আচরণকে পূর্ণাঙ্গভাবে ব্যাখ্যা করে না।
8.
কোন কাজ সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে যে পন্থার সাহায্য নিতে হয় তা হলো-
যেকোনো গবেষণামূলক বা ব্যবহারিক কাজ সুশৃঙ্খল এবং সুচারুভাবে সম্পন্ন করার জন্য নির্দিষ্ট একটি কাঠামোগত পথ অনুসরণ করতে হয়, যাকে পদ্ধতি (Method) বলা হয়। পদ্ধতি হলো কাজ করার ধারাবাহিক এবং যৌক্তিক নিয়মাবলি। তাই অপশন ঘ সঠিক। অন্যদিকে, বিজ্ঞান হলো সুশৃঙ্খল জ্ঞানভাণ্ডার, এটি সরাসরি কোনো কাজ করার নিয়ম নয়। কৌশল (Strategy) হলো কোনো উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য গৃহীত পরিকল্পনা, এটি কাজের বিস্তারিত ধাপ নির্দেশ করে না। তথ্য (Data) হলো কাজের কাঁচামাল, যা বিশ্লেষণ করা হয়, কিন্তু তথ্য নিজে কাজ সম্পন্ন করার কোনো পন্থা হতে পারে fix না। তাই অন্য বিকল্পগুলো ভুল।
9.
কোন বিষয়টি সমাজবিজ্ঞানের উদ্ভবের সাথে জড়িত নয়?
আধুনিক সমাজবিজ্ঞানের উদ্ভবের পেছনে ফরাসি বিপ্লব, শিল্প বিপ্লব এবং রেনেসাঁ বা পুনর্জাগরণের মতো ঐতিহাসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনগুলোর প্রত্যক্ষ প্রভাব ছিল। কিন্তু 'উত্তর-আধুনিকতা' (Post-modernism) হলো বিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে উদ্ভূত একটি সাহিত্যিক, দার্শনিক ও সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি। এটি সমাজবিজ্ঞানের আদি উদ্ভবের সময়কালের (অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতাব্দী) কোনো ঘটনা নয়। তাই অপশন খ সঠিক উত্তর। অন্যদিকে, প্রজ্ঞাবান বা জ্ঞানদীপ্তি (Enlightenment), ফরাসি বিপ্লব এবং পুনর্জাগরণ সমাজ পরিবর্তনের বড় প্রভাবক ছিল, যা সমাজ নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছিল। তাই সমাজবিজ্ঞানের উদ্ভবের সাথে এদের নিবিড় সম্পর্ক থাকায় এগুলো সঠিক উত্তর হতে পারে না।
10.
বিখ্যাত গ্রন্থ 'Positive Philosophy' লিখেছেন-
সমাজবিজ্ঞানের জনক অগাস্ট কোঁৎ (Auguste Comte) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'Positive Philosophy' (Cours de Philosophie Positive) ১৮৩০ থেকে ১৮৪২ সালের মধ্যে ছয়টি খণ্ডে রচনা করেন। এই গ্রন্থেই তিনি দৃষ্টবাদ (Positivism) এবং সমাজবিজ্ঞানের মূল ভিত্তি স্থাপন করেন। তাই অপশন খ সঠিক। অন্যদিকে, কার্ল মার্কসের সবচেয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ হলো 'Das Kapital' যা পুঁজিবাদের সমালোচনা করে। এমিল ডুর্খেইমের বিখ্যাত গ্রন্থ হলো 'The Division of Labour in Society'। হার্বার্ট স্পেন্সার লিখেছেন 'Principles of Sociology'। যেহেতু অন্যান্য সমাজবিজ্ঞানীরা ভিন্ন ভিন্ন বিখ্যাত বই রচনা করেছেন, তাই লজিক্যাল এলিমিনেশন পদ্ধতিতে অন্য অপশনগুলো সম্পূর্ণ ভুল।
11.
শ্রেণি বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য বিভিন্ন মতবাদ দেন-
জার্মান দার্শনিক ও সমাজবিজ্ঞানী কার্ল মার্কস (Karl Marx) তাঁর দ্বন্দ্ব তত্ত্বে একটি শ্রেণি বৈষম্যহীন সমাজ (কমিউনিজম বা সাম্যবাদ) প্রতিষ্ঠার মতবাদ প্রদান করেন, যেখানে উৎপাদনের উপকরণের ওপর সমাজের সকলের সমান অধিকার থাকবে। তাই অপশন ঘ সঠিক। অন্যদিকে, হার্বার্ট স্পেন্সার সামাজিক ডারউইনবাদের প্রবক্তা ছিলেন এবং তিনি যোগ্যতমের টিকে থাকার ওপর জোর দিয়েছেন, বৈষম্যহীনতার ওপর নয়। ইবনে খালদুন সামাজিক সংহতি বা আসাবিয়াহ নিয়ে কাজ করেছেন, শ্রেণিসংগ্রাম নিয়ে নয়। অগাস্ট কোঁৎ সমাজকে দৃষ্টবাদ বা পজিটিভিজমের দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করেছেন। তাই অন্যান্য চিন্তাবিদদের মতবাদ শ্রেণি বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার সাথে সম্পর্কিত নয়।
12.
