Build Your Own MCQ Self Test

Pick any MCQ chapters and get a random test of questions.

Sign In to Start

Practice Questions

Total Questions: 32

21.
পীথাগোরস ছিলেন?
পিথাগোরস ছিলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন বিশ্ববিখ্যাত অঙ্ক শাস্ত্রবিদ বা গণিতবিদ এবং দার্শনিক, যার উদ্ভাবিত 'পিথাগোরাসের উপপাদ্য' সমকোণী ত্রিভুজের ক্ষেত্রে আজও জ্যামিতির একটি অন্যতম প্রধান এবং অপরিহার্য ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সঠিক উত্তরের যৌক্তিকতা হলো, গণিত, জ্যামিতি এবং সংখ্যার রহস্য নিয়ে তার যুগান্তকারী গবেষণা তাকে প্রাচীন পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ গণিতবিদের অমর মর্যাদা প্রদান করেছে। অপশন ১ (অঙ্ক বিশারদ) কাছাকাছি হলেও, অঙ্ক শাস্ত্রবিদ (গণিতবিদ) শব্দটি তার পাণ্ডিত্যকে বেশি যথাযথভাবে প্রকাশ করে। অপশন ৩ (সাহিত্যক) ভুল, কারণ তিনি সাহিত্য বা কাব্য রচনায় যুক্ত ছিলেন না। অপশন ৪ (নাবিক) ভুল, কারণ সামুদ্রিক আবিষ্কার বা নৌযাত্রার সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই।
22.
পৃথিবীর ইতিহাসে কে প্রথম একেশ্বরের ধারণ দেন?
পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম একেশ্বরবাদের ধারণা প্রদানকারী শাসক ছিলেন প্রাচীন মিশরের ফারাও ইখনাটন (বা আমেনহোটেপ চতুর্থ), যিনি বহু দেবতার পরিবর্তে কেবল সূর্যদেবতা 'আটন'-এর উপাসনা চালু করেন। সঠিক উত্তরের যৌক্তিকতা হলো, তিনি পুরোহিতদের ক্ষমতা খর্ব করে ধর্মীয় সংস্কারের মাধ্যমে ইতিহাসে প্রথম এক ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাসের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। অপশন ১ (হাম্বুরাবি) ভুল, কারণ তিনি ব্যাবিলনের বিখ্যাত আইন প্রণেতা ছিলেন, একেশ্বরবাদী নন। অপশন ২ (নেবুচাদনেজার) ভুল, কারণ তিনি ছিলেন ক্যালডীয় সাম্রাজ্যের শাসক এবং বহুদেবতাবাদী। অপশন ৪ (শামস) ভুল, কারণ শামস ছিলেন মূলত প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার একজন সূর্যদেবতা, কোনো ঐতিহাসিক ধর্ম সংস্কারক মানব শাসক নন।
23.
প্রাক ইসলামী যুগে মক্কা কোন প্রদেশের রাজধানী ছিল?
প্রাক-ইসলামি যুগে পবিত্র মক্কা নগরী ছিল হেজাজ প্রদেশের রাজধানী এবং সমগ্র আরবের অন্যতম প্রধান ধর্মীয়, বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। সঠিক উত্তরের যৌক্তিকতা হলো, পবিত্র কাবা শরিফ এই মক্কাতেই অবস্থিত থাকায় হেজাজ প্রদেশটি রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক উভয় দিক থেকেই তৎকালীন আরব সমাজে সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিল। অপশন ১ (ইয়েমেন) ভুল, কারণ ইয়েমেন ছিল দক্ষিণ আরবের একটি পৃথক উর্বর রাষ্ট্র। অপশন ২ (পালিমিরা) ভুল, কারণ পালিমিরা সিরিয়ার মরুভূমির একটি প্রাচীন শহর। অপশন ৪ (হিমারীয় রাজ্য) ভুল, কারণ হিমারীয়রা দক্ষিণ আরবে রাজত্ব করত, হেজাজে নয়, ফলে মক্কা তাদের রাজধানী হওয়ার কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই।
24.