সমাজবিজ্ঞানের জনক কে? [NU-Humanities: 12-13]
অগাস্ট কোঁৎ সর্বপ্রথম মানব সমাজকে সুশৃঙ্খল এবং বৈজ্ঞানিকভাবে অধ্যয়নের জন্য ১৮৩৯ সালে 'Sociology' পরিভাষাটি উদ্ভাবন করেন। সমাজ গবেষণায় তাঁর এই পথিকৃৎ ভূমিকার কারণে তাঁকেই সমাজবিজ্ঞানের জনক হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তাই অপশন গ সঠিক। অন্যদিকে, কার্ল মার্কস হলেন সমাজতান্ত্রিক মতবাদের প্রবক্তা, সমাজবিজ্ঞানের জনক নন। এমিল ডুর্খেইম সমাজবিজ্ঞানকে একটি একাডেমিক শৃঙ্খলা হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করলেও তিনি এর জনক নন। ইবনে খালদুন চতুর্দশ শতাব্দীতে 'আসাবিয়াহ' বা সমাজতাত্ত্বিক চিন্তাধারার বীজ বপন করলেও আধুনিক সমাজবিজ্ঞানের প্রাতিষ্ঠানিক জনক হিসেবে তাকে নয়, কোঁৎ-কেই ধরা হয়। তাই বাকি বিকল্পগুলো সঠিক নয়।
13.
সমাজের ক্রমবিকাশ নিয়ে আলোচনা করেছেন কে?
প্রখ্যাত আমেরিকান নৃবিজ্ঞানী ও সমাজতাত্ত্বিক লুইস হেনরি মর্গান (L. H. Morgan) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'Ancient Society'-তে সমাজের ক্রমবিকাশ বা বিবর্তনের তিনটি সুনির্দিষ্ট স্তর (বন্য দশা, বর্বর দশা ও সভ্য দশা) অত্যন্ত পদ্ধতিগতভাবে আলোচনা করেছেন। তাই অপশন ঘ সঠিক উত্তর। অন্যদিকে, ফ্রেডরিক লে-প্লে মূলত পরিবার ও সামাজিক বাজেট নিয়ে গবেষণা করেছেন, সমাজের দীর্ঘমেয়াদী ক্রমবিকাশ নিয়ে নয়। ই. বি. টেইলর সংস্কৃতির বিবর্তনের ওপর জোর দিয়েছেন। স্পেন্সার সমাজের জৈবিক উপমা দিয়েছেন, কিন্তু মর্গানের মতো মানবসমাজের ক্রমবিকাশের এমন সুনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক যুগবিভাগ করেননি। তাই যৌক্তিকভাবেই অন্য তিনটি অপশন ভুল।
14.
সামাজিক নিয়ন্ত্রণের শক্তিশালী মাধ্যম কোনটি?
সামাজিক নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন মাধ্যমের মধ্যে 'রাষ্ট্র' হলো সবচেয়ে শক্তিশালী ও চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক মাধ্যম। কারণ রাষ্ট্রের হাতে আইন, বিচার ব্যবস্থা, পুলিশ এবং সামরিক বাহিনীর মতো বলপ্রয়োগকারী প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা রয়েছে, যা অন্য কোনো মাধ্যমের নেই। তাই অপশন ঘ সঠিক। অন্যদিকে, পরিবার, সমাজ এবং ভাষা হলো সামাজিক নিয়ন্ত্রণের অনানুষ্ঠানিক (Informal) মাধ্যম। এগুলো মানুষের আচরণকে প্রভাবিত করলেও এগুলো রাষ্ট্রীয় আইনের মতো বাধ্যতামূলক বা কঠোর শাস্তি প্রদানের ক্ষমতা রাখে না। পরিবার কেবল নৈতিক শিক্ষা দেয় এবং সমাজ প্রথার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করে। তাই রাষ্ট্রের তুলনামূলক বলপ্রয়োগের ক্ষমতার কারণে অন্য বিকল্পগুলো ভুল।
15.
সামাজিক প্রত্যক্ষণ আলোচিত হয়-
সামাজিক প্রত্যক্ষণ (Social Perception) মূলত সমাজবিজ্ঞান এবং সামাজিক মনোবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। এটি আলোচনা করে কীভাবে মানুষ সমাজের অন্যান্য সদস্যদের আচরণ, মনোভাব এবং বৈশিষ্ট্যকে মূল্যায়ন বা উপলব্ধি করে। তাই অপশন গ সঠিক। অন্যদিকে, নৃবিজ্ঞানে মানুষের জৈবিক বিবর্তন ও অতীত সংস্কৃতির সামগ্রিক পাঠ থাকে, সামাজিক প্রত্যক্ষণ এর মূল ফোকাস নয়। সাধারণ মনোবিজ্ঞানে ব্যক্তির স্নায়বিক ও একান্ত ব্যক্তিগত মানসিক প্রক্রিয়া আলোচিত হয়, সামষ্টিক সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি নয়। ইতিহাস অতীত ঘটনা ও সভ্যতার বিবরণ দেয়। সমাজবিজ্ঞান সরাসরি মানুষের পারস্পরিক বোঝাপড়া নিয়ে কাজ করে বিধায় অন্যান্য অপশনগুলো যৌক্তিকভাবে ভুল।