প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতা কোন নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে?
প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতা সুদীর্ঘ এবং ঐতিহাসিক নীলনদকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল, যে কারণে বিখ্যাত গ্রিক ঐতিহাসিক হেরোডোটাস মিশরকে 'নীলনদের দান' (Gift of the Nile) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সঠিক উত্তরের যৌক্তিকতা হলো, নীলনদের নিয়মিত বন্যার ফলে সৃষ্টি হওয়া উর্বর পললমাটিই মিশরের কৃষিকাজ ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির একমাত্র প্রধান ভিত্তি ছিল। অপশন ২ (টাইবার) ভুল, কারণ টাইবার নদী ইতালিতে অবস্থিত এবং রোমান সভ্যতার সাথে যুক্ত। অপশন ৩ (সিন্ধু) ভুল, কারণ এটি ভারতীয় উপমহাদেশের সিন্ধু সভ্যতার জন্মস্থান। অপশন ৪ (টাইগ্রীস) ভুল, কারণ টাইগ্রীস বা দজলা নদী মূলত প্রাচীন মেসোপটেমিয়া বা ইরাক অঞ্চলে অবস্থিত, মিশরে নয়।
25.
প্লেটো, এরিস্টটল, সক্রেটিস কোন দেশের দার্শনিক ছিলেন?
বিশ্ববিখ্যাত এই তিন মহাজ্ঞানী দার্শনিক—সক্রেটিস, তার ছাত্র প্লেটো এবং প্লেটোর ছাত্র এরিস্টটল প্রাচীন গ্রিস, বিশেষ করে এথেন্সের বাসিন্দা ছিলেন, যাদের চিন্তাধারা সমগ্র পাশ্চাত্য দর্শন ও বিজ্ঞানের মূল ভিত্তি স্থাপন করেছে। সঠিক উত্তরের যৌক্তিকতা হলো, তাদের জন্ম, শিক্ষাদান এবং দর্শন চর্চার মূল কেন্দ্রই ছিল প্রাচীন গ্রিস, যা ইতিহাসের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে সর্বজনস্বীকৃত। অপশন ১ (পারস্য) ভুল, কারণ পারস্যের বিখ্যাত চিন্তাবিদ ছিলেন জরথ্রুস্ট। অপশন ২ (ফ্রান্স) ভুল, কারণ ফ্রান্সের বিখ্যাত দার্শনিকরা যেমন রুশো বা ভলতেয়ার অনেক আধুনিক যুগের মানুষ। অপশন ৪ (মিশর) ভুল, কারণ প্রাচীন মিশর দর্শন নয় বরং স্থাপত্য ও লিপির জন্য বিখ্যাত ছিল।
26.
বৈজ্ঞানিক ইতিহাসের জনক কে?
প্রাচীন গ্রিসের বিখ্যাত ঐতিহাসিক থুকিডাইডিসকে 'বৈজ্ঞানিক ইতিহাসের জনক' বলা হয়, কারণ তিনি তার 'পেলোপোনেশীয় যুদ্ধের ইতিহাস' গ্রন্থে অতিপ্রাকৃত বা ঐশ্বরিক কারণের পরিবর্তে বিশুদ্ধ যুক্তি, কার্যকারণ বিশ্লেষণ এবং বস্তুনিষ্ঠ প্রমাণের ভিত্তিতে ইতিহাস রচনা করেছিলেন। সঠিক উত্তরের যৌক্তিকতা হলো, তিনি ইতিহাসের ঘটনাবলিকে দেবতাদের হস্তক্ষেপ মুক্ত করে সম্পূর্ণ মানবীয় এবং যৌক্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে সর্বপ্রথম মূল্যায়ন করেছিলেন। অপশন ১ (হেরোডোটাস) ভুল, কারণ তাকে শুধুমাত্র সাধারণ ইতিহাসের জনক বলা হয়। অপশন ২ (পিথাগোরস) ভুল, কারণ তিনি জ্যামিতি ও গণিতশাস্ত্রের একজন বিখ্যাত পণ্ডিত। অপশন ৪ (এরিস্টল) ভুল, কারণ তিনি প্রাচীন গ্রিসের একজন সর্বশ্রেষ্ঠ দার্শনিক ও বিজ্ঞান গবেষক, ইতিহাসবিদ নন।
27.
ব্যবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান কে তৈরী করেন?
প্রাচীন বিশ্বের অন্যতম আশ্চর্য 'ব্যবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান' বা শূন্যোদ্যান নির্মাণ করেছিলেন ক্যালডীয় সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ নরপতি নেবুচাঁদনেজার, যা তিনি তার স্ত্রীর পাহাড়ি পরিবেশের প্রতি ভালোবাসা নিবারণের জন্য তৈরি করেছিলেন। সঠিক উত্তরের যৌক্তিকতা হলো, ঐতিহাসিক বর্ণনায় স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে নেবুচাঁদনেজার তার পার্সিয়ান স্ত্রী রানি অ্যামিটিসের জন্য এই চমৎকার স্থাপত্যটি নির্মাণ করেন। অপশন ১ (হাম্বুরাবি) ভুল, কারণ তিনি প্রাচীন ব্যাবিলনের আইন সংহিতার জন্য বিখ্যাত, উদ্যানের জন্য নন। অপশন ২ (আমান রে) ভুল, কারণ তিনি প্রাচীন মিশরের একজন প্রধান দেবতা ছিলেন। অপশন ৪ (পোপ) ভুল, কারণ পোপ হলেন খ্রিষ্টান ধর্মের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু, প্রাচীন স্থপতি বা সম্রাট নন।
28.
ভূ-প্রকৃতি অনুসারে আরব কয়ভাগে বিভক্ত?
ভূ-প্রকৃতি ও জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য অনুসারে ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিকভাবে সমগ্র আরব উপদ্বীপকে প্রধানত তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়; যথা—উর্বর দক্ষিণ আরব (ইয়েমেন, ওমান), মধ্যভাগের শুষ্ক মরুভূমি (নজদ বা আল-বাদিয়া), এবং পশ্চিমের পাহাড়ি অঞ্চল (হেজাজ)। সঠিক উত্তরের যৌক্তিকতা হলো, এই তিনটি অঞ্চলের মাটি, আবহাওয়া ও জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির হওয়ায় ভূগোলবিদরা এই ত্রিধাবিভক্তিকেই আদর্শ মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করেছেন। অপশন ১ (দুই ভাগে), অপশন ৩ (চার ভাগে) এবং অপশন ৪ (পাঁচ ভাগে) ভুল, কারণ আরব উপদ্বীপের ভৌগোলিক বৈচিত্র্য ও ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যকে সুস্পষ্টভাবে শ্রেণিবদ্ধ করার জন্য ঐতিহাসিকভাবে শুধুমাত্র তিনটি প্রধান ভাগকেই প্রমাণ হিসেবে ধরা হয়।
29.
মরুভূমির জাহাজ' নামে পরিচিত কোনটি?
চরম রুক্ষ এবং শুষ্ক মরুভূমির বুকে পণ্য ও মানুষ পরিবহনের ক্ষেত্রে উটের অবিশ্বাস্য সহনশীলতা ও শারীরিক বৈশিষ্ট্যের কারণে উটকেই 'মরুভূমির জাহাজ' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। সঠিক উত্তরের যৌক্তিকতা হলো, উট টানা বহু দিন পানি না পান করে মরুভূমির বালুকাময় পরিবেশে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে পারে, ঠিক যেমন একটি জাহাজ বিশাল সমুদ্র পাড়ি দেয়। অপশন ১ (দুম্মা) ভুল, কারণ দুম্মা এক প্রকার ভেড়া, যা বাহন হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। অপশন ২ (ছাগল) এবং অপশন ৩ (হাতি) ভুল, কারণ ছাগল ও হাতির মরুভূমির চরম শুষ্ক পরিবেশে টিকে থাকার বা দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার কোনো প্রাকৃতিক সক্ষমতা নেই।
30.
সুমেরীয় লিখন পদ্ধতি কী নামে পরিচিত?
সুমেরীয়দের আবিষ্কৃত প্রাচীন লিখন পদ্ধতির নাম হলো 'কিউনিফর্ম' বা কীলকাকার লিপি, যা কাদামাটির নরম ফলকে নলখাগড়া দিয়ে বাঁকা বা কীলকের মতো দাগ কেটে লেখা হতো। সঠিক উত্তরের যৌক্তিকতা হলো, এটি পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন লিপি এবং সুমেরীয় সভ্যতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ অবদান হিসেবে ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত। অপশন ১ (হায়ারোগ্লিফিক) ভুল, কারণ এটি প্রাচীন মিশরীয়দের চিত্রভিত্তিক লিপি। অপশন ৩ (পিরামিড) ভুল, কারণ পিরামিড হলো প্রাচীন মিশরের ফারাওদের সমাধিসৌধ, কোনো ধরনের লিখন পদ্ধতি বা লিপি নয়। অপশন ৪ (নলখাগড়া) ভুল, কারণ নলখাগড়া ছিল একটি লেখার উপকরণ বা কলম, যা দিয়ে লেখা হতো, লিপির নাম নয়।
31.
হায়ারোগ্লিফিক কী?
হায়ারোগ্লিফিক হলো প্রাচীন মিশরীয়দের আবিষ্কৃত একটি চিত্রভিত্তিক লিপি বা লিখন পদ্ধতি, যা 'পবিত্র লিপি' নামেও পরিচিত এবং তারা এটি প্যাপিরাস পাতায় বা পাথরের গায়ে খোদাই করে লিখত। সঠিক উত্তরের যৌক্তিকতা হলো, গ্রিক শব্দ 'হায়ারো' (পবিত্র) এবং 'গ্লিফ' (খোদাই করা) থেকে এই লিপিটির নামকরণ করা হয়েছে যা প্রাচীন মিশরের নিজস্ব আবিষ্কার। অপশন ১ (সুমেরীয় লিপি) ভুল, কারণ সুমেরীয়দের লিপির নাম ছিল কিউনিফর্ম। অপশন ২ (ব্যববিলীয় লিপি) এবং অপশন ৩ (ক্যালডীয় লিপি) ভুল, কারণ মেসোপটেমিয়ার অন্যান্য সভ্যতাগুলো মূলত সুমেরীয় কিউনিফর্ম লিপিরই পরিবর্তিত রূপ ব্যবহার করত, মিশরীয় হায়ারোগ্লিফিকের মতো চিত্রলিপি নয়।
32.
হিব্রুদের ধর্মগ্রন্থের নাম কী?
ইহুদি বা প্রাচীন হিব্রু জাতির প্রধান ধর্মগ্রন্থের নাম হলো 'তৌরাত' (Torah), যা হযরত মুসা (আ.)-এর ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল এবং এটি ওল্ড টেস্টামেন্ট বা হিব্রু বাইবেলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র অংশ। সঠিক উত্তরের যৌক্তিকতা হলো, হিব্রুদের যাবতীয় ধর্মীয় বিধান, আইন এবং ইতিহাসের মূল ভিত্তিই হলো এই তৌরাত বা তাওরাত গ্রন্থ। অপশন ১ (বাইবেল) আংশিক বিভ্রান্তিকর হলেও মূলত খ্রিষ্টানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ। অপশন ২ (ত্রিপিটক) ভুল, কারণ এটি গৌতম বুদ্ধের অনুসারী বৌদ্ধদের ধর্মগ্রন্থ। অপশন ৪ (যাবুর) ভুল, কারণ এটি হযরত দাউদ (আ.)-এর ওপর নাজিলকৃত ধর্মগ্রন্থ, যা সামগ্রিকভাবে হিব্রুদের প্রধান আইনি ধর্মগ্রন্থ হিসেবে তৌরাতের সমকক্ষ নয়।